বৃহস্পতিবার, ৬ই আগস্ট, ২০২৬ ইং
০৪:৫৯ পি.এম
ঢাকা, ৬ আগস্ট, ২০২৬ : গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র (ডিআর কঙ্গো) এ সংক্রামক ও প্রাণঘাতী ইবোলা প্রাদুর্ভাব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। এ প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় স্বাস্থ্য ব্যবস্থা শক্তিশালী করার জন্য আরও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রিয়েসুস।
বুধবার ডিআর কঙ্গো সফরের সময় তিনি এই আহ্বান করেন।
ডিআর কঙ্গো ১৫ মে ১৭তম ইবোলা প্রাদুর্ভাব ঘোষণা করেছে।
বার্তা সংস্থা এএফপি থেকে খবর পাওয়া গেছে কিনশাসা থেকে। ডব্লিউএইচও কর্তৃক প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্যমতে, এ প্রাদুর্ভাবে দেশটিতে ৩ হাজার ৮৭৪ জনের সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে এবং ১ হাজার ৭৫১ জন মারা গেছে।
টেড্রোস আধানম গেব্রিয়েসুস মঙ্গলবার কিনশাসায় পৌঁছান। তার এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, তিনি প্রেসিডেন্ট ফেলিক্স তশিসেকেদির সঙ্গে বৈঠক করবেন, তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে প্রতিক্রিয়া কার্যক্রমের বৈঠকের পর টেড্রোস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন যে, ‘আমাদের প্রতিরোধ কার্যক্রম সম্প্রসারণের চেয়ে দ্রুত গতিতে প্রাদুর্ভাব ছড়িয়ে পড়ছে। গত এক সপ্তাহের মধ্যে কয়েকটি হটস্পটে নতুন রোগীর সংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছে।’
তিনি উল্লেখ করেন, ‘আমাদের সব প্রচেষ্টা জরুরি ভিত্তিতে এবং ব্যাপকভাবে বাড়াতে হবে।’
তার মতে, ‘এর অর্থ হলো, নিরাপত্তাহীনতা ও বাস্তুচ্যুতির মধ্যেও ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছাতে হবে। সমন্বয় জোরদার করতে হবে। স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রয়োজনীয় সুরক্ষা, প্রশিক্ষণ ও সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি চিকিৎসাসেবা, নজরদারি এবং নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ দাফনের ব্যবস্থা দ্রুত সম্প্রসারণ করতে হবে।’
আগস্ট মাসের শেষ দিকে টেড্রোস ইতুরি প্রদেশ সফর করেছিলেন, যেখানে শনাক্ত হওয়া প্রায় ৯০ শতাংশ ইবোলা রোগী উপস্থিত।
পূর্বাঞ্চলীয় পাঁচটি প্রদেশে সরকারের উপস্থিতি দুর্বল, এবং স্বাস্থ্যসেবা অবকাঠামোও ব্যাপকভাবে অনুপস্থিত।
এ সপ্তাহে ইতুরির মংবওয়ালুতে ইবোলা নিয়ন্ত্রণের চলমান সংকট স্পষ্ট হয়েছে।
জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সংস্থা ওসিএইচএ জানিয়েছে, মঙ্গলবার ইতুরি প্রদেশের রাজধানী বুনিয়াতে ১০০ শয্যার একটি নতুন ইবোলা চিকিৎসাকেন্দ্র চালু হয়েছে। ক্রমবর্ধমান রোগীর চাপ সামলাতে কেন্দ্রটি চালু করা হয়েছে।
শরীরের তরলের সংস্পর্শে ইবোলা ছড়ায় এবং এতে রক্তক্ষরণের জন্য জ্বর দেখা দেয়। গত ৫০ বছরে আফ্রিকায় এ রোগে ১৫ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
-টিকা এবং চিকিৎসা-
বর্তমান প্রাদুর্ভাবের জন্য দায়ী বুন্ডিবুগিও প্রজাতির ইবোলা ভাইরাস, যা বিরুদ্ধে এখনো কোনো অনুমোদিত টিকা বা চিকিৎসা নেই।
মঙ্গলবার কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান মডার্নাকে বুন্ডিবুগিও ভাইরাসের সম্ভাব্য টিকার ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা শুরু করার অনুমতি দিয়েছে।
গত জুলাইয়ের শেষে যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের তৈরি আরেকটি সম্ভাব্য টিকার প্রথম ডোজ দেওয়া হয়েছে। এ টিকাটি অ্যাস্ট্রাজেনেকার কোভিড-১৯ টিকার একই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি।
এছাড়া, সিঙ্গাপুরভিত্তিক হিলেম্যান ল্যাবরেটরিজ বুন্ডিবুগিও ভাইরাসের বিরুদ্ধে তৃতীয় একটি সম্ভাব্য টিকার মানবদেহে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
ডব্লিউএইচও এর মতে, এটি সবচেয়ে আশাব্যঞ্জক, কারণ এতে একই আরভিএসভি প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার হয়েছে, যা বর্তমানে অনুমোদিত একমাত্র ইবোলা টিকা এরভেবো-তে ব্যবহৃত হয়েছে। তবে এরভেবো জাইর নামক ভিন্ন ইবোলা ভাইরাসের বিরুদ্ধে কার্যকর।
ইতুরিতে নিশ্চিত ইবোলা রোগীদের ওপর বর্তমানে দু’টি সম্ভাব্য চিকিৎসা পদ্ধতির পরীক্ষা চলছে। এগুলি হচ্ছে মনোক্লোনাল অ্যান্টিবডি এমবিপি১৩৪ এবং অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ রেমডেসিভির। এ দুটি চিকিৎসা পৃথক এবং সমন্বিতভাবে প্রয়োগ করে পরীক্ষা করা হচ্ছে।
এদিকে নিশ্চিত বুন্ডিবুগিও ইবোলা আক্রান্তদের সংস্পর্শে আসা মানুষের জন্য মুখে খাওয়ার অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ ওবেলডেসিভির পরীক্ষামূলক প্রয়োগ চলমান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ৬ আগস্ট, ২০২৬ : যুক্তরাষ্ট্রের প্রশান্ত মহাসাগরীয় নৌবহরের (ইউএস প্যাসিফিক ফ্লিট) কমান্ডার অ্যাডমিরাল স্টিভ কোহলার আজ বাংলাদেশে তার সরকারি সফর শেষ করেছেন। তিনি সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদার এবং দ্বিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা সহযোগিতা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে উচ্চপর্যায়ের একাধিক বৈঠক করেছেন।
ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ৪ থেকে ৬ আগস্ট পর্যন্ত সফরকালে অ্যাডমিরাল কোহলার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ নৌবাহিনীর নৌপ্রধান ভাইস অ্যাডমিরাল খন্দকার মিসবাহ উল আজিমের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।
বৈঠকগুলোতে সামুদ্রিক নিরাপত্তা খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে প্রতিরক্ষা সম্পর্ক আরও গভীর করার বিভিন্ন উপায় পর্যালোচনা করা হয়।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, এ সফর আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোরদার এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতা সম্প্রসারণে দুই দেশের অব্যাহত সম্পৃক্ততার প্রতিফলন।
এতে আরও বলা হয়, সামুদ্রিক ক্ষেত্র এবং বিস্তৃত নিরাপত্তা ইস্যুতে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা অব্যাহত থাকার প্রেক্ষাপটে অ্যাডমিরাল কোহলারের এ সফর অনুষ্ঠিত হলো।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ৬ আগস্ট, ২০২৬ : প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তারেক রহমানের সাক্ষাতে রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী অনুশ্রী রায়ের স্বপ্ন পূরণ হলো।
অনুশ্রী রায়, রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার পূর্ব নবনিদাস সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। সাম্প্রতিক জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬ প্রতিযোগিতায় দেশের গানে প্রথম স্থান এবং নজরুল সংগীতে তৃতীয় স্থান লাভ করেছে অনুশ্রী।
আজ, বৃহস্পতিবার, সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তার বাবা-মাকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন অনুশ্রী।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী তাকে একটি হারমোনিয়াম উপহার দেন।
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব সুজাউদ্দৌলা সুজন মাহমুদ এ তথ্য জানান।
তিনি উল্লেখ করেন, গত ১৫ জুলাই বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬ প্রদান অনুষ্ঠানে যখন অনুশ্রী পদক গ্রহণ করছিল, তখন তিনি প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে তাঁর একজন কর্মকর্তার কাছে একটি চিঠি দেন।
চিঠিতে এই ক্ষুদে শিক্ষার্থী সংগীতচর্চার প্রতি নিজের ভালোবাসা প্রকাশ করে। পাশাপাশি, সংগীতচর্চায় সহযোগিতার জন্য একটি হারমোনিয়াম এবং প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার ইচ্ছা জানায়। পরে প্রধানমন্ত্রী চিঠিটি পড়ে অনুশ্রী ও তার পরিবারকে সাক্ষাতের জন্য আমন্ত্রণ জানান।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে আনন্দে আত্মহারা ক্ষুদে সংগীতশিল্পী অনুশ্রী জানান, ‘কখনো বিশ্বাসই করতে পারিনি যে, আমার চিঠি প্রধানমন্ত্রী পড়বেন এবং সাক্ষাতের জন্য ডাকবেন।’
অনুশ্রী আরও বলে, ‘আমার সংগীতচর্চার জন্য একটি হারমোনিয়াম খুব প্রয়োজন ছিল। কিন্তু আমার পরিবারের পক্ষে সেটি কেনার সামর্থ্য ছিল না। তাই চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের অনুষ্ঠানের দিন সেসব লিখে প্রধানমন্ত্রীর কাছে দিয়েছিলাম। তবে সেই চিঠি সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর হাতে দিতে পারিনি; তাঁর একজন কর্মকর্তার হাতে দিয়েছিলাম। ভাবিনি, প্রধানমন্ত্রী আমার চিঠি পাবেন এবং পড়বেন। যখন প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে একজন কর্মকর্তা (অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন) আমাদের ফোন করে জানালেন যে প্রধানমন্ত্রী আমার লেখা সেই চিঠি পড়েছেন এবং আমাদের সাক্ষাতের জন্য ডেকেছেন, তখন যেন কোনোভাবেই বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। এরপর আজ আমাদের অবাক করে দিয়ে আমাদের সঙ্গে দেখা করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।’
অনুশ্রী জানায়, এ সময় প্রধানমন্ত্রী স্নেহভরে তার সঙ্গে কথা বলেন। তিনি তার সংগীতচর্চার খোঁজ-খবর নেন এবং ভবিষ্যতে নিয়মিত অনুশীলন চালিয়ে যাওয়ার জন্য পরামর্শ দেন। পাশাপাশি তার সংগীত সাধনায় উৎসাহিত করার উদ্দেশ্যে চিঠির মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে চাওয়া সেই হারমোনিয়ামও উপহার হিসেবে তার হাতে তুলে দেন। এ সময় অনুশ্রী প্রধানমন্ত্রীকে একটি দেশাত্মবোধক গানও শোনান।
সুজন মাহমুদ জানান, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ হওয়ায় অনুশ্রীর বাবা আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, ‘তার মেয়েকে প্রধানমন্ত্রী ডেকে উৎসাহ দেবেন; এটা তারা কখনো কল্পনাও করেননি।’
অনুশ্রীর বাবা জানান, বিভিন্ন সময় মেয়েকে প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক মানবিক কার্যক্রম ও মানুষের পাশে দাঁড়ানোর গল্প বলতেন। এরপর থেকেই অনুশ্রীর মধ্যে বিশ্বাস জন্মায়, প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিঠি লিখলে হয়তো তাঁর কাছ থেকে সাড়া পাওয়া যাবে। সেই বিশ্বাস থেকেই জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রদান অনুষ্ঠানে এসে সে প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে একটি চিঠি লেখে। কিন্তু সেই চিঠি যে প্রধানমন্ত্রীর হাতে পৌঁছাবে, তা জানতেন না। আর সেই চিঠি প্রধানমন্ত্রী পড়বেন; সেটাও ছিল অবিশ্বাস্য। আজ তারা কতটা খুশি, তা ভাষায় প্রকাশ করতে পারছেন না।
অনুশ্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে হারমোনিয়াম উপহার পেয়ে অনুশ্রী ও তার পরিবার গভীর আনন্দ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী যে উৎসাহ দিয়েছেন, তা তার সংগীতচর্চায় আরও অনুপ্রেরণা যোগাতে এবং ভবিষ্যতে একজন প্রতিষ্ঠিত সংগীতশিল্পী হওয়ার স্বপ্ন পূরণে তাকে সাহস জোগাবে বলে জানায় তার পরিবার।
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জানান, একই দিনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তাবিউল ইসলাম রাকিব নামে এক নিরাপত্তাকর্মী। রাকিব রাজধানীর কুড়িল-বিশ্বরোড এলাকায় একটি বেসরকারি ভবনের নিরাপত্তা প্রহরীর কাজ করেন।
রাকিব জানান, তিনি ছোটবেলা থেকেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং তাঁর পরিবারের ভক্ত। তখন থেকেই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার প্রবল ইচ্ছা ছিল তার। সেই আকাক্ষার কথা জানিয়ে তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশ করেছিলেন। ভিডিওতে তিনি বলেছিলেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা না হওয়া পর্যন্ত তিনি ঢাকা ছাড়বেন না। অবশেষে সেই ইচ্ছা পূরণ হওয়ায় তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এবং প্রধানমন্ত্রীর কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
সাক্ষাৎকালে রাকিব প্রধানমন্ত্রীর কাছে তার এলাকার দীর্ঘদিনের একটি জনদাবির কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, মোড়েলগঞ্জের পানগুছি নদীর ওপর একটি সেতু নির্মাণের দাবি এলাকাবাসী দীর্ঘদিন ধরে জানিয়ে আসছেন। নদী পারাপারে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। সেখানে একটি সেতু নির্মিত হলে হাজারো মানুষের দুর্ভোগ লাঘব হবে।
রাকিব গত ৭ মাস ধরে রাজধানীর কুড়িল বিশ্বরোড এলাকায় নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কাজ করছেন। তার গ্রামের বাড়ি বাগেরহাট জেলার মোড়েলগঞ্জ উপজেলার নুরুল্লাহপুর শিকদারবাড়ি এলাকায়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৮৫তম মহাপ্রয়াণ দিবস গভীর শ্রদ্ধা ও যথাযোগ্য মর্যাদার সাথে নানা কর্মসূচির মধ্যদিয়ে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে পালন করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক তাহ্মিনা আখতার-এর সার্বিক দিকনির্দেশনায় বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট, ২২ শ্রাবণ) দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
কর্মসূচির প্রথম পর্যায়ে সকাল ১০:০০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী অ্যাকাডেমিক ভবন-৩-এ স্থাপিত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আবদুস সোবাহান। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর (ভারপ্রাপ্ত), বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান, হলসমূহের প্রভোস্ট ও হাউজ টিউটর, বিভিন্ন শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এই সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. মোমেনুর রসুলও উপস্থিত ছিলেন।
শ্রদ্ধা নিবেদন পরবর্তী পর্বে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের আয়োজনে সেমিনার ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সংগীত বিভাগের চেয়ারম্যান দেবশ্রী দোলনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আবদুস সোবাহান। সেমিনারে আলোচক হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. মোমেনুর রসুল।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মো. আবদুস সোবাহান উল্লেখ করেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কেবল বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির নন, তিনি বিশ্বমানবতার এক অনন্য উদাহরণ। তাঁর সাহিত্য, দর্শন, শিক্ষা-চিন্তাধারা এবং মানবকল্যাণের আদর্শ আজও আমাদের ব্যক্তিজীবন, সমাজ ও রাষ্ট্রচিন্তায় সমানভাবে প্রাসঙ্গিক রয়েছে। এজন্য তিনি শিক্ষার্থীদের রবীন্দ্রচর্চার মাধ্যমে অসাম্প্রদায়িক, মানবিক ও সৃজনশীল মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশ ও সমাজ গঠনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করার আহ্বান জানান।
মাননীয় উপ-উপাচার্য মহোদয় আরও বলেন, রবীন্দ্রনাথের শিক্ষা আমাদের মুক্তচিন্তা, সৃজনশীলতা এবং মানবকল্যাণে আত্মনিয়োগের প্রেরণা দেয়। তিনি বলেন, নতুন প্রজন্মের কাছে রবীন্দ্র-দর্শন ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য পৌঁছে দিতে বিশ্ববিদ্যালয় ভবিষ্যতেও বিভিন্ন গবেষণা, সেমিনার, সাংস্কৃতিক আয়োজন এবং অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।
এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় রবীন্দ্রসংগীত, আবৃত্তি ও নৃত্যনাট্যের সমন্বয়ে একটি মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। পুরো আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিশ্বকবির জীবন, কর্ম ও দর্শনের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন এবং তাঁর আদর্শ নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কনকদিয়া ইউনিয়নে দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা দূর করার জন্য কৃষিকাজে গতি ফিরিয়ে আনতে খাল পরিষ্কার কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। এই কার্যক্রমে স্থানীয়দের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে, যার ফলে চারটি গ্রামের কৃষকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সকাল ৯টা থেকে সমাজসেবক ইব্রাহীম হাওলাদারের উদ্যোগে এ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু হয়। এতে এলাকার স্বেচ্ছাসেবক, কৃষক ও সাধারণ মানুষ একযোগে অংশ নেন। খালের বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা আগাছা, পলি ও আবর্জনা অপসারণের মাধ্যমে পানি চলাচলের পথ উন্মুক্ত করা হয়।
স্থানীয়রা জানান, খালটি দীর্ঘদিন ধরে অযত্নে পড়ে থাকায় অতিবৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশন সম্ভব হচ্ছিল না। এর ফলে ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কলতা ও ঝিলনা এবং ৫ নম্বর ওয়ার্ডের হোগলা ও কুম্ভখালী গ্রামের বিস্তীর্ণ কৃষিজমিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছিল। এতে বীজতলা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি মৌসুমি আবাদও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।
কৃষক সবুজ মল্লিক বলেন, “জলাবদ্ধতার কারণে দীর্ঘদিন ধরে জমিতে বীজতলা তৈরি করতে পারছিলাম না। বিষয়টি ইব্রাহীম হাওলাদারকে জানালে তিনি দ্রুত খাল পরিষ্কারের ব্যবস্থা নেন। এখন পানি নামতে শুরু করায় আমরা নতুন করে চাষাবাদের আশা দেখছি।”
উদ্যোক্তা সমাজসেবক ইব্রাহীম হাওলাদার বলেন, “কৃষকদের দুর্ভোগ কমানো এবং স্বাভাবিক পানি প্রবাহ নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। খালটি সচল থাকলে জলাবদ্ধতা কমবে, কৃষিজমি দ্রুত চাষের উপযোগী হবে এবং উৎপাদনও বাড়বে।”
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, এ ধরনের জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ নিয়মিত অব্যাহত থাকলে জলাবদ্ধতার সমস্যা অনেকাংশে কমবে এবং কৃষকরা আরও নির্বিঘ্নে কৃষিকাজ পরিচালনা করতে পারবেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ