প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকা, ৬ আগস্ট, ২০২৬ : গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র (ডিআর কঙ্গো) এ সংক্রামক ও প্রাণঘাতী ইবোলা প্রাদুর্ভাব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। এ প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় স্বাস্থ্য ব্যবস্থা শক্তিশালী করার জন্য আরও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রিয়েসুস।
বুধবার ডিআর কঙ্গো সফরের সময় তিনি এই আহ্বান করেন।
ডিআর কঙ্গো ১৫ মে ১৭তম ইবোলা প্রাদুর্ভাব ঘোষণা করেছে।
বার্তা সংস্থা এএফপি থেকে খবর পাওয়া গেছে কিনশাসা থেকে। ডব্লিউএইচও কর্তৃক প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্যমতে, এ প্রাদুর্ভাবে দেশটিতে ৩ হাজার ৮৭৪ জনের সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে এবং ১ হাজার ৭৫১ জন মারা গেছে।
টেড্রোস আধানম গেব্রিয়েসুস মঙ্গলবার কিনশাসায় পৌঁছান। তার এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, তিনি প্রেসিডেন্ট ফেলিক্স তশিসেকেদির সঙ্গে বৈঠক করবেন, তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে প্রতিক্রিয়া কার্যক্রমের বৈঠকের পর টেড্রোস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন যে, ‘আমাদের প্রতিরোধ কার্যক্রম সম্প্রসারণের চেয়ে দ্রুত গতিতে প্রাদুর্ভাব ছড়িয়ে পড়ছে। গত এক সপ্তাহের মধ্যে কয়েকটি হটস্পটে নতুন রোগীর সংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছে।’
তিনি উল্লেখ করেন, ‘আমাদের সব প্রচেষ্টা জরুরি ভিত্তিতে এবং ব্যাপকভাবে বাড়াতে হবে।’
তার মতে, ‘এর অর্থ হলো, নিরাপত্তাহীনতা ও বাস্তুচ্যুতির মধ্যেও ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছাতে হবে। সমন্বয় জোরদার করতে হবে। স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রয়োজনীয় সুরক্ষা, প্রশিক্ষণ ও সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি চিকিৎসাসেবা, নজরদারি এবং নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ দাফনের ব্যবস্থা দ্রুত সম্প্রসারণ করতে হবে।’
আগস্ট মাসের শেষ দিকে টেড্রোস ইতুরি প্রদেশ সফর করেছিলেন, যেখানে শনাক্ত হওয়া প্রায় ৯০ শতাংশ ইবোলা রোগী উপস্থিত।
পূর্বাঞ্চলীয় পাঁচটি প্রদেশে সরকারের উপস্থিতি দুর্বল, এবং স্বাস্থ্যসেবা অবকাঠামোও ব্যাপকভাবে অনুপস্থিত।
এ সপ্তাহে ইতুরির মংবওয়ালুতে ইবোলা নিয়ন্ত্রণের চলমান সংকট স্পষ্ট হয়েছে।
জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সংস্থা ওসিএইচএ জানিয়েছে, মঙ্গলবার ইতুরি প্রদেশের রাজধানী বুনিয়াতে ১০০ শয্যার একটি নতুন ইবোলা চিকিৎসাকেন্দ্র চালু হয়েছে। ক্রমবর্ধমান রোগীর চাপ সামলাতে কেন্দ্রটি চালু করা হয়েছে।
শরীরের তরলের সংস্পর্শে ইবোলা ছড়ায় এবং এতে রক্তক্ষরণের জন্য জ্বর দেখা দেয়। গত ৫০ বছরে আফ্রিকায় এ রোগে ১৫ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
-টিকা এবং চিকিৎসা-
বর্তমান প্রাদুর্ভাবের জন্য দায়ী বুন্ডিবুগিও প্রজাতির ইবোলা ভাইরাস, যা বিরুদ্ধে এখনো কোনো অনুমোদিত টিকা বা চিকিৎসা নেই।
মঙ্গলবার কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান মডার্নাকে বুন্ডিবুগিও ভাইরাসের সম্ভাব্য টিকার ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা শুরু করার অনুমতি দিয়েছে।
গত জুলাইয়ের শেষে যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের তৈরি আরেকটি সম্ভাব্য টিকার প্রথম ডোজ দেওয়া হয়েছে। এ টিকাটি অ্যাস্ট্রাজেনেকার কোভিড-১৯ টিকার একই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি।
এছাড়া, সিঙ্গাপুরভিত্তিক হিলেম্যান ল্যাবরেটরিজ বুন্ডিবুগিও ভাইরাসের বিরুদ্ধে তৃতীয় একটি সম্ভাব্য টিকার মানবদেহে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
ডব্লিউএইচও এর মতে, এটি সবচেয়ে আশাব্যঞ্জক, কারণ এতে একই আরভিএসভি প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার হয়েছে, যা বর্তমানে অনুমোদিত একমাত্র ইবোলা টিকা এরভেবো-তে ব্যবহৃত হয়েছে। তবে এরভেবো জাইর নামক ভিন্ন ইবোলা ভাইরাসের বিরুদ্ধে কার্যকর।
ইতুরিতে নিশ্চিত ইবোলা রোগীদের ওপর বর্তমানে দু’টি সম্ভাব্য চিকিৎসা পদ্ধতির পরীক্ষা চলছে। এগুলি হচ্ছে মনোক্লোনাল অ্যান্টিবডি এমবিপি১৩৪ এবং অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ রেমডেসিভির। এ দুটি চিকিৎসা পৃথক এবং সমন্বিতভাবে প্রয়োগ করে পরীক্ষা করা হচ্ছে।
এদিকে নিশ্চিত বুন্ডিবুগিও ইবোলা আক্রান্তদের সংস্পর্শে আসা মানুষের জন্য মুখে খাওয়ার অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ ওবেলডেসিভির পরীক্ষামূলক প্রয়োগ চলমান।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন