১০:৩৫ এম
স্টিফেন ইউস্তাকিওর ইনজুরি টাইমের গোলে রোববার নক আউট পর্বের প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ১-০ ব্যবধানে পরাজিত করে। প্রথম দল হিসেবে তারা শেষ ১৬ নিশ্চিত করেছে সহ-আয়োজক কানাডা। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এই প্রথমবার কানাডা শেষ ষোলতে পৌঁছেছে।
দুই দলই প্রথমবারের মত নক আউট পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছিল। লস এ্যাঞ্জেলস শহরের ম্যাচটির আবহ দেখে মনে হচ্ছিল অতিরিক্ত সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। কিন্তু ম্যাচ শেষের সঠিক মুহূর্তের ঠিক আগে ইউস্তাকিও দক্ষিণ আফ্রিকার খেলোয়াড়দের কাঁদিয়ে বক্সের বাইরে থেকে বল জালে জড়িয়ে দেন।
নিজেদের গ্রুপে প্রথম স্থান দখল করতে ব্যর্থ হওয়ায় সহ-আয়োজক হওয়া সত্ত্বেও কানাডাকে দেরীতে যুক্তরাষ্ট্রের মাঠে খেলতে হয়েছে। আগামী ৪ জুলাই হিউস্টোনে শেষ ১৬’তে তাদের প্রতিপক্ষ হবে নেদারল্যান্ডস বনাম মরক্কো ম্যাচের বিজয়ী দল।
আরও পড়ুন: সম্পর্কে নতুন মোড়: ভার্জিনিয়া ফনসেকা ভিনিকে ছেড়ে স্বামীর কাছে ফিরলেন
কানাডা জাতীয় দলের কোচ জেসি মার্শ ম্যাচ শেষে মন্তব্য করেন, ‘আমাদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস ছিল। সেই মুহূর্তটা আসে ৯২ মিনিটে, এখন আমরা পরের রাউন্ডে।’
মার্শ আরও জানিয়েছেন যে নিজেদের সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারলে ম্যাচটি আরও সহজ হতো, ‘অবশ্যই গোলের সময় বিবেচনা করলে ম্যাচটা দারুণ নাটকীয় ছিল। আমি মনে করি সমর্থকরা আজ যেভাবে অনুপ্রেরণা যুগিয়েছে তা অসাধারণ।’
ম্যাচের আগে মার্শ বলেছিলেন দলের ‘এক্স ফ্যাক্টর’ আলফোনসো ডেভিস হ্যামস্ট্রিং ইনজুরি কাটিয়ে একাদশে ফিরবেন। কিন্তু বায়ার্ন মিউনিখের এই উইং ব্যাক আবারও একাদশে অনুপস্থিত ছিলেন। তবুও কানাডা শুরু থেকেই আধিপত্য দেখিয়েছে। ২২ মিনিটে ইউস্তাকিওর নিখুঁত ফ্রি-কিক ডেরেক করনেয়িসের কাছে গেলেও কানাডিয়ান এই সেন্টার ব্যাকের হেড জালের ঠিকানা খুঁজে পায়নি।
দক্ষিণ আফ্রিকা বিশেষ করে কাউন্টার এ্যাটাকে বিপদজনক ছিল। কিন্তু বিরতির ঠিক আগে কানাডার অল্পের জন্য এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ ছিল। কর্ণার থেকে মোয়েস বোমবিতোর হেড লাইনের উপর থেকে ক্লিয়ার করেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার ডিফেন্ডার। ফিরতি বলে টায়োন বুকানরের শট রুখে দিয়েছেন গোলরক্ষক রনওয়েন উইলিয়াম। পরের মিনিটেই রিচি লারিয়াকে বক্সের মধ্যে আটকে দেন খুলিসো মাদাউ। এই ট্যাকেলে কানাডা পেনাল্টির আবেদন করেও সফল হয়নি।
আরও পড়ুন: এশিয়া কাপ আর্চারির ফাইনালে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা, কাজাখস্তানের বিপক্ষে মুখোমুখি হবে রিকার্ভ ও কম্পাউন্ড নারী দল
বিরতির পর কানাডা আবারও গোলের খুব কাছে চলে গিয়েছিল। বদলী খেলোয়াড় নিকো সিগরের থ্রু বল থেকে টানি ওলুওয়াসির শট রুখে দেন উইলিয়ামস। ফিরতি বলে জোনাথন ডেভিডের শট দুর্দান্তভাবে ক্লিয়ার করেন ডিফেন্ডার এমবেকেজেই এমবোকাজাই।
৭৫ মিনিটে বিশ্বকাপে প্রথমবারের মত মাঠে নামেন ডেভিস। মাঠে প্রবেশের সাথে সাথেই তিনি আক্রমণের সূচনা করেন। লেফট উইং থেকে ডেভিসের বাড়ানো বলে জোনাথন ডেভিড সতীর্থ স্ট্রাইকার প্রমিস ডেভিডের দিকে দারুণ এক পাস দিয়েছিলেন। কিন্তু তার বল পোস্টের পাশে বাইরে চলে যায়। পরের মিনিটে ডেভিস আবারও বল বাড়িয়ে দেন জোনাথন ডেভিডের দিকে। এবার তার শট উইলিয়ামস রুখে দেন।
যোগ হওয়া সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে শেষ পর্যন্ত কানাডা সফল হয়। রাইট উইং থেকে জ্যাকব শাফেলবার্গের দুর্দান্ত ক্রসে পোর্তো মিডফিল্ডার ইউস্তাকিও বল জালে জড়িয়ে দেন। পুরো স্টেডিয়াম উল্লাসে ফেটে পড়েছিল। পুরো বদলী বেঞ্চ মাঠে গিয়ে ঐতিহাসিক এই গোল উদযাপন করতে থাকে।
মার্শ মন্তব্য করেছেন, ‘ভ্যাঙ্কুভারে নিজেদের সমর্থকদের সামনে এই উদযাপন করতে না পারাটা লজ্জার। কিন্তু সবাই আজ আমাদের খেলোয়াড়দের প্রতিভা, মানসিকতা দেখেছে।’
আরও পড়ুন: ওয়ানডেতে ৩৫০ রানের অভ্যাস গড়তে বিসিবির নতুন উদ্যোগ, কী আছে পরিকল্পনায়
দক্ষিণ আফ্রিকার কোচ হুগো ব্রুস বলেছেন, প্রথমবারের মত গ্রুপ পর্ব পার করাও আমাদের জন্য অনেক কিছু। আমরা সবাই সন্তুষ্ট। তবে আজকের ম্যাচে এভাবে পরাজিত হতে দলের সবাই হতাশ। আমরা আজ জিততে এসেছিলাম।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন