প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দীর্ঘ এক বছর পর পরিবারের কাছে ফিরে আসলেন মতিউর রহমান, যিনি প্রায় ৯০ বছর বয়সি। চোখে দেখতে না পাওয়া এবং চলাফেরায় অক্ষম এই বৃদ্ধ জনাব কীভাবে দিনাজপুরের হাকিমপুরে পৌঁছেছিলেন, সে বিষয়ে নিজেও কিছু বলতে পারেননি।
গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি প্রচার হওয়ার পর তার পরিবারের সদস্যরা খোঁজ পান। পরবর্তী সময়ে শুক্রবার রাতে ছেলের হাতে তাকে পুলিশ এবং স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন তুলে দেয়।
শুক্রবার (১৯ জুন) রাত ৯টার দিকে হাকিমপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন মতিউর রহমানকে আনুষ্ঠানিকভাবে তার ছেলে রহিদুল ইসলামের কাছে হস্তান্তর করেন হাকিমপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাকির হোসেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন নেস্টের সভাপতি মো. ফয়সাল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক ডা. আ. মালেক, থানার এসআই লক্ষীকান্ত রায়সহ অন্যান্যরা।
স্থানীয়দের কাছে শোনা যায়, বুধবার দুপুর ২টার দিকে হাকিমপুরের হিলি চারমাথা মসজিদের সামনে একটি দোকানের সামনে একটি অটোরিকশা এসে বৃদ্ধকে নামিয়ে চলে যায়। পরে স্থানীয়রা প্রথমে তাকে মসজিদের ভেতরে আশ্রয় দেন। পরে তিনি মসজিদের ফটকের সামনে বসে থাকতেন।
কেউ কিছু জানতে চাইলে তিনি শুধুমাত্র বলতেন যে, তিনি রংপুর থেকে এসেছেন এবং পাঁচবিবি বড় মসজিদে যাবেন। এর বাইরে আর কোনো তথ্য দিতে পারেননি।
বৃদ্ধের ছেলে রহিদুল ইসলাম বলেন, তাদের বাড়ি রংপুর জেলার গঙ্গাচড়া উপজেলায়। প্রায় এক বছর আগে তার বাবা নিখোঁজ হন। তিনি দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ছিলেন। গণমাধ্যমের সংবাদ ও ফেসবুকের মাধ্যমে জানতে পারেন যে তার বাবা হাকিমপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি আছেন। এরপর শুক্রবার সকালে তিনি অবস্থান করেন এবং বাবাকে শনাক্ত করেন।
তিনি আরও বলেন, রাতে ওসি জাকির হোসেন এবং নেস্ট স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরা তার বাবাকে তার কাছে হস্তান্তর করেন। এছাড়া বাড়ি ফেরার জন্য ওসি ব্যক্তিগতভাবে ১ হাজার ৫০০ টাকা সহায়তা দিয়েছেন।
হাকিমপুর থানার ওসি মো. জাকির হোসেন জানান, বৃহস্পতিবার রাতে তিনি খবর পান যে এক অন্ধ বৃদ্ধকে হিলি চারমাথা মোড়ে রাস্তার পাশে ফেলে রাখা হয়েছে। এরপর পুলিশ ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন নেস্টের সহযোগিতায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
তিনি আরও জানান, শুক্রবার বৃদ্ধের ছেলে হাসপাতালে উপস্থিত হলে পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। পরে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যদের উপস্থিতিতে তাকে তার ছেলের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন