১০:৩৭ এম
রাজধানীর ৩০০ ফিট সড়কে প্রতি রাতে বেপরোয়া মোটরসাইকেলচালকরা উপস্থিত থাকছেন। এই সড়কটি, যা অত্যন্ত দৃষ্টিনন্দন, অবৈধ রেসিং ও দ্রুতগতির গাড়ি চালনার কারণে এখন মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। মধ্যরাত থেকে ভোর পর্যন্ত সড়কটি পুরোপুরি ফাঁকা থাকার সুযোগ কাজে লাগাচ্ছে রেসাররা।
এ সময় তরুণদের কাছে এই সড়কটি হয়ে যাচ্ছে রেসিং ট্র্যাক। ফলে শুরু হচ্ছে বেপরোয়া গতির প্রতিযোগিতা। প্রতিমাসে প্রায় দেড় শতাধিক দুর্ঘটনা ঘটে এই সড়কে, এবং অনেক যুবক মারা যায়। এদের মধ্যে বেশির ভাগই তরুণ ও তরুণী।
স্থানীয়দের সূত্রে বাংলাদেশ প্রতিদিনের রিপোর্টে বলা হয়েছে, রাতে এ সড়কে দুর্ঘটনা দিনের তুলনায় বেশি ঘটে। রেসিং করতে আসা অধিকাংশ চালকই ধনী পরিবারের সন্তান। অনেক সময় তারা নেশাগ্রস্ত অবস্থায় রেসিংয়ের সঙ্গে যুক্ত হন। এছাড়া, অনেকে টিকটক বা অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রিলস ভিডিও বানাতে গিয়ে বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালান, এবং কিছু মানুষ মোটরসাইকেল নিয়ে স্টান্ট করে। এতে গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারালে ঘটে দুর্ঘটনা।
আরও পড়ুন: জামায়াতের দাবি, আইজিপির বক্তব্য সংবিধান ও আইনের শাসনের পরিপন্থী
গত বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার রাতের ক্ষেত্রে ৩০০ ফিট সড়কে সরেজমিন দেখা যায়, সন্ধ্যার পর থেকে দলবেঁধে মডিফাই করা মোটরসাইকেল নিয়ে সেখানে হাজির হন। প্রথমে তারা গাড়ি নিয়ে ভিডিও করতে থাকে। কিন্তু রাত গভীর হলে পাশের সার্ভিস রোডে রেসিংয়ের জন্য প্রস্তুত হন। কিছুদূর যাওয়ার পর শুরু হয় তাদের আসল প্রতিযোগিতা, এবং তখন তারা প্রধান সড়কে ওঠেন। ৩০০ ফিট সড়ককে খেলার জায়গায় পরিণত করে তীব্র গতির এবং উচ্চস্বরে গাড়ি ছুটে বেড়ান। সড়কে পর্যাপ্ত টহল এবং নজরদারি না থাকা কারণে চালকদের মধ্যে কোনো শৃঙ্খলা নেই। সরকার নির্ধারিত গতিসীমা বোর্ডে লেখা থেকেও চালকরা তা মানছেন না। কোনো চেকপোস্ট পার হলেই তীব্র গতিতে গাড়ি চালানো শুরু হয়।
এক্ষেত্রে, এক্সপ্রেসওয়ে তে স্বয়ংক্রিয় স্পিড মনিটরিং ব্যবস্থা নেই। এমনকি দুর্ঘটনাপ্রবণ অঞ্চলগুলোতে সতর্কতা সাইনেজের অভাব রয়েছে। সড়কের কিছু স্থানে সৌর স্ট্রিট লাইটগুলো অকেজো হয়ে পড়ে রয়েছে। এসব কারণে শুধু দুর্ঘটনা নয়, চুরি-ছিনতাই, মাদক গ্রহণের মতো অবৈধ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
এ সম্পর্কে জানা গেছে, রেসিং কিংবা বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালানো রোধে সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে প্রতিদিন টহল এবং চেকপোস্ট বসানো হয়। অনেক সময় রেসাররা এক্সপ্রেসওয়ে ছেড়ে ভিতরের রাস্তায় চলে যায়। তাই তাদের আটক করা সম্ভব হয় না। রেসাররা বেশির ভাগই আসে পুরান ঢাকা, গুলশান, বনানী, মোহাম্মদপুর, মিরপুর, ধানমন্ডি এবং ঢাকার আশেপাশের এলাকা থেকে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী রুবেল মিয়া বলেন, মডিফাইড করা মোটরসাইকেল ও দামি প্রাইভেট কার নিয়ে প্রতিযোগিতায় যে চালকরা অংশ নেন, তাদের গতি অনিয়ন্ত্রিত থাকে এবং অনেক সময় তারা ডিভাইডারের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে এক লেন থেকে অন্য লেনে গিয়ে পড়ে। কিছুদিন আগে একজন বেপরোয়াভাবে মোটরসাইকেল চালিয়েছিল এবং নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাথরবোঝাই ট্রাকের পেছনে ধাক্কা খেয়ে মারা যান।
আরও পড়ুন: ক্রসফায়ারের চিন্তা পুলিশের ব্যর্থতা ও ফ্যাসিবাদী মানসিকতার প্রকাশ: আমীনের উদ্বেগ
ডিএমপির খিলক্ষেত থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ সোহরাব আল হোসাইন জানান, ৩০০ ফিট সড়কে প্রতিদিন দুর্ঘটনা ঘটে। তবে থানায় কেউ খুব একটা অভিযোগ করেন না। যদি কেউ মারাত্মকভাবে আহত হন বা নিহত হন, তাহলে তাদের স্বজনরা থানায় আসতে চান না। যখন ক্ষতিপূরণ কিংবা বিআরটিএ-তে অভিযোগের মতো বিষয় আসে, তখন কেবল তখনই কেউ অভিযোগে আসেন।
ওসি আরো বলেন, যানবাহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করে ট্রাফিক পুলিশ। তারা যদি আমাদের সহযোগিতা চান তবে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবার চেষ্টা করি।
ট্রাফিকের গুলশান বিভাগের এডিসি মো. জিয়াউর রহমান বলেন, যেসব গাড়ি আইন লঙ্ঘন করছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। নিয়মিত মামলা করা হচ্ছে, এবং রেকারে পাঠানো হচ্ছে। এরপরও অনেকে আইন মানতে চাইছেন না। তাদের জন্য এআই ক্যামেরা এবং রাজউক মাধ্যমে স্পিড ক্যামেরা বসানোর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এসকল ব্যবস্থা ইনস্টল হলে গাড়ির গতি কমে আসবে।
আরও পড়ুন: ‘জয় বাংলা’ স্লোগান গ্রহণ করে রাজ্যকে বৃহত্তর বাংলাদেশে পরিণত করতে চেয়েছিল তৃণমূল
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন