ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বারবার প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধিতে বিরক্ত প্রধানমন্ত্রী


বারবার প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধিতে বিরক্ত প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী এবং একনেক চেয়ারম্যান তারেক রহমান বারবার প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধির প্রবণতায় তীব্র ক্ষোভ ও বিরক্তি প্রকাশ করেছেন। যেসব কর্মকর্তার অবহেলা বা গাফিলতির কারণে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ছে, তাদের খুঁজে বের করে দ্রুত শাস্তির আওতায় আনার জন্য সংশ্লিষ্টদের কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (৯ জুন) বাংলাদেশ সচিবালয় কক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এই নির্দেশনা দেওয়া হয়।

সভার সময়ে মোট ৩ হাজার ৮৯০ কোটি ৯৭ লাখ টাকা ব্যয় সম্বলিত ১০টি প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে। অনুমোদিত ব্যয়ের মধ্যে রয়েছে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ৩ হাজার ৮১০ কোটি ৬২ লাখ টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব তহবিল থেকে ৮০ কোটি ৩৫ লাখ টাকা জোগান দেওয়ার কথা।

আরও পড়ুন: প্রতিবন্ধীদের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করলেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, একনেক সভায় খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন প্রকল্পের তৃতীয় সংশোধনের প্রস্তাব উপস্থাপন করা হলে প্রধানমন্ত্রী সেই প্রস্তাবে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন। বারবার মেয়াদ বৃদ্ধির কারণে প্রকল্পটি অনুমোদন না দিয়ে একনেক সভা থেকে ফেরত পাঠানো হয়। প্রধানমন্ত্রী এই প্রকল্পের জন্য কোন কর্মকর্তার কারণে বারবার মেয়াদ বেড়ে চলেছে, তাকে চিহ্নিত করার তাগিদ দেন।

সভায় তিনি সবার জন্য প্রকল্পের খরচ কমানো এবং রেট সিডিউল একীভূত করার নির্দেশ দেন। এলজিইডি ও পিডাব্লিউডিসহ বিভিন্ন বিভাগের রেট সিডিউল আলাদা হওয়ায় তিনি বিরক্তি প্রকাশ করেন এবং অধিকাংশ প্রকল্পের ব্যয়কে অস্বাভাবিক মনে করেন। তাই সকল বিভাগের রেট সিডিউল দ্রুততম সময়ের মধ্যে একই কাঠামোতে নিয়ে আসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সড়কের পাশে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর ইউক্যালিপটাস বা ইপিল-ইপিল গাছ না লাগানোর জন্য সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে প্রধানমন্ত্রী জানান, 'বিনা কারণে গাছ কেটে ফেলা মানুষ হিসেবে আমাকে ব্যথিত করে।'

এদিনের সভায় অনুমোদিত ১০টি প্রকল্পের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত বরিশাল সেচ প্রকল্পের রক্ষণাবেক্ষণ ও পুনর্বাসন (১ম পর্যায়), সমন্বিত উপজেলা ভূমি কমপ্লেক্স নির্মাণ, ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের নগর ভবন নির্মাণ এবং আনোয়ারা-বাঁশখালী-টইটং-পেকুয়া-বদরখালী-চকরিয়া আঞ্চলিক মহাসড়ক যথাযথমান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ প্রকল্প।

আরও পড়ুন: ফেনীতে সাংবাদিককে মারধর ও হত্যার হুমকির অভিযোগে সাবেক কাউন্সিলর আটক

এছাড়া বাংলাদেশের ৩৩টি জেলায় সার্কিট হাউজ ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, ঠাকুরগাঁওয়ে লিফট সংযোজন, বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট সম্প্রসারণ, ঢাকা সিএমএইচে ক্যান্সার সেন্টার নির্মাণ (২য় পর্যায়), মাদ্রাসা এডুকেশন ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম (এমইএমআইএস) সাপোর্ট, দেশের ৬৫৩টি মাদ্রাসায় মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন এবং বিদ্যমান গ্রিড উপকেন্দ্র ও সঞ্চালন লাইনের ক্ষমতাবর্ধন (১ম সংশোধিত) প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, দীর্ঘ প্রায় এক দশক ধরে ঝুলে থাকা ‘চাইনিজ ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন’ (সিইআইজেড) প্রকল্পটির জট অবশেষে খুলতে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চলতি মাসের ২৩ থেকে ২৬ তারিখ পর্যন্ত নির্ধারিত চার দিনের চীন সফরের আগেই এই অঞ্চলের অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প একনেকের এজেন্ডায় বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এটি বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের ‘ভঙ্গুর অর্থনীতির পুনর্গঠন ও পুনরুদ্ধার’ এবং ‘চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে প্রতিষ্ঠা’ করার প্রতিশ্রুতিরই অংশ। চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর পূর্ব তীরে আনোয়ারা উপজেলার বেলচূড়া এলাকায় প্রায় ৮০০ একর জমির ওপর এই অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চলটি গড়ে তোলা হচ্ছে, যা বঙ্গবন্ধু টানেল থেকে মাত্র চার কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।

বিশেষ এই অর্থনৈতিক অঞ্চলের অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ১৮৯ কোটি টাকা, যার মধ্যে ২ হাজার ৪৬৭ কোটি টাকা চীনা ঋণ এবং বাকি অংশ বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে দেওয়া হবে। চীনের ‘চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশন’ (সিআরবিসি) জিটুজি ভিত্তিতে ২০৩১ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে এই প্রকল্পের কাজ শেষ করবে। এই প্রকল্পের আওতায় সেতুসহ সংযোগ সড়ক, ২০ হাজার ৩০৪ ঘনমিটার ধারণক্ষমতার পানি সংরক্ষণাগার, গ্যাস পাইপলাইন, ২৫ এমএলডি ক্ষমতাসম্পন্ন কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার (সিইটিপি), কঠিন বর্জ্য সংগ্রহ স্টেশন, ২০ হাজার ডিডব্লিউটি ধারণক্ষমতার বহুমুখী জেটি, বিদ্যুৎ সাবস্টেশন এবং ১২ কিলোমিটার সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করা হবে।

আরও পড়ুন: ইসরাইলে নির্বাচন: ৮৫ শতাংশ ভোট গণনা শেষ, চূড়ান্ত ফলাফল দুই দিনে আসবে

২০১৬ সালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ঢাকা সফরের সময় এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হলেও তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের অনীহা, ডিপিপি অনুমোদন ও অর্থায়ন জটিলতায় প্রকল্পটি স্থবির হয়ে পড়েছিল। পরবর্তী সময়ে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের চীন সফরকে কেন্দ্র করে এই প্রক্রিয়া গতি পায় এবং বর্তমান বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর তা চূড়ান্ত অনুমোদনের পর্যায়ে নিয়ে আসে। এই প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এক লাখের বেশি মানুষের কর্মসংস্থান হবে এবং ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ (এফডিআই) আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রথম মাইলপাথের খাতও চূড়ান্ত করা হয়েছে, যেখানে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে শুরু করে ২০৩০-৩১ অর্থবছর পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে নিজস্ব তহবিল ও ঋণের অর্থ খরচ করা হবে।

সভায় অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ মন্ত্রিপরিষদের সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফুটবল উন্মাদনায় বাধা হবে না তো লোডশেডিং?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৯ই জুন, ২০২৬ ইং

০৮:০৮ পি.এম


ফুটবল উন্মাদনায় বাধা হবে না তো লোডশেডিং?

ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ-২০২৬ দুয়ারে কড়া নাড়ছে। এই বিশ্বমঞ্চের মহারণকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ফুটবল উন্মাদনা ইতোমধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে।

পাড়া-মহল্লার চায়ের দোকান থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম—সবখানেই ফুটবল নিয়ে দারুণ আলোচনা চলছে। তবে এই উম্মাদনার মাঝে ফুটবলপ্রেমীদের মনে হাজির হচ্ছে একটি বড় শঙ্কা; চলমান গ্রীষ্মকালীন বিদ্যুৎ সংকট ও ঘন ঘন লোডশেডিং খেলা উপভোগের আনন্দে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে কি?

এরপরেও বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) ফুটবলপ্রেমীদের জন্য আশার বার্তা দিয়েছে। সংস্থাটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিশ্বকাপ চলাকালে দেশের বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে তাদের সকল প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই নেওয়া হচ্ছে। চলমান লোডশেডিং কমিয়ে আনাই এখন তাদের প্রধান লক্ষ্য।

বিপিডিবি সূত্রে তথ্য পাওয়া গেছে, চলতি গ্রীষ্ম মৌসুমে বিদ্যুতের চাহিদা গত সময়ের তুলনায় অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। এর মধ্যে প্রতিদিন গড়ে ১৪ হাজার থেকে ১৫ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে। ন্যাশনাল লোড ডিসপ্যাচ সেন্টারের (এনএলডিসি) সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত দুই-তিন দিনে দেশে সর্বোচ্চ ৬০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত লোডশেডিং হয়েছে।

সরকারি খাতায় লোডশেডিংয়ের পরিমাণ কম হলেও, দেশের গ্রাম ও শহরের বাস্তব চিত্র অনেক অনিয়মিত। ঢাকা শহরের বাইরের বিভিন্ন এলাকায় দিনে কয়েকবার বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হওয়ার অভিযোগ সাধারণ মানুষের মধ্যে রয়েছে। মাঝে মধ্যে বিদ্যুৎ গেলে এক ঘণ্টারও বেশি সময় লাগছে ফিরে আসতে, আবার কিছু এলাকায় টানা কয়েক ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন অবস্থারও ঘটনা ঘটছে। এর ফলে খেলা দেখার সময় বিদ্যুৎ চলে যাওয়া নিয়ে গ্রাহকদের উৎকণ্ঠা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

এ বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে বিপিডিবির চেয়ারম্যান রেজাউল করিম বলেছেন, 'এখনও কিছু এলাকায় সামান্য লোডশেডিং রয়েছে, এটি সত্যি। মূলত কয়েকটি ছোট বিদ্যুৎকেন্দ্র জরুরি মেরামতের জন্য সাময়িক বন্ধ থাকায় এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।

তবে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টায় আছি খেলা শুরুর পূর্বে সেগুলো দ্রুত মেরামত করে পুরোপুরি উৎপাদনে ফিরিয়ে আনতে।'

বিশ্বকাপ চলাকালে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের বিশেষ পরিকল্পনা সম্পর্কে জানার সময় চেয়ারম্যান আশ্বস্ত করেছেন, 'ফুটবল বিশ্বকাপের বিষয়টি মাথায় রেখেই আমরা আমাদের সার্বিক প্রস্তুতি নিচ্ছি। দেশের মানুষ যাতে নির্বিঘ্নে খেলা উপভোগ করতে পারেন, সে জন্য যেকোনো পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে মাঠ পর্যায়ের প্রকৌশলীদের প্রয়োজনীয় সব নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জামালপুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে নির্মাণশ্রমিকের মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৯ই জুন, ২০২৬ ইং

০৮:০৮ পি.এম


জামালপুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে নির্মাণশ্রমিকের মৃত্যু

জামালপুরের মেলান্দহে বন্যা আশ্রয় কেন্দ্রের পাইলিংয়ের নির্মাণকাজ চলাকালীন বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আকরাম হোসেন (৩০) নামের এক শ্রমিকের মৃত্যু ঘটে।

মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুরে উপজেলার নাংলা ইউনিয়নের হরিপুর হোসেনিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে।

নিহত আকরাম হোসেন ময়মনসিংহ জেলার ফুলপুর উপজেলার তারাকান্দি এলাকার খোকন মিয়ার ছেলে। স্থানীয় সূত্রের মাধ্যমে জানা যায়, নাংলা ইউনিয়ন হরিপুর হোসেনিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের নির্মাণকাজের অংশ হিসেবে সকাল থেকে বন্যা আশ্রয় কেন্দ্রের পাইলিংয়ের কাজ করে আসছিলেন আকরাম। দুপুরের দিকে তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন এবং পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়ার পথে আকরামের মৃত্যু ঘটে।

মেলান্দহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওবায়দুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে এই ঘটনায় জানান, এ ঘটনায় এখনও কোনো অভিযোগ তারা পায়নি। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গাজীপুরে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় সবজি ব্যবসায়ীর মৃত্যু, ৫ জন আহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৯ই জুন, ২০২৬ ইং

০৮:১১ পি.এম


গাজীপুরে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় সবজি ব্যবসায়ীর মৃত্যু, ৫ জন আহত

গাজীপুরে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় আহত পাঁচজনের সঙ্গে নিহত হয়েছেন এক সবজি ব্যবসায়ী। মঙ্গলবার (৯ জুন) সকালে জেলার কাপাসিয়া এবং রাজেন্দ্রপুর এলাকায় দুটি আলাদা দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত নুরুল ইসলাম (৪৫) ছিলেন কাপাসিয়া বাজারের একজন সবজি ব্যবসায়ী। স্থানীয় সূত্র থেকে জানা যায়, ভোরবেলায় তিনি গাজীপুর চৌরাস্তা থেকে একটি পিকআপভ্যানের মাধ্যমে ব্যবসায়িক মালামাল নিয়ে কাপাসিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। পথে ঢাকা-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের রাজেন্দ্রপুর চৌরাস্তা এলাকায় গিয়ে পিকআপভ্যানটির একটি চাকা পাংচার হয়ে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গাড়ির চালক রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে চাকা পরিবর্তনের কাজ করছিলেন। এ সময় নুরুল ইসলাম পিকআপভ্যানের পিছনে অবস্থান করছিলেন। হঠাৎ করে দ্রুতগতির আরেকটি পিকআপভ্যান এসে তাকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু ঘটে। কাপাসিয়া বাজারের ব্যবসায়ী চিত্ত রঞ্জন সাহা এই সম্পর্কে বলেন, ‘নুরুল প্রতিদিনের মতোই মালামাল নিয়ে বাজারে ফিরছিলেন। কিন্তু পথেই দুর্ঘটনার শিকার হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে।’ সালনা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাহাবুর রহমান জানান, নিহতের মৃতদেহ উদ্ধার করে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। অন্যদিকে সকাল সাড়ে ৭টার দিকে কাপাসিয়া উপজেলার জলপাইতলা এলাকায় একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে, যাতে অন্তত পাঁচজন আহত হন। বাসের যাত্রীরা জানান, সংঘর্ষের পর বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের একটি বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে আটকে যায়। ফলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে। অন্যথায়, বাসটি পাশের খাদে পড়লে অন্য আরও হতাহতের ঘটনা ঘটতে পারতো। কাপাসিয়া থানার অফিসার ইন চার্জ (ওসি) নাছির আহমেদ জানান, আহতদের কাপাসিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ স্থানীয় বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসার জন্য ভর্তিকরা হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

টুনা মাছ প্রক্রিয়াকরণে সহায়তা দেবে মালদ্বীপ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৯ই জুন, ২০২৬ ইং

০৮:১৩ পি.এম


টুনা মাছ প্রক্রিয়াকরণে সহায়তা দেবে মালদ্বীপ

বাংলাদেশে টুনা মাছ আহরণ, মৎস্য শিল্পের বিস্তার ও নীল অর্থনীতির বিকাশে মালদ্বীপ কারিগরি ও কৌশলগত সহযোগিতা দেবে। এই সহযোগিতার ফলে, দেশটির বিশ্বমানের টুনা শিল্পের সফল অভিজ্ঞতা এবং প্রযুক্তি বাংলাদেশের উদীয়মান সামুদ্রিক মৎস্য খাতে নতুন দিগন্তের সূচনা করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

সোমবার (৮ জুন) মালদ্বীপ সরকারের মৎস্য, কৃষি ও মহাসাগরীয় সম্পদ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ শিয়ামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশ হাইকমিশনার ড. মোহাম্মদ নাজমুল ইসলাম। এই সময়ে দু’দেশের মধ্যে টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং মৎস্য ও সামুদ্রিক সম্পদ খাতের দ্বিপাক্ষিক অংশীদারিত্ব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে বাংলাদেশ হাইকমিশনার উল্লেখ করেন, টেকসই টুনা মৎস্য ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে মালদ্বীপ আন্তর্জাতিকভাবে একটি সফল মডেল হিসেবে পরিচিত। মালদ্বীপের এই বিশ্বখ্যাত টুনা শিল্পের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের বিশাল সমুদ্রসীমায় টুনা মাছ আহরণ, বাণিজ্য, যৌথ বিনিয়োগ, আধুনিক মৎস্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও আন্তর্জাতিক বাজারে রফতানি বৃদ্ধির ব্যাপক সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে, বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান সামুদ্রিক খাদ্য শিল্প দুই দেশের পারস্পরিক লাভজনক অংশীদারিত্বের বড় ক্ষেত্র হতে পারে।

সাক্ষাতে, মালদ্বীপের মৎস্য ও কৃষি মন্ত্রী বাংলাদেশের ব্লু-ইকোনমি বা নীল অর্থনীতি ও মৎস্য শিল্পের বিকাশে সব ধরনের সহযোগিতার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি, মালদ্বীপে কর্মরত প্রবাসী বাংলাদেশি মৎস্যকর্মীদের কঠোর পরিশ্রম, পেশাদারিত্ব এবং নিষ্ঠার ভূয়সী প্রশংসা করেন।

এছাড়াও, এ খাতে কর্মরত প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধি করতে বিশেষায়িত যৌথ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি গ্রহণ এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতামূলক উদ্যোগসমূহ বাস্তবায়নের জন্য দুই দেশের মধ্যে একটি যৌথ সমন্বয় ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রস্তাবও উত্থাপন করেন তিনি।

বৈঠকে উভয় পক্ষ নীল অর্থনীতি ও সামুদ্রিক সম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনার গুরুত্বের উপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। এ লক্ষ্যে প্রযুক্তিগত বিনিময়, যৌথ গবেষণা, প্রশিক্ষণ কর্মসূচি ও প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেন। সমুদ্রভিত্তিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ও মালদ্বীপ একসঙ্গে কাজ করবে বলেও উভয় পক্ষ আশা প্রকাশ করেন।

এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মালদ্বীপে বাংলাদেশ হাইকমিশনের পারসোনাল অফিসার মো. হাবিবুর রহমান জানান, বৈঠকে মৎস্য খাতের পাশাপাশি মালদ্বীপের কৃষি উৎপাদন সম্প্রসারণে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি, মানসম্পন্ন বীজ উৎপাদন ও কৃষি গবেষণার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা এবং সাফল্যের বিষয়ে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করে দেশটির সরকার।

এছাড়াও, এ বিষয়ে ভবিষ্যৎ সহযোগিতাকে আরও কাঠামোগত করতে একটি দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের সম্ভাবনা নিয়েও নীতিগত আলোচনা হয় বলেও জানান তিনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%