প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার হাটপাড়া এলাকায় ঐতিহ্যবাহী জামে মসজিদ ও গোদাগাড়ী কেন্দ্রীয় মন্দির পাশাপাশি অবস্থিত। দীর্ঘ একশত বছরেরও বেশি সময় ধরে, কোনো ধরনের বাগ্বিতণ্ডা ছাড়াই একই আঙিনায় নামাজ ও পূজা-অর্চনা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। স্থানীয় হিন্দু এবং মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে ধর্মীয় সম্প্রীতির একটি অনন্য নিদর্শন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
প্রতি বছরের মতো, এবারও গোদাগাড়ী কেন্দ্রীয় মন্দির শ্রীমন্তপুরে (হাটপাড়া) জাঁকজমকপূর্ণভাবে শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপিত হচ্ছে। দুপুর সাড়ে ১২টায় জোহরের নামাজের আজান শুরু হলে, ঢাক-ঢোল ও কাঁসরের আওয়াজ থেমে যায়। প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের আজান ও জামায়াতের সময় পূজার যাবতীয় বাদ্যযন্ত্র ও শব্দযন্ত্র বন্ধ রাখা হয়। এভাবে বছরের পর বছর ধরে, দুটি ভিন্ন ধর্মের মানুষ নিজেদের ধর্মীয় আচার পালন করে আসছেন।
স্থানীয়দের মতে, আজানের শব্দ শুনে মুসল্লিরা মসজিদে নামাজ আদায় করতে যান, আর পাশের মন্দিরে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা প্রতিমা দর্শনে ভিড় করেন। দুটি কমিটির সদস্যরা একত্রে বসে উৎসব ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান আয়োজনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেন। মসজিদ ও মন্দির সংলগ্ন মাঠটি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পূজার কাজে ব্যবহৃত হয়, এবং মসজিদের মুসল্লিরাও সেখানে ওয়াজ মাহফিলের আয়োজন করেন।
মন্দির কমিটির সভাপতি শ্রী শান্ত কুমার মজুমদার (রাখু বাবু) জানান, এই মন্দির প্রায় একশত বছরের পুরোনো। একই স্থানে মসজিদ ও মন্দির থাকার পরেও, হিন্দু-মুসলমানরা একত্রে বসবাস করছেন। তাদের মধ্যে কখনো কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি, ইনশাআল্লাহ ভবিষ্যতেও ঘটবে না।
মসজিদের ইমাম এবং মহিশালবাড়ী শাহসুলতান (রহ.) কামিল মাদ্রাসার অধ্যাপক মাওলানা মো. দুরুল হোদা বলেন, জন্মের পর থেকেই তিনি একই আঙিনায় মসজিদ ও মন্দির দেখে আসছেন। ভেদাভেদ নেই, সবাই একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করেন। বিশৃঙ্খলা এড়াতে তারা সচেষ্ট থাকেন।
গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইসরাত জাহান জানান, বাংলাদেশ যে একটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ, তার উজ্জ্বল উদাহরণ হলো গোদাগাড়ীর এই মসজিদ ও মন্দির। সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপিত হচ্ছে।
গোদাগাড়ী মডেল থানার ওসি মো. সুজন মিয়া এবং পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর মাহাবুবুর রহমান বিপ্লব জানান, দীর্ঘ একশত বছর ধরে এখানে দুই ধর্মের মানুষ ভাই ভাই হিসেবে বসবাস করছেন। সম্প্রীতির এই সামাজিক বন্ধন পুরো দেশের জন্য একটি অনুকরণীয় বার্তা প্রদান করে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন