প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে জোরপূর্বক গুমের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসা শীর্ষ মানবাধিকারকর্মী মাহরাং বেলুচকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। আদালতটি ২০২৪ সালের এক বিক্ষোভ সমাবেশে আধা-সামরিক বাহিনীর এক সেনা সদস্য হত্যার মামলায় কোয়েটার সন্ত্রাসবিরোধী আদালতে এই রায়টি দেয়।
রায়ে বলা হয়েছে, বেলুচিস্তান ইউনিটি কমিটির (বিওয়াইসি) নেতা মাহরাং বেলুচ এবং তার সহকর্মী সিবঘাতুল্লাহকে হত্যা ও সন্ত্রাসবাদের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৪ সালে এক সমাবেশে তারা জনতাকে উসকে দেন, যার ফলে আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য শাব্বির আহমেদ নিহত হন।
তবে, মাহরাং ও সিবঘাতুল্লাহ নিজেদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তারা এই মামলায় বিচার প্রক্রিয়া বয়কট করার সিদ্ধান্ত নেন। এক নিরাপত্তা কর্মকর্তার অভিযোগ অনুযায়ী, বন্দরনগরী গওয়াদারে অনুষ্ঠিত ওই বিক্ষোভে মাহরাং বেলুচ ‘অত্যন্ত উসকানিমূলক বক্তব্য’ দেন। এর ফলস্বরূপ ৩০ থেকে ৪০ জন বিক্ষোভকারী লাঠি ও পাথর নিয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর একটি গাড়িতে হামলা চালায়।
ওই নিরাপত্তা কর্মকর্তা দাবি করেন, বিশৃঙ্খলার মধ্যে শাব্বির আহমেদ অন্যান্য সদস্যদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন এবং পরে তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। কোয়েটার একটি সন্ত্রাসবিরোধী আদালতের রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে যে, মাহরাং বেলুচ ও সিবঘাতুল্লাহ বেলুচিস্তান ইউনিটি কমিটির অবৈধ সমাবেশে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিলেন এবং ফেডারেল কনস্ট্যাবুলারির সদস্য হত্যার জন্য তাদের অভিন্ন উদ্দেশ্য ছিল। আদালত তাদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি নিহত শাব্বির আহমেদের উত্তরাধিকারীদের দুই লাখ পাকিস্তানি রুপি জরিমানা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন অভিযোগের কারণে তারা ইতোমধ্যে দুই বছর ধরে কারাগারে রয়েছেন। এদিকে, এ রায়ের সমালোচনা করেছে পাকিস্তানের মানবাধিকার কমিশন (এইচআরসিপি)। সংস্থাটি রায় পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়ে বলেছে, মৌলিক অধিকার নিয়ে কাজ করা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও রাষ্ট্র চরমপন্থিদের মতো আচরণ করছে, যার ফলে প্রশাসনিক ও বিচারিক সিদ্ধান্তগুলো একপেশে ও পক্ষপাতদুষ্ট হয়ে উঠছে।
মাহরাং বেলুচের বোন নাদিয়া বেলুচ এবং তার আইনি দল দাবি করেছেন, বিচার প্রক্রিয়ায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হয়নি। তারা রায়কে প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, এটি একটি ‘অদৃশ্য আদালত’ থেকে ইস্যু করা হয়েছে এবং আসামিপক্ষের আইনজীবীদের প্রত্যক্ষদর্শীদের যথাযথভাবে জেরা করার সুযোগ দেয়া হয়নি। সুইডিশ পরিবেশকর্মী গ্রেটা থুনবার্গও এই বিচার প্রক্রিয়ার সমালোচনা করেছেন। তিনি এক বিবৃতিতে একে ‘ন্যায়বিচারের নামে প্রহসন’ বলে উল্লেখ করেন এবং অভিযোগ করেন যে, পাকিস্তান সরকার ভিন্নমতকে অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করছে।
যদিও বেলুচিস্তান সরকারের এক মুখপাত্র বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে বলেছেন, প্রসিকিউশনের হাতে অকাট্য প্রমাণ রয়েছে এবং মামলাটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত হয়নি। মাহরাং বেলুচ ২০২৪ সালে বিবিসির ‘১০০ নারী’ তালিকায় স্থান পেয়েছিলেন। ২০০৯ সালে তার বাবাকে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা তুলে নিয়ে গিয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
তথ্যসূত্র: বিবিসি
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন