০৭:০৮ পি.এম
ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার ভাষাণচর ইউনিয়নের কারীর হাট দাখিল মাদ্রাসা গত ২২ দিন ধরে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে আছে। এই কারণে প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থী চরম ভোগান্তির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বিদ্যুৎ সংযোগের অভাবে এখানে পাঠদান, অফিস কার্যক্রম এবং শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন শিক্ষা কার্যক্রম বিঘ্নিত হচ্ছে।
মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ অভিযোগ করেছেন যে, স্থানীয় নুরা শেখের বাড়ির ওপর দিয়ে মাদ্রাসার বিদ্যুৎ লাইন নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু প্রায় ২২ দিন আগে বিদ্যুৎ সংযোগটি পুড়ে যায়। পুনরায় বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার চেষ্টা করা হলে তারা বাধা দেয়। এরপর থেকে প্রতিষ্ঠানটিতে বিদ্যুৎ নেই।
মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, বারবার চেষ্টা করার পরও সমস্যা সমাধান করা সম্ভব হয়নি। এতে শুধু শিক্ষার্থীরাই নয়, শিক্ষক ও কর্মচারীরাও নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। বিশেষ করে প্রচণ্ড গরমের সময় শ্রেণিকক্ষে পাঠদান চালিয়ে নেয়া অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে পড়েছে।
আরও পড়ুন: নওগাঁয়ে ঘরে মাটির নিচে ২৪৫ কেজির কষ্টিপাথরের শিবলিঙ্গ উদ্ধার, আটক ১
স্থানীয়রা মন্তব্য করেছেন যে, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে রাখা অত্যন্ত দুঃখজনক। তারা দ্রুত সমস্যার সমাধান করে মাদ্রাসায় বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপনের দাবি জানিয়েছেন।
কারীর হাট দাখিল মাদ্রাসার সুপার মো. এবিএম রাইসুদ্দিন বলেছেন, গত ২২ দিন ধরে প্রতিষ্ঠানটি বিদ্যুৎহীন অবস্থায় রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বারবার যোগাযোগ করেও বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপন করা সম্ভব হয়নি। এর ফলস্বরূপ প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থীর পাঠদান বিঘ্নিত হচ্ছে। শিক্ষক-কর্মচারীরাও নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। প্রচণ্ড গরমে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান পরিচালনা করা অনেক কষ্টকর হয়ে পড়েছে। তিনি আবেদন করেছেন দ্রুত সমস্যার সমাধান করে মাদ্রাসায় বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছিলেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত নুরা শেখের স্ত্রীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সদরপুর উপজেলা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সহকারী জেনারেল ম্যানেজার (এজিএম) মো. শহিদুল ইসলাম বলেছেন, ‘প্রতিষ্ঠানটির বিদ্যুৎ সংযোগ পুড়ে যাওয়ার পর নতুনভাবে সংযোগ স্থাপনের জন্য প্রয়োজন হয় স্থানীয় বাড়ির ওপর দিয়ে লাইন নেওয়ার। কিন্তু বাড়ির লোকজন তাদের বাড়ির ওপর দিয়ে বিদ্যুৎ লাইন নিতে দেয়নি। তবে এই বিষয়ে সমাধানের চেষ্টা চলছে।’
এ বিষয়ে সদরপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মোফাজ্জল হোসেন বলেছেন, ‘এ বিষয়ে আমি অবগত হয়েছি। মাদ্রাসাটিতে পুনরায় বিদ্যুৎ সংযোগ স্থাপনের জন্য পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।’ সদরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শরীফ শাওন বলেছেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত সমস্যার সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’ মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ও অভিভাবকরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছেন, যেন শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম দ্রুত শুরু করা সম্ভব হয়।
আরও পড়ুন: দিনাজপুর বোর্ডের ১ কোটি ২৬ লাখ টাকার দুর্নীতির তদন্তের নির্দেশ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন