ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

জুলাইকে গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা ও আত্মত্যাগের মাস হিসেবে উল্লেখ করলেন মাসুদ সাঈদী


জুলাইকে গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা ও আত্মত্যাগের মাস হিসেবে উল্লেখ করলেন মাসুদ সাঈদী

পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী বলেছেন, 'জুলাই মাস আমাদের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা, আত্মত্যাগ ও নতুন বাংলাদেশ গড়ার শপথের মাস। জুলাই কেবল একটি মাসের নাম নয়, এটি দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রাম, ত্যাগ ও প্রতিরোধের প্রতীক।'

আজ বুধবার (১ জুলাই) সকালে ঢাকার একটি অডিটোরিয়ামে জিয়ানগর নাগরিক ফোরাম কর্তৃক আয়োজিত 'জুলাই: বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার শপথের মাস' শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এডভোকেট বদরুজ্জামান সোহেলের সভাপতিত্বে ও হাফিজুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ব্যারিষ্টার রুহুল আমিন খান, প্রকৌশলী হাসান হাফিজুর রহমান, আলমগীর হোসেন, হাসানুজ্জামান প্রমুখ।

আরও পড়ুন: তারেক রহমান: জামায়াত-এনসিপি আমার রাষ্ট্রীয় সম্মান সহ্য করতে পারছে না

মাসুদ সাঈদী বলেন, 'জুলাইয়ের চেতনা হঠাৎ করে সৃষ্টি হয়নি। শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী এবং অন্যান্য বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীরা নানা সময়ে আন্দোলন-সংগ্রাম চালিয়ে এসেছেন।

সেই ধারাবাহিকতায় পিলখানা ট্র্যাজেডি, শাপলা চত্বরের ঘটনা, রাজনৈতিক মামলা, গ্রেপ্তার, গুম, নির্যাতন এবং বহু নেতা-কর্মীর আত্মত্যাগ জাতির স্মৃতিতে অমলিন হয়ে রয়েছে।'

তিনি বলেন, 'আমার সম্মানিত শহীদ পিতা আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে খুনি হাসিনা কারাগার থেকে চিকিৎসার নামে হাসপাতালে এনে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে। জামায়াতে ইসলামীর পাঁচজন শীর্ষ নেতা এবং বিএনপির একজন নেতাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে। এ ছাড়া বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর অসংখ্য নেতা-কর্মীকে গুম, খুন, নির্যাতন, পঙ্গুত্ব, কারাবরণ ও ঘরছাড়া জীবনের মুখোমুখি হতে হয়েছে।

যারা এসব ত্যাগ স্বীকার করেছেন এবং যারা জুলাই আন্দোলনে জীবন দিয়েছেন—তাদের উদ্দেশ্য ছিল একটি ন্যায়ভিত্তিক, গণতান্ত্রিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা।'

আরও পড়ুন: আদাবরে যুবদল নেতাকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে জখম

তিনি আরো বলেন, 'জুলাই শহীদদের রক্ত, আহতদের আত্মত্যাগ এবং দীর্ঘ আন্দোলনের চেতনা কোনোভাবেই বিস্মৃত হওয়া যাবে না। যারা এই চেতনার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করবে বা জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষাকে ব্যক্তিগত কিংবা রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করবে, জনগণ তাদের ক্ষমা করবে না।'

এমপি মাসুদ সাঈদী বলেন, 'জুলাইয়ের আত্মত্যাগের সঙ্গে গাদ্দারি বাংলার মানুষ কখনো মেনে নেবে না। শহীদদের রক্তের মর্যাদা রক্ষা করা এবং তাদের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ে তোলা আমাদের সবার নৈতিক ও জাতীয় দায়িত্ব।

ভবিষ্যতে আবার কেউ খুনি হাসিনার মতো ফ্যাসিস্ট হওয়ার চেষ্টা করলে তাকে বা তাদেরকেও আওয়ামী লীগের থেকেও করুণ পরিনতি বরণ করতে হবে।'

সভায় মাসুদ সাঈদী দেশের শান্তি, গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সকল রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন ও সর্বস্তরের জনগণের প্রতি ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

আরও পড়ুন: শেরপুরে বাসের চাপায় সিএনজি যাত্রী নিহত, আহত ৪

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাণিজ্যিক নথিপত্র ডিজিটাল প্রক্রিয়াকরণের পাইলট কর্মসূচি চালু করল বাংলাদেশ ব্যাংক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:১৫ পি.এম


বাণিজ্যিক নথিপত্র ডিজিটাল প্রক্রিয়াকরণের পাইলট কর্মসূচি চালু করল বাংলাদেশ ব্যাংক

দেশের সীমান্ত-বাণিজ্য ও বাণিজ্য অর্থায়ন ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, দ্রুত এবং দক্ষ করে তুলতে এই উদ্যোগকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এ কাঠামোর মাধ্যমে বাণিজ্যিক নথিপত্রের ডিজিটাল প্রক্রিয়াকরণ সহজতর হবে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কার্যক্রমে গতি ও স্বচ্ছতা বাড়াতে এই পদক্ষেপ সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

আজ বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগ এ বিষয়ে একটি সার্কুলার জারি করেছে।

এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য হলো-কাগজের নথিপত্রের জায়গায় ধাপে ধাপে নিরাপদ ইলেকট্রনিক বা ডিজিটাল প্রক্রিয়া চালু করার মাধ্যমে কাজের দক্ষতা, স্বচ্ছতা ও পরিচালন সক্ষমতা বৃদ্ধি করা।

প্রথম পর্যায়ে পরীক্ষামূলক কর্মসূচির আওতায় অনুমোদিত বাণিজ্য করিডোরগুলোতে ‘ডকুমেন্টারি কালেকশন’ এবং ‘লেটার অব ক্রেডিট’ (এলসি)’র মাধ্যমে পরিচালিত লেনদেনগুলো অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বিভিন্ন বিধিমালার আওতাধীন রপ্তানি ও আমদানি লেনদেনে এ কাঠামো প্রযোজ্য হবে। এর মধ্যে রয়েছে ইউনিফর্ম রুলস ফর কালেকশনস (ইউআরসি), ইলেকট্রনিক ইউনিফর্ম রুলস ফর কালেকশনস (ই-ইউআরসি), ইউনিফর্ম কাস্টমস অ্যান্ড প্র্যাকটিস ফর ডকুমেন্টারি ক্রেডিটস (ইউসিপি) এবং ইলেকট্রনিক ইউনিফর্ম কাস্টমস অ্যান্ড প্র্যাকটিস (ই-ইউসিপি)।

এ কাঠামোর মাধ্যমে ইলেকট্রনিক ট্রান্সফারেবল রেকর্ডস (ইটিআর) ব্যবহারের সুযোগও তৈরি হবে। ফলে বাণিজ্যিক নথি ডিজিটালভাবে ইস্যু, হস্তান্তর ও ব্যবস্থাপনা করা যাবে এবং অনুমোদিত পাইলট ব্যবস্থার আওতায় ইলেকট্রনিক নথিভিত্তিক ট্রেড ফাইন্যান্স কার্যক্রম পরিচালনা সহজ হবে।

সার্কুলারে বলা হয়, এ কাঠামো পাঁচটি মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছে। এগুলো হলো- বিভিন্ন সিস্টেমের মধ্যে আন্তঃকার্যক্ষমতা (ইন্টারঅপারেবলিটি), প্রযুক্তি-নিরপেক্ষতা, ক্রিপ্টোগ্রাফিক পদ্ধতিতে নথির সত্যতা বিকেন্দ্রীকৃতভাবে যাচাই, তথ্যের গোপনীয়তা নিশ্চিত করা এবং ইলেকট্রনিক ও কাগজভিত্তিক বাণিজ্যিক নথির সমান আইনি বৈধতা নিশ্চিত করা।

এই পাইলট কর্মসূচিতে অংশ নিতে অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকগুলোকে প্রস্তাবিত বাণিজ্য করিডোর, অংশীদার প্রতিষ্ঠান, লেনদেনের ধরন এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনার বিস্তারিত বিবরণ জমা দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিগত অনুমোদন নিতে হবে।

এ কাঠামোর আওতায় ব্যাংকগুলো নিরাপদ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, ডিজিটাল স্বাক্ষর এবং প্রমাণীকৃত আন্তঃব্যাংক বার্তা বিনিময় ব্যবস্থার মাধ্যমে ইলেকট্রনিক বাণিজ্যিক চালান (কমার্শিয়াল ইনভয়েস), ইলেকট্রনিক বিল অব লেডিংসহ পরিবহন-সংক্রান্ত নথিপত্র এবং বিল অব এক্সচেঞ্জ প্রক্রিয়াকরণ করতে পারবে।

নথির নিরাপত্তা রক্ষায় অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে ইলেকট্রনিক রেকর্ডের স্বকীয়তা নিশ্চিত করতে হবে। অননুমোদিত পরিবর্তন প্রতিরোধ করতে হবে এবং এনক্রিপশন, টাইম-স্ট্যাম্পিং ও টেম্পার-প্রুফ অডিট ট্রেইলের মাধ্যমে নিরাপদ তথ্য আদান-প্রদান নিশ্চিত করতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, এই পাইলট কর্মসূচিটি অনুমোদিত বাণিজ্য করিডোরগুলোতে পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে। এই পরীক্ষামূলক ধাপের সফল সমাপ্তি এবং পরবর্তী রেগুলেটরি মূল্যায়নের ওপর ভিত্তি করে এই ডিজিটাল বাণিজ্য নথি ব্যবস্থার ব্যাপক সম্প্রসারণ করা হবে।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে রপ্তানি নথি নিরাপদভাবে ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে দাখিলের সুযোগ দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক যে সার্কুলার জারি করেছিল, এ নতুন উদ্যোগ তারই ধারাবাহিকতা। এর মাধ্যমে দেশের ডিজিটাল বাণিজ্য পরিবেশ আরও শক্তিশালী করা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যকে অধিক দক্ষ ও গতিশীল করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সাঘাটায় নাতির হাতে দাদি খুন, দাদা গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি: ঘাতক নাতি আটক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শাহীন আলম স্টাফ রিপোর্টার

বুধবার, ১ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:১৫ পি.এম


সাঘাটায় নাতির হাতে দাদি খুন, দাদা গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি: ঘাতক নাতি আটক

গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় পারিবারিক বিরোধের কারণে নাতির ছুরিকাঘাতে দাদি প্রাণ হারিয়েছেন। এ ঘটনায় তার দাদা গুরুতরভাবে আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। আজ বুধবার (১ জুলাই) দুপুরে উপজেলার খামার পবনতাইড় গ্রামে এই ঘটনার সূত্রপাত ঘটে। নিহত ফেরেজা বেগম (৬৬) এবং আহত আব্দুল করিম (৭১) উভয়েই ওই গ্রামের বাসিন্দা। ঘটনার পরে গ্রামের স্থানীয়রা অভিযুক্ত নাতিকে আটক করে পুলিশ কর্তৃপক্ষের কাছে সোপর্দ করেন।

গ্রামের বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে পরিবারটির মধ্যে অভ্যন্তরীণ বিরোধ বিরাজ করছিল। এই পরিস্থিতির জেরে বুধবার দুপুরে অভিযুক্ত নাতি ধারালো ছুরি নিয়ে দাদা ও দাদির ওপর আকস্মিক হামলা চালায়। এতে তারা দুজনেই গুরুতর আহত হন। হামলার সময় ফেরেজা বেগমের হাতের একটি কবজি প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং তার গাল ও গলায় গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়। আব্দুল করিমও শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক আঘাত পান।

আহতদের চিৎকার শোনার পর প্রতিবেশীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তাদের উদ্ধার করেন। পরে প্রথমত, সাঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পর, প্রাথমিক চিকিৎসার শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ফেরেজা বেগমকে মৃত ঘোষণা করেন। অন্যদিকে, আব্দুল করিম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা যাচ্ছে।

এদিকে, হামলার পর অভিযুক্ত নাতি পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে স্থানীয়রা তাকে আটক করে। খবর পেয়ে সাঘাটা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তাকে হেফাজতে নেয়। সাঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেছেন, ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। অভিযুক্তকে আটক করা হয়েছে এবং ঘটনার কারণ সম্পর্কে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

পারিবারিক বিরোধের জেরে এমন নৃশংস ঘটনার পর এলাকায় শোক, ক্ষোভ এবং চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চট্টগ্রামে যুবককে গুলি করে হত্যা, তদন্তে পুলিশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:১৭ পি.এম


চট্টগ্রামে যুবককে গুলি করে হত্যা, তদন্তে পুলিশ

চট্টগ্রামে মো. আজাদ নামে এক যুবককে গুলি করে হত্যার অভিযোগ প্রকাশিত হয়েছে। বুধবার (১ জুলাই) বিকেল সোয়া ৪ টার সময় আজাদের লাশ তার এক সহযোগী চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসার পর ঘটনাটি সামনে আসে।

চট্টগ্রাম নগর পুলিশের উপ-কমিশনার (উত্তর) হাসান মোস্তফা স্বপন কালের কণ্ঠকে জানিয়েছেন, ‘বিকেল সোয়া ৪ টায় হাসপাতাল থেকে আমাদের কাছে জানানো হয় যে, মুরাদপুর ফরেস্ট গেইট এলাকা থেকে আজাদ নামে এক যুবককে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ডাক্তার পরীক্ষার পর আজাদকে মৃত ঘোষণা করেন।'

তিনি আরও বলেন, ‘আজাদের সহযোগীর বক্তব্য অনুযায়ী, আমাদের টিম ফরেস্ট গেইটে যায়। সেখানে একটি একতলা ভবনে গিয়ে তারা জানতে পারে যে নিহত আজাদসহ তিনজন মাদক সেবন করছিল। এই ঘটনার তদন্ত প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং বিস্তারিত পরবর্তীতে জানানো হবে।’

পুলিশের সূত্রে জানা গেছে, নিহত আজাদের সহযোগীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তাদের সন্দেহ, মাদক সংক্রান্ত কোনো বিরোধের জের ধরে আজাদকে হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মরুর দেশে রেল বিপ্লব, প্রথম জাতীয় ট্রেনসেবা চালু করেছে আমিরাত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ১ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:১৭ পি.এম


মরুর দেশে রেল বিপ্লব, প্রথম জাতীয় ট্রেনসেবা চালু করেছে আমিরাত

সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) আনুষ্ঠানিকভাবে দেশের প্রথম জাতীয় যাত্রীবাহী রেলসেবা চালু হয়েছে।

দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে মঙ্গলবার ভোরে প্রথমবারের মতো যাত্রী নিয়ে যাত্রা শুরু করে ইতিহাদ রেল পরিচালিত ‘ডেজার্ট এক্সপ্রেস’ নামের এই ট্রেন। পর্যায়ক্রমে এটি দেশের ১১টি শহরকে একই রেল নেটওয়ার্কের আওতায় নিয়ে আসবে।

নতুন এই রেলসেবা উদ্বোধনের মাধ্যমে সড়কনির্ভর পরিবহন ব্যবস্থার পাশাপাশি আরও টেকসই ও পরিবেশবান্ধব যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে বড় একটি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে আমিরাত।

ফুজাইরাহ থেকে আবুধাবি স্থানীয় সময় মঙ্গলবার ভোর ৫টা ৩৪ মিনিটে ওমান উপসাগর তীরবর্তী ফুজাইরাহ থেকে প্রথম ট্রেনটি যাত্রা শুরু করেছে। প্রায় ২৫০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে এটি সকাল ৭টা ১৯ মিনিটে আবুধাবির মোহাম্মদ বিন জায়েদ সিটি স্টেশনে পৌঁছেছে। পুরো যাত্রায় সময় লেগেছে ১ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট।

প্রথম দিন মোট ছয়টি ট্রেন চলাচলের মাধ্যমে পরীক্ষামূলক বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করেছে ইতিহাদ রেল।

প্রতিষ্ঠানটির তথ্যানুসারে, উদ্বোধনের আগেই নতুন রেলসেবার জন্য ১০ হাজারের বেশি টিকিট বিক্রি হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের ব্যাপক আগ্রহেরই প্রমাণ।

আধুনিক সুযোগ-সুবিধা ইতিহাদ রেল জানিয়েছে, যাত্রীদের জন্য ট্রেনে রয়েছে আধুনিক ও আরামদায়ক ভ্রমণের সব ধরনের সুবিধা। প্রতিটি ট্রেনে রয়েছে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, উচ্চগতির ওয়াই-ফাই, মোবাইল ও ল্যাপটপ চার্জ দেওয়ার জন্য বিদ্যুৎ সংযোগ, সংরক্ষিত আসন এবং উন্নতমানের যাত্রীসেবা।

এছাড়া বেশি আরাম ও অতিরিক্ত সুবিধা চান এমন যাত্রীদের জন্য রয়েছে প্রিমিয়াম ক্লাস।

ইতিহাদ রেলের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা আজ্জা আল সুয়াইদি বলেন, “আজকের প্রথম যাত্রা শুধু একটি ট্রেনের যাত্রা নয়, এটি বহু বছরের একটি জাতীয় স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নেওয়ার মুহূর্ত। এই রেলপথ দেশের মানুষকে একে অপরের সঙ্গে, নতুন সম্ভাবনার সঙ্গে এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সঙ্গে আরও সহজে যুক্ত করবে।”

পর্যায়ক্রমে যুক্ত হবে ১১ শহর ইতিহাদ রেলের পরিকল্পনা অনুযায়ী, চলতি বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর দুবাই ও আল ধাইদ স্টেশন চালু হবে। এর তিন মাস পর চালু হবে আল ধাফরা অঞ্চলের স্টেশনগুলো। আগামী বছরের মার্চের শেষের দিকে শারজাহ স্টেশন চালুর মাধ্যমে পুরো রেলপথের কাজ সম্পন্ন হবে।

সব স্টেশন চালু হলে এই রেলপথ ওমান উপসাগর থেকে শুরু করে পারস্য উপসাগরসংলগ্ন অঞ্চল, বিভিন্ন আমিরাত, আবুধাবির অভ্যন্তরীণ এলাকা এবং সৌদি আরব সীমান্তবর্তী গুওয়েইফাত পর্যন্ত বিস্তৃত হবে।

ভাড়া ও ট্রেনের ধারণক্ষমতা নতুন এই রেলসেবায় কমফোর্ট ক্লাসের ভাড়া শুরু হয়েছে ৫৫ আমিরাতি দিরহাম (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ হাজার ৮৫০ টাকা) থেকে। অন্যদিকে প্রিমিয়াম ক্লাসের টিকিটের মূল্য ১২০ দিরহাম (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪ হাজার টাকা)। বর্তমানে ইতিহাদ রেলের বহরে রয়েছে ১৩টি ট্রেন। প্রতিটি ট্রেনে একসঙ্গে প্রায় ৪০০ যাত্রী ভ্রমণ করতে পারবেন।

পরিবেশবান্ধব যোগাযোগব্যবস্থার অংশ প্রায় ৯০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই জাতীয় রেল নেটওয়ার্ক আমিরাত সরকারের পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন পরিকল্পনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প। সরকারের লক্ষ্য হলো, ব্যক্তিগত গাড়ির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে কার্বন নিঃসরণ হ্রাস করা এবং টেকসই গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা।

ট্রেনের সঙ্গে বাস ও ট্যাক্সির সমন্বয় আমিরাতে ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার অত্যন্ত জনপ্রিয় হওয়ায় নতুন রেলসেবাকে কার্যকর করতে স্টেশন থেকে যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছাতে বাস, ট্যাক্সি এবং অন্যান্য গণপরিবহনের সঙ্গে সমন্বিত ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে।

সমন্বিত পরিবহন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক আবদুল্লাহ হামাদ আল ঘাফেলি বলেছেন, ইতিহাদ রেলের সঙ্গে যৌথভাবে এমন একটি ব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছে, যাতে যাত্রীরা ট্রেন থেকে নেমেই সহজে বাস, ট্যাক্সি কিংবা অন্যান্য পরিবহন ব্যবহার করে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেন।

পর্যটনে কতটা প্রভাব ফেলবে? যদিও নতুন রেলসেবা চালু হওয়ায় আমিরাতজুড়ে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে, তবে আন্তর্জাতিক পর্যটনে এর প্রভাব কতটা হবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। জনপ্রিয় রেলভ্রমণ বিষয়ক ওয়েবসাইট ‘দ্য ম্যান ইন সিট ৬১’-এর প্রতিষ্ঠাতা এবং রেলবিশেষজ্ঞ মার্ক স্মিথের মতে, এই রেলপথ বর্তমানে আমিরাতকে অন্য কোনও দেশের সঙ্গে যুক্ত করছে না। ফলে আন্তর্জাতিক পর্যটকদের কাছে এর আকর্ষণ কতটা হবে, তা সময়ই বলে দেবে। তবে দেশটির অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ, ব্যবসা-বাণিজ্য, পর্যটন এবং টেকসই পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়নে নতুন এই জাতীয় যাত্রীবাহী রেলসেবা একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%