প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সিনিয়র আইনজীবী এবং বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা সুব্রত চৌধুরী বলেছেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে সবাই জিম্মি ছিল। তিনি বলেন, ইউনূসের আঠারো মাসের শাসনে আমরা সবাই জিম্মি হয়ে গিয়েছিলাম।
তিনি উল্লেখ করেন, ওই সময়ের মধ্যে শুধু সংখ্যালঘু সম্প্রদাইকেই নয়, বরং মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপরেও হামলার ঘটনা ঘটেছে।
শুক্রবার (৩ জুলাই) দুপুরে, ফেনীর জয়কালী মন্দিরে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ ফেনী শাখার আয়োজনে দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এই বিষয়গুলো তুলে ধরেন।
সুব্রত চৌধুরী আরো বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় মানুষ স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেনি। ঘরবাড়িতে আগুন লাগানো হয়েছে এবং মিথ্যা মামলায় হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। সে সময় বাউলদের বিরুদ্ধে হামলা, সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ও মাজারগুলোতে হামলার মতো ঘটনারও উল্লেখ করেন তিনি।
শিক্ষক, নারী এবং মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানহানি করা হয়েছে, যা ইতিহাসের একটি অংশ হয়ে আছে। এমনকি আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রদেরও সে সময় বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হয়েছে। তিনি বললেন যে, যদি তার শাসন দীর্ঘায়িত হতো, তবে দেশটি পাকিস্তানি ভাবধারায় পরিচালিত হতো।
বর্তমান বিএনপি সরকারের উদ্দেশ্যে সিনিয়র এই আইনজীবী বলেন, ফ্যামিলি কার্ডসহ সামাজিক নিরাপত্তা খাতের বৈষম্য দূর করতে হবে এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে সমানভাবে গুরুত্ব দিতে হবে।
সাম্প্রতিক সময়ে প্রশাসনে ডিসি, এসপিসহ গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ হলেও সেখানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কাউকে রাখা হয়নি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন। সুব্রত চৌধুরী বলেন, আমরা কি এরপর আবার সেই ইউনূস সরকারের শাসনামলে চলে যাচ্ছি?
ফেনী জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হীরালাল চক্রবর্তীর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক অনিল নাথের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দৈনিক কালবেলা সম্পাদক ও পূজা উদযাপন পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মা। এছাড়াও অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রেখেছেন ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক জয়নাল আবেদীন এবং ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য মুন্সি রফিকুল আলম মজনু।
অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় পূজা উদযাপন পরিষদের সহ-সভাপতি ডি এন চ্যাটার্জী, ড. চন্দ্রনাথ পোদ্দার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রবীন্দ্রনাথ বসু, সাংগঠনিক সম্পাদক কিশোর কুমার বসু রায় চৌধুরী, উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট প্রিয় রঞ্জন দত্ত, ফেনী জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আলাল উদ্দিন আলাল, যুগ্ম আহ্বায়ক এয়াকুব নবী, সদর উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আমান উদ্দিন কায়সার সাব্বির, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ছালাহ উদ্দিন মামুন এবং জেলা উপজেলার পূজা উদযাপন কমিটির স্থানীয় নেতারা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন