ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ফুটবল উন্মাদনায় বাধা হবে না তো লোডশেডিং?


ফুটবল উন্মাদনায় বাধা হবে না তো লোডশেডিং?

ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ-২০২৬ দুয়ারে কড়া নাড়ছে। এই বিশ্বমঞ্চের মহারণকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ফুটবল উন্মাদনা ইতোমধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে।

পাড়া-মহল্লার চায়ের দোকান থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম—সবখানেই ফুটবল নিয়ে দারুণ আলোচনা চলছে। তবে এই উম্মাদনার মাঝে ফুটবলপ্রেমীদের মনে হাজির হচ্ছে একটি বড় শঙ্কা; চলমান গ্রীষ্মকালীন বিদ্যুৎ সংকট ও ঘন ঘন লোডশেডিং খেলা উপভোগের আনন্দে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে কি?

এরপরেও বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) ফুটবলপ্রেমীদের জন্য আশার বার্তা দিয়েছে। সংস্থাটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিশ্বকাপ চলাকালে দেশের বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে তাদের সকল প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই নেওয়া হচ্ছে। চলমান লোডশেডিং কমিয়ে আনাই এখন তাদের প্রধান লক্ষ্য।

আরও পড়ুন: ইসরাইলে নির্বাচন: ৮৫ শতাংশ ভোট গণনা শেষ, চূড়ান্ত ফলাফল দুই দিনে আসবে

বিপিডিবি সূত্রে তথ্য পাওয়া গেছে, চলতি গ্রীষ্ম মৌসুমে বিদ্যুতের চাহিদা গত সময়ের তুলনায় অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। এর মধ্যে প্রতিদিন গড়ে ১৪ হাজার থেকে ১৫ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে। ন্যাশনাল লোড ডিসপ্যাচ সেন্টারের (এনএলডিসি) সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত দুই-তিন দিনে দেশে সর্বোচ্চ ৬০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত লোডশেডিং হয়েছে।

সরকারি খাতায় লোডশেডিংয়ের পরিমাণ কম হলেও, দেশের গ্রাম ও শহরের বাস্তব চিত্র অনেক অনিয়মিত। ঢাকা শহরের বাইরের বিভিন্ন এলাকায় দিনে কয়েকবার বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হওয়ার অভিযোগ সাধারণ মানুষের মধ্যে রয়েছে। মাঝে মধ্যে বিদ্যুৎ গেলে এক ঘণ্টারও বেশি সময় লাগছে ফিরে আসতে, আবার কিছু এলাকায় টানা কয়েক ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন অবস্থারও ঘটনা ঘটছে। এর ফলে খেলা দেখার সময় বিদ্যুৎ চলে যাওয়া নিয়ে গ্রাহকদের উৎকণ্ঠা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

এ বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে বিপিডিবির চেয়ারম্যান রেজাউল করিম বলেছেন, 'এখনও কিছু এলাকায় সামান্য লোডশেডিং রয়েছে, এটি সত্যি। মূলত কয়েকটি ছোট বিদ্যুৎকেন্দ্র জরুরি মেরামতের জন্য সাময়িক বন্ধ থাকায় এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।

তবে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টায় আছি খেলা শুরুর পূর্বে সেগুলো দ্রুত মেরামত করে পুরোপুরি উৎপাদনে ফিরিয়ে আনতে।'

আরও পড়ুন: কেপটাউনে অস্ট্রেলিয়ার দাপট, ৩৩০ রান করে ১ রানের লিড

বিশ্বকাপ চলাকালে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের বিশেষ পরিকল্পনা সম্পর্কে জানার সময় চেয়ারম্যান আশ্বস্ত করেছেন, 'ফুটবল বিশ্বকাপের বিষয়টি মাথায় রেখেই আমরা আমাদের সার্বিক প্রস্তুতি নিচ্ছি। দেশের মানুষ যাতে নির্বিঘ্নে খেলা উপভোগ করতে পারেন, সে জন্য যেকোনো পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে মাঠ পর্যায়ের প্রকৌশলীদের প্রয়োজনীয় সব নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জামালপুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে নির্মাণশ্রমিকের মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৯ই জুন, ২০২৬ ইং

০৮:০৮ পি.এম


জামালপুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে নির্মাণশ্রমিকের মৃত্যু

জামালপুরের মেলান্দহে বন্যা আশ্রয় কেন্দ্রের পাইলিংয়ের নির্মাণকাজ চলাকালীন বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আকরাম হোসেন (৩০) নামের এক শ্রমিকের মৃত্যু ঘটে।

মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুরে উপজেলার নাংলা ইউনিয়নের হরিপুর হোসেনিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে।

নিহত আকরাম হোসেন ময়মনসিংহ জেলার ফুলপুর উপজেলার তারাকান্দি এলাকার খোকন মিয়ার ছেলে। স্থানীয় সূত্রের মাধ্যমে জানা যায়, নাংলা ইউনিয়ন হরিপুর হোসেনিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের নির্মাণকাজের অংশ হিসেবে সকাল থেকে বন্যা আশ্রয় কেন্দ্রের পাইলিংয়ের কাজ করে আসছিলেন আকরাম। দুপুরের দিকে তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন এবং পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়ার পথে আকরামের মৃত্যু ঘটে।

মেলান্দহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওবায়দুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে এই ঘটনায় জানান, এ ঘটনায় এখনও কোনো অভিযোগ তারা পায়নি। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গাজীপুরে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় সবজি ব্যবসায়ীর মৃত্যু, ৫ জন আহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৯ই জুন, ২০২৬ ইং

০৮:১১ পি.এম


গাজীপুরে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় সবজি ব্যবসায়ীর মৃত্যু, ৫ জন আহত

গাজীপুরে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় আহত পাঁচজনের সঙ্গে নিহত হয়েছেন এক সবজি ব্যবসায়ী। মঙ্গলবার (৯ জুন) সকালে জেলার কাপাসিয়া এবং রাজেন্দ্রপুর এলাকায় দুটি আলাদা দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত নুরুল ইসলাম (৪৫) ছিলেন কাপাসিয়া বাজারের একজন সবজি ব্যবসায়ী। স্থানীয় সূত্র থেকে জানা যায়, ভোরবেলায় তিনি গাজীপুর চৌরাস্তা থেকে একটি পিকআপভ্যানের মাধ্যমে ব্যবসায়িক মালামাল নিয়ে কাপাসিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। পথে ঢাকা-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের রাজেন্দ্রপুর চৌরাস্তা এলাকায় গিয়ে পিকআপভ্যানটির একটি চাকা পাংচার হয়ে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গাড়ির চালক রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে চাকা পরিবর্তনের কাজ করছিলেন। এ সময় নুরুল ইসলাম পিকআপভ্যানের পিছনে অবস্থান করছিলেন। হঠাৎ করে দ্রুতগতির আরেকটি পিকআপভ্যান এসে তাকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু ঘটে। কাপাসিয়া বাজারের ব্যবসায়ী চিত্ত রঞ্জন সাহা এই সম্পর্কে বলেন, ‘নুরুল প্রতিদিনের মতোই মালামাল নিয়ে বাজারে ফিরছিলেন। কিন্তু পথেই দুর্ঘটনার শিকার হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে।’ সালনা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাহাবুর রহমান জানান, নিহতের মৃতদেহ উদ্ধার করে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। অন্যদিকে সকাল সাড়ে ৭টার দিকে কাপাসিয়া উপজেলার জলপাইতলা এলাকায় একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে, যাতে অন্তত পাঁচজন আহত হন। বাসের যাত্রীরা জানান, সংঘর্ষের পর বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের একটি বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে আটকে যায়। ফলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে। অন্যথায়, বাসটি পাশের খাদে পড়লে অন্য আরও হতাহতের ঘটনা ঘটতে পারতো। কাপাসিয়া থানার অফিসার ইন চার্জ (ওসি) নাছির আহমেদ জানান, আহতদের কাপাসিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ স্থানীয় বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসার জন্য ভর্তিকরা হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

টুনা মাছ প্রক্রিয়াকরণে সহায়তা দেবে মালদ্বীপ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৯ই জুন, ২০২৬ ইং

০৮:১৩ পি.এম


টুনা মাছ প্রক্রিয়াকরণে সহায়তা দেবে মালদ্বীপ

বাংলাদেশে টুনা মাছ আহরণ, মৎস্য শিল্পের বিস্তার ও নীল অর্থনীতির বিকাশে মালদ্বীপ কারিগরি ও কৌশলগত সহযোগিতা দেবে। এই সহযোগিতার ফলে, দেশটির বিশ্বমানের টুনা শিল্পের সফল অভিজ্ঞতা এবং প্রযুক্তি বাংলাদেশের উদীয়মান সামুদ্রিক মৎস্য খাতে নতুন দিগন্তের সূচনা করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

সোমবার (৮ জুন) মালদ্বীপ সরকারের মৎস্য, কৃষি ও মহাসাগরীয় সম্পদ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ শিয়ামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশ হাইকমিশনার ড. মোহাম্মদ নাজমুল ইসলাম। এই সময়ে দু’দেশের মধ্যে টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং মৎস্য ও সামুদ্রিক সম্পদ খাতের দ্বিপাক্ষিক অংশীদারিত্ব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে বাংলাদেশ হাইকমিশনার উল্লেখ করেন, টেকসই টুনা মৎস্য ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে মালদ্বীপ আন্তর্জাতিকভাবে একটি সফল মডেল হিসেবে পরিচিত। মালদ্বীপের এই বিশ্বখ্যাত টুনা শিল্পের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের বিশাল সমুদ্রসীমায় টুনা মাছ আহরণ, বাণিজ্য, যৌথ বিনিয়োগ, আধুনিক মৎস্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও আন্তর্জাতিক বাজারে রফতানি বৃদ্ধির ব্যাপক সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে, বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান সামুদ্রিক খাদ্য শিল্প দুই দেশের পারস্পরিক লাভজনক অংশীদারিত্বের বড় ক্ষেত্র হতে পারে।

সাক্ষাতে, মালদ্বীপের মৎস্য ও কৃষি মন্ত্রী বাংলাদেশের ব্লু-ইকোনমি বা নীল অর্থনীতি ও মৎস্য শিল্পের বিকাশে সব ধরনের সহযোগিতার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি, মালদ্বীপে কর্মরত প্রবাসী বাংলাদেশি মৎস্যকর্মীদের কঠোর পরিশ্রম, পেশাদারিত্ব এবং নিষ্ঠার ভূয়সী প্রশংসা করেন।

এছাড়াও, এ খাতে কর্মরত প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধি করতে বিশেষায়িত যৌথ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি গ্রহণ এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতামূলক উদ্যোগসমূহ বাস্তবায়নের জন্য দুই দেশের মধ্যে একটি যৌথ সমন্বয় ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রস্তাবও উত্থাপন করেন তিনি।

বৈঠকে উভয় পক্ষ নীল অর্থনীতি ও সামুদ্রিক সম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনার গুরুত্বের উপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। এ লক্ষ্যে প্রযুক্তিগত বিনিময়, যৌথ গবেষণা, প্রশিক্ষণ কর্মসূচি ও প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেন। সমুদ্রভিত্তিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ও মালদ্বীপ একসঙ্গে কাজ করবে বলেও উভয় পক্ষ আশা প্রকাশ করেন।

এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মালদ্বীপে বাংলাদেশ হাইকমিশনের পারসোনাল অফিসার মো. হাবিবুর রহমান জানান, বৈঠকে মৎস্য খাতের পাশাপাশি মালদ্বীপের কৃষি উৎপাদন সম্প্রসারণে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি, মানসম্পন্ন বীজ উৎপাদন ও কৃষি গবেষণার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা এবং সাফল্যের বিষয়ে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করে দেশটির সরকার।

এছাড়াও, এ বিষয়ে ভবিষ্যৎ সহযোগিতাকে আরও কাঠামোগত করতে একটি দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের সম্ভাবনা নিয়েও নীতিগত আলোচনা হয় বলেও জানান তিনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
সংসদে অর্থমন্ত্রী

হাসিনা পরিবার ও ১০ শিল্পগোষ্ঠীর ৭৬ হাজার কোটি টাকার সম্পদ অবরুদ্ধ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৯ই জুন, ২০২৬ ইং

০৮:১৭ পি.এম


হাসিনা পরিবার ও ১০ শিল্পগোষ্ঠীর ৭৬ হাজার কোটি টাকার সম্পদ অবরুদ্ধ

সংগৃহীত ছবিতে দেখা যাচ্ছে, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরিবার এবং অগ্রাধিকার ভিত্তিতে চিহ্নিত ১০টি শিল্পগোষ্ঠীর দেশে ও বিদেশে থাকা প্রায় ৭৬ হাজার ৮১৪ কোটি টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ আদালতের আদেশে জব্দ ও অবরুদ্ধ (ফ্রিজিং) করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৯ জুন) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এই তথ্য জানান।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অধিবেশনে এ সংক্রান্ত প্রশ্নটি উত্থাপন করেন সাতক্ষীরা-৩ আসনের সংসদ সদস্য হাফেজ মুহা. রবিউল বাশার।

অর্থমন্ত্রী বলেন, পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনা এবং ভবিষ্যতে অর্থপাচার প্রতিরোধে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের নেতৃত্বে গঠিত আন্তঃসংস্থা টাস্কফোর্সের সুপারিশের ভিত্তিতে এই ব্যক্তি ও গোষ্ঠীগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান ও তদন্তে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নেতৃত্বে ১১টি যৌথ অনুসন্ধান ও তদন্ত দল (জেআইটি) কাজ করছে।

অর্থমন্ত্রী আরো বলেন, চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত আদালতের আদেশের মাধ্যমে দেশের অভ্যন্তরে ৯ হাজার ৯১৮ কোটি ৮৬ লাখ টাকার স্থাবর সম্পত্তি সংযুক্ত (অ্যাটাচমেন্ট) করা হয়েছে এবং ৪৭ হাজার ২৪৯ কোটি ২৩ লাখ টাকার অস্থাবর সম্পত্তি অবরুদ্ধ করা হয়েছে।

এছাড়া বিদেশে ১৫ হাজার ১১১ কোটি ৯২ লাখ টাকার স্থাবর সম্পত্তি এবং ৪ হাজার ৫৩৩ কোটি ৯৯ লাখ টাকার অস্থাবর সম্পত্তি অবরুদ্ধ রয়েছে। বিদেশে অবরুদ্ধ সম্পদ ফিরিয়ে আনতে ইতিমধ্যে ১৩টি মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স রিকোয়েস্ট (এমএলএআর) সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে পাঠানো হয়েছে। আরও ১২টি অনুরোধ পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

তিনি বলেন, অর্থপাচার-সংক্রান্ত ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৪১টি মামলা করা হয়েছে।

এর মধ্যে ১৬টি মামলায় অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়েছে এবং ছয়টি মামলার রায় হয়েছে। জাতীয় গুরুত্ব বিবেচনায় চিহ্নিত ১১টি অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে দুদকের পাশাপাশি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল এবং শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর কাজ করছে।

পাচার হওয়া অর্থের সম্ভাব্য গন্তব্য হিসেবে কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, সুইজারল্যান্ড, থাইল্যান্ড এবং হংকং-চীনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব দেশের সঙ্গে পারস্পরিক আইনগত সহায়তা চুক্তি (এমএলএটি) করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এর মধ্যে মালয়েশিয়া, হংকং-চীন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত চুক্তি স্বাক্ষরে সম্মতি দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও সুইজারল্যান্ড বিকল্প সহযোগিতা কাঠামোর বিষয়ে মতামত দিয়েছে। এছাড়া পাচার হওয়া সম্পদ পুনরুদ্ধারে বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) অধীনে ‘স্টোলেন অ্যাসেট রিকভারি ডিভিশন’ গঠন করা হয়েছে।

কুড়িগ্রাম-২ আসনের সংসদ সদস্য আতিকুর রহমান মুজাহিদের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের পুঁজিবাজার বর্তমানে দুর্বল অবস্থায় রয়েছে এবং বাজার সম্প্রসারণে সহায়ক অনেক আর্থিক পণ্য এখনো পুরোপুরি বিকশিত হয়নি। বাজার তদারকি ও কার্যকারিতা বাড়াতে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) পুনর্গঠন করা হয়েছে। কমিশনে অভিজ্ঞ ও দক্ষ পেশাজীবীদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। চলমান সংস্কার কার্যক্রমের ফলে পুঁজিবাজারে নতুন গতি সঞ্চার হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণ ও আদায়ে বাংলাদেশ ব্যাংক একাধিক নীতিগত পদক্ষেপ নিয়েছে জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ইচ্ছাকৃত খেলাপি শনাক্তকরণ এবং তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে জারি করা নীতিমালা কার্যকর রয়েছে। যেসব ব্যাংকে শ্রেণিকৃত ঋণের হার ১০ শতাংশের বেশি, সেগুলোকে বিশেষ তদারকির আওতায় আনা হয়েছে।

এছাড়া বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর) পদ্ধতির মাধ্যমে আগামী ৩০ জুনের মধ্যে প্রত্যেক ব্যাংকের খেলাপি ঋণের অন্তত ১ শতাংশ নগদ আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, ব্যাংক খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে খেলাপি ও ইচ্ছাকৃত খেলাপি ঋণগ্রহীতাদের তালিকা প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একজন ঋণগ্রহীতা পুরো ব্যাংকিং খাত থেকে সর্বোচ্চ কত ঋণ নিতে পারবেন, তার সীমা নির্ধারণ করা হবে। ঋণখেলাপিদের রিটের মাধ্যমে ঋণ আদায় কার্যক্রম স্থগিত করার সুযোগ সীমিত করার উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া এক হাজার কোটি টাকার বেশি অর্থায়নের ক্ষেত্রে ব্যাংক ঋণের পরিবর্তে বন্ড ইস্যুর মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহকে উৎসাহিত করা হবে। বেসরকারি খাতে অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কম্পানি (এএমসি) প্রতিষ্ঠার জন্যে আইন প্রণয়নের কাজ চলছে।

আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষায় ‘আমানত সুরক্ষা আইন, ২০২৬’ প্রণয়ন করা হয়েছে উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, নতুন আইনে সুরক্ষিত আমানতের সীমা ১ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২ লাখ টাকা করা হয়েছে। আগে কোনো ব্যাংক বন্ধ হয়ে গেলে আমানত ফেরত পেতে ১৮০ কার্যদিবস পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতো, নতুন আইনে তা কমিয়ে ১৭ কার্যদিবস করা হয়েছে। পাশাপাশি কোনো ব্যাংক সংকটে পড়লে আমানত সুরক্ষা তহবিল থেকে আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%