০৮:১৩ পি.এম
বাংলাদেশে টুনা মাছ আহরণ, মৎস্য শিল্পের বিস্তার ও নীল অর্থনীতির বিকাশে মালদ্বীপ কারিগরি ও কৌশলগত সহযোগিতা দেবে। এই সহযোগিতার ফলে, দেশটির বিশ্বমানের টুনা শিল্পের সফল অভিজ্ঞতা এবং প্রযুক্তি বাংলাদেশের উদীয়মান সামুদ্রিক মৎস্য খাতে নতুন দিগন্তের সূচনা করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
সোমবার (৮ জুন) মালদ্বীপ সরকারের মৎস্য, কৃষি ও মহাসাগরীয় সম্পদ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ শিয়ামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশ হাইকমিশনার ড. মোহাম্মদ নাজমুল ইসলাম। এই সময়ে দু’দেশের মধ্যে টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং মৎস্য ও সামুদ্রিক সম্পদ খাতের দ্বিপাক্ষিক অংশীদারিত্ব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশ হাইকমিশনার উল্লেখ করেন, টেকসই টুনা মৎস্য ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে মালদ্বীপ আন্তর্জাতিকভাবে একটি সফল মডেল হিসেবে পরিচিত। মালদ্বীপের এই বিশ্বখ্যাত টুনা শিল্পের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের বিশাল সমুদ্রসীমায় টুনা মাছ আহরণ, বাণিজ্য, যৌথ বিনিয়োগ, আধুনিক মৎস্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও আন্তর্জাতিক বাজারে রফতানি বৃদ্ধির ব্যাপক সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে, বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান সামুদ্রিক খাদ্য শিল্প দুই দেশের পারস্পরিক লাভজনক অংশীদারিত্বের বড় ক্ষেত্র হতে পারে।
আরও পড়ুন: যাত্রাবাড়ীতে ছিনতাই সন্দেহে গণপিটুনিতে আহত যুবক নিশাত মিয়ার মৃত্যু
সাক্ষাতে, মালদ্বীপের মৎস্য ও কৃষি মন্ত্রী বাংলাদেশের ব্লু-ইকোনমি বা নীল অর্থনীতি ও মৎস্য শিল্পের বিকাশে সব ধরনের সহযোগিতার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি, মালদ্বীপে কর্মরত প্রবাসী বাংলাদেশি মৎস্যকর্মীদের কঠোর পরিশ্রম, পেশাদারিত্ব এবং নিষ্ঠার ভূয়সী প্রশংসা করেন।
এছাড়াও, এ খাতে কর্মরত প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধি করতে বিশেষায়িত যৌথ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি গ্রহণ এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতামূলক উদ্যোগসমূহ বাস্তবায়নের জন্য দুই দেশের মধ্যে একটি যৌথ সমন্বয় ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রস্তাবও উত্থাপন করেন তিনি।
বৈঠকে উভয় পক্ষ নীল অর্থনীতি ও সামুদ্রিক সম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনার গুরুত্বের উপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। এ লক্ষ্যে প্রযুক্তিগত বিনিময়, যৌথ গবেষণা, প্রশিক্ষণ কর্মসূচি ও প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেন। সমুদ্রভিত্তিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ও মালদ্বীপ একসঙ্গে কাজ করবে বলেও উভয় পক্ষ আশা প্রকাশ করেন।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মালদ্বীপে বাংলাদেশ হাইকমিশনের পারসোনাল অফিসার মো. হাবিবুর রহমান জানান, বৈঠকে মৎস্য খাতের পাশাপাশি মালদ্বীপের কৃষি উৎপাদন সম্প্রসারণে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি, মানসম্পন্ন বীজ উৎপাদন ও কৃষি গবেষণার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা এবং সাফল্যের বিষয়ে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করে দেশটির সরকার।
আরও পড়ুন: গণভোটের রায় না মানলে তারেক রহমানের ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই: জুনায়েদ
এছাড়াও, এ বিষয়ে ভবিষ্যৎ সহযোগিতাকে আরও কাঠামোগত করতে একটি দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের সম্ভাবনা নিয়েও নীতিগত আলোচনা হয় বলেও জানান তিনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন