ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

প্রধানমন্ত্রীর দফতরে বিএমইউর ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব


প্রধানমন্ত্রীর দফতরে বিএমইউর ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব

বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ) দেশে ক্যানসার প্রতিরোধ ও চিকিৎসায় গবেষণা, আধুনিক প্রযুক্তি এবং বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবার সমন্বয় করার উদ্দেশ্যে একটি বিশেষায়িত ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দিয়েছে। এ বিষয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর দফতরে পাঠানো হয়েছে। একইসঙ্গে, ক্যানসার মোকাবিলায় হিউম্যান প্যাপিলোমাভাইরাস (এইচপিভি) টিকাদান, জরায়ুমুখ ও স্তন ক্যানসারের স্ক্রিনিং এবং প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তকরণ কার্যক্রম জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

রোববার (১৮ অক্টোবর) রাজধানীর শাহবাগে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ ডা. মিল্টন হলে একটি গোলটেবিল বৈঠকের সময় এসব প্রস্তাব ও সুপারিশ উপস্থাপন করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল অনকোলজি বিভাগের ২১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ‘অ্যাডভান্সিং ক্যান্সার এডুকেশন, রিসার্চ অ্যান্ড কেয়ার: বিএমইউ’স ভিশন অ্যান্ড লিডারশিপ’ শীর্ষক বৈঠকটি ক্লিনিক্যাল অনকোলজি বিভাগ ও বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএইচআরএফ) যৌথভাবে আয়োজন করে।

আরও পড়ুন: যাত্রাবাড়ীতে ছিনতাই সন্দেহে গণপিটুনিতে আহত যুবক নিশাত মিয়ার মৃত্যু

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএমইউ’র উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী উপস্থিত ছিলেন। চিকিৎসক, গবেষক, শিক্ষক, ওষুধশিল্পের প্রতিনিধি, চিকিৎসাপ্রযুক্তি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যমকর্মীরা এতে অংশগ্রহণ করেন।

বৈঠকে বক্তারা উল্লেখ করেন, ক্যানসার চিকিৎসার উন্নয়নে আধুনিক যন্ত্রপাতি ও অবকাঠামোর পাশাপাশি দক্ষ জনবল তৈরি, বৈজ্ঞানিক গবেষণা, ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল এবং সংশ্লিষ্ট বিশেষায়িত বিভাগগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের প্রয়োজন রয়েছে। বিএমইউতে একটি পূর্ণাঙ্গ ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা হলে চিকিৎসা, উচ্চতর শিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ বৃদ্ধি পাবে। নতুন চিকিৎসাপদ্ধতি উদ্ভাবন এবং আন্তর্জাতিক গবেষণা সহযোগিতার ক্ষেত্রও বিস্তৃত হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ে পূর্ণাঙ্গ ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে বক্তারা বলেন, এর মাধ্যমে ক্যানসার-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিভাগ ও বিশেষায়িত সেবার মধ্যে কার্যকর সমন্বয় গড়ে তোলা সম্ভব হবে। এতে ক্যানসার প্রতিরোধে উন্নত চিকিৎসা, স্নাতকোত্তর শিক্ষা, গবেষণা ও বৈজ্ঞানিক উদ্ভাবনের নতুন সুযোগ তৈরি হবে। বক্তারা বিএমইউকে ক্যানসার শিক্ষা, গবেষণা ও চিকিৎসাসেবার জাতীয় ও আন্তর্জাতিক উৎকর্ষকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

বৈঠকে অংশগ্রহণকারী বিশেষজ্ঞরা ক্যানসারের বোঝা কমাতে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা এবং প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তকরণকে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন। তারা তামাক নিয়ন্ত্রণ, এইচপিভি টিকাদান, জরায়ুমুখ ও স্তন ক্যানসারের স্ক্রিনিং এবং জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর জোর দেন।

আরও পড়ুন: গণভোটের রায় না মানলে তারেক রহমানের ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই: জুনায়েদ

বাংলাদেশে ক্যানসারের প্রকৃত চিত্র জানতে জনসংখ্যাভিত্তিক ক্যানসার নিবন্ধনব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তাও তুলে ধরা হয়। এ ধরনের ব্যবস্থা চালু হলে দেশে ক্যানসারে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা, রোগের ধরন ও বিস্তারের প্রবণতা সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যাবে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে জাতীয় পরিকল্পনা প্রণয়ন, গবেষণা এবং চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণ সহজ হবে।

বৈঠকে বিএমইউ’র ক্লিনিক্যাল অনকোলজি বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা ও বর্তমান চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মো. আকরাম হোসেন বিভাগের অগ্রগতি, অর্জন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে সায়েন্টিফিক প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন।

২০০৫ সালের ১৯ অক্টোবর প্রতিষ্ঠিত বিএমইউর ক্লিনিক্যাল অনকোলজি বিভাগ গত ২১ বছরে ক্যানসার চিকিৎসা, স্নাতকোত্তর শিক্ষা, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক তৈরি ও গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বিভাগটিতে রেডিওথেরাপি, কেমোথেরাপি, ইমিউনোথেরাপি ও টার্গেটেড থেরাপিসহ বিভিন্ন আধুনিক ক্যান্সার চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি স্নাতকোত্তর শিক্ষা, মাল্টিডিসিপ্লিনারি টিউমার বোর্ড, চিকিৎসা পরিকল্পনা, বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও আন্তর্জাতিক একাডেমিক সহযোগিতার কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

আরও পড়ুন: বিয়ের ১৫ দিনের মাথায় সড়কে প্রাণ গেল ইতালি প্রবাসী তানভীরের

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঢাকা রেসিডেনসিয়ালে ২৩ দেশের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে সফল ডিআরএমসি বিজনেস সামিট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৩৪ এম


ঢাকা রেসিডেনসিয়ালে ২৩ দেশের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে সফল ডিআরএমসি বিজনেস সামিট

ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজে তৃতীয় ডিআরএমসি ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস সামিট অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই তিন দিনের আয়োজনে ২৩টি দেশের ১৯০টি স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছেন।

রোববার (১৮ অক্টোবর) ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজে অনুষ্ঠিত সামিটের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিকেএমইএ'র ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং ওল্ড রেমিয়ানস্ ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ফকির কামরুজ্জামান নাহিদ।

এই তিন দিনের সামিটে বিভিন্ন কলেজের উপাধ্যক্ষ ও ক্লাবসমূহের সমন্বয়ক সহযোগী অধ্যাপক মো. জাহেদুল হক, সহযোগী অধ্যাপক ও সামিটের আহ্বায়ক মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন মৃধা, ডিআরএমসি বিজনেস অ্যান্ড ক্যারিয়ার ক্লাবের মডারেটর সহকারী অধ্যাপক জাফর ইকবালসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্র ও শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।

আয়োজকরা জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের ব্যবসায়িক জ্ঞান ও পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি আত্মবিশ্বাসী, দক্ষ ও যোগ্য ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব হিসেবে গড়ে তুলতে এই বিজনেস সামিটের আয়োজন করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজে পাকিস্তানের শুভসূচনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৩৫ এম


শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজে পাকিস্তানের শুভসূচনা

ত্রিদেশীয় সিরিজের উদ্বোধনী ম্যাচে পাকিস্তান শুভ সূচনা করেছে। রোববার (১৮ অক্টোবর) রাওয়ালপিন্ডিতে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে ৩৭ রানে পরাজিত করেছে পাকিস্তান। ৩০৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শ্রীলঙ্কা ৪৮.১ ওভারে ২৬৮ রানে অলআউট হয়ে যায়। অধিনায়ক শাহিন শাহ আফ্রিদির নেতৃত্বে পাকিস্তানের বোলাররা অসাধারণ পারফরম্যান্স প্রদর্শন করেন। ম্যাচে জয়ের ভিত্তি স্থাপন করেন সালমান আলী আগা, যিনি ব্যাটিংয়ে সেঞ্চুরি করেন।

শ্রীলঙ্কার ইনিংসের শুরুতে দুই ওপেনার কামিন্দু মেন্ডিস ও আভিষ্কা ফার্নান্দো ভালো শুরু করার চেষ্টা করেন। তাঁদের মধ্যে ৩০ রানের একটি জুটি গড়ে ওঠে। কিন্তু ষষ্ঠ ওভারে নাসিম শাহ আভিষ্কাকে ফিরিয়ে দিলে সেই জুটি ভেঙে যায়। তিনি ৯ বল খেলে ৫ রান করেন।

এরপর অধিনায়ক কুশল মেন্ডিস কামিন্দুর সঙ্গে যোগ দেন। দুজনের ব্যাটিংয়ে শ্রীলঙ্কা ৫০ রানের গণ্ডি অতিক্রম করে। তবে ১৩.৫ ওভারে ফাহিম আশরাফের বলে কুশল আউট হলে ৩৬ রানের জুটি ভেঙে যায়। কুশল ৩৪ বলে দুটি চারের সাহায্যে ১৮ রান করেন। তখন শ্রীলঙ্কার সংগ্রহ ২ উইকেটে ৬৬ রান।

কামিন্দু অর্ধশতকের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু ছয় রান দূরে থাকতে শাহিনের শিকার হন। তিনি ৫০ বলে ৪টি চারে ৪৪ রান করেন। ২০তম ওভারে শাহিন আবারও আঘাত হানেন, এবার তিন রানে সাজঘরে ফেরান সাহান আরাচ্চিগেকে। ১৯.৩ ওভারে ৯১ রানে চতুর্থ উইকেট হারিয়ে শ্রীলঙ্কা বিপদে পড়ে।

পাভান রত্নায়েকে ও জনিথ লিয়ানাগে মিলে ইনিংস সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। তারা দারুণ ব্যাটিং করে দলকে ১৫০ রানের গণ্ডি অতিক্রম করান। রত্নায়েকে নিজের প্রথম ওয়ানডে অর্ধশতকও তুলে নেন। তারা পাকিস্তানের বোলারদের ভোগাতে থাকেন।

পঞ্চম উইকেটে শতরানের জুটি গড়ে শ্রীলঙ্কাকে ২০০ রানের ঘরে নিয়ে যান রত্নায়েকে ও লিয়ানাগে। তাদের ব্যাটিংয়ে সফরকারীদের ম্যাচে ফেরার আশা জাগে। তবে শেষ পর্যন্ত ১১৯ রানের এই জুটি ভাঙেন ফাহিম আশরাফ। রত্নায়েকে ৭৪ বলে ছয়টি চার ও দুটি ছক্কায় ৭৯ রান করে বিদায় নেন।

লিয়ানাগে রান তোলা অব্যাহত রাখেন। দাসুন শানাকাও আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে রানের গতি বাড়ান। শ্রীলঙ্কার রান আড়াইশ ছাড়ানোর পথে লিয়ানাগে নিজের ওয়ানডে ক্যারিয়ারের অষ্টম অর্ধশতক তুলে নেন।

হারিস রউফ ৪৩ রানের একটি গুরুত্বপূর্ণ জুটি ভাঙেন। ৪৩.৪ ওভারে লিয়ানাগেকে ফিরিয়ে দেন তিনি। লিয়ানাগে ৭৪ বলে ৫টি চারের সাহায্যে ৬০ রান করেন। তখন শ্রীলঙ্কার সংগ্রহ ৬ উইকেটে ২৫৩ রান।

শাহিন আবারও উইকেটের দেখা পান। ১৮ বলে ৩টি চার ও ১টি ছক্কায় ২৮ রান করা শানাকাকে ফিরিয়ে শ্রীলঙ্কার জয়ের আশা আরও কঠিন করে দেন তিনি। সফরকারীরা নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে। নাসিম শাহ সচিন্দু কলম্বাগেকে ফিরিয়ে দেন।

এরপর ব্যাটারদের ভুল বোঝাবুঝিতে রানআউট হন ঈশান মালিঙ্গা। তার বিদায়ে শ্রীলঙ্কার নবম উইকেটের পতন ঘটে। শেষ পর্যন্ত হারিস রউফ আসিথা ফার্নান্দোকে ফিরিয়ে শ্রীলঙ্কার ইনিংসের ইতি টানেন। আসিথা ১০ বলে সাত রান করেন।

পাকিস্তানের হয়ে অধিনায়ক শাহিন আফ্রিদি ১০ ওভারে ৫৫ রান দিয়ে তিনটি উইকেট নেন। নাসিম শাহ, হারিস রউফ ও ফাহিম আশরাফ দুটি করে উইকেট শিকার করেন।

পাকিস্তান টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ইতিবাচক শুরু করে। দুই ওপেনার ফখর জামান ও সাইম আইয়ুব নিয়মিত বাউন্ডারি মেরে দলকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন।

তবে চতুর্থ ওভারে দিলশান মাদুশঙ্কার বলে আউট হন সাইম। তিনি ৮ বলে একটি ছক্কায় ৭ রান করেন। ষষ্ঠ ওভারে মাদুশঙ্কা আবারও আঘাত হানেন। ১৯ বলে ২টি চার ও ১টি ছক্কায় ১৬ রান করা ফখরকে ফিরিয়ে দেন। ৫.৫ ওভারে ৩২ রানে দুই উইকেট হারিয়ে পাকিস্তান চাপে পড়ে।

এরপর বাবর আজমের সঙ্গে ক্রিজে যোগ দেন অভিষিক্ত সাদ বেগ। দুজন মিলে তৃতীয় উইকেটে গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে পাকিস্তানের ইনিংস সামাল দেন। তারা শ্রীলঙ্কার বোলারদের সামলে দলকে ১০০ রানের ঘরে নিয়ে যান।

১৯.৪ ওভারে ৭৪ রানের জুটি ভাঙেন ঈশান মালিঙ্গা। ৫৭ বলে ৬টি বাউন্ডারিতে ৪৫ রান করা বাবরকে ফিরিয়ে দেন তিনি। তখন পাকিস্তানের সংগ্রহ ৩ উইকেটে ১০৬ রান।

এর ঠিক এক ওভার পর মালিঙ্গা আবারও উইকেট নেন। এবার উইকেটরক্ষক ব্যাটার সাদ বেগকে ফিরিয়ে দেন। অভিষেক ম্যাচে ৪০ বলে ৩টি চার ও ২টি ছক্কায় ৩৯ রান করেন সাদ।

হাসান নওয়াজ ও সালমান আগা মিলে পাকিস্তানের ইনিংস এগিয়ে নেন। পঞ্চম উইকেটে তাঁদের গুরুত্বপূর্ণ জুটি রানের গতি বাড়ায় এবং ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পাকিস্তানের দিকে নিয়ে আসে।

এই জুটিতে সালমান নিজের ওয়ানডে ক্যারিয়ারের দশম অর্ধশতক তুলে নেন। দুজন মিলে ৫০ রানের বেশি যোগ করে পাকিস্তানকে ২০০ রানের গণ্ডি পার করান।

৩৭.২ ওভারে ৯৭ রানের জুটি ভাঙেন আসিথা ফার্নান্দো। ৪৯ বলে ২টি চার ও ২টি ছক্কায় ৩৭ রান করা হাসান নওয়াজকে ফিরিয়ে দেন তিনি। তখন পাকিস্তানের সংগ্রহ ৫ উইকেটে ২১৫ রান।

দুর্দান্ত ব্যাটিং অব্যাহত রাখেন সালমান। আরাফাত মিনহাসকে সঙ্গে নিয়ে ষষ্ঠ উইকেটে ৫০ রানের জুটি গড়েন। তাদের ব্যাটে আড়াইশ রান পেরিয়ে যায় পাকিস্তান। একপর্যায়ে সালমান নিজের ওয়ানডে ক্যারিয়ারের চতুর্থ শতকও তুলে নেন।

৪৫তম ওভারে ৬৪ রানের জুটি ভাঙেন ফার্নান্দো। ১৫ বলে ২টি বাউন্ডারিতে ১৮ রান করা আরাফাতকে ফিরিয়ে দেন তিনি। তখন পাকিস্তানের সংগ্রহ ৬ উইকেটে ২৭৯ রান।

দুর্দান্ত ফর্মে থাকা সালমানকেও ফেরান ফার্নান্দো। পাকিস্তানের পক্ষে ইনিংসের সর্বোচ্চ রান করা এই ব্যাটার ৯০ বলে ১০টি চার ও একটি ছক্কায় ১০৭ রানের অসাধারণ ইনিংস খেলেন।

ঈশান মালিঙ্গার বলে আউট হন ফাহিম আশরাফ। তিনি এক বল খেলে ছয় রান করেন। নিজের পরের বলেই নাসিম শাহকে শূন্য রানে ফিরিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা তৈরি করেন মালিঙ্গা। তবে পরের বলটি স্টাম্পের পাশ দিয়ে চলে গেলে হ্যাটট্রিক থেকে বেঁচে যান হারিস রউফ। এলবিডব্লিউর আবেদন করেও সফল হয়নি শ্রীলঙ্কা।

শেষ দিকে অধিনায়ক শাহিন আফ্রিদির গুরুত্বপূর্ণ অবদানে পাকিস্তানের রান ৩০০ ছাড়িয়ে যায়। ইনিংসের শেষ ওভারে পাঁচ রান দেন মালিঙ্গা। শাহিন ১২ বলে ১৩ রান করে অপরাজিত থাকেন, আর হারিস রউফ রানআউট হন।

শ্রীলঙ্কার হয়ে ঈশান মালিঙ্গা ৯.৫ ওভারে ৪৬ রান দিয়ে চারটি উইকেট নেন। আসিথা ফার্নান্দো তিনটি এবং দিলশান মাদুশঙ্কা দুটি উইকেট শিকার করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আমিনী: আইন অনুযায়ী আমি অপরাধী, তবে অনুতপ্ত নই

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৪৭ এম


আমিনী: আইন অনুযায়ী আমি অপরাধী, তবে অনুতপ্ত নই

সাতক্ষীরার দেবহাটায় ওয়াহিদুজ্জামান শামীমকে (৩৮) পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামি ফজলুল হক আমিনী বলেছেন, "আইনের দৃষ্টিতে আমি অপরাধী, তবে অনুতপ্ত নই।" তিনি দাবি করেছেন, শামীমকে নাস্তিক বলে ধারণা করেছিলেন এবং তার হত্যার উদ্দেশ্য ছিল না; ঘটনাটি দুর্ঘটনাবশত ঘটেছে।

গ্রেফতারের পর কালীগঞ্জ উপজেলা থেকে পুলিশ আমিনীকে রোববার (১৮ অক্টোবর) বিকাল ৪টার দিকে সাতক্ষীরার আদালতে পাঠায়।

আমিনী বলেন, "বিভিন্ন দেশ থেকে নাস্তিকেরা যেভাবে মোবাইল করে থ্রেট দিয়েছে, তাতে নিশ্চিত হয়েছি সে নাস্তিক ছিল।" তিনি আরও বলেন, পিটিয়ে হত্যার উদ্দেশ্য ছিল না, এটি দুর্ঘটনাবশত হয়ে গেছে। তিনি উল্লেখ করেন, "যে কাজটি করেছি, সেটি আল্লাহ পাক ফয়সালা করবেন।"

আইনের দৃষ্টিতে নিজেকে অপরাধী মনে করেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে আমিনী আবারও বলেন, "আইনের দৃষ্টিতে আমি অপরাধী, তবে অনুতপ্ত নই।"

দেবহাটা থানার ওসি এইচ এম শাহীন জানিয়েছেন, ফজলুল হক আমিনী পুলিশের কাছে শামীমকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেবেন বলেও জানিয়েছেন। এ কারণে পুলিশ তাকে রিমান্ডে নেওয়ার প্রয়োজন মনে করেনি। আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এর আগে গত মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ইসলাম ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে দেবহাটায় ওয়াহিদুজ্জামান শামীমকে দুই দফায় গণপিটুনি দেওয়া হয়। পরে তার মৃত্যু ঘটে। এ ঘটনায় ফজলুল হক আমিনীর নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

শামীমের পরিবারের করা হত্যা মামলায় এ পর্যন্ত এজাহারভুক্ত তিন আসামিকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রধানমন্ত্রী: দেশ গড়ার সংগ্রামে ধর্ম নয়, নাগরিক পরিচয়ই মুখ্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৪৮ এম


প্রধানমন্ত্রী: দেশ গড়ার সংগ্রামে ধর্ম নয়, নাগরিক পরিচয়ই মুখ্য

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, মহান মুক্তিযুদ্ধ, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের মানুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সংগ্রাম করেছে। একইভাবে আগামী দিনে দেশ গড়ার সংগ্রামেও ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

রবিবার (১৮ অক্টোবর) রাতে রাজধানীর মহাখালী এবং গুলশান-বনানী পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী তার সঙ্গে ছিলেন তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম মিল্টনও উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘১৯৭১ সালে আমরা যুদ্ধ করে এই দেশকে স্বাধীন করেছিলাম। যুদ্ধের ময়দানে আমরা দেখিনি কে কোন ধর্মের মানুষ। মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান—যারা এই দেশকে ভালোবাসেন, সবাই মিলে দেশকে স্বাধীন করেছেন।’

তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্র হুমকির মুখে পড়লে জনগণ ভোটাধিকার ও কথা বলার অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য রাজপথে নেমেছে। সেসব আন্দোলনেও ধর্মীয় পরিচয় কোনো বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি।

২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সেদিনও দলমত নির্বিশেষে নারী-পুরুষ, সব শ্রেণি-পেশার মানুষ রাজপথে নেমেছিল। আমরা দেখিনি কে কোন ধর্মের মানুষ। সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে গণ-অভ্যুত্থানকে সফল করেছিল।’

দেশ গড়ার সংগ্রামে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘দেশকে স্বাধীন করার জন্য, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য আমরা যেমন ধর্ম দেখিনি, জাত দেখিনি, ঠিক একইভাবে আগামী দিনে দেশ গড়ার সংগ্রামেও আমরা ধর্ম দেখব না। আমরা দেখব কে এই দেশের নাগরিক।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের কাছে সবচেয়ে বড় পরিচয়, আমরা সবাই বাংলাদেশের মানুষ। এই দেশের ওপর আপনার যেমন অধিকার আছে, আমারও তেমন অধিকার আছে। সেই অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হলে প্রতিটি ধর্ম ও পেশার মানুষকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশ গড়ে তুলতে হবে।’

তিনি বলেন, হাজার বছরের ইতিহাস ও ঐতিহ্য হচ্ছে, এ দেশে সব ধর্মের মানুষ শান্তিতে বসবাস করেছে। আগামী হাজার বছরও যাতে সব ধর্মের মানুষ একসঙ্গে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করতে পারে, সেটিই সবার প্রত্যাশা হওয়া উচিত।

রাতে প্রথমে প্রধানমন্ত্রী মহাখালী রক্ষাকালী মন্দিরে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে যান। সেখান পূজা উদ্‌যাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। পরে তিনি বনানীর পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন এবং সেখানে উপস্থিত পূজারি ও দর্শনার্থীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%