ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

আমার কিছু করার ক্ষ্যামতা নেই-ফাঁসির রায়ের পর সোহেলের মায়ের আক্ষেপ


আমার কিছু করার ক্ষ্যামতা নেই-ফাঁসির রায়ের পর সোহেলের মায়ের আক্ষেপ

রাজধানীর পল্লবীতে আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যার ঘটনায় মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে। রায়ে আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

রবিবার (৭ জুন) মামলার রায় ঘোষণার পর মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আসামি সোহেলের নিজ গ্রাম নাটোরের সিংড়া উপজেলার মহেশচন্দ্রপুরের মানুষ স্বস্তি প্রকাশ করে। তবে ছেলে হত্যাকারী হলেও তার মৃত্যুদণ্ডের আদেশে শোকগ্রস্ত সোহেলের পরিবার।

রবিবার দুপুরে সোহেলের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, টিনের ঘরের বারান্দায় বসে রয়েছেন সোহেলের বাবা ও মা। কথা বলার শক্তি প্রায় হারিয়ে ফেলছেন তারা।

আরও পড়ুন: মসজিদ কমিটি গঠন নিয়ে বিরোধ, মাদারীপুরে ৭ বাড়িতে আগুন, ৪০ ঘরে ভাঙচুর-লুটপাট

পরিবারের অন্য সদস্যরা জানান, স্থানীয় লোকজন বাড়িতে এসে তাদের রায়ের কথা জানিয়েছে।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে সোহেলের বাবা জাকির হোসেন বলেন, ‘অপরাধী হলেও সোহেল আমার ব্যাটা (ছেলে)। আমি গরিব মানুষ। আপিল করার সামর্থ্য নাই আমার।

সরকার থেকে যদি আইনজীবী দেওয়া হয়, তাহলে আমরা আপিল করব।’

সোহেলের মা বলেন, ‘হাজার হলেও সোহেল আমার ব্যাটা। তার এই ফাঁসির রায় মাইনা লিতে আমার বুক ফাইট্যা যাচ্ছে। কিন্তু আমার ছেলে অপরাধী। তাই আমাদের কিছুই করার ক্ষ্যামতা নাই।’

আরও পড়ুন: সুনামগঞ্জে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস পালিত, সম্মাননা পেলেন চার চালক

রায়ের প্রতিক্রিয়ায় সোহেলের বোন জলি বেগম বলেন, ‘আমার ভাইয়ের ফাঁসি হবে, এটা আমরা ধারণা করছিলাম। ফাঁসির রায় আমরা মেনে নিছি। আমাদের সামর্থ্য থাকলে আপিল করতাম।’

প্রতিবেশী সেন্টু ও মকুল জানান, তারা এই মামলার রায়ে খুশি। দ্রুত বিচারের রায় কার্যকর করার দাবি জানান তারা। সেন্টু বলেন, ‘একজন মেয়ের বাবা হিসেবে এ ধরনের অপরাধ মেনে নেওয়ার মতো নয়। যেভাবে একটা শিশুকে হত্যা করা হয়েছে, তার বিচার হওয়া খুবই প্রয়োজন।’

এদিকে সিংড়া পৌর শহরের ভালোবাসা মহল্লায় সোহেলের স্ত্রী স্বপ্নার বাবার বাড়ির এলাকায় গিয়ে জানা যায়, সেখানে এখন তাদের ঘরবাড়ি নেই। স্থানীয়রা জানায়, স্বপ্নার বাবা জিয়াদুল ইসলাম পৈতৃক সূত্রে যে জায়গা পেয়েছিলেন, তা তার আরেক মেয়ের চিকিৎসার জন্য বিক্রি করে দিয়েছিলেন। বর্তমানে তিনি মহল্লার একটি ক্লিনিকে চাকরি করেন এবং সেখানেই থাকেন। আর স্বপ্নার মা থাকেন রাজশাহীতে সেই মেয়ের বাড়িতে।

ভালোবাসা মহলায় অবস্থিত ওই ক্লিনিকে গিয়ে কথা হয় জিয়াদুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘এ ঘটনা (শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা) মেনে নেওয়ার মতো না। আমি মেয়েকে আগেই ত্যাজ্য করেছিলাম। মেয়ের এই রায়ে আমি খুশি। বিচার বাস্তবায়ন হোক। পরিবার থেকে কোনো আপিল করব না।’

আরও পড়ুন: ছাত্রদল নেতা শাকিল ইসলামের হত্যা: গুরুদাসপুরের ওসি প্রত্যাহার, এমপি ছেলেকে ত্যাজ্য ঘোষণা

প্রতিবেশী আবুবক্কর ও আবু সাইদ বলেন, ‘স্বপ্নার কপালে শনি পড়েছে। সোহেল তার তৃতীয় স্বামী। বাবা-মার অমতে তাকে (সোহেল) বিয়ে করার পর তার (স্বপ্না) সঙ্গে পরিবারের কোনো সম্পর্ক ছিল না।’ তিনি বলেন, ‘সঙ্গ দোষে যেমন লোহা ভাসে, স্বপ্না তেমনি এমন ঘটনায় জড়িত হয়েছে। সোহেলের মতো খারাপ ছেলের সঙ্গে বিয়ে হওয়াই তার কাল হয়েছে। আমরা তাদের দুজনের শাস্তি চাই।’

এলাকাবাসীর ভাষ্য, মৃত্যুদণ্ড পাওয়া সোহেলের রয়েছে কলঙ্কিত অতীত। এলাকায় পরকীয়া, চুরি, ছিনতাই, মাদক কারবারসহ নানা অপরাধে লিপ্ত ছিলেন তিনি। চার বছর আগে স্ত্রী স্বপ্নাকে নিয়ে সিংড়া ছেড়ে ঢাকায় চলে যান সোহেল।

গত ১৯ মে রাজধানীর পল্লবীর একটি বাসা থেকে আট বছরের শিশু রামিসার খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ফ্ল্যাটটিতে বসবাসকারী সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্নাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মামলাটি তদন্ত করে ঘটনার ৫ দিনের মাথায় ২৪ মে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন পল্লবী থানার উপপরিদর্শক অহিদুজ্জামান ভূঁইয়া। ওই দিনই শিশু ট্রাইব্যুনালে মামলাটি বিচারের জন্য নথি বদলি করা হয়। তবে সেদিন থেকে ঈদুল আজহার ছুটি শুরু হওয়ায় গত ১ জুন মামলাটির চার্জ গঠনের দিন ধার্য করা হয়। ঈদের পর ১ জুন মামলার চার্জ গঠন শেষে আনুষ্ঠানিক বিচারকাজ শুরু হয়।

আরও পড়ুন: কুমিল্লা সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ৪৯ লাখ টাকার পণ্যসহ দুইজন আটক

পরদিন ২ জুন মামলাটির ১৭ জন সাক্ষীর মধ্যে রামিসার বাবা, মা, বোন, স্বজনসহ ১৬ জনের সাক্ষ্য শেষ হয়। ৩ জুন মামলায় আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থন ও ৪ জুন মামলার যুক্তিতর্ক শুনানি হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
সংসদে তথ্য প্রতিমন্ত্রী

ঢাকা থেকে ১২৪৪টি পত্রিকা প্রকাশিত হয়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ৭ই জুন, ২০২৬ ইং

০৭:৪৩ পি.এম


ঢাকা থেকে ১২৪৪টি পত্রিকা প্রকাশিত হয়

রাজধানী ঢাকা থেকে বর্তমানে ১২৪৪টি দৈনিক, সাপ্তাহিক ও মাসিক পত্রিকা প্রকাশিত হয় বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী।

সংসদের বৈঠকে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনের পক্ষে সরকারি দলের সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনির যখন এক প্রশ্নের উত্তর দেন, তখন তিনি আজ এ তথ্য জানান।

প্রতিমন্ত্রী এক্ষেত্রে জানান, ঢাকা থেকে বর্তমানে ৫৮৫টি দৈনিক পত্রিকা, ৩৬৩টি সাপ্তাহিক পত্রিকা এবং ২৯৬টি মাসিক পত্রিকা প্রকাশিত হচ্ছে। এর মধ্যে মিডিয়া তালিকাভুক্ত দৈনিক পত্রিকার সংখ্যা ২৮৮টি, সাপ্তাহিক পত্রিকার সংখ্যা ৫৬টি এবং মাসিক পত্রিকার সংখ্যা ২৩টি, যা সর্বাধিক প্রকাশিত হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ কাঙ্ক্ষিত ফলাফল প্রাপ্তিতে ব্যর্থ হচ্ছে: ড. হামিদুর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ৭ই জুন, ২০২৬ ইং

০৭:৪৪ পি.এম


সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ কাঙ্ক্ষিত ফলাফল প্রাপ্তিতে ব্যর্থ হচ্ছে: ড. হামিদুর

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ বলেছেন, রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন ক্ষেত্রে সরকারের অদক্ষতার কারণে জনগণের মধ্যে হতাশা ও উদ্বেগ ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে।

আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, প্রশাসনিক দুর্বলতা এবং জনভোগান্তি নিরসনে কার্যকর উদ্যোগের অভাব দেশের মানুষের প্রত্যাশাকে ব্যাহত করছে।

রবিবার সকালে শরিয়তপুরের উপজেলায় দায়িত্বশীলদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, জনগণ একটি দায়িত্বশীল, জবাবদিহিমূলক ও জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রত্যাশা করে। কিন্তু গত কয়েক মাসের বাস্তবতায় দেখা যাচ্ছে, সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জনে ব্যর্থ হচ্ছে। এর ফলে সাধারণ মানুষ নিত্যদিনের জীবনযাত্রায় নানা ধরনের সংকট ও অনিশ্চয়তার মুখোমুখি হচ্ছে।

শরিয়তপুর জেলা আমীর আব্দুর রব হাসেমীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা নায়েবে আমীর কেএম মকবুল হোসাইন, জেলা সেক্রেটারী মাসুদুর রহমান, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা আনোয়ারুল হক ও মুহাম্মাদ মুজিবুল হকসহ কেন্দ্র ও জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মাদারীপুরে পুকুরে ডুবে তিন বছরের শিশুর মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মাদারীপুর প্রতিনিধি

রবিবার, ৭ই জুন, ২০২৬ ইং

০৭:৪৫ পি.এম


মাদারীপুরে পুকুরে ডুবে তিন বছরের শিশুর মৃত্যু

মাদারীপুর সদর উপজেলার পাঁচখোলা ইউনিয়নের উত্তর মহিষেরচর এলাকায় পুকুরের পানিতে ডুবে আদনান (৩) নামে এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। রোববার বিকেলে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত আদনান উত্তর মহিষেরচর এলাকার আসাদুল মাতুব্বরের ছেলে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বিকেলে বাড়ির উঠানে খেলছিল আদনান। পরিবারের সদস্যদের অগোচরে একপর্যায়ে সে বাড়ির পাশের পুকুরে পড়ে যায়। কিছুক্ষণ পর তাকে দেখতে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে পুকুরে গিয়ে শিশুটিকে পানিতে ভাসতে দেখে দ্রুত উদ্ধার করা হয়।
গুরুতর অবস্থায় তাকে মাদারীপুর শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। স্বজনদের অভিযোগ, মাঝপথে নৌকায় পারাপার করতে সময় লাগায় হাসপাতালে নিতে কিছুটা বিলম্ব হয়।

মাদারীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
গাফিলতির সন্দেহ প্রতিমন্ত্রীর

কার্গো ভিলেজে বারবার আগুন লাগা নিয়ে প্রশ্ন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ৭ই জুন, ২০২৬ ইং

০৭:৪৫ পি.এম


কার্গো ভিলেজে বারবার আগুন লাগা নিয়ে প্রশ্ন

ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজ কমপ্লেক্সে বারবার অগ্নিকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। নির্মাণ ত্রুটি, দায়িত্বরতদের গাফিলতি নাকি নাশকতা—সেই প্রশ্নও সামনে এসেছে। বিশেষ করে ৯ মাসের মধ্যে অতি স্পর্শকাতর এলাকায় ছুটির দিনেই দুবার আগুন লাগায় নানা সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে।

গত শুক্রবার রাতে কার্গো ভিলেজের ৯ নম্বর গেট এলাকায় লাগা আগুনে ডিএইচএল কুরিয়ারের কনটেইনার পুড়ে যায়। এর আগে গত বছরের ১৮ অক্টোবর কার্গো ভিলেজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল।

বিমানবন্দর ও বেবিচক সূত্র জানায়, শুক্রবার রাতে যে কনটেইনারটি পুড়েছে, সেটির ভেতর কাপড়ের রোল, পেপার আইটেম, রাবার আইটেম, প্লাস্টিক আইটেমসহ বিভিন্ন পণ্য ছিল। এই পণ্যগুলো আজ রোববার নিলাম হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এর আগেই সেটি পুড়ে যাওয়ায় নানা সন্দেহ দানা বাধছে।

বেবিচকের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, শুক্রবার রাতের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় সরকার ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। এর মধ্যে ডিএইচএলের অন্তত ৫ কর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন তদন্ত কর্মকর্তারা।

এদিকে গতকাল কার্গো ভিলেজে লাগা আগুনের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রায় এক ঘণ্টার জরুরি বৈঠকও করেন তিনি। তবে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কোনো কথা বলেননি মন্ত্রী।

তবে শুক্রবার রাতেই আগুন লাগার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়েছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। ঘটনাস্থলে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, তদন্ত সাপেক্ষে বোঝা যাবে কী থেকে আগুনটা ধরেছে। তবে প্রাথমিকভাবে এখানকার লোকজনের সঙ্গে কথা বলে বোঝা যাচ্ছে, শর্টসার্কিট থেকে আগুনের ঘটনা ঘটতে পারে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘কিন্তু প্রশ্ন হলো শর্টসার্কিট হবে কেন? এর আগেও যে অগ্নিকাণ্ড হয়েছিল, সেখানেও তদন্ত রিপোর্টে শর্টসার্কিট ছিল। তবে নিশ্চয়ই গাফিলতি রয়েছে। আমাদের তা স্বীকার করতে হবে।’

তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শুক্রবার রাত ১১টা ২৪ মিনিটের দিকে ৯ নম্বর গেট-সংলগ্ন কুরিয়ার অপারেশন এলাকায় ডিএইচএলের একটি কনটেইনারে আগুন লাগে। ঘটনাস্থলটি সিসিটিভি ক্যামেরার আওতার বাইরে ছিল। আগুন লাগার স্থানের সামনের অংশে একটি বিদ্যুতের খুঁটি ছিল এবং নিচে কিছু কেবল পড়ে থাকতে দেখা গেছে। তা ছাড়া ঘটনাস্থলের অদূরে কয়েকটি সিগারেটের অবশিষ্টাংশ পাওয়া গেছে। অথচ ওই এলাকায় ধূমপান সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। সিগারেট থেকে আগুন লাগলে সাধারণত ধীরে ধীরে ধোঁয়া সৃষ্টি হয়ে পরে আগুন ছড়িয়ে পড়ে; কিন্তু এই ঘটনায় হঠাৎ দাউ দাউ করে আগুন জ্বলে উঠেছে, যা ফুটেজে দেখা গেছে।

বিমানবন্দর কার্গো এলাকার দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা জানান, শর্টসার্কিট হলে সাধারণত স্পার্কিং হওয়ার কথা ছিল। এমনকি আশপাশের বিদ্যুৎ-সংযোগেও প্রভাব পড়ার কথা। কিন্তু সে রকম কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। আলোও নিভে যায়নি। ফলে আগুনের কারণ নিয়ে গভীরভাবে তদন্ত করতে হবে।

সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণের তথ্য দিয়ে একজন কর্মকর্তা জানান, আগুন লাগার সময়ে ঘটনাস্থলের কাছে ডিএইচএলের একজন কর্মীকে অবস্থান করতে দেখা গেছে। তিনি সেখানে মশারি টানিয়ে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। আগুন লাগার পরও দেড় থেকে দুই মিনিট তিনি শান্তভাবে আগুনের দিকে তাকিয়ে ছিলেন। পরে ফোন করে বিষয়টি অন্যদের জানান। ঘটনাটি স্বাভাবিক আচরণ মনে হচ্ছে না।

গত শুক্রবার রাতের আগুন অল্প সময়ের মধ্যে নিয়ন্ত্রণে নেওয়া সম্ভব হলেও গত বছরের ১৮ অক্টোবর শনিবার লাগা আগুনে হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়। তবে বন্ধের দিনেই কেন আগুন লাগছে সেই প্রশ্ন তুলেছেন আমদানি-রপ্তানিতে এজেন্ট ব্যবসায়ীরা।

ওই ব্যবসায়ীরা বলছেন, গত বছরের ভয়াবহ আগুনে কারও বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হয়েছে কি না, তা জানা যায়নি। তবে এসব ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে আগুন লাগার ঘটনা বন্ধ হবে না।

ফেডারেশন অব বাংলাদেশ কাস্টমস ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরওয়ার্ডিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (সিঅ্যান্ডএফ) সভাপতি মো. মিজানুর রহমান বলেন, শুক্র ও শনিবার ছুটির দিনেই কেন বারবার কার্গো ভিলেজে আগুন লাগছে। এটা রহস্যজনক। এসব বিষয় খতিয়ে দেখা উচিত।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%