০৮:৪৩ পি.এম
মাদারীপুর সদরের চরমুগরিয়া বন্দর এলাকায় পূর্ব শত্রুতা ও জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক অদ্ভুত ও চাঞ্চল্যকর ঘটনাকে কেন্দ্র করে একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রতিবেশীর ঘরে লাগা আগুন নেভাতে গিয়ে উল্টো সেই আগুনের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আসামি হয়েছেন এক ব্যবসায়ী, তার ভাই ও সন্তান এবং জেলহাজতে যেতে হয়েছে একজন যুবককে। বুধবার (১ লা জুলাই) দুপুরে এমন তথ্য জানিয়েছেন চরমুগুরিয়া বন্দর এলাকার ভূক্তভোগী ইদ্রিস মোল্লার পরিবারের সদস্যরা।
ঘটনার বিবরণ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ জুন রাতে চরমুগরিয়া বাজারের বাসিন্দা আঃ জলিল মোল্লার একটি টিনের ঘরে হঠাৎ আগুন লাগে। উল্লেখ্য, ঘরটি ভাড়া নিয়ে বসবাস করতেন রেন্টু মিয়া নামের এক ব্যক্তি। অগ্নিকাণ্ডের সময় রেন্টু বা তার পরিবারের কেউ তখন ঘরে উপস্থিত ছিলেন না এবং ঘরটি তালাবদ্ধ ছিল। আঃ জলিল মোল্লার এই টিনের ঘরটির ঠিক পাশে অবস্থিত স্থানীয় ব্যবসায়ী ইদ্রিস মোল্লার একটি বহুতল ফ্ল্যাট বিল্ডিং।
সন্ধ্যা আনুমানিক সাড়ে ৭ টার দিকে যখন হঠাৎ ঘরটিতে আগুন জ্বলে ওঠে, তখন ইদ্রিস মোল্লা, তার ভাই রফিক মোল্লা, ছেলে আরিফ মোল্লাসহ পরিবারের সদস্যরা এবং আশেপাশের প্রতিবেশীরা দ্রুত আগুন নেভানোর কাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন। ঠিক একই সময়ে ইদ্রিস মোল্লার পুত্রবধূ ফায়ার সার্ভিসকে মোবাইলফোনে খবর দেন। পরবর্তীতে মাদারীপুর ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ও স্থানীয়দের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে এবং তা অন্যান্য বিল্ডিং বা টিনের ঘরগুলোতে ছড়াতে পারেনি। তবে তার আগেই টিনের ঘরটি ও ভেতরের মালামাল পুড়ে সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়েছিল এবং এতে কোনো হতাহতের ঘটনাও ঘটেনি।
আরও পড়ুন: শেরপুরে বাস-সিএনজির সংঘর্ষে জুয়েল মিয়া নিহত, আহত ৪
মাদারীপুর ফায়ার সার্ভিসের গ্রুপ লিডার অ্যালেক্স রোজারিও এ বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন, প্রাথমিক ধারণামতে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই এই আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল। তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি ভিন্ন মোড় নেয়। ঘরের মালিক আঃ জলিল মোল্লা বাদী হয়ে প্রতিবেশী ইদ্রিস মোল্লা, তার ভাই রফিক মোল্লা ও ছেলে আরিফ মোল্লাকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। এই মামলায় ইদ্রিস মোল্লার ছেলে আরিফ মোল্লা ইতিমধ্যে জেলহাজতে রয়েছেন। ঘটনার কারণে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।
সরেজমিনে তদন্তে গেলে প্রত্যক্ষদর্শী প্রতিবেশী আঃ কাইয়ুম শেখের স্ত্রী সেলিনা আক্তার জানান, ঘরটি তালাবদ্ধ ছিল, তাই কীভাবে আগুন লেগেছে তা নিশ্চিত বলা সম্ভব নয়। তবে আগুন লাগার পর সবার আগে ইদ্রিস মোল্লা ও তার পরিবারের সদস্যরাই আগুন নেভাতে এগিয়ে আসেন। ইদ্রিস মোল্লার পুত্রবধূ নিজে ফায়ার সার্ভিসকে ফোন করেন এবং আগুন নেভাতে গিয়ে আহতও হন। অথচ জমিজমা সংক্রান্ত পূর্ব শত্রুতার কারণে আজ তাদেরই মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হলো। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত। আরেক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, ইদ্রিস মোল্লারা যদি সেদিন অতিদ্রুত সবাইকে নিয়ে আগুন নেভানোর কাজে ঝাঁপিয়ে না পড়তেন, তবে ফায়ার সার্ভিস আসার আগেই পুরো এলাকায় আগুন ছড়িয়ে পড়তে পারতো। তাছাড়া আগুন ছড়িয়ে পড়লে সবার আগে ক্ষতি হতো ইদ্রিস মোল্লার নিজের বহুতল ভবনের। নিজের ভবনের পাশে কেউ নিজে আগুন লাগাবে—এটা পাগলেও বিশ্বাস করবে না। মামলায় ফেঁসে যাওয়া ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, এই মামলাটি সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলা। এই হয়রানিমূলক মামলার কবল থেকে মুক্তি পেতে এবং ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করার জন্য প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সংবাদকর্মীদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সচেতন মহল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন