০১:২০ পি.এম
নড়াইল সদর উপজেলার ভদ্রবিলা এলাকায় ফুটবল খেলা নিয়ে বিরোধের কারণে একটি হত্যা ঘটনার পর প্রতিপক্ষের গ্রামে বর্বরোচিত তাণ্ডব ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এই হামলার ফলে ভদ্রবিলা গ্রামের অন্তত ১৫টি পরিবারের ৩০টিরও বেশি ঘরবাড়ি, রান্নাঘর, গোয়ালঘর ও দোকানপাট ভাঙচুর করে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। লুটপাটের সময় নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার এবং ঘরের মূল্যবান সামগ্রীও নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
বর্তমানে পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। নতুন করে হামলা ও লুটপাটের ভয়ে থমথমে ভদ্রবিলা গ্রাম ছেড়ে অনেকেই নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাচ্ছেন। যদিও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে, তবুও আতঙ্কিত বাসিন্দাদের মধ্যে তাঁদের ঘর থেকে ধান-চালসহ শেষ সম্বলটুকু অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার হিড়িক পড়ে গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফুটবল খেলা নিয়ে ভদ্রবিলা ও পলাইডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এরই জেরে গত ৩ জুলাই পলাইডাঙ্গা গ্রামের মোস্তফা কাজী প্রতিপক্ষের হামলায় নিহত হন। এবিষয়ের খবর ছড়িয়ে পড়লে ওই দিনই ভদ্রবিলা গ্রামে লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে অতর্কিত হামলা চালায় প্রতিপক্ষের লোকজন।
আরও পড়ুন: বি আর বি ক্যাবল, ৪৮ বছর বিশ্বাসের পথে সমৃদ্ধির যাত্রা
সরেজমিনে ভদ্রবিলা গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, চারদিকে শুধুই ধ্বংসের ক্ষতচিহ্ন। দোকানপাট, বসতঘর থেকে শুরু করে গোয়ালঘর—কোনো কিছুই হামলাকারীদের হাত থেকে বাদ যায়নি। ঘরের ভেতরের খাট-পালং, শোকেস, আলনা ও আলমারি ভেঙে তছনছ করা হয়েছে।
সন্ত্রাসী তাণ্ডবে সর্বস্ব হারিয়ে এভাবেই কেঁদে নিজের আকুতি জানাচ্ছিলেন ভদ্রবিলা গ্রামের ইন্তাজ মোল্যার স্ত্রী জাহানারা বেগম। তিনি বলছেন, “ঘাম ঝরানোর শ্রমে তিল তিল করে ২০ বছর ধরে এই সাজানো সংসার গড়ে তুলেছিলাম। চোখের সামনে সব মাটিতে মিশিয়ে দেয়। সব লুট করে নিয়ে গেছে, এখন আমাদের আর কিছুই বাকি নেই।”
একই গ্রামের লাল্টু বিশ্বাসের স্ত্রী রচনা বেগমের বাড়ির অবস্থাও একই। সবকিছু হারিয়ে তিনি যেন বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। কথা বলার শক্তিটুকুও হারিয়ে ফেলেছেন। বর্তমানে গ্রামের ভুক্তভোগী নারীরা এখন খোলা আকাশের নিচে ধ্বংসস্তূপের দিকে তাকিয়ে নীরবে চোখের পানি ফেলছেন।
এদিকে গ্রামে নতুন করে কোনো সহিংসতা বা বিশৃঙ্খলা যাতে না ঘটে, সে জন্য জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং গ্রামে সার্বক্ষণিক টহল দিচ্ছে অতিরিক্ত পুলিশ।
আরও পড়ুন: রাঙামাটিতে বাস থেকে ১৫ কেজি গাঁজা উদ্ধার, আটক ২
নড়াইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. রকিবুল হাসান জানিয়েছেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য এলাকায় পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। যেকোনো ধরনের অপরাধ বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা হলে জেলা পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে। ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাটের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের জন্য জোরদার অভিযান চলছে।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করায় সাধারণ মানুষ দ্রুত অপরাধীদের গ্রেপ্তার করার এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন