ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

চীন-পাকিস্তান সীমান্তে শক্তি বাড়াতে শতাধিক রাফাল কিনছে ভারত


চীন-পাকিস্তান সীমান্তে শক্তি বাড়াতে শতাধিক রাফাল কিনছে ভারত

ভারতীয় বিমানবাহিনীর ইতিহাসে অন্যতম বৃহত্তম যুদ্ধবিমান ক্রয়ের প্রক্রিয়া গতি পেয়ে শুরু করেছে। ফ্রান্সের কাছ থেকে আরও ১১৪টি সর্বাধুনিক রাফাল যুদ্ধবিমান কেনার প্রস্তুতি নিচ্ছে ভারত। এই কূটনৈতিক এবং সামরিক তৎপরতার অংশ হিসেবে চার দিনের সরকারি সফরে বর্তমানে ফ্রান্সে অবস্থান করছেন ভারতীয় বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল অমর প্রীত সিং।

সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, তার এই সফর কেবল প্রথাগত সৌজন্যমূলক নয়, বরং এই মেগা চুক্তির বাস্তবায়নকে দ্রুততর করার উদ্দেশ্যে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ভারত ইতোমধ্যে এই যুদ্ধবিমান কেনার আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব ফ্রান্সের কাছে পাঠিয়েছে। আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে ফ্রান্স মূল্য নির্ধারণ, উৎপাদন সক্ষমতা এবং রসদ সহায়তার বিশদ বিবরণসহ ফিরতি জবাব দেবে বলে আশা করা হচ্ছে। এরপরই শুরু হবে দুই দেশের মধ্যে আনুষ্ঠানিক আলোচনা, যা আগামী এক বছরের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তিতে রূপ নিতে পারে।

ফ্রান্স সফরে বিমানবাহিনী প্রধান রাফালের নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘ডাসো অ্যাভিয়েশন’ এবং মেটিওর ও স্কাল্পের মতো উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র প্রস্তুতকারী সংস্থা ‘এমবিডিএ’-এর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসবেন। এই আলোচনায় বিমান কেনা ছাড়াও ভারতে এর উৎপাদন, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা এবং ভারতীয় অস্ত্র ব্যবস্থার সমন্বয়ের বিষয়গুলোও প্রাধান্য পাবে। একইসঙ্গে জুনের মাঝামাঝি সময়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিরও ফ্রান্স সফরের সম্ভাবনা রয়েছে। যেহেতু পুরো চুক্তিটি দুই দেশের সরকারের মধ্যে সরাসরি বা ‘গভর্নমেন্ট-টু-গভর্নমেন্ট’ মডেলে এগোচ্ছে, তাই শীর্ষ নেতৃত্বের এই সফর চুক্তিটিকে চূড়ান্ত রূপ দিতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

আরও পড়ুন: ৩ নভেম্বর ঢাকায় আসছেন সিপিসি আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইশিং

বর্তমানে ভারতীয় বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমানের ঘাটতি মেটাতে এই চুক্তিটি অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। বিমানবাহিনীর অনুমোদিত ৪২টি স্কোয়াড্রনের বিপরীতে এখন মাত্র ২৯টি স্কোয়াড্রন সচল রয়েছে, বিশেষ করে পুরোনো মিগ-২১ যুদ্ধবিমানগুলো অবসরে যাওয়ার কারণে এই শূন্যতা আরও বেড়েছে। এই ঘাটতি পূরণে ১১৪টি মাল্টিরোল ফাইটার জেট কেনার পরিকল্পনা করা হয়েছে, যেখানে রাফালকেই সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিযোগী মনে করা হচ্ছে। কারণ, ভারতীয় বিমানবাহিনী ইতোমধ্যেই সফলভাবে ৩৬টি রাফাল বিমান পরিচালনা করছে, যা আম্বালা ও হাসিমারা বিমানঘাঁটিতে মোতায়েন রয়েছে। পূর্বপরিচিত প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষিত পাইলট থাকায় নতুন বিমানগুলো বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করা তুলনামূলকভাবে সহজ হবে।

এই প্রস্তাবিত চুক্তির সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ ও ‘আত্মনির্ভর ভারত’ নীতির প্রতিফলন। ১১৪টি বিমানের মধ্যে মাত্র ২০টি সরাসরি ফ্রান্স থেকে তৈরি হয়ে আসবে, আর বাকি ৯৪টি যুদ্ধবিমান ভারতেই তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর জন্য ডাসো অ্যাভিয়েশন কোনো ভারতীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথ অংশীদারিত্বে যাবে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এই প্রকল্পে অন্তত ৫০ শতাংশ স্থানীয়করণের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে, যার অর্থ বিমানের অনেক যন্ত্রাংশ ও অস্ত্র তৈরি হবে ভারতেই।

যদি এই চুক্তি সফল হয়, তবে নৌবাহিনীর জন্য চুক্তি হওয়া ২৬টি রাফাল-এম এবং আগের ৩৬টি বিমানসহ ভারতের মোট রাফাল বহরের সংখ্যা দাঁড়াবে ১৭৬টিতে। এর ফলে চীন ও পাকিস্তান—উভয় সীমান্তে ভারতের আকাশসীমার প্রতিরক্ষা ও আক্রমণাত্মক ক্ষমতা এক ধাক্কায় বহুগুণ শক্তিশালী হয়ে উঠবে।

আরও পড়ুন: ভারত-চীন সম্পর্কের বরফ গলছে, তবে উদ্বেগ রয়ে গেছে

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মুন্সীগঞ্জে দুইটি ফার্মেসিকে এক লাখ টাকা জরিমানা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২ই জুন, ২০২৬ ইং

০৫:৫১ পি.এম


মুন্সীগঞ্জে দুইটি ফার্মেসিকে এক লাখ টাকা জরিমানা

মুন্সীগঞ্জের টঙ্গিবাড়ী উপজেলায় অনুমোদনহীন কসমেটিক্স পণ্য, ফিজিশিয়ান স্যাম্পল এবং মেয়াদোত্তীর্ণ ঔষধ সংরক্ষণের অভিযোগে দুইটি ফার্মেসিকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

মঙ্গলবার (২ জুন) দুপুর ১টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত টঙ্গিবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে অবস্থিত বিভিন্ন ফার্মেসিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের নেতৃত্ব দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাহমিনা আক্তার।

অভিযান চলাকালে ইব্রাহীম ফার্মেসি ও বিসমিল্লাহ ফার্মেসিতে অনুমোদনহীন কসমেটিক্স পণ্য, ফিজিশিয়ান স্যাম্পল এবং মেয়াদোত্তীর্ণ ঔষধ পাওয়া যায়। এ অপরাধের জন্য ‘ঔষধ ও কসমেটিক্স আইন-২০২৩’ এর ৪০(খ), ৪০(গ), ৪০(ঘ) এবং ৪১(২) ধারায় প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে ৫০ হাজার টাকা করে মোট এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

এসময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জনসাধারণকে অনুমোদনহীন ও মেয়াদোত্তীর্ণ ঔষধ এবং কসমেটিক্স পণ্য ব্যবহার থেকে বিরত থাকার জন্য আহ্বান জানান। পাশাপাশি ফার্মেসি মালিকদের আইন মেনে সতর্কতার সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনা করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাহমিনা আক্তার বলেন, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় এই ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

তেওতা জমিদার বাড়ি হতে পারে আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২ই জুন, ২০২৬ ইং

০৫:৫২ পি.এম


তেওতা জমিদার বাড়ি হতে পারে আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মৃতিবিজড়িত মানিকগঞ্জের শিবালয়ের তেওতা জমিদার বাড়িটি হয়ে উঠতে পারে একটি আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র। ঈদুল আজহা উপলক্ষে এ জমিদার বাড়ির প্রাঙ্গণে বর্তমানে রয়েছে এক মেলা। ঈদের পরের দিন বিকাল থেকে প্রতিদিন জমিদার বাড়িতে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় দেখা যাচ্ছে।

দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে তেওতা জমিদার বাড়ির আঙিনা। এবারের ঈদের ছুটিতে প্রাচীনতম এই প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন দেখতে জেলার বিভিন্ন এলাকা এবং অন্যান্য জেলা থেকেও নারী, পুরুষ ও শিশুসহ নানা বয়সী মানুষ ঘুরতে আসেন ঐতিহ্যবাহী তেওতা জমিদার বাড়িতে। এখানে বসেছে একটি গ্রামীণ মেলা। এ মেলায় শিশুদের জন্য খেলনা, নাগরদোলা, নৌকাসহ নানা ধরনের খাবার ও প্রসাধনী সামগ্রীর দোকান বসেছে জমিদার বাড়ির প্রাঙ্গণে।

আরিচা ঘাট থেকে মাত্র আড়াই কিলোমিটার উত্তরে যমুনা নদীর তীরে সবুজ-শ্যামল গাছপালায় ঢাকা প্রায় আট একর জায়গা জুড়ে গড়ে ওঠেছিল তেওতার জমিদার বাড়িটি ১৮শতকের শেষের দিকে। তৎকালীন জমিদার পঞ্চানন রায় চৌধুরী এর নির্মাণ করেছিলেন। ইতিহাসের পাতায় স্থান করে নিয়েছে জমিদার হিমশংকর রায়ের প্রতিষ্ঠিত বাড়িঘেঁষা নবরত্ন মঠটি। বাড়ির ছাদ থেকে পুরো কাঠামো দেখতে খুবই সুন্দর। অসাধারণ কারুকার্যখচিত বাড়িটি চোখের সামনে এক অপরূপ দৃশ্য তুলে ধরে। যমুনা নদীর কলকল ধ্বনি এবং চারদিকের মায়াময় পরিবেশ পর্যটকদের আকর্ষণের অন্যতম কারণ। যেকোনো জেলা থেকে সহজ যাতায়াত ব্যবস্থা এবং কম খরচের কারণে বিশেষ দিনে এখানে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ করা যায়।

তেওতা জমিদার বাড়িতে মোট ৫৫টি কক্ষ আছে। বাড়ির সামনে শান বাঁধানো ঘাটলাসহ বিশাল লাল শাপলা পুকুর রয়েছে। পুকুরের জলতরঙ্গে পুরো রাজবাড়ির অবয়ব দেখা যায়। মনে হয় পানির নিচে যেন আরেকটি জমিদার বাড়ি। আরেকটি পুকুরও আছে ভেতরে। রাজপ্রাসাদের সামনে একটি বড় মাঠ রয়েছে সবুজ ঘাসে ঢাকা। পুকুরের চারপাশে অনেক তাল গাছ রয়েছে। পুরো বাড়িটি পোড়া মাটির ইট ও চুনামাটি দিয়ে তৈরি তিনতলা বিশিষ্ট অট্টালিকা। প্রতিটি ভবন কাঠ, লোহা ও চিনা মাটি দিয়ে তৈরি। বিভিন্ন কারুকার্য খচিত নকশা দিয়ে তৈরি বাড়িটি মুগ্ধকর। দরজা-জানালাসহ আসবাবপত্রগুলো শাল কাঠের তৈরি। প্রাসাদের উত্তর পাশে একটি নাটমন্দির ছিল।

মন্দিরের মধ্যে দেবদেবীর পিতল নির্মিত বিভিন্ন মূর্তি ছিল। এখানে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন পূজা-অর্চনা করতেন বলে জানালেন এলাকাবাসী। রাজাদের শাসন ব্যবস্থার ঘর ও কয়েদিদের বন্দি রাখার ঘরগুলোও কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। মাঝখানে ছিল অন্দরমহল। কোনো প্রজা খাজনা বা কর দিতে অস্বীকার করলে পূর্বপাশে বিশাল অন্ধকূপে এনে তাদের বন্দি করে রাখা হতো। বাড়ির দক্ষিণ পাশে দুই অট্টালিকার মাঝে ওপরে টিনের চালার মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছিল নাটক করার বিশাল ঘর। জমিদার বাড়ির সামনে টালির একটি বিশাল ঘর রয়েছে। নবরত্ন ও দোলন মঞ্চ সবচেয়ে আকর্ষণীয়। নবরত্নটির চারপাশে নয়টি মঠ দিয়ে প্রায় চারতলা বিশিষ্ট ৭৫ থেকে ৮০ ফুট উচ্চতার নবরত্ন মঠটি তৈরি হয়। ১৮৫৮ সালে নির্মিত হয় নবরত্ন মঠ। ১৮৯৭ সালে মঠটি ভূমিকম্পে কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ১৯০৬ সালে পুনরায় মেরামত করা হয়।

প্রায় তিন শ বছরের পুরোনো এই জমিদার বাড়িটি এখন কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। এখানে পুরোনো ঐতিহ্যবাহী সৌন্দর্যের কিছুটা এখনও রয়ে গেছে। তৎকালীন জমিদাররা মাসব্যাপী দোলনযাত্রার আয়োজন করতেন এ বাড়িতে। কালের পরিক্রমায় রাজা রাজার রাজ্য নেই, নিয়মিত পূজা-অর্চনা নেই। দেবালয়ে দেবতাদের সন্তুষ্টিতে দেবদাসীদের নৃত্যাঞ্জলি, শঙ্খধ্বনি, পুরোহিতের মন্ত্রপাঠ, ধূপের ধোঁয়া এখন থেমে গেছে বহু আগে। দেবালয়ের দুর্ভেদ্য প্রকোষ্ঠ আর দেয়াল পেরিয়ে দেবদাসীদের হাসি-কান্নার শব্দ হয়তো এখনো ভগ্ন রাজপ্রাসাদের বাতাসে ভেসে বেড়ায়।

তবে তেওতা গ্রামটি আরও প্রসিদ্ধ হয়ে উঠেছিল জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ও তার স্ত্রী প্রমীলার স্মৃতি জড়িয়ে থাকার কারণে। তেওতা গ্রামের মেয়ে প্রমীলা, জমিদার বাড়ির পূর্বপাশে বসন্ত কুমার সেন এবং গিরিবালা সেন দম্পতির মেয়ে। তার ডাকনাম ছিল দুলি। জমিদার হিমশংকর রায় চৌধুরী প্রমীলাকে খুব আদর করতেন। জমিদার বাড়ি বেড়াতে এসে নজরুল ইসলাম মাঝে মাঝে রাতে গান-বাজনার আসর জমাতেন। প্রথমে প্রমীলা দেবীকে দেখে কবি নজরুল ইসলাম মুগ্ধ হয়ে ”তুমি সুন্দর তাই চেয়ে থাকি প্রিয়, সে কি মোর অপরাধ” এই গানটি রচনা করেছিলেন। সেখানে একমাত্র গায়ক ছিলেন কাজী নজরুল ইসলামের। দুলি তখন ছিলেন ছোট একটি মেয়ে। মাঝেমধ্যে পান বানিয়ে নজরুলের হাতে তুলে দিতেন। দুজনের পরিচয় এবং ঘনিষ্ঠতা সেখান থেকেই শুরু হয়। প্রমীলা দেবী নজরুলকে কবি বলে ডাকতেন। ঘনিষ্ঠতার এক পর্যায়ে দুলি ওরফে প্রমীলাকে কবি নজরুল কলকাতায় গিয়ে পারিবারিকভাবেই বিয়ে করেন। পরে জমিদার হিমশংকর রায়ের আমন্ত্রণে নজরুল নববধুকে নিয়ে আবার তেওতায় আসেন। প্রায় দুই সপ্তাহ থাকার সময় প্রতি রাতে জমিদার বাড়িতে গানের ও কবিতার আসর বসাতেন। এখানে বসে নজরুল বহু গান ও কবিতা রচনা করেছেন বলে জানা গেছে। দর্শকের আসনে জমিদার বাড়ির লোকজনের সাথে প্রমীলাও থাকতেন। কাজী নজরুলের স্মৃতিধন্য তেওতায় প্রমীলা দেবীর জন্মভিটা এখনো রয়ে গেছে। নজরুল-প্রমীলার স্মৃতি ধরে রাখতে এখানে নির্মাণ করা হয়েছে নজরুল-প্রমীলা স্মৃতি মঞ্চ। পাশেই রয়েছে টালিতে নির্মিত একটি চকিদার শেড। বিশেষ বিশেষ দিনে এখানে পর্যটকদের ভিড় লক্ষ করা যায়। তাছাড়া নজরুলের জন্ম ও মৃত্যু দিবস পালন করা হয় সরকারিভাবেই। এ সময় পর্যটকদের সমাগম হয়। এখানে গড়ে উঠেছে নজরুল কেন্দ্রিক বিভিন্ন সংগঠন। জাতীয়ভাবেও কমিটি রয়েছে। তবে বাড়িটি রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে অনেক কিছুই হারিয়ে গেছে। স্থানীয়রা মনে করছেন জমিদার বাড়িটি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য আরও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

শিবালয় উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনিষা রাণী কর্মকার বলেন, আমি শিবালয় উপজেলায় যোগদান করার পরপরই তেওতা জমিদার বাড়িটি পরিদর্শন করেছি। এ বাড়িটির দেয়ালে যে কারুকার্য রয়েছে তা ঐতিহাসিক নিদর্শন। ২০১৫ সালে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের নজরে আসলে এ বাড়ির কিছু অংশ তাদের তত্ত্বাবধানে নিয়ে নেয়। প্রায় দশ বছর অতিবাহিত হয়েছে। এ বাড়ির সামান্যটুকু অংশ সংরক্ষণ করেছে, যেটুকু বাকি আছে তা অনেক হুমকির মুখে। এছাড়া জমিদার বাড়িটি খোলামেলা থাকায় এখানে মাদকের আড্ডা বসে, কোনো নিরাপত্তার ব্যবস্থা এখানে নেই। বর্তমানে সংরক্ষণের অভাবে এ বাড়িটি এখন একেবারেই অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে আছে। এ বিষয়ে আমি প্রত্নতত্ত্ব বিভাগকে চিঠি দিয়েছি। এরপর প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ ১২০০ মিটার সীমানা প্রাচীরের নির্মাণকাজ শুরু করেছে।

মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা বলেন, নজরুল-প্রমীলার বহু স্মৃতিবিজড়িত তেওতা জমিদার বাড়িটি বর্তমানে সংস্কার করা প্রয়োজন। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা বনভোজনের জন্য এখানে আসেন। এছাড়া দেশের বিভিন্ন এলাকার পর্যটকরা এখানে ঘুরতে আসেন। তবে তাদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা না থাকায় তারা দিনে এসে দিনেই চলে যান। জমিদার বাড়িটি সংস্কার না করায় তার নিজস্ব সৌন্দর্য হারাতে বসেছে। বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ সম্প্রতি বাড়িটি অধিগ্রহণ করলেও বাড়ির রক্ষণাবেক্ষণে তেমন কোনো অগ্রগতি নেই বললেই চলে। এ বাড়ির পশ্চিম পাশে পাকা ঘাটলা বাঁধা একটি দীঘি আছে, এই দীঘিটিও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে যতটুকু সম্ভব সংরক্ষণ করে দৃষ্টিনন্দন এবং সৌন্দর্যবর্ধন করার পরিকল্পনা রয়েছে। তাছাড়া তেওতা জমিদার বাড়ির আঙিনায় যে খালি জায়গা পড়ে আছে সেখানে বৃক্ষরোপণ করা হবে। পুরো তেওতা জমিদার বাড়িটি হোক অপার সম্ভাবনাময় পর্যটন কেন্দ্র। যদি তেওতা জমিদার বাড়ি পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা যায়, তবে এটি একদিকে সরকারের রাজস্ব আয় বৃদ্ধি করবে এবং অপরদিকে এ এলাকার মানুষের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করবে। অতিদ্রুত তেওতা জমিদার বাড়িটিকে পর্যটন কেন্দ্র করার জন্য মাননীয় পর্যটন মন্ত্রীর নিকট আবেদন করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পশ্চিমবঙ্গের অস্তিত্ব সংকটে তৃণমূল, প্রতীক হারানোর আশঙ্কা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২ই জুন, ২০২৬ ইং

০৫:৫২ পি.এম


পশ্চিমবঙ্গের অস্তিত্ব সংকটে তৃণমূল, প্রতীক হারানোর আশঙ্কা

পশ্চিমবঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেসে বড় ধরনের ভাঙনের সুর দেখা দিয়েছে। দলটির প্রায় ৫০ জন বিধায়ক তৃণমূল ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে দাবি উঠেছে। দলের জাতীয় মুখপাত্র রিজু দত্ত জানিয়েছেন, এই ক্ষুব্ধ বিধায়করা শেষ পর্যন্ত তৃণমূলের বিখ্যাত জোড়াফুল প্রতীক দাবি করতে পারেন।

ইন্ডিয়া টুডেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রিজু দত্ত বলেছেন, ‘আমার সূত্র অনুযায়ী, প্রায় ৫০ জন বিধায়ক তৃণমূল কংগ্রেস ভাঙার উপায় খুঁজছেন।’ নবনির্বাচিত আইনপ্রণেতাদের একটি অংশ বহিষ্কৃত বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে দেখতে চেয়েছিলেন। তারা এটিকেই আসল তৃণমূল কংগ্রেস হিসেবে দাবি করার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছেন বলেও তিনি জানান। তবে রিজু দত্তের এই দাবি এখন পর্যন্ত অন্য কোনও সূত্রে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

১৯৯৮ সালে দল গঠনের পর থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবারই সবচেয়ে বড় অভ্যন্তরীণ সংকটের মুখোমুখি হয়েছেন। বিরোধী দলের নেতা নির্বাচন প্রক্রিয়ায় বিধায়কদের জাল স্বাক্ষরের বিতর্ক, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহা নামের দুই বিধায়ককে বহিষ্কার এবং অন্যান্য প্রবীণ নেতাদের মধ্যে ক্রমবর্ধমান অসন্তোষের কারণে এই বিদ্রোহের গুঞ্জন আরও জোরালো হয়েছে।

সোমবার(১ জুন) একটি ফেসবুক লাইভে এসে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দলের ভেতরের এই ফাটলের কথা স্বীকার করেছেন। মমতা জানান, তৃণমূলের বিধায়কদের পুলিশের মাধ্যমে ভয় দেখানো হচ্ছে। নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করতে নির্দেশও দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে দলের প্রবীণ নেতা কুণাল ঘোষ হাত জোড় করে বিদ্রোহী বিধায়কদের বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য অনুরোধ করেছেন। কুণাল ঘোষ অভিযোগ করেন, দলীয় নেতৃত্বকে না জানিয়ে একটি গোপন বৈঠক আয়োজনের মাধ্যমে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় দলে বিভাজন তৈরির চেষ্টা করছেন। এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে কুণাল ঘোষ ‘দলবিরোধী কর্মকাণ্ড’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি ব্যবহার করে এবং তার উপার্জিত ভোট পেয়েই আমরা এখানে এসেছি। লোকের বিবেক বলে কিছু থাকা উচিত।’

এদিকে কলকাতার একটি বাংলা নিউজ চ্যানেল এবিপি আনন্দকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় আলাদা দল গঠনের কোনও উদ্যোগের কথা অস্বীকার করেছেন। তবে তিনি জানিয়েছেন, ‘তৃণমূলে কথা বলার কোনও জায়গা নেই, এটা সবাই জানে। তৃণমূল দলটি বিলুপ্ত হওয়ার পথে রয়েছে এবং এটি আর টিকবে না। শুধু আমি নই, আমাদের অনেক প্রবীণ সংসদ সদস্য এবং নেতাও একই কথা বলছেন।’ সোমবার সন্ধ্যায় দক্ষিণ কলকাতার একটি হোটেলে বিধায়কদের সঙ্গে গোপন বৈঠকের দাবিও তিনি প্রত্যাখ্যান করেছেন।

তৃণমূলের এই উৎকণ্ঠার পেছনে একটি বড় কারণ রয়েছে। গত ৩১ মে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ দলীয় বৈঠক ২৯৪ আসনের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় তৃণমূলের থাকা ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে প্রায় ৬০ জনই এড়িয়ে গেছেন। দল ভাঙার ক্ষেত্রে দলত্যাগ বিরোধী আইন এড়াতে মোট বিধায়কের দুই-তৃতীয়াংশ বা প্রায় ৫৩ জন বিধায়কের সমর্থনের প্রয়োজন হয়, যা রিজু দত্তের দাবি করা ৫০ জনের কাছাকাছি।

এর আগে, বিধানসভার বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের মনোনয়নপত্রে তৃণমূল বিধায়কদের স্বাক্ষর জাল করার বিরুদ্ধে সরব হওয়ায় দল থেকে বহিষ্কৃত হন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহা। প্রবীণ রাজনীতিক ঋতব্রত তার রাজনৈতিক জীবন শুরু করেছিলেন সিপিআই (এম)-এর ছাত্র সংগঠন এসএফআইয়ের মাধ্যমে। পরে ২০২০ সালে তিনি তৃণমূলে যোগ দেন এবং ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে উলুবেড়িয়া পূর্ব আসন থেকে জয়ী হন। দল থেকে বহিষ্কারের পর সোমবার তিনি তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, নির্বাচনে দলের পরাজয়ের পরও যেখানে সাধারণ সম্পাদককে উঠে দাঁড়িয়ে সম্মান জানাতে হয়, সেই দলে কথা বলার কোনও সুযোগ নেই।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘৫০ ভাগ মামলা গাড়ির মালিককে না দিয়ে চালকের বিরুদ্ধে করা হবে’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২ই জুন, ২০২৬ ইং

০৫:৫৩ পি.এম


‘৫০ ভাগ মামলা গাড়ির মালিককে না দিয়ে চালকের বিরুদ্ধে করা হবে’

‘এখন থেকে ন্যূনতম পক্ষে ৫০ ভাগ মামলা গাড়ির মালিককে না দিয়ে চালকের বিরুদ্ধে করা হবে’ এমন তথ্য দিয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিসুর রহমান। তিনি আরো বলেন, গাড়িটা চালানোর কাজটি করছে চালক, কিন্তু দেখা যাচ্ছে যে, চালক অনেক সময় ধরা-ছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে।

মঙ্গলবার ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের আয়োজনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে বক্তব্য রাখেন তিনি। চালককে মামলা দেওয়ার ফলে দুই ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে বলে উল্লেখ করেন তিনি। একটি হচ্ছে তাকে জরিমানার টাকা দিতে হবে এবং অপরটি হলো ডিমেরিটস পদ্ধতির আওতায় তার ড্রাইভিং লাইসেন্স থেকে পয়েন্ট কাটা যাবে।

এর মাধ্যমে গাড়ির মালিক পরবর্তীতে একজন চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্সের পয়েন্ট যাচাই করে চাকরিতে তাকে নিয়োগ দিতে পারবেন বলে জানান তিনি। ভুয়া মামলা কি না, তা কিভাবে বোঝা হবে, এমন প্রসঙ্গেও তিনি কথা বলেন। তিনি জানান, আমাদের পক্ষ থেকে কখনোই আপনাদের কাছে কোনো পাসওয়ার্ড বা কোড নম্বর চাওয়া হবে না। যে চিঠিটি আপনাদের কাছে যাবে, ওই চিঠিতে আমাদের আটটা ডিভিশনের অফিসারদের স্বাক্ষর থাকবে।

একইসঙ্গে ট্রাফিক টেকনিক্যাল ইউনিটের কর্মকর্তাদের স্বাক্ষরও মামলার কপিতে থাকবে, বলেন এই পুলিশ কর্মকর্তা। তিনি এও বলেন, শীঘ্রই গাড়ির নম্বরপ্লেট সঠিক, পরিষ্কার লেখা রয়েছে কিনা, সেটি যাচাই করার জন্য অভিযান পরিচালনা করা হবে।

সূত্র : বিবিসি বাংলা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%