০৬:১৩ পি.এম
চট্টগ্রাম বন্দরের কনটেইনার, কার্গো ও জাহাজ হ্যান্ডলিংয়ে নতুন রেকর্ড গড়েছে ২০২৫–২৬ অর্থবছরে।
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং শ্রমিকদের ধর্মঘট-অবরোধের মতো নানা প্রতিকূলতার মধ্যে এই সাফল্য অর্জিত হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, সদ্য শেষ হওয়া অর্থবছরে বন্দরে মোট ৩৫ লাখ ৩১ হাজার ১১৮ টিইইউএস (২০ ফুট সমমান) কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে। আগের অর্থবছরের তুলনায় এটি ৭ দশমিক ১৩ শতাংশ বেশি। ২০২৪–২৫ অর্থবছরে কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছিল ৩২ লাখ ৯৬ হাজার ৬৭ টিইইউএস।
একই সময়ে কার্গো (খোলা পণ্য) হ্যান্ডলিংয়ে ১৩ কোটি ৮০ লাখ ৭২ হাজার ৮২৬ মেট্রিক টন সম্পন্ন হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের ১৩ কোটি ৭ লাখ ২৪ হাজার ৭৮৩ মেট্রিক টনের তুলনায় ৫ দশমিক ৬২ শতাংশ বেশি।
আরও পড়ুন: গাজীপুরে বাসায় ফেরার সময় ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে পোশাক শ্রমিক নিহত
জাহাজ হ্যান্ডলিংও বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। বিদায়ী অর্থবছরে ৪ হাজার ৩৩৬টি জাহাজ হ্যান্ডলিং হয়েছে, যা আগের অর্থবছর থেকে ৪ হাজার ৭৭টির তুলনায় ৬ দশমিক ৩৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
এই অর্জনকে যুগান্তকারী উল্লেখ করে চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান বলেন, "২০২৫-২৬ অর্থ বছরে প্রতিটি সূচকে আমরা অতীতের সমস্ত রেকর্ড ভঙ্গ করতে পেরেছি।" তিনি আরও জানান, আগের অর্থবছরের তুলনায় এ বছর রাজস্ব আদায়ে ২৩ দশমিক ৫৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।
বুধবার চট্টগ্রাম বন্দরের নবনির্মিত ওয়ান স্টপ সার্ভিস ভবনের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি বলেন, "২০২৫–২৬ অর্থবছরে বন্দর সব সূচকেই আগের রেকর্ড অতিক্রম করেছে।" তিনি উল্লেখ করেন, বন্দর কর্মকর্তা-কর্মচারী, কাস্টমস, শিপিং এজেন্ট, ফ্রেইট ফরওয়ার্ডার ও সংশ্লিষ্ট সবাই এর সাফল্যে সম্মিলিত প্রচেষ্টা করেছেন।
বন্দর সূত্র জানায়, বিদায়ী অর্থবছরে আয়কর-পরবর্তী রাজস্ব উদ্বৃত্ত ৩ হাজার ৩৯৫ কোটি টাকা হয়েছে। আগের অর্থবছরে যা ছিল ২ হাজার ২২৭ কোটি টাকা। একই সঙ্গে জাহাজের গড় অবস্থানকাল ২ দশমিক ৫৮ দিন থেকে কমে ২ দশমিক ৩৮ দিনে নেমেছে।
আরও পড়ুন: (ছবি আছে) জিয়ানগরে ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচার দাবিতে মানববন্ধন
দেশের প্রায় ৯২ শতাংশ আমদানি-রপ্তানি পণ্য চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমেই পরিবাহিত হয়। তবে অর্থবছরজুড়ে বিভিন্ন কারণে বন্দরের কার্যক্রম একাধিক চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়েছে। বিদেশি অপারেটর নিয়োগের বিরোধিতা করে ফেব্রুয়ারিতে শ্রমিকদের ধর্মঘটে বন্দরের কার্যক্রম কিছুদিনের জন্য ব্যাহত হয়েছে। এর আগে অক্টোবরে বর্ধিত মাশুল প্রত্যাহারের জন্য সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের কর্মবিরতিতেও আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে প্রভাব পড়েছিল। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আন্তর্জাতিক নৌপরিবহনেও অস্থিরতা তৈরি করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন