ঢাকা রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

গাইবান্ধায় ৬ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ, আটক ১


গাইবান্ধায় ৬ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ, আটক ১

 

গাইবান্ধা সদর উপজেলার খোলাহাটি ইউনিয়নের ভেড়ামারা ব্রিজসংলগ্ন একটি রেস্টুরেন্টে প্রথম শ্রেণিতে পড়ুয়া ছয় বছর বয়সী এক শিশুর বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পুলিশ আমির উদ্দিন (৪০) নামের একজন ব্যক্তিকে আটক করেছে।

বুধবার (২৪ জুন) দিন দুপুরে ‘জাফলং চায়নিজ ফাস্টফুড’ রেস্টুরেন্ট থেকে তাকে আটক করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: কাউখালীতে সন্ধ্যা নদীতে বিশেষ অভিযান: সাড়ে ৮ হাজার মিটার অবৈধ জাল জব্দ ও ধ্বংস

স্থানীয় সূত্র এবং পুলিশের তথ্য অনুসারে, বুধবার সকাল ১১টার দিকে ভেড়ামারা এলাকার ‘জাফলং চায়নিজ ফাস্টফুড’ রেস্টুরেন্টে প্রথম শ্রেণির জাতীয়ী এক শিক্ষার্থী ধর্ষণের শিকার হন বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পরপরই স্থানীয় লোকজন অভিযুক্ত আমির উদ্দিনকে আটক করে মারধর করতে থাকে। পরবর্তীতে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

এদিকে, অভিযুক্তকে পুলিশ কর্তৃক আটক করার পর বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ওই রেস্টুরেন্টে অগ্নিসংযোগ করে এবং গোটা রেস্টুরেন্টটি পুড়ে যায়।

স্থানীয়দের অভিযোগ রয়েছে যে, সামগ্রিক বিষয়টি ঘটনার অনেক দিন আগে থেকেই ঘাঘট নদীসংলগ্ন এই রেস্টুরেন্টে বিভিন্ন ধরনের অসামাজিক কর্মকাণ্ড চলছিল। সন্ধ্যার পর থেকে এখানে কিছু পুরুষ ও নারী অবাধে অনৈতিক সম্পর্কের সুযোগ পায়। এর সাথে সাথে মাদক ব্যবসা এখানে খুব জমজমাট ছিল।

খোলাহাটির সামশু মিয়া বলেন, ‘এই শিশু ধর্ষণের অভিযোগ ওঠার পর সাধারণ মানুষের ক্ষোভ সৃষ্টি হয় এবং তারা ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। জেলার বিভিন্ন স্পটে রাতের অন্ধকারে ব্যাংঙের ছাতার মতো গড়ে ওঠা এজাতীয় রেস্টুরেন্টগুলোতে কী ঘটছে, তা নিয়ে পুলিশের তদন্ত প্রয়োজন।’

আরও পড়ুন: মুফতি সনদ পাগরি গ্রহন করলেন তালাশ বিডি এর স্টাফ রিপোর্টার খায়রুল ইসলাম অশ্রুসিক্ত চোখে মাথায় সম্মানের পাগড়ি: ইলমের সুউচ্চ শিখরে মুফতি খায়রুল ইসলাম যুক্তিবাদী

গাইবান্ধার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বি-সার্কেল শেখ মুত্তাজুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছায় এবং অভিযুক্তকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। উল্লেখ্য, ভিকটিমকে মেডিক্যাল পরীক্ষার জন্য জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে।

এ ঘটনায় জানানো হয়েছে, কোনো লিখিত অভিযোগ এখনো পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ঘটনার পর এলাকায় সৃষ্টি হওয়া উত্তেজনার মধ্যেও বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণেই আছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দেশে বছরে গড়ে ২০০ দিন বিপজ্জনক আর্দ্র তাপমাত্রা থাকছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ২৪শে জুন, ২০২৬ ইং

০৭:৩৬ পি.এম


দেশে বছরে গড়ে ২০০ দিন বিপজ্জনক আর্দ্র তাপমাত্রা থাকছে

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশে বছরে গড়ে ২০০ দিন বিপজ্জনক আর্দ্র তাপমাত্রার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। গত পাঁচ দশকে এই ধরনের দিনে সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে।

বিশ্বের যেসব দেশে মানুষেরা সবচেয়ে বেশি সময় ঝুঁকিপূর্ণ তাপ ও আর্দ্রতার মাঝে অবস্থান করছে, বাংলাদেশ তাদের একটি।

বুধবার (২৪ জুন) আন্তর্জাতিক জলবায়ু গবেষণা সংস্থা ক্লাইমেট সেন্ট্রালের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ১৯৭০-এর দশকের পর থেকে বিশ্বজুড়ে বিপজ্জনক আর্দ্র তাপমাত্রার দিনের সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯৭০-এর দশকে বিশ্বে বছরে গড়ে ১০ দিন বিপজ্জনক আর্দ্র তাপমাত্রার ঘটনা ছিল, কিন্তু ২০১৬ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে তা বেড়ে ২৩ দিনে পৌঁছেছে।

১৯৭০ সালের পর থেকে বিশ্বে রেকর্ড হওয়া এমন দিনের প্রায় ৬৪ শতাংশ ক্ষেত্রে জলবায়ু পরিবর্তনের ভূমিকা সরাসরি রয়েছে।

বাংলাদেশে এই পরিস্থিতি আরো উদ্বেগজনক। ২০১৬-২০২৫ সালে দেশে বছরে গড়ে ২০০ দিন বিপজ্জনক আর্দ্র তাপমাত্রা উল্লেখ করা হয়েছে। ১৯৭০-এর দশকে এই সংখ্যা ছিল ১৭৫ দিন।

অর্থাৎ, বর্তমানে দেশের জনসাধারণ বছরের অর্ধেকেরও বেশি সময় এমন তাপ-আর্দ্রতার শিকার হচ্ছে, যা স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ঝুঁকিপূর্ণ।

বিশ্লেষণে দেখা গেছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশে প্রতি বছর গড়ে অতিরিক্ত ৩০ দিন বিপজ্জনক আর্দ্র তাপমাত্রার ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ১৯৭০-এর দশকে এই সংখ্যা মাত্র ৫ দিন ছিল। পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট বিপজ্জনক আর্দ্র তাপমাত্রার অংশ ৩ শতাংশ থেকে বেড়ে ১৫ শতাংশে পৌঁছেছে।

দেশের বড় শহরগুলোতে এই প্রভাব আরও প্রকট হয়ে উঠছে।

রাজধানী ঢাকা বছরে গড়ে ২১০ দিন বিপজ্জনক আর্দ্র তাপমাত্রা অনুভব করে। যার মধ্যে ২৫ দিন সরাসরি জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে যুক্ত হয়েছে। চট্টগ্রামে বছরে গড়ে ২১১ দিন এমন তাপমাত্রা দেখা যায়, এর মধ্যে ৩৬ দিন জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে যোগ হয়েছে। খুলনায়, এই সংখ্যা সবচেয়ে বেশি—বছরে গড়ে ২২৪ দিন।

বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, শুধু উচ্চ তাপমাত্রা নয়, বাতাসের আর্দ্রতাও মানবদেহের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করে। আর্দ্রতা বৃদ্ধি পেলে ঘামের মাধ্যমে শরীরের স্বাভাবিক শীতল হওয়ার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়। এর ফলে পানিশূন্যতা, তাপজনিত অবসাদ, হিট স্ট্রোক, হৃদরোগ ও শ্বাসতন্ত্রের জটিলতার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। শিশু, বয়স্ক, গর্ভবতী নারী, বাইরে কাজ করা শ্রমিক এবং পূর্বে অসুস্থ ব্যক্তি বেশি ঝুঁকির মধ্যে আছেন।

কুমিল্লা জেনারেল হাসপাতালের শিশু বিভাগের সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. শিমুল মজুমদার বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে তাপপ্রবাহ ও আর্দ্রতা বৃদ্ধির কারণে শিশুদের স্বাস্থ্যের ওপর ক্রমবর্ধমান প্রভাব পড়ছে। শিশুদের মধ্যে কাশি, শ্বাসকষ্ট ও অ্যাজমাসহ শ্বাসতন্ত্রের নানা রোগের সংখ্যা বাড়ছে। আগের বছরের তুলনায় অ্যাজমা ও সংশ্লিষ্ট শ্বাসতন্ত্রের রোগ প্রায় ৭০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

ডাক্তাররা বলছেন, তাপপ্রবাহের প্রভাব কেবল তাপজনিত অসুস্থতায় সীমাবদ্ধ নয়। দীর্ঘস্থায়ী গরমের সময় অধিক পানি পান করতে গিয়ে অনেকেই অনিরাপদ পানির উৎসের ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হন। এতে পানিবাহিত রোগের ঝুঁকিও বৃদ্ধি পায়।

গ্রিন লাইফ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. রাশেদুল হাসান বলেন, বাড়তে থাকা তাপপ্রবাহ পানিবাহিত রোগের ঝুঁকিও বৃদ্ধি করছে। গরমের সময় মানুষ অধিক পানি পান করলেও অনেক ক্ষেত্রে অনিরাপদ উৎসের ওপর নির্ভর করতে হয়। ফলে ডায়রিয়া, টাইফয়েড ও জন্ডিসের মতো রোগের প্রকোপ বাড়ছে।

বিশ্বব্যাপী চরম তাপমাত্রা ইতিমধ্যে অনেক প্রাণঘাতী আবহাওয়ার সংক্রান্ত দুর্যোগগুলোর মধ্যে একটি হয়ে দাঁড়িয়েছে। গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, ২০০০ সালের পর থেকে বিশ্বব্যাপী চরম তাপমাত্রার ফলে আড়াই লাখেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। তাদের সতর্কবার্তা হচ্ছে, বাড়তে থাকা আর্দ্রতা তাপপ্রবাহকে আরও বিপজ্জনক করে তুলছে এবং অনেক অঞ্চলে পরিস্থিতিকে মানবদেহের সহনক্ষমতার সীমানার কাছাকাছি নিয়ে যাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে এই ঝুঁকি মোকাবেলায় তাপ-স্বাস্থ্য কর্মপরিকল্পনা জোরদার করা, শ্রমিক সুরক্ষা বৃদ্ধি, নগর এলাকায় শীতলীকরণ অবকাঠামো সম্প্রসারণ এবং জলবায়ু-সহনশীল জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থায় বিনিয়োগ আরও জরুরি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঘুমধুম সীমান্তে আবারও মাইন বিস্ফোরণ, আহত ১

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৪শে জুন, ২০২৬ ইং

০৭:৩৭ পি.এম


ঘুমধুম সীমান্তে আবারও মাইন বিস্ফোরণ, আহত ১

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার সীমান্তবর্তী ঘুমধুম ইউনিয়নের ভালুকিয়া এলাকায় আবারও ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় এক কৃষক আহত হয়ে পড়েন।

বুধবার (২৪ জুন) বিকেল সাড়ে ৪টার সময় একটি কলাবাগানে কাজ করার সময় এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।

আহত কৃষকের নাম শফি আলম। তিনি নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার রেজুয়ামতলী গ্রামের বাসিন্দা এবং মো. হালু মিয়ার ছেলে।

স্থানীয় সূত্র ও সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিজিবি) জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক সীমান্তের ৪১ নম্বর মেইন পিলার থেকে প্রায় এক কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে এবং হাতুরানী বিওপি থেকে প্রায় আড়াই কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত একটি কলাবাগানে কাজ করার সময় হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে।

এই বিস্ফোরণে ঘটনাস্থলেই স্থানীয় বাসিন্দা মো. শফি আলম (৩০) আহত হন। পরে স্থানীয় লোকজন ও স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তার চিকিৎসা চলমান রয়েছে।

 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিস্ফোরণের প্রচণ্ড শব্দে আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

সীমান্তসংলগ্ন জনপদে বসবাসকারী সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিন ধরেই নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছেন। বিশেষ করে কৃষিকাজ, বাগান পরিচর্যা এবং পাহাড়ি এলাকায় চলাচলের সময় তারা অজানা ঝুঁকির মুখোমুখি হচ্ছেন।

প্রসঙ্গত, একই এলাকার নিকটবর্তী স্থানে গত ২৪ মে পরপর দুটি ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণের ঘটনায় তিনজন স্থানীয় আদিবাসী নিহত হন। ওই ঘটনার এক মাসেরও কম সময়ের ব্যবধানে আবারও মাইন বিস্ফোরণের ঘটনায় সীমান্তবাসীদের মধ্যে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো দ্রুত শনাক্ত করে কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম কায়রুল আলম মন্তব্য করেন, ঘুমধুম ইউনিয়নের ভালুকিয়া এলাকায় একটি মাইন বিস্ফোরণের ঘটনায় এক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। ঘটনাটি আমাদের নজরে এসেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পাকিস্তানে মানবাধিকারকর্মী মাহরাং বেলুচকে হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ২৪শে জুন, ২০২৬ ইং

০৭:৩৮ পি.এম


পাকিস্তানে মানবাধিকারকর্মী মাহরাং বেলুচকে হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে জোরপূর্বক গুমের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসা শীর্ষ মানবাধিকারকর্মী মাহরাং বেলুচকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। আদালতটি ২০২৪ সালের এক বিক্ষোভ সমাবেশে আধা-সামরিক বাহিনীর এক সেনা সদস্য হত্যার মামলায় কোয়েটার সন্ত্রাসবিরোধী আদালতে এই রায়টি দেয়।

রায়ে বলা হয়েছে, বেলুচিস্তান ইউনিটি কমিটির (বিওয়াইসি) নেতা মাহরাং বেলুচ এবং তার সহকর্মী সিবঘাতুল্লাহকে হত্যা ও সন্ত্রাসবাদের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৪ সালে এক সমাবেশে তারা জনতাকে উসকে দেন, যার ফলে আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য শাব্বির আহমেদ নিহত হন।

তবে, মাহরাং ও সিবঘাতুল্লাহ নিজেদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তারা এই মামলায় বিচার প্রক্রিয়া বয়কট করার সিদ্ধান্ত নেন। এক নিরাপত্তা কর্মকর্তার অভিযোগ অনুযায়ী, বন্দরনগরী গওয়াদারে অনুষ্ঠিত ওই বিক্ষোভে মাহরাং বেলুচ ‘অত্যন্ত উসকানিমূলক বক্তব্য’ দেন। এর ফলস্বরূপ ৩০ থেকে ৪০ জন বিক্ষোভকারী লাঠি ও পাথর নিয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর একটি গাড়িতে হামলা চালায়।

ওই নিরাপত্তা কর্মকর্তা দাবি করেন, বিশৃঙ্খলার মধ্যে শাব্বির আহমেদ অন্যান্য সদস্যদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন এবং পরে তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। কোয়েটার একটি সন্ত্রাসবিরোধী আদালতের রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে যে, মাহরাং বেলুচ ও সিবঘাতুল্লাহ বেলুচিস্তান ইউনিটি কমিটির অবৈধ সমাবেশে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিলেন এবং ফেডারেল কনস্ট্যাবুলারির সদস্য হত্যার জন্য তাদের অভিন্ন উদ্দেশ্য ছিল। আদালত তাদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি নিহত শাব্বির আহমেদের উত্তরাধিকারীদের দুই লাখ পাকিস্তানি রুপি জরিমানা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন অভিযোগের কারণে তারা ইতোমধ্যে দুই বছর ধরে কারাগারে রয়েছেন। এদিকে, এ রায়ের সমালোচনা করেছে পাকিস্তানের মানবাধিকার কমিশন (এইচআরসিপি)। সংস্থাটি রায় পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়ে বলেছে, মৌলিক অধিকার নিয়ে কাজ করা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও রাষ্ট্র চরমপন্থিদের মতো আচরণ করছে, যার ফলে প্রশাসনিক ও বিচারিক সিদ্ধান্তগুলো একপেশে ও পক্ষপাতদুষ্ট হয়ে উঠছে।

মাহরাং বেলুচের বোন নাদিয়া বেলুচ এবং তার আইনি দল দাবি করেছেন, বিচার প্রক্রিয়ায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হয়নি। তারা রায়কে প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, এটি একটি ‘অদৃশ্য আদালত’ থেকে ইস্যু করা হয়েছে এবং আসামিপক্ষের আইনজীবীদের প্রত্যক্ষদর্শীদের যথাযথভাবে জেরা করার সুযোগ দেয়া হয়নি। সুইডিশ পরিবেশকর্মী গ্রেটা থুনবার্গও এই বিচার প্রক্রিয়ার সমালোচনা করেছেন। তিনি এক বিবৃতিতে একে ‘ন্যায়বিচারের নামে প্রহসন’ বলে উল্লেখ করেন এবং অভিযোগ করেন যে, পাকিস্তান সরকার ভিন্নমতকে অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করছে।

যদিও বেলুচিস্তান সরকারের এক মুখপাত্র বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে বলেছেন, প্রসিকিউশনের হাতে অকাট্য প্রমাণ রয়েছে এবং মামলাটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত হয়নি। মাহরাং বেলুচ ২০২৪ সালে বিবিসির ‘১০০ নারী’ তালিকায় স্থান পেয়েছিলেন। ২০০৯ সালে তার বাবাকে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা তুলে নিয়ে গিয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

তথ্যসূত্র: বিবিসি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ডামুড্যায় মাদকবিরোধী অভিযানে একজনের এক বছরের কারাদণ্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৪শে জুন, ২০২৬ ইং

০৭:৩৮ পি.এম


ডামুড্যায় মাদকবিরোধী অভিযানে একজনের এক বছরের কারাদণ্ড

শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলায় চলা মাদকবিরোধী অভিযানে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে মো. ইদ্রিস হাওলাদার (২৫) এবং সুমাইয়া (১৮) নামের দুজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজনকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

বুধবার (২৪ জুন) বিকেল ৫টায় উপজেলার শিধলকুড়া ইউনিয়নের চরশিধলকুড়া গ্রামের আকনবাড়ি এলাকায় মোবাইল কোর্টের পরিচালনায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাহিদুল রহমান উপস্থিত ছিলেন।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের সূত্রে জানা যায়, ইদ্রিস হাওলাদারকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(৫) ধারায় তার বিরুদ্ধে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। অন্যদিকে সুমাইয়া’র ব্যাগ থেকে গাঁজার পুরিয়া উদ্ধার করা হয়, কিন্তু তিনি এই গাঁজার মালিকানা অস্বীকার করেন। গাঁজা বহন সংক্রান্ত অভিযোগ মোবাইল কোর্টে বিচারযোগ্য না হওয়ায়, তার বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা করে আদালতে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।

এই বিষয়টি নিয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাহিদুল রহমান মন্তব্য করেন যে, মাদকসমূহের বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে নিয়মিতভাবে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। প্রশাসন সমাজ থেকে মাদক বিস্তার রোধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। জনশৃঙ্খলা রক্ষা করা এবং একটি মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩০
ইশা ০৬:৪১
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:৩০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%