ঢাকা সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

মামলা জটিলতায় শিক্ষক নিয়োগ ও পদোন্নতি আটকে রয়েছে : শিক্ষামন্ত্রী


মামলা জটিলতায় শিক্ষক নিয়োগ ও পদোন্নতি আটকে রয়েছে : শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষামন্ত্রী ড. আ. ন. ম. এহছানুল হক মিলন বলেছেন, দেশের হাজার হাজার শিক্ষক নিয়োগ, পদোন্নতি এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে নিয়োগ কার্যক্রম বিভিন্ন মামলা জটিলতার কারণে দীর্ঘদিন ধরে আটকে রয়েছে।

আজ জাতীয় সংসদে ৩০০ বিধিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এ মন্তব্য করেন।

এর আগে সরকারি দলের সদস্য জয়নাল আবেদীন ফারুক সংসদে বিষয়টি উত্থাপন করেছেন উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী জানান, মামলা জটিলতার কারণে ৩২ হাজার ৫০০ শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া ছাড়াও আরো ২ হাজার ৬০০ এবং ১৭ হাজার শিক্ষক নিয়োগের কার্যক্রমও ঝুলে রয়েছে।

আরও পড়ুন: ঢামেকে ভুয়া চিকিৎসক মো. রাকিব আটক, থানায় হস্তান্তর

মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি এসব জটিলতা নিরসনে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘দায়িত্ব পাওয়ার প্রথম সপ্তাহ থেকেই আদালতপাড়ায় গিয়ে এসব মামলার জটিলতা নিরসনের চেষ্টা করেছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত আপিল বিভাগে মামলাগুলো কার্যতালিকায় আসছে না। ফলে দেশে শিক্ষক সংকট থাকা সত্ত্বেও নিয়োগ কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।’

মন্ত্রী আরো বলেন, শুধু শিক্ষক নিয়োগই নয়, বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগ এবং কলেজের অধ্যক্ষ ও প্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগও মামলার কারণে আটকে আছে।

তিনি জানান, প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর দপ্তরি-কাম-নাইটগার্ড নিয়োগ কার্যক্রমও একই কারণে স্থগিত রয়েছে।

আ. ন. ম. এহছানুল হক মিলন বলেন, শিক্ষা ও প্রাথমিক শিক্ষা খাতে বর্তমানে হাজার হাজার মামলা বিচারাধীন রয়েছে, যা প্রশাসনিক কার্যক্রমকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে।

আরও পড়ুন: প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতন দশম গ্রেডে উন্নীত করার তিন দাবি

তিনি সংসদকে জানান, দেশে ইতোমধ্যে আরো প্রায় ৩৩ হাজার প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য হয়েছে। কিন্তু পদোন্নতি-সংক্রান্ত জটিলতা ও মামলার কারণে অনেক যোগ্য শিক্ষক প্রধান শিক্ষক হওয়ার আগেই অবসরে চলে যাচ্ছেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘সারা বাংলাদেশে এমন বহু শিক্ষক রয়েছেন, যারা প্রধান শিক্ষক হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেও পদোন্নতি পাচ্ছেন না। মামলার জটিলতার কারণে বিষয়গুলো সমাধান করা যাচ্ছে না।’

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক বদলির বিষয়ে তিনি জানান, এ সংক্রান্ত দায়িত্ব উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে বিকেন্দ্রীকরণ করা হয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে বিচারাধীন মামলাগুলোর নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এসব নিয়োগ ও পদোন্নতি কার্যক্রমে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি অর্জন করা কঠিন হচ্ছে।

আরও পড়ুন: বিএমইউতে ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব বিশেষজ্ঞদের

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চীনের সঙ্গে দুই সমঝোতা স্মারক সই : ইউয়ানে বাণিজ্য সহজ করার উদ্যোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ১৭ই জুন, ২০২৬ ইং

০৯:০৮ পি.এম


চীনের সঙ্গে দুই সমঝোতা স্মারক সই : ইউয়ানে বাণিজ্য সহজ করার উদ্যোগ

বাংলাদেশ এবং চীনের মধ্যে ব্যাংকিং সহযোগিতা বৃদ্ধির জন্য, রেনমিনবি (আরএমবি/ইউয়ান) ভিত্তিক বাণিজ্য সহজ করতে এবং বাণিজ্য-বিনিয়োগ সহযোগিতা জোরদার করার লক্ষ্যে বিসিসিসিআই দুটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করেছে।

বাংলাদেশ-চায়না চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (বিসিসিসিআই) চীনের ইউনান প্রদেশের কুনমিংয়ে ১১ থেকে ১৬ জুন অনুষ্ঠিত ১০ম চায়না-সাউথ এশিয়া এক্সপো এবং ৩০তম চায়না কুনমিং আমদানি-রপ্তানি মেলায় অংশগ্রহণ করে এসব সমঝোতা স্মারক সাইন করে।

বিসিসিসিআই এর সভাপতি মোহাম্মদ খোরশেদ আলমের নেতৃত্বে ২৩ সদস্যের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল এক্সপোতে উপস্থিত ছিল। এবারের এক্সপোতে বাংলাদেশকে ‘থিম কান্ট্রি’ হিসেবে প্রসারিত করা হয়েছে। বিসিসিসিআই’র আয়োজনে আমানত শাহ গ্রুপ, টেকনো ড্রাগস লিমিটেড, আকিজ ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেড, আইমান এগ্রো লিমিটেড, এমএম ট্রেড এবং বিসিসিসিআইসহ মোট ছয়টি প্রতিষ্ঠান এই এক্সপোতে অংশ নেয়।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) ও কুনমিংয়ে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের সমন্বয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ কান্ট্রি প্যাভিলিয়নে ১০০টিরও বেশি বাংলাদেশি কোম্পানি তাদের পণ্য প্রদর্শন করে।

এক্সপোর প্রথম দিন ১১ জুন বিসিসিসিআই চীনের ব্যাংক অব হুজৌ কোম্পানি লিমিটেডের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক সই করে। এই চুক্তির আওতায় বাংলাদেশে ব্যাংকটির প্রতিনিধি কার্যালয় স্থাপনে সহায়তা করবেন বিসিসিসিআই। একই সঙ্গে, দুই দেশের মধ্যে ব্যাংকিং সহযোগিতা বৃদ্ধির পাশাপাশি, রেনমিনবি ভিত্তিক বাণিজ্যিক লেনদেন সহজ করা, বাণিজ্য নিষ্পত্তি দ্রুত করা এবং লেনদেনের ব্যয় হ্রাসের উপায় অনুসন্ধান করা হবে।

একই দিনে চায়না চেম্বার অব কমার্স ফর ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট অব মেশিনারি অ্যান্ড ইলেকট্রনিক প্রোডাক্টস (সিসিসিএমই) এর সঙ্গে আরেকটি সমঝোতা স্মারক সই হয়। এর মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি, ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল বিনিময়, তথ্যের আদান-প্রদান এবং প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা জোরদারে সম্মত হয় উভয় পক্ষ।

১২ জুন বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল কুনমিং-এর উদ্যোগে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ ডে’ অনুষ্ঠানে বিসিসিসিআই’র ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মাসুদ আলী খান সংগঠনের পক্ষে বক্তব্য প্রদান করেন। এ সময় বিসিসিসিআই সভাপতির উপদেষ্টা ফাইজুল আলম বিদ্যুৎ বাংলাদেশের বিনিয়োগ সম্ভাবনা তুলে ধরে একটি উপস্থাপনা করেন।

উপস্থাপনায় তৈরি পোশাক ও বস্ত্র, চামড়া ও পাদুকাশিল্প, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, কারিগরি জনশক্তি ও প্রযুক্তি স্থানান্তর, স্বাস্থ্যসেবা ও ওষুধশিল্প, বৈদ্যুতিক যান (ইভি) এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), তথ্যপ্রযুক্তি (আইসিটি) ও ই-কমার্সসহ সাতটি অগ্রাধিকার খাত তুলে ধরা হয়। বিসিসিসিআই’র মতে, এতে চীনা ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বাংলাদেশে বিনিয়োগের এবং যৌথভাবে কাজ করার বিষয়ে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে।

এক্সপো চলাকালে বাংলাদেশি প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ কান্ট্রি প্যাভিলিয়ন এবং বিভিন্ন প্রদর্শনী স্টল পরিদর্শন করে। এ সময় তারা বাংলাদেশের পণ্যের মান, ব্র্যান্ডিং, বাজার সম্প্রসারণ এবং চীনা বাজারে রপ্তানির সম্ভাবনা নিয়ে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

বিসিসিসিআই এর সভাপতি মোহাম্মদ খোরশেদ আলম বলেছেন, চীনের মত বৃহৎ বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়াতে বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোকে উচ্চমানের, মূল্য সংযোজিত ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন পণ্য উৎপাদনে গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে, তিনি ব্র্যান্ডিং, প্যাকেজিং এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় আরও কৌশলগতভাবে অংশগ্রহণের ওপর জোর দেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিএনপি ক্ষমতায় থাকলে সকল ধর্মের মানুষ নিরাপদে ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করতে পারে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ১৭ই জুন, ২০২৬ ইং

০৯:০৯ পি.এম


বিএনপি ক্ষমতায় থাকলে সকল ধর্মের মানুষ নিরাপদে ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করতে পারে

বিএনপি যখনই ক্ষমতায় থাকে, সকল ধর্মের মানুষ নিজেদের ধর্মীয় ও সংস্কৃতির অনুষ্ঠান নিরাপদে পালন করতে পারে, এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট ড. খন্দকার মারুফ হোসেন।

তিনি বুধবার (১৭ জুন) কুমিল্লার লুটেরচর ইউনিয়নের কান্দারগাঁও নূরানী তালিমুল কুরআন দাখিল ও হিফজ মাদরাসা চত্বরে ২০২৬ সালের কৃতি শিক্ষার্থীদের সম্মাননা ও বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন।

ড. খন্দকার মারুফ হোসেন আরও বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার ধর্মীয় নেতা এবং প্রখ্যাত আলেম-ওলামাদের আয়নাঘরে বন্দি রেখে তাদের উপর অমানুষিক নির্যাতন পরিচালনা করেছে, এবং মিথ্যা মামলায় অনেককেই কারান্তরীণ করে রেখে তাদের ধর্মীয় কার্যক্রমে বাধা দেওয়া হয়েছে। তারা পবিত্র কুরআন তাফসির মাহফিল অনুষ্ঠান আয়োজনের অনুমতি দেয়নি। ফ্যাসিস্ট সরকার দেশকে এক অরাজক পরিস্থিতিতে ফেলে দিয়েছে, যার কারণে দেশটি বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।

তিনি বলেন, দেশের অগ্রগতি এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। জাতীয় স্বার্থের সুরক্ষায় বিএনপি সরকার সর্বদা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে নিরলসভাবে কাজ করে আসছে।

ড. খন্দকার মারুফ হোসেন আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সব ধর্মের প্রতি গভীর সহানুভূতি এবং শ্রদ্ধাশীল। তিনি আর্থিক সচ্ছলতার জন্য মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন এবং ভিন্ন ধর্মের পুরোহিতদের জন্য মাসিক সম্মানির ব্যবস্থা করেছেন।

দেশের মসজিদ, মাদ্রাসা, মন্দির এবং গির্জা নির্মাণ ও উন্নয়নে প্রচুর অনুদান বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। চলতি বাজেটে ধর্মীয় এসব খাতে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, তারেক রহমান স্বল্প সময়ের মধ্যে রাষ্ট্রের প্রচুর জনগুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন। ফ্যাসিস্ট সরকার পিছনে রেখে যাওয়া ধ্বংসস্তূপের উপর দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী দেশকে দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। তার নেতৃত্বে সরকার কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নের মাধ্যমে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ সমৃদ্ধ বাংলাদেশ হিসাবে বিশ্বে শির উঁচু করে দাঁড়াবে, ইনশাআল্লাহ।

অনুষ্ঠানে কৃতি শিক্ষার্থীদের কাছে সম্মাননা ও বৃত্তি তুলে দেন তিনি এবং শিক্ষার্থীদের প্রতি নৈতিক শিক্ষা ও মেধা বিকাশে বেশি মনোযোগী হওয়ার জন্য উদাত্ত আহ্বান জানান।

এ সময় বিএনপি নেতা অধ্যাপক মো. হাবিবুর রহমানের সভাপতিত্বে জাতিসংঘের সাবেক কর্মকর্তা ড. মো. হুমায়ুন কবির, মেঘনা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক রমিজউদ্দিন লন্ডনী, সদস্যসচিব এম এম মিজানুর রহমান, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. সালাউদ্দিন সরকার, মাদরাসা কমিটির সভাপতি মো. রেজাউল হক বাবুল, সাধারণ সম্পাদক মো. সালাউদ্দিন ভূঁইয়া, শিক্ষক, অভিভাবক এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ধূমপায়ীদের সরকারি চাকরিতে অযোগ্য ঘোষণার দাবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মাসুদ রানা রাব্বানী, রাজশাহী

বুধবার, ১৭ই জুন, ২০২৬ ইং

০৯:১০ পি.এম


ধূমপায়ীদের সরকারি চাকরিতে অযোগ্য ঘোষণার দাবি
রাজশাহীতে যথাযোগ্য মর্যাদায় বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস উদযাপিত হয়েছে। প্রতিবছর ৩১ মে দিবসটি পালন করা হলেও, এবার ওইদিন সরকারি ছুটি থাকায় দেশের বিভিন্ন স্থানে সুবিধাজনক সময়ে দিবসটি উদযাপন করা হচ্ছে।

দিবসটি উপলক্ষে বুধবার সকালে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয় থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়। পরে কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

বিভাগীয় কমিশনারের পক্ষে অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মো. রেজাউল আলম সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য দেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান, স্বাস্থ্য বিভাগের বিভাগীয় পরিচালক ডা. মো. হাবিবুর রহমান, পিআইডির উপপ্রধান তথ্য অফিসার মো. তৌহিদুজ্জামান, ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মোহা. আনোয়ারুল ইসলাম এবং রাজশাহী রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ের সহকারী পুলিশ সুপার মাহমুদা শারমীন নেলীসহ অন্যান্যরা।

বক্তারা বলেন, দেশে মাদকসেবীদের প্রায় ৯৮ শতাংশই ধূমপানের মাধ্যমে আসক্তির পথে যাত্রা শুরু করে। ধূমপায়ীর সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে মাদক গ্রহণকারীর সংখ্যাও আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে বলে তারা মত প্রকাশ করেন।

তারা আরও বলেন, তামাক শুধু স্বাস্থ্যঝুঁকি সৃষ্টি করে না, এটি একটি পরিবারের অর্থনৈতিক অবস্থার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। একজন ধূমপায়ী প্রতিদিন তামাকের পেছনে যে অর্থ ব্যয় করেন, তা দিয়ে একটি পরিবারের দৈনন্দিন সবজি বাজার করা সম্ভব।

বক্তারা তামাক নিয়ন্ত্রণে সরকারের সাম্প্রতিক বাজেটে আরোপিত অতিরিক্ত শুল্কের প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে পরোক্ষ ধূমপানের ক্ষতিকর দিক তুলে ধরে তারা বলেন, অনেক অভিভাবক সন্তানদের সামনে ধূমপান করেন, ফলে শিশুরা অনিচ্ছাকৃতভাবে বিষাক্ত ধোঁয়ার শিকার হচ্ছে।

আলোচনা সভায় তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ আইনের কার্যকর বাস্তবায়ন, বিশেষ করে ১৮ বছরের নিচে কোনো ব্যক্তির কাছে তামাকজাত দ্রব্য বিক্রয় বন্ধে কঠোর নজরদারি ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির দাবি জানানো হয়।

এছাড়া তামাকমুক্ত সমাজ গঠনের লক্ষ্যে সরকারি চাকরিতে ধূমপায়ীদের অযোগ্য ঘোষণার দাবিও উত্থাপন করেন বক্তারা।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, এনজিও প্রতিনিধি এবং সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।
 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সংসদে ফ্যামিলি কার্ডের প্রলোভনে ধর্ষণের অভিযোগ, পরে বাদ দেওয়া হয় বক্তব্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ১৭ই জুন, ২০২৬ ইং

০৯:১২ পি.এম


সংসদে ফ্যামিলি কার্ডের প্রলোভনে ধর্ষণের অভিযোগ, পরে বাদ দেওয়া হয় বক্তব্য

ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার প্রলোভনে এক নারীর ধর্ষণের শিকার হওয়ার ঘটনা নিয়ে জাতীয় সংসদে ব্যাপক হইচই ও বিতর্ক হয়েছে। সরকারি দলের এক সংসদ সদস্যের বক্তব্যের পর অন্য এক সংসদ সদস্যের আপত্তির মুখে তা সংসদীয় কার্যবিবরণী থেকে বাদ (এক্সপাঞ্জ) দেওয়া হয়।

তবে পরে ওই সংসদ সদস্য ধর্ষণের ঘটনার সুনির্দিষ্ট মামলার তথ্য সংসদে উপস্থাপন করেন।

বৃহস্পতিবার (১৭ জুন) সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনা এবং পয়েন্ট অব অর্ডারে আলোচনা চলাকালে এই চিত্র উঠে আসে।

বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে মেহেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. তাজউদ্দিন খান বলেন, ‘৪১ লাখ ফ্যামিলিকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে। এটা হিসাব করলে ওয়ার্ডপিছু ৯০টি করে পরিবার পাবে।

তাহলে বাকি যে দরিদ্র ফ্যামিলিগুলো আছে, তাদের অবস্থাটা কী হবে?’

ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে মাঠপর্যায়ের অনিয়মের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ড পাওয়ার প্রতিযোগিতার কারণে আমরা সংবাদপত্রগুলোতে ইতিমধ্যে দেখেছি—ফ্যামিলি কার্ড দিয়ে ধর্ষণের শিকার হয়েছে। ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার প্রলোভনে টাকা নেওয়া হচ্ছে।’

তাজউদ্দিন খানের এই বক্তব্যের পরে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে তীব্র আপত্তি জানান নোয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্য এম মাহবুবউদ্দিন খোকন। তিনি বলেন, ‘সংসদ সদস্য বলেছেন ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ করা হয়েছে।

এটি দুঃখজনক ব্যাপার। সংসদে এভাবে কথা বলা উচিত নয়। সংসদের ভাষা জানতে হবে, সেভাবে বলতে হবে।’ তিনি এই বক্তব্যটি কার্যবিবরণী থেকে এক্সপাঞ্জ করার দাবি জানান।

সংসদ সদস্যের দাবির প্রেক্ষিতে অধিবেশনে সভাপতিত্বকারী ডেপুটি স্পিকার মেহেরপুরের এমপির ওই বক্তব্য এক্সপাঞ্জ করার ঘোষণা দেন।

ডেপুটি স্পিকারের এই ঘোষণার পর পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে এর প্রতিবাদ জানান সিরাজগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, ‘এক্সপাঞ্জ তো হবে যদি অসত্য তথ্য দিয়ে থাকেন অথবা অসংসদীয় শব্দ যদি ব্যবহার করে থাকেন। আমার ধারণা উনি এ ধরনের (অসংসদীয়) কথা বলেননি। কাজেই উনাকে বক্তব্য রাখার সুযোগ দেওয়া হোক।’

সহকর্মীর এই প্রতিবাদের পর ডেপুটি স্পিকার মেহেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য তাজউদ্দিন খানকে পুনরায় কথা বলার সুযোগ দেন। তখন তাজউদ্দিন খান তার বক্তব্যের সপক্ষে সুনির্দিষ্ট তথ্য ও মামলার বিবরণ তুলে ধরেন।

তিনি সংসদে বলেন, ‘আমার কাছে যে তথ্য ছিল, তা সময়ের অভাবে আগে দিতে পারিনি। ২০২৬ সালের ১০ এপ্রিল ফরিদপুরের সোনাগাজী থানায় ফ্যামিলি কার্ডের প্রলোভনে ধর্ষণের অভিযোগের একটি মামলা হয় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে। ওসি এর প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছেন বলে এটি প্রমাণিত হয়েছে। এ ছাড়া গত ২৫ এপ্রিল রংপুর মিঠাপুকুর উপজেলার ভাঙা ইউনিয়ন পরিষদের বিএনপির সহসম্পাদক এনামুল হককে (অভিযোগের) প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কারণে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।’

দুই সংসদ সদস্যের এই যুক্তি-তর্ক ও তথ্যের পর ডেপুটি স্পিকার বলেন, ফ্যামিলি কার্ড যে প্রজেক্ট, সেটি শুধুমাত্র প্রধানমন্ত্রী বা এই সরকারের না; এটি সারা দেশের মানুষের একটা আকাঙ্ক্ষিত বিষয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%