ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ইউপি নির্বাচনে বিএনপির দুই পক্ষে সংঘর্ষ, দুজন গুলিবিদ্ধসহ আহত ৩


ইউপি নির্বাচনে বিএনপির দুই পক্ষে সংঘর্ষ, দুজন গুলিবিদ্ধসহ আহত ৩

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের প্রার্থীতাকে কেন্দ্র করে মুন্সীগঞ্জের মোল্লাকান্দি এলাকায় আবারও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে, যা সন্ত্রাসের জনপদের তকমা পেয়েছে। বৃহস্পতিবার, পূর্ব মাকহাটী গ্রামে বিএনপির দুই বিবদমান গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের সময় ককটেল বিস্ফোরণ ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। এতে দুজন গুলিবিদ্ধ হন এবং ককটেল বিস্ফোরণে একজনের হাতের তিনটি আঙুল বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এছাড়া আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন।

আবু সাঈদ ও মো. হৃদয় গুলিবিদ্ধ হয়েছেন, এবং সাইফুল হাওলাদারের আঙুল বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। তাদেরকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে, অন্য আহতরা স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এ ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং স্থানীয়রা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন।

পুলিশ খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে অভিযান চালিয়ে ইউনিয়ন যুবদলের সহসভাপতি মিল্টন মল্লিক, যুবদল কর্মী মো. মুন্না ও আল-আমিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মাকহাটীসহ আশপাশের এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। মিল্টন মল্লিক অস্ত্রসহ র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন এবং সম্প্রতি জামিনে মুক্ত হয়েছেন।

আরও পড়ুন: শেরপুরে বাস-সিএনজির সংঘর্ষে জুয়েল মিয়া নিহত, আহত ৪

স্থানীয় সূত্র জানায়, ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর মোল্লাকান্দি ইউনিয়নে বিএনপির নেতাকর্মীরা সক্রিয় হয়ে ওঠেন। তিন মাস পর নিজেদের মধ্যে আধিপত্যের লড়াই শুরু হয়। তারা দুগ্রুপে বিভক্ত হয়ে একাধিকবার সংঘর্ষে জড়ান।

একটি পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন মুন্সীগঞ্জ সদর থানা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আওলাদ মোল্লা, যিনি মোল্লাকান্দি ইউনিয়নের সামারচর গ্রামের বাসিন্দা। অন্য গ্রুপের নেতৃত্ব দিচ্ছেন জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি আতোয়ার হোসেন আতিক মল্লিক। তারা কেউই এলাকায় থাকেন না এবং বাইরে থেকে নিজেদের গ্রুপ পরিচালনা করেন।

বিএনপি নেতাকর্মীরা জানান, আধিপত্য বিস্তারে একাধিকবার সংঘর্ষের কারণে ইউনিয়নের প্রতিটি এলাকায় বিএনপির নেতাকর্মীরা দুভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সামনে রেখে দুই পক্ষই এলাকায় নিয়ন্ত্রণ নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে।

সূত্র জানায়, আওলাদ মোল্লা আগামী মোল্লাকান্দি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে আগ্রহী। অন্যদিকে, ফ্রান্স প্রবাসী একজন সম্ভাব্য প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন আতোয়ার হোসেন আতিক মল্লিক। এ নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধ তুঙ্গে উঠেছে।

আরও পড়ুন: কেন্দুয়ায় পাচারের সময় ৩২ বস্তা সার জব্দ, চালক পালিয়েছে

স্থানীয়রা জানান, মোল্লাকান্দিকে অনেকে ‘ককটেলকান্দি’ বলেও অভিহিত করেন। তুচ্ছ কারণে সংঘাত-সংঘর্ষ ও ককটেল বিস্ফোরণের কারণেই ইউনিয়নটি এমন নাম পেয়েছে। এলাকার সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত হয়ে আছেন। বৃহস্পতিবার সংঘর্ষের সময় গ্রামবাসী ভয়ে তাদের বসতঘরের দরজা-জানালা বন্ধ করে অবস্থান নেন।

গ্রামবাসী জানায়, বৃহস্পতিবারের সংঘর্ষের পর চরাঞ্চলের অন্যান্য গ্রামেও এর প্রভাব পড়েছে। পশ্চিম মাকহাটী, মহেশপুর, রাজারচর, চরডুমুরিয়া, আমঘাটা গ্রামে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে।

আহত সাইফুল হাওলাদারের মা পেয়ারা বেগমের দাবি, ভোরে জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি আতোয়ার হোসেন আতিক মল্লিকের সমর্থক এবং পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী মিল্টন মল্লিক দলবল নিয়ে তাঁর ছোট ছেলে সাইফুলের বাড়িতে হামলা চালিয়ে এলোপাতাড়ি গুলি করে। এ সময় তারা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। তাঁর ছেলে পালাতে গেলে ককটেল ছুড়ে মারে, যার ফলে সাইফুলের ডান হাতের তিনটি আঙুল বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

এ বিষয়ে মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আওলাদ হোসেন মোল্লা জানান, সংঘর্ষে আহতরা সবাই তার সমর্থক। সন্ত্রাসী মিল্টন মল্লিকের নেতৃত্বে হামলা চালানোর কারণে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।

আরও পড়ুন: উখিয়ায় ১৫ ঘণ্টা পরও জ্বলছে গ্যাসের আগুন, ১৫ কিলোমিটার এলাকায় বিদ্যুৎ বন্ধ

জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি আতোয়ার হোসেন মল্লিক জানান, এ ঘটনায় তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তিনি শুনেছেন, আধিপত্য নিয়ে নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

মুন্সীগঞ্জ সদর থানার ওসি মো. তসলিম উদ্দিন জানান, আধিপত্য বিস্তারে বৃহস্পতিবার সকালে মোল্লাকান্দি ইউনিয়নের পূর্ব মাকহাটী গ্রামে দুপক্ষের লোকজন সংঘর্ষে জড়ায়। এ সময় দুপক্ষের মধ্যে গোলাগুলিসহ ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে, যাতে তিনজন আহত হন। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং পরে সেখান থেকে তিনজনকে আটক করা হয়।

তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় আওলাদ হোসেন মোল্লার গ্রুপের পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়া গেছে। দাখিল করা অভিযোগ মামলায় নথিভুক্ত করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। অন্যপক্ষও অভিযোগ দাখিল করবে বলে শুনেছেন।

আরও পড়ুন: তাহিরপুরে প্রবাসীর স্ত্রী ও পাঁচ লাখ টাকা নিয়ে উধাও নাজমুল, পরিবার উদ্বিগ্ন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রামপালে ফয়লাহাট আছিয়া মাদ্রাসার সুবর্ণজয়ন্তী ও মিলনমেলা অনুষ্ঠিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:১৭ এম


রামপালে ফয়লাহাট আছিয়া মাদ্রাসার সুবর্ণজয়ন্তী ও মিলনমেলা অনুষ্ঠিত

বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার ফয়লাহাট আছিয়া কারামতিয়া আলিম মাদ্রাসা গত পাঁচ দশক ধরে শিক্ষা, নৈতিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ ছড়িয়ে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। এই প্রতিষ্ঠানের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে সুবর্ণজয়ন্তী এবং প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মিলনমেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এ আয়োজন বুধবার সকাল ১০টায় উপজেলার ফয়লাহাটে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়। এতে বর্তমান এবং প্রাক্তন শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক এবং স্থানীয় ব্যক্তিরা অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, "শিক্ষা, নৈতিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধের আলো ছড়িয়ে গত পাঁচ দশক ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে এ মাদ্রাসা।" তিনি আরও বলেন, "প্রতিষ্ঠানটির ৫০ বছর পূর্তি প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং এলাকাবাসীর জন্য আনন্দ ও গৌরবের উপলক্ষ।" তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, মাদ্রাসাটির উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি এবং আগামী প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের সুশিক্ষা ও নৈতিক মূল্যবোধে গড়ে ওঠার ধারাবাহিকতা আরও বেগবান হবে।

রামপাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তামান্না ফেরদৌসীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর (প্রশাসন) গাজী মানোয়ার হুসাইন তামিম, মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. শরীফ আবদুল কাদির এবং উপজেলা বিএনপির সাবেক জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তফা কামাল পাটোয়ারী।

মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. শরীফ আবদুল কাদির জানান, ১৯৭৬ সালে ইবতেদায়ি পর্যায়ে পাঠদানের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির যাত্রা শুরু হয়। দীর্ঘ পাঁচ দশকে এ প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে অসংখ্য শিক্ষার্থী দেশ-বিদেশের বিভিন্ন পেশায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে অনেকেই শিক্ষকতা, আইন, সাংবাদিকতা, রাজনীতি ও প্রশাসনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখছেন।

অনুষ্ঠান বাস্তবায়ন কমিটির সদস্যসচিব মুহাম্মদ হেদায়েত হুসাইন জানান, মাদ্রাসার প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনেকেই উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে বিদেশে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া অনেক সাবেক শিক্ষার্থী আইনজীবী, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, সাংবাদিক ও রাজনীতিবিদ হিসেবে কাজ করছেন।

সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে দিনব্যাপী কর্মসূচির মধ্যে ছিল বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা, স্মৃতিচারণা, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের সম্মাননা, প্রয়াত শিক্ষকদের স্মরণে দোয়া ও মরণোত্তর সম্মাননা, প্রয়াত শিক্ষার্থীদের স্মরণে দোয়া, বিভিন্ন প্রতিযোগিতা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে স্থানীয়দের হামলা শিক্ষকের বাড়ি ও মাদ্রাসায়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:৩৪ এম


ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে স্থানীয়দের হামলা শিক্ষকের বাড়ি ও মাদ্রাসায়

সাভারের বিরুলিয়ায় একটি মহিলা মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও শিক্ষক মাওলানা আব্দুল বারীর বিরুদ্ধে এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগটি প্রকাশ্যে আসার পর ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা ওই মাদ্রাসা এবং অভিযুক্ত শিক্ষকের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেন। এ সময় পুলিশের সদস্যরা শিক্ষকের স্ত্রী ও ছেলেকে উদ্ধার করতে গেলে তাদের অবরোধের মুখে পড়তে হয়। পরে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। গত বুধবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত প্রায় পৌনে ১১টা পর্যন্ত এই ঘটনাগুলো ঘটে। অভিযুক্ত শিক্ষক ওই সময় বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন না।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তোহফাতুল জান্নাহ মহিলা মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও শিক্ষক আব্দুল বারীর বিরুদ্ধে ১৩ বছর বয়সী এক ছাত্রীকে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগ রয়েছে। গত বুধবার ওই ছাত্রী ধর্ষণের বিষয়টি তার পরিবারকে জানায়। খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে বিক্ষুব্ধ লোকজন ওই মাদ্রাসা এবং অভিযুক্ত শিক্ষকের বাড়িতে ভাঙচুর চালান। এ সময় বিক্ষুব্ধরা ওই শিক্ষককে না পেয়ে তার স্ত্রী ও ছেলেকে একটি রুমে অবরুদ্ধ করে রাখেন।

বিরুলিয়া পুলিশ ফাঁড়ির একটি দল খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। শিক্ষকের স্ত্রী ও ছেলেকে উদ্ধার করার চেষ্টা করলে বিক্ষুব্ধ লোকজন ভবনটিতে ভাঙচুর শুরু করেন। এতে পুলিশ সদস্যসহ অন্য ব্যক্তিরা সেখানে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। পরে সাভার মডেল থানা ও ঢাকা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একাধিক দল এসে অভিযুক্ত শিক্ষকের স্ত্রী ও ছেলেকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। ওই মাদ্রাসার পাশাপাশি শিক্ষকের বসবাসের ব্যবস্থা একটি পাঁচতলা ভবনে রয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী এক যুবক বলেন, ঘটনার সময় আমরাও পুলিশের সঙ্গে ভবনের ভেতরে আটকা পড়েছিলাম। পরে সাভার থানা ও ডিবি পুলিশের একাধিক দল ঘটনাস্থলে আসে। ভাঙচুরের পাশাপাশি ভবন থেকে মূল্যবান জিনিসপত্র লুটের অভিযোগও করেছেন ওই প্রত্যক্ষদর্শী।

সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মোশাররফ হোসেন জানান, মাদ্রাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠার পর স্থানীয়রা মাদ্রাসা ও শিক্ষকের বাড়িতে ভাঙচুর চালায়। শিক্ষকের স্ত্রী ও ছেলেকে নিরাপদে সরিয়ে থানায় নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে ঘটনাস্থলে পুলিশের একাধিক দল মোতায়েন করা হয়েছে।

সাভার মডেল থানার ওসি সাইফুল আলম বলেন, ধর্ষণের ঘটনায় ওই ছাত্রীর পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযুক্ত শিক্ষক আব্দুল বারী ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছেন। এছাড়া আর কোনো শিক্ষার্থী এমন ঘটনার শিকার হয়েছে কিনা, তা জানতে আমরা কাজ করছি। খুব দ্রুত ওই শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে আইন প্রয়োগের দাবি জানালো নিসচার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:৩৪ এম


নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে আইন প্রয়োগের দাবি জানালো নিসচার

জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে রাজধানীতে র‍্যালি আয়োজন করেছে নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)। বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় কাকরাইলে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে শুরু হয়ে র‍্যালিটি জাতীয় প্রেসক্লাবে গিয়ে শেষ হয়।

র‍্যালিতে নিসচার কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা শাখার নেতারা, সড়ক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ এবং বিভিন্ন শ্রেণির পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। এ সময় তাঁরা সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখা, ট্রাফিক আইন মেনে চলা এবং সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

র‍্যালির পর জাতীয় প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে নিসচার নেতারা জানান, সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে বিদ্যমান আইন ও বিধির যথাযথ প্রয়োগ, চালকদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সড়ক ব্যবহারকারীদের সচেতনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠান, পরিবহন খাত, গণমাধ্যম ও নাগরিকদের একত্রে কাজ করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।

সমাবেশে চালকদের প্রশিক্ষণ ও যোগ্যতা নিশ্চিত করা, যানবাহনের ফিটনেস পরীক্ষা, ঝুঁকিপূর্ণ সড়ক চিহ্নিত করে সংস্কার এবং পথচারীদের নিরাপত্তা বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের দ্রুত উদ্ধার ও চিকিৎসা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।

নিসচার পক্ষ থেকে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন, বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং এবং অতিরিক্ত যাত্রী ও মালামাল বহনের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। এছাড়া সড়কের ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো চিহ্নিত করতে দুর্ঘটনার নির্ভরযোগ্য তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের সুপারিশ করা হয়।

নেতারা উল্লেখ করেন, কেবল আইন প্রণয়ন করলেই নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত হবে না। আইনের প্রয়োগ, নিয়মিত তদারকি এবং অনিয়মের জন্য জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। বিদ্যালয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কর্মক্ষেত্রে সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক সচেতনতামূলক কার্যক্রম বৃদ্ধিরও আহ্বান জানান তাঁরা।

নিসচার নেতারা আরও বলেন, নিরাপদ সড়ক গড়ে তুলতে চালক, যাত্রী, পথচারী, পরিবহন মালিক এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা অপরিহার্য। দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সহায়তা এবং আহত ব্যক্তিদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।

জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এ কর্মসূচি থেকে সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ধারাবাহিক, কার্যকর ও সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের লড়াই বদলে দিচ্ছে সুপ্রিম কোর্ট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:৩৫ এম


যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের লড়াই বদলে দিচ্ছে সুপ্রিম কোর্ট

মধ্যবর্তী নির্বাচন তিন নভেম্বরের দিকে এগিয়ে আসার সাথে সাথে, যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের একের পর এক সিদ্ধান্ত দেশটির নির্বাচনী রাজনীতিতে ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। এবারের নির্বাচনী চক্রে আদালতের ভূমিকা অস্বাভাবিকভাবে বেশি দেখা গেছে। এই বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি এলেনা কাগান।

সাম্প্রতিক সময়ে নির্বাচনের সাথে সম্পর্কিত বিভিন্ন মামলায় রিপাবলিকানরা সাধারণত ডেমোক্র্যাটদের তুলনায় অধিক সুবিধা পেয়েছে। কংগ্রেসের নির্বাচনী আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ এবং নির্বাচনী প্রচারে অর্থব্যয়ের বিধিনিষেধ শিথিল করার বিষয়ে আদালতের রায়গুলো এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত। তবে এসব আইনি সাফল্য কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার লড়াইয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দলকে কতটা সহায়তা করবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে রিপাবলিকানদের সামান্য সংখ্যাগরিষ্ঠতা অতিক্রম করতে, ডেমোক্র্যাটদের প্রতিটি কক্ষে নিট চারটি করে আসন বাড়াতে হবে। দুই কক্ষের যে কোনো একটির নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে চলে গেলে ট্রাম্পের আইন প্রণয়নের কর্মসূচি বাধাগ্রস্ত হতে পারে। পাশাপাশি, প্রেসিডেন্টকে লক্ষ্য করে ডেমোক্র্যাটদের নেতৃত্বে কংগ্রেসীয় তদন্তের পথও খুলে যেতে পারে।

গত বছর ও চলতি বছরে সুপ্রিম কোর্টের কয়েকটি রায় জাতীয় পর্যায়ে প্রতিনিধি পরিষদের নির্বাচনী আসনের মানচিত্র রিপাবলিকানদের জন্য তুলনামূলক অনুকূল করতে সহায়তা করেছে। তবে বিভিন্ন জনমত জরিপে দেখা যাচ্ছে, সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের ক্ষেত্রে ডেমোক্র্যাটরাও শক্ত অবস্থানে রয়েছেন।

সুপ্রিম কোর্টে রক্ষণশীল বিচারপতিদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ৬-৩ অনুপাতে রয়েছে। রক্ষণশীল বিচারপতিদের সমর্থনে দেওয়া দুটি গুরুত্বপূর্ণ রায় রিপাবলিকানদের সুবিধা দিয়েছে। এপ্রিলে আদালত ১৯৬৫ সালের ভোটাধিকার আইনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিধান কার্যত দুর্বল করে দেন। জাতিগত বৈষম্য থেকে ভোটারদের সুরক্ষা দেওয়ার উদ্দেশ্যে আইনটি প্রণয়ন করা হয়েছিল। এরপর জুনে আদালত দীর্ঘদিন ধরে কার্যকর থাকা নির্বাচনী প্রচারে অর্থব্যয়ের সীমাবদ্ধতা বাতিল করেন।

তবে গত মাসে ডাকযোগে ভোট দেওয়ার সুযোগ সীমিত করার ট্রাম্প-সমর্থিত একটি উদ্যোগ নাকচ করে দেয় আদালত। ডেমোক্র্যাট ভোটাররা তুলনামূলক বেশি ডাকযোগে ভোট দিয়ে থাকেন। ওই রায়ের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে ভিন্নমত জানিয়েছিলেন আদালতের সবচেয়ে রক্ষণশীল দুই বিচারপতি ক্লারেন্স থমাস ও স্যামুয়েল আলিটো।

ভার্জিনিয়ার জর্জ মেসন ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগের অধ্যাপক ইলিয়া সোমিনের মতে, সাম্প্রতিক নির্বাচনী মামলাগুলোর রায়ে রিপাবলিকানরা সামগ্রিকভাবে সুবিধা পেয়েছেন। তাঁর ভাষ্য, গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সিদ্ধান্তে দীর্ঘদিনের রক্ষণশীল বিচারিক অগ্রাধিকারের প্রতিফলন ঘটেছে।

এবারের নির্বাচনী চক্রে মামলার সংখ্যা নিয়েও মন্তব্য করেছেন সোমিন। তিনি বলেন, সুপ্রিম কোর্টে নির্বাচনের সাথে সংশ্লিষ্ট মামলার সংখ্যা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক বেশি বলে মনে হচ্ছে, বিশেষ করে মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে।

আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ নিয়ে প্রতিযোগিতা

জাতিগত বৈষম্যের অভিযোগ তুলে নির্বাচনী আসনের সীমানা চ্যালেঞ্জ করা সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি রিপাবলিকান-নিয়ন্ত্রিত অঙ্গরাজ্য মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে দ্রুত প্রতিনিধি পরিষদের এমন আসনগুলোর সীমানা পুনর্নির্ধারণে উদ্যোগ নিয়েছে, যেখানে কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। কৃষ্ণাঙ্গ ভোটাররা সাধারণত ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের সমর্থন করে থাকেন।

সুপ্রিম কোর্টের অন্য কয়েকটি রায়ও মধ্যবর্তী নির্বাচনের জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর স্বার্থে কাজ করছে। মূলত নির্বাচনী আসনের সীমানা নির্ধারণের পথ খুলে দিয়েছে। এর ফলে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ নিয়ে নজিরবিহীন প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে।

গত বছর ট্রাম্প রিপাবলিকান-নিয়ন্ত্রিত অঙ্গরাজ্যগুলোকে বিদ্যমান কংগ্রেসীয় আসনের সীমানা নতুন করে নির্ধারণের আহ্বান জানান। তাঁর লক্ষ্য ছিল, এমনভাবে সীমানা পুনর্নির্ধারণ করা, যাতে মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানরা প্রতিনিধি পরিষদে আরও বেশি আসন পেতে পারে। টেক্সাস প্রথমে এই উদ্যোগ নেয়। পরে সুপ্রিম কোর্ট নতুন নির্বাচনী মানচিত্র কার্যকর রাখার অনুমতি দেন।

সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি দশকের শুরুতে জনসংখ্যার পরিবর্তন বিবেচনায় নিয়ে অঙ্গরাজ্যগুলোর আইনসভা নির্বাচনী আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ করে। এ ক্ষেত্রে মার্কিন আদমশুমারির তথ্য ব্যবহার করা হয়। তবে সম্প্রতি বেশ কয়েকটি অঙ্গরাজ্য দশক শেষ হওয়ার আগেই এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে। সুপ্রিম কোর্টের তিন উদারপন্থি বিচারপতির একজন এলেনা কাগান ২০১৯ সালের একটি রায় নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%