বৃহস্পতিবার, ২৫শে জুন, ২০২৬ ইং
০৪:২৭ পি.এম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং আজ স্থানীয় সময় বিকেল ৫টায় (বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টা) ঐতিহাসিক গ্রেট হলে বৈঠকে মিলিত হবেন।
বৈঠক শেষে দুই প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বিষয়ক ১৫টি সমঝোতা স্মারক সই হবে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের (পিএমও) মুখপাত্র মাহদী আমিন আজ এখানে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘আমরা আশা করি, এসব চুক্তি চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ক আরও জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’
তিনি জানান, চীনের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী এবং তাঁর সফরসঙ্গী প্রতিনিধিদলের সম্মানে একটি রাষ্ট্রীয় ভোজের আয়োজন করবেন।
এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামীকাল স্থানীয় সময় সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে) ঐতিহাসিক গ্রেট হলে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করবেন।
মাহদী আমিন বলেন, উভয় বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরবেন।
তিনি বলেন, ‘একই সঙ্গে আমরা আশা করি, এসব আলোচনা ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে, যা বাংলাদেশের জনগণের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রাকে আরও সুসংহত করবে।’
বেইজিং (চীন), ২৫ জুন, ২০২৬ (বাসস) : মাহদী আমিন বলেন, চীনা প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে বেইজিংয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের উদ্দেশ্য হলো বাংলাদেশের ভূ-রাজনৈতিক ও কৌশলগত অবস্থান, ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি, বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের প্রসার, জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক জোরদার করা এবং শিক্ষা, সংস্কৃতি, তথ্যপ্রযুক্তি ও স্বাস্থ্যসহ জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে আরও কার্যকর সহযোগিতা প্রতিষ্ঠা করা।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে আজ চীনের পানিসম্পদ মন্ত্রী লি গুয়োয়িংয়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
মাহদী আমিন জানান, বৈঠকে তিস্তা মহাপরিকল্পনাসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন নদী ব্যবস্থাপনা, বন্যা ঝুঁকি মোকাবিলা, নদী খনন, নদীভাঙন রোধ, সেচ ও নৌ-নেভিগেশন উন্নয়নে দুই দেশের সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে উভয় পক্ষ ঐকমত্য হয়। চীনা মন্ত্রী এ খাতে একসাথে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
তিনি আরও জানান, বাংলাদেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়ে আজ সকালে চায়না কাউন্সিল ফর দ্য প্রমোশন অব ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড (সিসিপিআইটি) এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ-বিডা’র যৌথ উদ্যোগে ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’ নামে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এতে চীনের ৮০ জন প্রথম সারির ব্যাবসাপ্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তা ও মালিকরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র বলেন, বাংলাদেশে কীভাবে বিনিয়োগ বৃদ্ধি করা যায়, বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সরকারের অবস্থান কী এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত ব্যবসায়িক নেতৃবৃন্দের সামনে বিস্তারিত তুলে ধরেন। একই সঙ্গে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের প্রত্যাশা, পরিকল্পনা এবং বিনিয়োগ-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত প্রধানমন্ত্রীর সামনে উপস্থাপন করে।
মাহদী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীনা বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক সংস্কারের মাধ্যমে বাংলাদেশ উৎপাদন ও শিল্প খাতের নতুন গন্তব্য হিসেবে একটি প্রতিযোগামূলক, নির্ভরযোগ্য ও লাভজনক অংশীদার হতে পারে। তিনি জানান, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার ১৮০ দিনের বিশেষ কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। পাশাপাশি আনোয়ারা ও মোংলায় অর্থনৈতিক অঞ্চল উন্নয়ন, চীনে বাংলাদেশের প্রথম ইনভেস্টমেন্ট অফিস স্থাপন এবং অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিভিন্ন খাতে বিশেষ প্রণোদনা প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়াও ১৫ দিনের কম সময়ের মধ্যে বিনিয়োগকারীদের নতুন লাইসেন্স প্রদান করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে আজ বেইজিংয়ের দিয়াওইউতাই অতিথি ভবনে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইক্সিংয়ের পার্টি-টু-পার্টি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
মাহদী আমিন জানান, বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সহযোগিতা, টেকসই প্রবৃদ্ধি ও পারস্পরিক সমৃদ্ধির লক্ষ্যে আরও ঘনিষ্ঠ অংশীদারত্ব গড়ে তোলার আহ্বান জানান। এ সময় চীনা পক্ষ দুই দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও জনসম্পৃক্ততা আরও জোরদারের আগ্রহ প্রকাশ করে এবং বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও উন্নয়নে চীনের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে।
উভয় পক্ষই উন্নয়ন, বিনিয়োগ, জনগণের সংযোগ ও পার্টি-টু-পার্টি সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করার মাধ্যমে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। বৈঠকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি’র সঙ্গে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির একটি সমঝোতা স্মারক (মেমোরেন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং) স্বাক্ষরিত হয়।
মাহদী আমিন বলেন, ২০০২ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীন সফরে এসে তিনি এই দেশ থেকে অনেক সমৃদ্ধ স্মৃতি নিয়ে গিয়েছিলেন। তাঁর বাবা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭৭ ও ১৯৮০ সালের ঐতিহাসিক সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ-চীন বন্ধুত্বের ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন। পরবর্তীতে তাঁর মা প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া সাতটি স্মরণীয় সফরের মাধ্যমে সেই বন্ধুত্বকে আরও সুদৃঢ় করেন।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পিতা-মাতার সেই দলীয় ও পারিবারিক ঐতিহ্যকে ধারণ করে বাংলাদেশ-চীন অংশীদারিত্বকে আরও উচ্চতায় নিয়ে যেতে বদ্ধপরিকর। একইসঙ্গে তাঁকে ও তাঁর প্রতিনিধিদলকে যে আন্তরিক আতিথেয়তা দেওয়া হয়েছে, তা আমাদের জন্য অনুপ্রেরণাদায়ক। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আমরা ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতিকে মাথায় রেখে চীনের সাথে সম্পর্ক গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর।
মাহদী আমিন বলেন, আমরা দেশের স্বার্থ রক্ষা ও সম্পর্ক গঠনের ক্ষেত্রে সমতা ও ন্যায্যতাকে ভিত্তি হিসেবে ধারণ করতে চাই। বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ককে বহুমাত্রিক ক্ষেত্রে আরও গভীর করতেই এই সফর। কৌশলগত সহযোগিতা থেকে শুরু করে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান এবং উন্নয়ন প্রকল্প থেকে জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক, সব ক্ষেত্রেই দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পৃক্ততা নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তিনি জানান, চীনে সফরকালে বেশ কয়েকটি বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠীর শীর্ষ কর্মকর্তারা ধারাবাহিকভাবে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এছাড়া চায়না ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন এজেন্সি, চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন কর্পোরেশন, চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ কর্পোরেশন, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের প্রধান, বিনিয়োগকারী, মন্ত্রী এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বাংলাদেশের উন্নয়ন-অগ্রযাত্রায় বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণে কীভাবে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখা যায়, সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
আজ স্থানীয় সময় বিকেল ৫টায় চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং-এর সঙ্গে ঐতিহাসিক গ্রেট হলে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এরপর দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে ১৫টি সমঝোতা স্মারক (মেমোরেন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং) স্বাক্ষরিত হবে।
পরে চীনের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও সফরসঙ্গীদের সম্মানে একটি রাষ্ট্রীয় ভোজের আয়োজন করবেন।
মাহদী আমিন বলেন, এগুলো চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ককে আরো জোরদার করার পথে প্রভাবক হবে বলে আশা করছি।
আগামীকাল স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১০টায় (বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ৮টায়) ঐতিহাসিক গ্রেট হলে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হবে।
মাহদী আমিন বলেন, চীনের প্রধানমন্ত্রী ও প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকে স্বাভাবিকভাবেই বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরবেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে বাংলাদেশের মানুষের উন্নয়ন-অগ্রযাত্রা আরও সুসংহত করার লক্ষ্যে ইতিবাচক ফলাফল বয়ে আনবেন, ইনশাআল্লাহ।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিন পর জনগণের ভোটে নির্বাচিত একজন সরকারপ্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়া, ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম এবং চীন সফরে যে মর্যাদা পাচ্ছেন এবং যেভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে প্রাধান্য দিয়ে ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি বাস্তবায়ন করছেন, তা বিশ্ব দরবারে আমাদের জন্য অত্যন্ত গৌরব ও মর্যাদার বিষয়।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন ও উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শরীয়তপুরে গভীর রাতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে গাঁজা সেবনের জন্য ১০০ টাকা চেয়ে আটক হন এক যুবক, যিনি নেশাগ্রস্ত ছিলেন। পরে তার বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুরে নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইউএনও আব্দুল কাইউম খান বিষয়টি নিশ্চিত করেন। উল্লেখ্য, বুধবার (২৪ জুন) রাতে ঘটনাটি ঘটে শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলায়।
দণ্ডিত বাবলু বেপারী নড়িয়া পৌরসভার শুভগ্রাম এলাকার একজন বাসিন্দা।
জানা গেছে, বুধবার রাতে উপজেলা পরিষদের চত্বরে হাঁটার সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল কাইয়ুম খান বাসায় ছিলেন। এই সময় বাবলু বেপারী তার কাছে এসে গাঁজা সেবনের জন্য ১০০ টাকা দাবি করেন। তিনি নেশাগ্রস্ত অবস্থায় অসংলগ্ন কথাবার্তা বলতে থাকেন। তার অস্বাভাবিক আচরণ দেখে উপস্থিত লোকজন চমকে যান। প্রশাসনের সদস্যরা পরে তাকে আটক করেন। এরপর ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে মাদকদ্রব্যসংক্রান্ত অপরাধে তাকে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।
ইউএনও আব্দুল কাইয়ুম খান বলেন, নেশাগ্রস্ত অবস্থায় একজন ব্যক্তি আমার কাছে এসে গাঁজা সেবনের জন্য ১০০ টাকা দাবি করে এবং অসংলগ্ন আচরণ করে। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাকে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
অলকা ইয়াগনিক, এই সুরেলা কণ্ঠশিল্পীকে ভুলে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তিনি তেজাব সিনেমায় ‘এক দো তিন’ গানে মাধুরী দীক্ষিতের সঙ্গে নেচেছিলেন গোটা ভারতজুড়ে। পেছনের সেই গানটিকে গেয়েছিলেন অলকা ইয়াগনিক। চার দশকের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি ‘তালে সে তাল মিলা’, ‘টিপ টিপ বারসা পানি’, ‘দিলবার দিলবার’, ‘সুরাজ হুয়া মাধ্যম’, ‘কুছ কুছ হোতা হ্যায়’ এর মতো অসংখ্য জনপ্রিয় গান গেয়েছেন।
কুমার শানুর সঙ্গে ‘চুরা কে দিল মেরা’ গেয়ে তিনি কোটি ভক্তের হৃদয় চুরি করেছেন। ক্যারিয়ারে অলকা ২৫টি ভাষায় ২২ হাজার গান রেকর্ড করেছেন, কিন্তু ২০২৪ সালে ‘অমর সিং চিমকিলা’ ছবির পর থেকে তার কণ্ঠ থেমে গেছে। অলকা দুই বছর মনে হচ্ছিল যেন একদম আড়ালে চলে গেছেন।
দুই বছর পর, গত মঙ্গলবার, নয়াদিল্লিতে ভারতের রাষ্ট্রপতি ভবনে অলকা ইয়াগনিকের দেখা পাওয়া যায়। তিনি রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছ থেকে ভারত সরকারের তৃতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক পদক ‘পদ্মভূষণ’ গ্রহণ করেন। অলকা ইয়াগনিকের ‘পদ্মভূষণ’ অর্জন করা কোনো বিস্ময় নয়। তবে পুরস্কার গ্রহণ করার সময় তাকে হুইলচেয়ারে দেখা যাওয়ায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন অনেকে।
সুরের রাণী অলকাকে হুইলচেয়ারে দেখে অনেকেই কষ্ট অনুভব করেছেন।
কিংবদন্তি গায়িকা অলকা ইয়াগনিক ‘সেন্সোরিনিউরাল হিয়ারিং লস’ নামে এক বিরল শ্রবণজনিত জটিলতায় ভুগছেন। ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে একটি বিমানভ্রমণে নামার পর হঠাৎ তিনি আবিষ্কার করেছিলেন যে, তিনি কিছুই শুনতে পাচ্ছেন না। আকস্মিক বধিরতায় তার ক্যারিয়ার থমকে যায়। ডাক্তারদের মতে, হঠাৎ কোনো ভাইরাল অ্যাটাকের কারণেও এমন কিছু ঘটতে পারে।
কারো কারো মতে, চার দশকের ক্যারিয়ারে উচ্চ শব্দের সঙ্গে থাকাটাও তার সমস্যার পেছনের কারণ হতে পারে।
আড়ালে থাকলেও শ্রোতারা অলকাকে ভুলে যাননি। তিনি ইউটিউবে সর্বকালের সবচেয়ে জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী, যার ২০২০ সালে ১৬ দশমিক ৬ বিলিয়ন এবং ২০২১ সালে ১৭ বিলিয়ন স্ট্রিমের জন্য গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে নাম রয়েছে। ২০২৬ সালেও তিনি ইউটিউবে প্রতি সপ্তাহে সবচেয়ে বেশি স্ট্রিম হওয়া সঙ্গীতশিল্পী হিসাবে নিজের অবস্থান বজায় রেখেছেন। অলকার এই বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে দুটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, দুটি বেঙ্গল ফিল্ম জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন পুরস্কার এবং সেরা প্লেব্যাক গায়িকা হিসেবে সাতটি ফিল্মফেয়ার পুরস্কারসহ অসংখ্য সম্মাননা রয়েছে।
হুইল চেয়ারে অলকাকে দেখে তার ভক্তদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। পরদিন অলকা নিজেই ইনস্টাগ্রামে এক পোস্টে নিজের বর্তমান অবস্থার বর্ণনা করেছেন এবং আবেগঘনভাবে লিখেছেন যে, ‘গত দুই বছর ধরে আমি লাইমলাইট, গণমাধ্যমের সামনে আসা এবং আপনাদের সঙ্গে নিজের পথচলার গল্প ভাগ করে নেওয়া থেকে দূরে আছি। আপনাদের মধ্যে অনেকেই জানতেন যে, আমি এক কঠিন স্বাস্থ্যগত সমস্যার মধ্যে রয়েছি। আর এই পুরোটা সময় আপনাদের যে ভালোবাসা, প্রার্থনা, বার্তা এবং অবিচল সমর্থন ছিল, সেটি প্রতিটি পদক্ষেপে আমার পাশে ছিল।’
তিনি আরও যোগ করেছেন, ‘আজ যখন আমি দেশের অন্যতম সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা—মর্যাদাপূর্ণ ‘পদ্মভূষণ’ গ্রহণ করতে বাইরে পা রাখলাম, তখন আমার হৃদয় কৃতজ্ঞতায় ভরে গিয়েছিল। এই সম্মাননা আমাকে গভীরভাবে বিনম্র করেছে। যদিও এতে আমার নাম লেখা আছে, তবে এটি ঠিক ততটাই যে প্রতিটি শ্রোতার, যারা আমার কণ্ঠকে তাদের জীবনে স্বাগত জানিয়েছেন, প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে আমার গানগুলোকে বহন করে নিয়ে গেছেন এবং আমার ভালো ও খারাপ উভয় সময়েই আমার পাশে দাঁড়িয়েছেন।’
অলকা বলছেন, ‘ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসছেন’। তিনি লিখেছেন, ‘এই মুহূর্তটি বিশেষভাবে অর্থপূর্ণ মনে হচ্ছে কারণ এটি কেবল আমার কাজের স্বীকৃতি নয়, বরং ভালোবাসা, আশা এবং ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তি থেকে যে শক্তি আসে, তার এক অনন্য স্মারক। আমি ধীরে ধীরে নিজের চেনা ছন্দে ফিরে আসছি এবং আজ এখানে উপস্থিত হতে চেয়েছি—শুধু নিজের জন্য নয়, বরং আপনাদের প্রত্যেকের জন্য, যারা আমার এই পথচলার অংশ হয়েছেন।’
অলকা ইয়াগনিক তাকে এই সম্মাননা দেওয়ার জন্য দেশের নেতৃত্ব এবং কর্তৃপক্ষের জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তিনি শেষ করেছেন ভক্তদের প্রতি ভালোবাসার কথা বলে, ‘বছরের পর বছর ধরে আমার প্রতি আপনাদের এই স্নেহ, দয়া, প্রার্থনা এবং বিশ্বাসের জন্য ধন্যবাদ। আমি এর সবকিছুই নিজের সঙ্গে বহন করি। আজ আমি কেবল একটি পুরস্কারই গ্রহণ করিনি—আমি সেই কোটি মানুষের ভালোবাসা অনুভব করেছি, যারা আমার এই যাত্রার অংশ ছিলেন। ধন্যবাদ। ভালোবাসাসহ, অলকা।’
ওপরন্তু, অলকা ইয়াগনিকের পোস্ট মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। হাজারো ভক্তের ভালোবাসা এবং শুভকামনা কমেন্ট বক্সে উপচে পড়ছে। সেই তালিকায় সাধারণ মানুষ ছাড়াও আছেন কুমার শানু, ইলা অরুণ, অদিতি সিং শর্মা, সুদেশ ভোসলে, অকৃতি কাক্কার, ভূমি পেদনেকার, বীর পাহারিয়া মতো তারকারাও। অনেকে তাকে পদ্মভূষণ পাওয়ায় অভিনন্দন জানিয়ে লিখেছেন, ‘ফিরে এসো অলকা ইয়াগনিক।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মাদরাসায় কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের মে এবং জুন মাসের বেতন সম্পর্কিত নতুন তথ্য প্রকাশ করলেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি জানিয়েছেন, এই দুই মাসের বেতন একত্রে জুলাই মাসে প্রদান করা হবে।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকাল বেলা বরিশাল শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে উক্ত মন্ত্রী এসব বিষয় উল্লেখ করেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, "আমি জানি এক মাসের বেতন না পেলে কী দুর্বিষহ জীবন যাপন করতে হয়।" তিনি জানালেন, অন্তর্বর্তী সরকার এনটিআরসিএ থেকে মাদরাসায় ১৭ হাজার শিক্ষক নিয়োগ প্রদান করেছে। কিন্তু, এই শিক্ষকদের বেতনের জন্য বাজেট অ্যালোকেট করা হয়নি। এর ফলে, শিক্ষকরা তাঁদের বেতন পেতে ব্যর্থ হচ্ছেন। তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, এই সমস্যা শীঘ্রই সমাধান করা হবে।
তিনি আরো বলেন, "আগের সরকার এটি জানতেন না যে বাজেট অ্যালোকেট করতে হবে।" তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, যে সমস্যাগুলো সময়ের সাথে সাথে যত বাড়তে থাকে, তাতে পরবর্তী সরকার কার্যকরিত্ব হারানোর ঝুঁকির মুখে পড়ে। এভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা করা সম্ভব নয়, এবং আমরা সেই পরিস্থিতি হতে দেবো না।
তিনি জানান, "আমার হাতে ১০০ কোটি টাকা ছিলো, আমি এই টাকা জনতা ব্যাংকে প্রদান করেছি।" যাদের অ্যাকাউন্ট জনতা ব্যাংকে আছে তারা বেতন পেয়েছেন, কিন্তু বাকিরা তা পাচ্ছেন না, এজন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, "এই দুঃখ প্রকাশ করা উচিত ছিল বিগত সরকারের, কিন্তু তারা তা করে নি।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু আজ কক্সবাজারের মাতামুহুরী উপজেলাধীন রামপুর মৌজায় অবস্থিত সরকারি চিংড়ি এস্টেট পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শনকালে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এ বিষয়ে মন্তব্য করেন, সরকারি চিংড়ি এস্টেটকে আরো আধুনিক ও উৎপাদনশীল করে গড়ে তুলতে সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করবে। তিনি ব্যবসায়ী, মৎস্যচাষি ও সংশ্লিষ্ট সবার সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে এ খাতকে আরো এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান।
আজ কক্সবাজারের মাতামুহুরী উপজেলার রামপুর মৌজায় অবস্থিত সরকারি চিংড়ি এস্টেট পরিদর্শন শেষে, তিনি স্থানীয় চিংড়ি চাষি এবং ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এ সব আলোচনা করেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এই প্রকল্পকে কীভাবে আরো এগিয়ে নেওয়া যায়, সে জন্য আমরা এখানে এসেছি। ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টদের বিভিন্ন মতামত ও সমস্যার কথা শুনেছি। বিশেষ করে নিরাপত্তা এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার বিষয়ে যেসব বিষয় তুলে ধরা হয়েছে, সেগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।’
তিনি বলেন, চিংড়ি বাংলাদেশের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খাত। এক সময় এশিয়া মহাদেশে চিংড়ি উৎপাদনে বাংলাদেশ নেতৃত্বে ছিল। এ খাতের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে সরকার কাজ করছে। প্রযুক্তিগত সহায়তাসহ প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা মৎস্য অধিদপ্তর ও সরকারের পক্ষ থেকে প্রদান করা হবে।
তিনি আরো বলেন, চিংড়ি খাতের উন্নয়নে সরকারি কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী ও চাষিদের সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। যেসব প্রতিবন্ধকতা রয়েছে, সেগুলো দূর করতে সবাইকে আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে। তিনি সবার সহযোগিতায় এই সম্ভাবনাময় খাতকে আরো সমৃদ্ধ করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
মতবিনিময় সভায় কক্সবাজার জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাজমুল হুদা সরকারি চিংড়ি এস্টেটের বর্তমান কার্যক্রম, উৎপাদন পরিস্থিতি, সম্ভাবনা এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ পরিকল্পনা তুলে ধরে একটি প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন।
সভায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. খালেদ কনক, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান, মৎস্য অধিদপ্তর চট্টগ্রামের বিভাগীয় পরিচালক মো. আনোয়ার হোসেন এবং কক্সবাজার জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাজমুল হুদা-সহ স্থানীয় চিংড়ি চাষি, ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এসব সভায় উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ