০১:৪৮ এম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, মহান মুক্তিযুদ্ধ, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের মানুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সংগ্রাম করেছে। একইভাবে আগামী দিনে দেশ গড়ার সংগ্রামেও ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
রবিবার (১৮ অক্টোবর) রাতে রাজধানীর মহাখালী এবং গুলশান-বনানী পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী তার সঙ্গে ছিলেন তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম মিল্টনও উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন: তারেক রহমান: জামায়াত-এনসিপি আমার রাষ্ট্রীয় সম্মান সহ্য করতে পারছে না
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘১৯৭১ সালে আমরা যুদ্ধ করে এই দেশকে স্বাধীন করেছিলাম। যুদ্ধের ময়দানে আমরা দেখিনি কে কোন ধর্মের মানুষ। মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান—যারা এই দেশকে ভালোবাসেন, সবাই মিলে দেশকে স্বাধীন করেছেন।’
তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্র হুমকির মুখে পড়লে জনগণ ভোটাধিকার ও কথা বলার অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য রাজপথে নেমেছে। সেসব আন্দোলনেও ধর্মীয় পরিচয় কোনো বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি।
২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সেদিনও দলমত নির্বিশেষে নারী-পুরুষ, সব শ্রেণি-পেশার মানুষ রাজপথে নেমেছিল। আমরা দেখিনি কে কোন ধর্মের মানুষ। সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে গণ-অভ্যুত্থানকে সফল করেছিল।’
দেশ গড়ার সংগ্রামে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘দেশকে স্বাধীন করার জন্য, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য আমরা যেমন ধর্ম দেখিনি, জাত দেখিনি, ঠিক একইভাবে আগামী দিনে দেশ গড়ার সংগ্রামেও আমরা ধর্ম দেখব না। আমরা দেখব কে এই দেশের নাগরিক।’
আরও পড়ুন: আদাবরে যুবদল নেতাকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে জখম
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের কাছে সবচেয়ে বড় পরিচয়, আমরা সবাই বাংলাদেশের মানুষ। এই দেশের ওপর আপনার যেমন অধিকার আছে, আমারও তেমন অধিকার আছে। সেই অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হলে প্রতিটি ধর্ম ও পেশার মানুষকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশ গড়ে তুলতে হবে।’
তিনি বলেন, হাজার বছরের ইতিহাস ও ঐতিহ্য হচ্ছে, এ দেশে সব ধর্মের মানুষ শান্তিতে বসবাস করেছে। আগামী হাজার বছরও যাতে সব ধর্মের মানুষ একসঙ্গে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করতে পারে, সেটিই সবার প্রত্যাশা হওয়া উচিত।
রাতে প্রথমে প্রধানমন্ত্রী মহাখালী রক্ষাকালী মন্দিরে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে যান। সেখান পূজা উদ্যাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। পরে তিনি বনানীর পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন এবং সেখানে উপস্থিত পূজারি ও দর্শনার্থীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
আরও পড়ুন: নিম্নতম মজুরি বোর্ড অচিরেই গঠন হবে: শ্রমমন্ত্রী
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন