০৭:৩৮ পি.এম
চট্টগ্রাম ওয়াসা প্রতিষ্ঠার ৬৩ বছর পর, অবশেষে পানির সংকট ও লবণাক্ততার যন্ত্রণার সমাপ্তি ঘটতে যাচ্ছে পতেঙ্গাবাসীর। ১৯৬৩ সালে চট্টগ্রাম ওয়াসা প্রতিষ্ঠার পর এই প্রথমবারের মতো পাইপলাইনের মাধ্যমে নগরীর সমুদ্র উপকূলীয় পতেঙ্গা এলাকার তিনটি ওয়ার্ডে সুপেয় পানি সরবরাহের ঐতিহাসিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বছরের পর বছর ধরে ঝুলে থাকা পাইপলাইন জটিলতা এবং আমলাতান্ত্রিক প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে প্রকৌশলী সেলিম মোহাম্মদ জানে আলম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের তিন দিনের মধ্যেই এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছে ওয়াসা কর্তৃপক্ষ। আগামী ছয় মাসের মধ্যে এই এলাকার প্রতিটি ঘরে ওয়াসার সুপেয় পানি পৌছাবে।
দীর্ঘদিন ধরে দেখা যাওয়া পাইপলাইন সংক্রান্ত জটিলতার কারণে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ৩৯, ৪০ ও ৪১ নম্বর ওয়ার্ডে ওয়াসার পানি সরবরাহ করা সম্ভব হয়নি। এই বিষয় নিয়ে কালের কণ্ঠেও বিভিন্ন সময় প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
আরও পড়ুন: কাঁঠালিয়ায় ৫০ চুল্লিতে কাঠ পুড়িয়ে কয়লা তৈরি, জনস্বাস্থ্যে ঝুঁকি
নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, কর্ণফুলী টানেলের ইউটিলিটি ডাক্ট ব্যবহার করে ভাণ্ডালজুড়ি প্রকল্প থেকে প্রতিদিন অন্তত ২ কোটি লিটার পরিশোধিত সুপেয় পানি পতেঙ্গা এলাকায় নিয়ে আসা হবে। এর ফলে দীর্ঘ ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে চলতে থাকা পতেঙ্গাবাসীর পানির তীব্র হাহাকার অনেকাংশে দূর হবে।
সুপেয় পানির কোনো উৎস না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকায় ‘পানি সিন্ডিকেট’ গড়ে উঠেছে। ইপিজেড থেকে সি-ম্যান ক্রসিং পর্যন্ত এলাকায় অন্তত ৪০টি দোকানে বড় বড় রিজার্ভার তৈরি করে ওয়াসার পানি জমিয়ে রাখা হতো।
এরপর সেই পানি ড্রামে ভরে ভ্যানে করে চড়া দামে সাধারণ মানুষের কাছে বিক্রি করা হতো। ফ্লোর ভেদে ২৫ লিটারের প্রতি ড্রাম পানি ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হয়। অনেক দিন ধরে এই অঞ্চলের হাজার হাজার মানুষ বাধ্য হয়ে চড়া দামে পানি কিনতে হচ্ছিল।
আরও পড়ুন: চাঁপাইনবাবগঞ্জে আমের খোসা থেকে তৈরি হচ্ছে 'ম্যাংগো পিল টি'
জানতে চাইলে, চট্টগ্রাম ওয়াসার নবনিযুক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সেলিম মোহাম্মদ জানে আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, বিগত সাত বছর ধরে এই পাইপলাইনের জটিলতা ঝুলে ছিল। আমরা দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র তিন দিনের মধ্যে ওই আসনের সংসদ সদস্য এবং সরকারের অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সহযোগিতায় সব বাধা কাটিয়ে এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
আমরা দৃঢ়ভাবে আশা করছি যে, আগামী ছয় মাসের মধ্যে ৩৯, ৪০ ও ৪১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা পাইপলাইনের মাধ্যমে সুপেয় ওয়াসার পানি পাবেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন