০২:০৬ পি.এম
গুয়াতেমালার রাজধানী গুয়াতেমালা সিটির একটি ক্রীড়া কমপ্লেক্সে দুর্নীতিবিরোধী সাবেক কৌঁসুলি হুয়ান ফ্রান্সিসকো সোলোরজানো ফোপ্পাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।
গতকাল শনিবার ক্যাম্পো মার্তে ক্রীড়া কমপ্লেক্সে যাওয়ার সময় দুই বন্দুকধারীর হামলায় এই ৪৩ বছর বয়সী আইনজীবী নিহত হন। তার সঙ্গে গুলিতে নিহত হয়েছেন আরও একজন ব্যক্তি।
দেশটির সরকারি কৌঁসুলির কার্যালয় এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। নিহত অপর ব্যক্তির নাম গুস্তাভো আদোলফো আগিলার গামারো। এই ঘটনায় পুলিশ দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে। তাদের কাছ থেকে একটি কারবাইন ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র ও একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: ইরান যুদ্ধের পক্ষ, হুথিদের অস্ত্রদাতারা মধ্যস্থতাকারী হতে পারে না: ইয়েমেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী
গুয়াতেমালার প্রেসিডেন্ট বার্নার্দো আরেভালো হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি বলেন, "হত্যাকাণ্ডের সরাসরি জড়িত ব্যক্তিদের পাশাপাশি যারা এ অপরাধের নির্দেশ দিয়েছে, তাদেরও আইনের পূর্ণ শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।" এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।
প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, "যারা মনে করে সন্ত্রাস ছড়িয়ে মানুষ ও সরকারকে ভয় দেখানো যাবে, তারা ভুল করছে।"
সোলোরজানো ফোপ্পা দুর্নীতির বিরুদ্ধে কাজ করার জন্য পরিচিত ছিলেন। তিনি একসময় দেশের সরকারি কৌঁসুলির কার্যালয়ের অপরাধ তদন্ত বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পরে ২০১৬ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত তিনি দেশটির কর কর্তৃপক্ষের প্রধান ছিলেন। এ সময়ে প্রভাবশালী ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা পরিচালনা এবং বকেয়া কর আদায়ে ভূমিকা রাখেন তিনি।
২০২৫ সালে বারিও ১৮ নামের অপরাধী চক্রের সঙ্গে ন্যাশনাল ইউনিটি অব হোপ পার্টির কথিত সম্পর্ক এবং অপরাধী চক্রগুলোর সঙ্গে বিচার বিভাগের যোগসূত্র নিয়ে আলোচনায় তার নাম আসে।
আরও পড়ুন: রটারডাম কনভেনশনে যুক্ত হচ্ছে বাংলাদেশ, বিপজ্জনক রাসায়নিক ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা পাবেন
২০২৩ সালে সাংবাদিক হোসে রুবেন জামোরার আইনজীবী দলের সঙ্গেও যুক্ত হয়েছিলেন ফোপ্পা। জামোরা মধ্য আমেরিকায় সাংবাদিকতার অপরাধীকরণ এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হওয়ার বিরুদ্ধে প্রতিরোধের প্রতীক হিসেবে পরিচিত। তবে পরে এক কৌঁসুলি ফোপ্পার বিরুদ্ধে বিচারকাজে বাধা দেওয়া এবং তথ্য নষ্ট বা গোপন করার অভিযোগ আনেন। এ কারণে তাকে জামোরার আইনজীবী দল থেকে সরে যেতে হয়।
ফোপ্পা অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত সমঝোতার অংশ হিসেবে অভিযোগ মেনে নিতে রাজি হন। ওই সময় তিনি বলেছিলেন, তিনি মনে করেন না যে তার ন্যায্যবিচার পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
এএম
আরও পড়ুন: ধর্মের বিভেদ দেখেননি প্রধানমন্ত্রী, শান্তি ও অধিকার নিয়ে আলোচনা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন