বৃহস্পতিবার, ৩০শে জুলাই, ২০২৬ ইং
০৬:০৯ পি.এম
ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ পদত্যাগের দাবি তুলেছেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে।
বুধবার (৩০ জুলাই) তিনি এই দাবি উত্থাপন করেন এবং অভিযোগ করেন, পরীক্ষায় অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় ২০ জুলাই সংসদ অভিযানের সময় ছাত্রদের ওপর পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ অমিত শাহের নির্দেশেই হয়েছে।
দীপক বলেন, যেভাবে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করতে থাকা ছাত্রদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে এবং তাদের রক্ত ঝরানো হয়েছে, তা অমিত শাহের নির্দেশ ছাড়া কখনোই সম্ভব নয়।
লোকসভার বিরোধী নেতা রাহুল গান্ধী বুধবার (২৯ জুলাই) বলেন, ২০ জুলাই শিক্ষার্থীদের ওপর আক্রমণে পেলেট বা ছররা গুলি চলেছে, এর নির্দেশ স্পষ্টভাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ছিল। আমাদের ছাত্রদের রক্তে ছররা গুলি ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছিল এবং এজন্য তাঁকে দায়ী করা হয়েছে। সে কারণে তাঁর পদত্যাগ করা উচিত।
রাহুল গান্ধীর অভিযোগের একদিন পর দীপক বলেন, আমি মনে করি, অমিত শাহের পদত্যাগ করা উচিত।
সিজেপি বিদেশি অর্থায়ন পেয়েছে—এরকম অভিযোগ খারিজ করে তিনি বলেন, যদি সত্যি আমাদের বিদেশি অর্থ পেতে হয়, আর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থেকেও অমিত শাহ তা আটকাতে পারেন না, তাহলে সেটা তাঁর ব্যর্থতা। তাহলে তিনি কীভাবে নিজেকে 'চাণক্য' বলবেন? সেক্ষেত্রে তাঁরও পদত্যাগ করা উচিত।
দীপক আরও অভিযোগ করেন, দিল্লি পুলিশ ইচ্ছাকৃতভাবে পাথর নিক্ষেপের ঘটনা ঘটিয়ে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার অজুহাত তৈরি করেছিল। দাবি করেন, ২০ জুলাই দিল্লির যন্তর-মন্তনের আন্দোলনস্থলে একটি ট্রাকের মাধ্যমে পাথর এবং একটি ভাঙাচোরা গাড়ি আনা হয়েছিল, যাতে পুলিশি অভিযানের যুক্তি তুলে ধরা যায়।
তিনি বলেন, পাথর নিক্ষেপের পুরো ঘটনাই দিল্লি পুলিশ পরিকল্পিতভাবে ঘটিয়েছে। বিজেপির লোকজন এসে পাথর ছুড়ে এবং দোষ চাপানো হচ্ছে ছাত্রদের ওপর।
দীপক অভিযোগ করেন, তাঁকে এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিজেপিতে যোগ দিতে চাপ দেওয়া হয়েছে এবং হুমকি দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে তিনি বলেন, আমাকে হুমকি দেওয়া হয়েছে। আমার বাবা-মাকেও বিজেপিতে যোগ দিতে চাপ দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, দলে যোগ না দিলে পরিণতি ভোগ করতে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সিরাজগঞ্জের তাড়াশের একটি গ্রামে বসবাসকারী গ্রামের মানুষদের বহু বছরের একটি চলাচলের একমাত্র রাস্তায় ঈদগাহ মাঠের সীমানা প্রাচীর নির্মাণের কারণে ওই গ্রামের কৃষক, চাকরিজীবী, নারী, শিশু, শিক্ষার্থীসহ প্রায় ৪০টি পরিবার তাঁদের চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে উক্ত পরিবারগুলো চরম ভোগান্তিতে পড়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার বারুহাস ইউনিয়নের মনোহরপুর গ্রামের পশ্চিমপাড়ায়।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো গ্রামপ্রধানদের কাছে কোনো প্রতিকার না পেয়ে বুধবার (২৯ জুলাই) বিকেলে তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নুসরাত জাহান বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
লিখিত অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নুসরাত জাহান নিশ্চিত করেছেন।
লিখিত অভিযোগের সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার মনোহরপুর গ্রামের মসজিদ ও ঈদগাহ মাঠের এলাকার আশেপাশে ৪০টি পরিবারের সদস্যরা বংশপরম্পরায় বসবাস করে আসছেন। মূলত এই পরিবারগুলো দীর্ঘদিন ধরে ঈদগাহ মাঠের পাশ দিয়ে চলাচলের ওই রাস্তায় ফসল আনা-নেওয়া, রোগী পরিবহন, শিক্ষার্থীদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাতায়াতসহ যাবতীয় কাজে এই রাস্তা ব্যবহার করে যাচ্ছেন। আবার একই পথে থাকা মনোহরপুর জামে মসজিদে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করেছিলেন পরিবারের মুসল্লীরা। অথচ গ্রামের কতিপয় গ্রামপ্রধান স্থানীয়দের চলাচলের একমাত্র রাস্তায় ঈদগাহ মাঠের সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করায় চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। যার ফলে ঈদগাহ মাঠের আশেপাশের ৪০টি পরিবারের সদস্যরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
গ্রামপ্রধান মো. সাখাওয়াৎ হোসেন জানান, ওই পরিবারগুলোর চলাচলের জন্য অন্য একটি রাস্তা রয়েছে। তারা সেখান দিয়েই চলাচল করবে।
ভুক্তভোগী পরিবারের একাধিক সদস্য জানিয়েছেন, বিকল্প রাস্তাটি অত্যন্ত সরু এবং সেখানে একজন মানুষের স্বাচ্ছন্দ্যে হাঁটাচলার ক্ষেত্রেও সমস্যা হচ্ছে।
ঈদগাহ মাঠের পাশ দিয়েই চলাচলের একমাত্র রাস্তা দাবি করে মো. শাহআলম প্রাং, মোছা. জমিনা খাতুন, মোছা. লাইলী খাতুনসহ একাধিক ভুক্তভোগী বলেন, "ঈদগাহ মাঠের প্রাচীর নির্মাণ হোক এটা আমরাও চাই। তবে দীর্ঘদিন ধরে আমরা ৪০টি পরিবারের মানুষ একমাত্র এই রাস্তা দিয়েই চলাচল করে আসছি। অথচ ঈদগাহ মাঠের প্রাচীর নির্মাণের মাধ্যমে আমাদের পরিবারগুলোকে অনেকটা অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছি। আর প্রাচীর নির্মাণ হলে আমাদের বের হওয়ার কোনো উপায় থাকবে না। ছেলে-মেয়েরাও স্কুলে যেতে পারবে না। তাই ভুক্তভোগী ৪০ পরিবারের সদস্যদের স্বাক্ষরিত একটি লিখিত অভিযোগ তাড়াশ ইউএনও বরাবর দাখিল করেছি।"
এ প্রসঙ্গে তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নুসরাত জাহান বলেন, "লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা সংক্রান্ত একটি ঘটনায় গ্রেপ্তার করার পর সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে হাতকড়া পরানোর বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তার ছোট ভাই কাদের সিদ্দিকী।
তিনি হাতকড়াকে নববধূর চুড়ির সঙ্গে তুলনা করে মন্তব্য করেন, ‘এ নিয়ে কোনো কথা বলার নেই। এটা সরকার বুঝবে। আমাদের হাতে বহুবার হাতকڑا পড়েছে। আমরা খুব খারাপ কিছু মনে করি না। বিয়ের সময় মেয়ের হাতে চুড়ি যেমন দেওয়া হয়, আমরা তেমনই মনে করি।’
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব বলেছেন।
কাদের সিদ্দিকী আরো বলেন, নিষ্পাপ একজন মানুষকে অন্যায়ভাবে আসামি করায় প্রতিবাদ জানাতে এসেছি। আদালতে প্রত্যেক অভিযুক্ত কথা বলতে পারেন। এটা তার অধিকার। লতিফ সিদ্দিকীও তেমন কথাই বলতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তাকে সুযোগ দেওয়া হয়নি। আমি মনে করি সম্মানী ব্যক্তিদের সম্মান দেওয়া উচিত।
লতিফ সিদ্দিকীর অভিযোগ নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তার বয়স ৮৭ বছর হয়ে গেছে। এখন যদি কোনো অপরাধের দায়ে (যা তিনি করেননি) তার ফাঁসি হয়, তাহলে আমরা সাদরে গ্রহণ করব। কারণ আল্লাহ তায়ালা তাকে তখন মুক্তি দেবেন।
শাপলা চত্বরে গণহত্যার পরিকল্পনাকারী হিসেবে লতিফ সিদ্দিকীকে আসামি করা হয়েছে, এমন একটি প্রশ্নে কাদের সিদ্দিকী জানান, পরিকল্পনাকারী বলা যায় না। কারণ তিনি ‘কিচেন কেবিনেটেও’ ছিলেন না। তিনি তখন পাটমন্ত্রী ছিলেন। পাট নিয়ে হত্যা চলে না। ওই সময় আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার কাছে কিছু ঘটনা নিয়ে বিতর্কিত ছিলেন তিনি।
এছাড়াও, রাজধানীর মতিঝিলে শাপলা চত্বরে ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশ ঘিরে সংঘটিত গণহত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা সংক্রান্ত বিষয়ে বৃহস্পতিবার লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেপ্তার করে ট্রাইব্যুনাল-২ কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন ইরানের ওপর হামলা চালান, তখন তার ধারণা ছিল এই যুদ্ধ অচিরেই, কয়েক সপ্তাহের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু পাঁচ মাস অতিক্রম করার পরও এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের কমার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। বরং, যুদ্ধের দীর্ঘায়িত হওয়ার ফলে মার্কিন করদাতাদের ওপর আর্থিক চাপ ক্রমশ বিপজ্জনকভাবে বাড়ছে। এই তথ্য জানা গেছে যুক্তরাজ্যের দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী পিট হেগসেথ এ কথা স্বীকার করেছেন যে, যুদ্ধ পরিচালনায় এ পর্যন্ত সরকারের অন্তত ৩৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার খরচ হয়ে গেছে এবং এ জন্য পেন্টাগনের বরাদ্দকৃত অর্থ দ্রুত শেষ হয়ে আসছে।
তবে অর্থনীতিবিদ ও সামরিক বিশেষজ্ঞদের অভিমত হলো, পেন্টাগনের এই খরচ হিসাব আসলে বাস্তব খরচের খুব সামান্য অংশ। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং যুদ্ধবিষয়ক অর্থনীতিবিদ লিন্ডা জে বিলমস বলেছেন, ৩৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের হিসাব শুধুই হিমশৈলের চূড়া। যদি মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন আনুসাঙ্গিক খরচ যোগ করা হয়, তাহলে এই যুদ্ধের চূড়ান্ত আর্থিক ক্ষতি ১ ট্রিলিয়ন (এক লাখ কোটি) ডলারে পৌঁছে যেতে পারে।
‘দ্য টেলিগ্রাফ’-এর এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে যে, ২৪ জুলাই পর্যন্ত ইরান যুদ্ধের কারণে মার্কিন অর্থনীতির প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৫১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার। যদি সংঘাত এভাবে চলতে থাকে, তবে চলতি বছরের শেষ হওয়ার আগেই তা ৩১১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে।
প্রতিবেদনটিতে আরও জানানো হয়েছে যে, এই সংঘাতের সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে আমেরিকার সাধারণ মানুষের ওপর। দ্রব্যমূল্যেরও ব্যাপক বৃদ্ধি ঘটছে। যুদ্ধ না থাকলে যে দামে তেল পাওয়ার কথা ছিল, এর তুলনায় বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রলের দাম ২১ দশমিক ৭ শতাংশ এবং ডিজেলের দাম ৩৬ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি। পাশাপাশি, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলার ছাড়িয়ে চরম অস্থিরতার মধ্যে রয়েছে।
আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের দিকে নজর দেওয়া হচ্ছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও জ্বালানি তেলের অনিয়ন্ত্রিত দাম মার্কিন জনগণের মধ্যে চরম অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে। ফলস্বরূপ, আগামী নির্বাচনে এই যুদ্ধ ট্রাম্পের জন্য বড় ধরনের রাজনৈতিক ঝুঁকি নিয়ে আসতে যাচ্ছে। ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা ইতিপূর্বে মাইনাস ১১ শতাংশে থাকলেও, যুদ্ধ শুরুর পর তা নেমে মাইনাস ১৯ দশমিক ৫ শতাংশে পৌঁছেছে।
অর্থনৈতিক ক্ষতির পাশাপাশি, সামরিক এবং মানবিক দিক থেকেও যুক্তরাষ্ট্রের অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এখন পর্যন্ত ১৮ জন মার্কিন সেনাসদস্যের প্রাণহানি ঘটেছে, যদিও এপ্রিলে যুদ্ধবিরতির পর নিহত চার সেনাকে পেন্টাগন তাদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেনি।
অতিরিক্তভাবে, প্রতিবেদনটি জানায় যে, ইরান মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ২০টি সামরিক ঘাঁটিতে আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছে। এর মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও জর্ডানের বিমানঘাঁটিতে অবস্থিত তিনটি অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (অ্যান্টি-ব্যালিস্টিক মিসাইল সিস্টেম) সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের এই সম্পদ ও মনোযোগের অপচয় প্রতিদ্বন্দ্বী চীন ও রাশিয়াকে বৈশ্বিক রাজনীতিতে সুবিধা দিচ্ছে। কারণ, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল থেকে আমেরিকার সামরিক শক্তি সরে যাওয়াই চীনের সবচেয়ে বড় উপকার।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে গত তিন দিনে ভারত থেকে ৫৩ ট্রাকে ২ হাজার ১২০ মেট্রিকটন পাথর আমদানি হয়েছে।
দীর্ঘ সাড়ে ৫ বছর পাথর আমদানি বন্ধ থাকার পর সোমবার (২৭ জুলাই) হিলি স্থলবন্দর দিয়ে পাথর আমদানি শুরু হয়।
মেসার্স ম্যাক্স ইনফ্রা নামে একটি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ভারতের বিহারের পাকুর থেকে এসব পাথর আমদানি করছেন।
হিলি স্থলবন্দরে কর্মরত শ্রমিক মিনহাজুল ইসলামসহ কয়েকজন শ্রমিক বলেন, গত কয়েক বছর থেকে এই বন্দর দিয়ে পাথর আমদানি বন্ধ ছিলো। যার জন্য বন্দরে তেমন কোনো কর্মচাঞ্চল্য ছিল না। বর্তমানে বন্দর দিয়ে পাথর আমদানি হচ্ছে। পাথরের পাশাপাশি যদি অন্যান্য পণ্য আমদানি হতো তাহলে আমাদের আয় অনেকটাই বৃদ্ধি পেত। পাথরের ট্রাকে শ্রমিকদের তেমন কোনো কাজ না থাকলেও আশার আলো দেখছেন কর্মরত শ্রমিকরা।
হিলি স্থলবন্দরের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ফেরদৌস রহমান বলেন, ভারতে পার্কিং চার্জ বৃদ্ধি ও ওভারলোডিং বন্ধসহ নানা জটিলতায় ২০২২ সালে হিলি বন্দর দিয়ে ভারত থেকে পাথর আমদানি বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর সাড়ে ৫ বছর পর হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আবারও ভারত থেকে পাথর আমদানি শুরু হয়েছে। আমরা বন্দরের ব্যবসায়ীরা পাথর আমদানির জন্য সর্বদা প্রস্তুত রয়েছি। আশা করছি আগামীতে আরও বেশি পরিমাণ পাথর আমদানি হবে।
পাথর রপ্তানিকারক সাগর শেন বলেন, ভারত থেকে ইতোমধ্যে আমরা পাথর রপ্তানি শুরু করেছি। রপ্তানিকৃত পাথর বাংলাদেশের ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের নির্মাণ কাজে ব্যবহার করা হবে।
কাস্টমস ও বিজিবির সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে আগামীতে এই বন্দর দিয়ে পাথর রপ্তানির পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে বলেও জানান তিনি।
হিলি কাস্টমসের সহাকরি কমিশনার খন্দকার সোলায়মান বলেন, হিলি স্থলবন্দর উত্তর বঙ্গের একটি বাণিজ্যিক প্রাণকেন্দ্র। এই স্থলবন্দর দিয়ে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর ভারত থেকে পাথর আমদানি শুরু হয়েছে। গত তিন দিনে ২ হাজার ১২০ মেট্রিক টন পাথর আমদানি হয়েছে। আমদানিকৃত পাথর দ্রুত খালাসপূর্বক সব ধরনের সহযোগিতা করছে হিলি কাস্টমস।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ