প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
অলকা ইয়াগনিক, এই সুরেলা কণ্ঠশিল্পীকে ভুলে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তিনি তেজাব সিনেমায় ‘এক দো তিন’ গানে মাধুরী দীক্ষিতের সঙ্গে নেচেছিলেন গোটা ভারতজুড়ে। পেছনের সেই গানটিকে গেয়েছিলেন অলকা ইয়াগনিক। চার দশকের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি ‘তালে সে তাল মিলা’, ‘টিপ টিপ বারসা পানি’, ‘দিলবার দিলবার’, ‘সুরাজ হুয়া মাধ্যম’, ‘কুছ কুছ হোতা হ্যায়’ এর মতো অসংখ্য জনপ্রিয় গান গেয়েছেন।
কুমার শানুর সঙ্গে ‘চুরা কে দিল মেরা’ গেয়ে তিনি কোটি ভক্তের হৃদয় চুরি করেছেন। ক্যারিয়ারে অলকা ২৫টি ভাষায় ২২ হাজার গান রেকর্ড করেছেন, কিন্তু ২০২৪ সালে ‘অমর সিং চিমকিলা’ ছবির পর থেকে তার কণ্ঠ থেমে গেছে। অলকা দুই বছর মনে হচ্ছিল যেন একদম আড়ালে চলে গেছেন।
দুই বছর পর, গত মঙ্গলবার, নয়াদিল্লিতে ভারতের রাষ্ট্রপতি ভবনে অলকা ইয়াগনিকের দেখা পাওয়া যায়। তিনি রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছ থেকে ভারত সরকারের তৃতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক পদক ‘পদ্মভূষণ’ গ্রহণ করেন। অলকা ইয়াগনিকের ‘পদ্মভূষণ’ অর্জন করা কোনো বিস্ময় নয়। তবে পুরস্কার গ্রহণ করার সময় তাকে হুইলচেয়ারে দেখা যাওয়ায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন অনেকে।
সুরের রাণী অলকাকে হুইলচেয়ারে দেখে অনেকেই কষ্ট অনুভব করেছেন।
কিংবদন্তি গায়িকা অলকা ইয়াগনিক ‘সেন্সোরিনিউরাল হিয়ারিং লস’ নামে এক বিরল শ্রবণজনিত জটিলতায় ভুগছেন। ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে একটি বিমানভ্রমণে নামার পর হঠাৎ তিনি আবিষ্কার করেছিলেন যে, তিনি কিছুই শুনতে পাচ্ছেন না। আকস্মিক বধিরতায় তার ক্যারিয়ার থমকে যায়। ডাক্তারদের মতে, হঠাৎ কোনো ভাইরাল অ্যাটাকের কারণেও এমন কিছু ঘটতে পারে।
কারো কারো মতে, চার দশকের ক্যারিয়ারে উচ্চ শব্দের সঙ্গে থাকাটাও তার সমস্যার পেছনের কারণ হতে পারে।
আড়ালে থাকলেও শ্রোতারা অলকাকে ভুলে যাননি। তিনি ইউটিউবে সর্বকালের সবচেয়ে জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী, যার ২০২০ সালে ১৬ দশমিক ৬ বিলিয়ন এবং ২০২১ সালে ১৭ বিলিয়ন স্ট্রিমের জন্য গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে নাম রয়েছে। ২০২৬ সালেও তিনি ইউটিউবে প্রতি সপ্তাহে সবচেয়ে বেশি স্ট্রিম হওয়া সঙ্গীতশিল্পী হিসাবে নিজের অবস্থান বজায় রেখেছেন। অলকার এই বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে দুটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, দুটি বেঙ্গল ফিল্ম জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন পুরস্কার এবং সেরা প্লেব্যাক গায়িকা হিসেবে সাতটি ফিল্মফেয়ার পুরস্কারসহ অসংখ্য সম্মাননা রয়েছে।
হুইল চেয়ারে অলকাকে দেখে তার ভক্তদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। পরদিন অলকা নিজেই ইনস্টাগ্রামে এক পোস্টে নিজের বর্তমান অবস্থার বর্ণনা করেছেন এবং আবেগঘনভাবে লিখেছেন যে, ‘গত দুই বছর ধরে আমি লাইমলাইট, গণমাধ্যমের সামনে আসা এবং আপনাদের সঙ্গে নিজের পথচলার গল্প ভাগ করে নেওয়া থেকে দূরে আছি। আপনাদের মধ্যে অনেকেই জানতেন যে, আমি এক কঠিন স্বাস্থ্যগত সমস্যার মধ্যে রয়েছি। আর এই পুরোটা সময় আপনাদের যে ভালোবাসা, প্রার্থনা, বার্তা এবং অবিচল সমর্থন ছিল, সেটি প্রতিটি পদক্ষেপে আমার পাশে ছিল।’
তিনি আরও যোগ করেছেন, ‘আজ যখন আমি দেশের অন্যতম সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা—মর্যাদাপূর্ণ ‘পদ্মভূষণ’ গ্রহণ করতে বাইরে পা রাখলাম, তখন আমার হৃদয় কৃতজ্ঞতায় ভরে গিয়েছিল। এই সম্মাননা আমাকে গভীরভাবে বিনম্র করেছে। যদিও এতে আমার নাম লেখা আছে, তবে এটি ঠিক ততটাই যে প্রতিটি শ্রোতার, যারা আমার কণ্ঠকে তাদের জীবনে স্বাগত জানিয়েছেন, প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে আমার গানগুলোকে বহন করে নিয়ে গেছেন এবং আমার ভালো ও খারাপ উভয় সময়েই আমার পাশে দাঁড়িয়েছেন।’
অলকা বলছেন, ‘ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসছেন’। তিনি লিখেছেন, ‘এই মুহূর্তটি বিশেষভাবে অর্থপূর্ণ মনে হচ্ছে কারণ এটি কেবল আমার কাজের স্বীকৃতি নয়, বরং ভালোবাসা, আশা এবং ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তি থেকে যে শক্তি আসে, তার এক অনন্য স্মারক। আমি ধীরে ধীরে নিজের চেনা ছন্দে ফিরে আসছি এবং আজ এখানে উপস্থিত হতে চেয়েছি—শুধু নিজের জন্য নয়, বরং আপনাদের প্রত্যেকের জন্য, যারা আমার এই পথচলার অংশ হয়েছেন।’
অলকা ইয়াগনিক তাকে এই সম্মাননা দেওয়ার জন্য দেশের নেতৃত্ব এবং কর্তৃপক্ষের জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তিনি শেষ করেছেন ভক্তদের প্রতি ভালোবাসার কথা বলে, ‘বছরের পর বছর ধরে আমার প্রতি আপনাদের এই স্নেহ, দয়া, প্রার্থনা এবং বিশ্বাসের জন্য ধন্যবাদ। আমি এর সবকিছুই নিজের সঙ্গে বহন করি। আজ আমি কেবল একটি পুরস্কারই গ্রহণ করিনি—আমি সেই কোটি মানুষের ভালোবাসা অনুভব করেছি, যারা আমার এই যাত্রার অংশ ছিলেন। ধন্যবাদ। ভালোবাসাসহ, অলকা।’
ওপরন্তু, অলকা ইয়াগনিকের পোস্ট মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। হাজারো ভক্তের ভালোবাসা এবং শুভকামনা কমেন্ট বক্সে উপচে পড়ছে। সেই তালিকায় সাধারণ মানুষ ছাড়াও আছেন কুমার শানু, ইলা অরুণ, অদিতি সিং শর্মা, সুদেশ ভোসলে, অকৃতি কাক্কার, ভূমি পেদনেকার, বীর পাহারিয়া মতো তারকারাও। অনেকে তাকে পদ্মভূষণ পাওয়ায় অভিনন্দন জানিয়ে লিখেছেন, ‘ফিরে এসো অলকা ইয়াগনিক।’
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন