ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

রেল দুর্ঘটনা ঠেকাতে ভারতে সম্প্রসারিত হচ্ছে ‘কবচ ৪.০’ প্রযুক্তি


রেল দুর্ঘটনা ঠেকাতে ভারতে সম্প্রসারিত হচ্ছে ‘কবচ ৪.০’ প্রযুক্তি

ভারতীয় রেল কর্তৃপক্ষ নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি স্বয়ংক্রিয় ট্রেন সুরক্ষা ব্যবস্থা ‘কবচ ৪.০’ এখন পর্যন্ত ২ হাজার ৫৬৯ রুট কিলোমিটারে কার্যকর করেছে। পাশাপাশি আরো ২১ হাজার ৮৫৮ রুট কিলোমিটারে এই প্রযুক্তি স্থাপনের কাজ চলমান রয়েছে।

লোকসভায় সংসদ সদস্য ডি. রবি কুমারের এক প্রশ্নের জবাবে ভারতীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব এই তথ্য তুলে ধরেন। রেলমন্ত্রী উক্ত তথ্য জানিয়ে বলেন যে, বর্তমানে যেখানে ট্র্যাকসাইডে ‘কবচ’ ব্যবস্থা কার্যকর রয়েছে, তার মধ্যে ১২ শতাংশ রুটে সর্বশেষ ‘কবচ ৪.০’ সংস্করণ কার্যকর হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই রিসার্চ ডিজাইনস অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অর্গানাইজেশন (আরডিএসও) এই নতুন সংস্করণের অনুমোদন দেয়। নতুন এই সংস্করণ ট্রেনের অবস্থান আরো নির্ভুলভাবে শনাক্ত করতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে।

রেল মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ২০ জুলাই পর্যন্ত চালু হওয়া ২ হাজার ৫৬৯ রুট কিলোমিটারের মধ্যে দিল্লি-মুম্বাই করিডোরে ১ হাজার ৪২৩ কিলোমিটার এবং দিল্লি-হাওড়া করিডোরে ১ হাজার ১৪৬ কিলোমিটার রুটে ‘কবচ ৪.০’ কার্যকর করা হয়েছে। এর পাশাপাশি গোল্ডেন কোয়াড্রিল্যাটারাল, গোল্ডেন ডায়াগোনাল ও হাই-ডেনসিটি নেটওয়ার্কে মোট ২১ হাজার ৮৫৮ রুট কিলোমিটারে ‘কবচ’ প্রযুক্তি স্থাপনের কার্যক্রম চলেছে। সাউদার্ন রেলওয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রুটেও এই প্রযুক্তি বসানোর কাজ দ্রুত এগিয়ে হচ্ছে।

আরও পড়ুন: পিরোজপুরে লাশ দাফনে বাধা, নাহিদ ইসলামের নিন্দা ও ইনসাফের আহ্বান

এ পর্যন্ত এই প্রকল্পের জন্য ১১ হাজার ২৫৩ কিলোমিটার অপটিক্যাল ফাইবার কেবল, ১ হাজার ৬৬৮টি টেলিকম টাওয়ার এবং ৯৮৮টি স্টেশনে ডেটা সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি ৭ হাজার ৭২৬ রুট কিলোমিটারে ট্র্যাকসাইড সরঞ্জাম বসানো হয়েছে। বর্তমানে ৬ হাজার ১৫৩টি লোকোমোটিভে ‘কবচ’ প্রযুক্তি চালু রয়েছে। আরো ৭ হাজার ৩২৭টি লোকোমোটিভ এবং ১ হাজার ২০০টি ইএমইউ ও মেমু ট্রেনে এই প্রযুক্তি স্থাপনের কাজ চলছে।

রেল মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রযুক্তি স্থাপনের পাশাপাশি জনবল প্রশিক্ষণও জোরদার করা হয়েছে। ইন্ডিয়ান রেলওয়েজ ইনস্টিটিউট অব সিগন্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশনসের সহযোগিতায় প্রায় ৫৭ হাজার লোকো পাইলট ও সহকারী লোকো পাইলটসহ ৯৪ হাজারের বেশি টেকনিশিয়ান, অপারেটর ও প্রকৌশলীকে ‘কবচ’ পরিচালনার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত ‘কবচ’ প্রকল্পে ৩ হাজার ৮৭৪ কোটি রুপি ব্যয় হয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য আরো ২ হাজার ৬৬৬ কোটি রুপি বরাদ্দ রাখা হয়েছে। প্রকল্পের অগ্রগতির ভিত্তিতে এই অর্থ ছাড় করা হচ্ছে। বর্তমানে ট্র্যাকসাইড অবকাঠামো স্থাপনে প্রতি কিলোমিটারে প্রায় ৫০ লাখ রুপি এবং প্রতিটি লোকোমোটিভে ‘কবচ’ বসাতে প্রায় ৮০ লাখ রুপি খরচ হচ্ছে। নতুন বরাদ্দের ফলে প্রকল্পের কাজ আরো দ্রুত এগোবে বলে আশা করছে রেল মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয় জানাচ্ছে, ‘কবচ’ ভারতীয় রেল নিরাপত্তা আধুনিকায়নের একটি বিশাল উদ্যোগ হিসেবে কাজ করছে। রেল নিরাপত্তায় ব্যয়ের পরিমাণ ২০১৩-১৪ অর্থবছরের ৩৯ হাজার ২০০ কোটি রুপি থেকে বেড়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ১ লাখ ২০ হাজার ৩৮৯ কোটি রুপি পৌঁছেছে।

আরও পড়ুন: মিসরের পার্লামেন্ট সৌদিকে সামরিক সহায়তা দিতে অনুমোদন করেছে

এ পর্যন্ত ৬ হাজার ৬৭১টি স্টেশনে ইলেকট্রনিক ইন্টারলকিং ব্যবস্থা চালু হয়েছে। একই সংখ্যক স্টেশনে সম্পূর্ণ ট্র্যাক সার্কিটিং এবং ১০ হাজার ৩৯৫টি লেভেল ক্রসিং গেটে ইন্টারলকিং সম্পন্ন করা হয়েছে। এছাড়া উন্নতমানের রেললাইন ও দীর্ঘ রেল প্যানেলের ব্যবহারও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

রেল নিরাপত্তা জোরদারে কুয়াশায় ট্রেন চলাচলের নিরাপত্তা যন্ত্রের সংখ্যা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে। ২০১৪ সালের মার্চে যেখানে এ ধরনের যন্ত্র ছিল মাত্র ৯০টি, ২০২৬ সালের মার্চে তা বেড়ে ৩১ হাজার ৬৯৩টিতে পৌঁছেছে। একই সময়ে ইলেকট্রনিক ইন্টারলকিং সুবিধাসম্পন্ন স্টেশনের সংখ্যা ৮৩৭ থেকে বেড়ে ৩ হাজার ৬৯১টিতে উন্নীত হয়েছে।

রেল মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নতির ফলে দুর্ঘটনার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে রেললাইনের ওয়েল্ডিং ত্রুটির ঘটনা ছিল ৩ হাজার ৬৯৯টি, যা ২০২৫-২৬ সালে কমে ২৭২টিতে নেমে এসেছে। একই সময়ে রেললাইন ভাঙার ঘটনা ২ হাজার ৫৪৮টি থেকে কমে ২০৮টিতে দাঁড়িয়েছে। দুই ক্ষেত্রেই ৯০ শতাংশের বেশি হ্রাস পেয়েছে।

গুরুতর ট্রেন দুর্ঘটনার সংখ্যাও ২০১৪-১৫ সালের ১৩৫টি থেকে কমে ২০২৫-২৬ সালে ১৬টিতে নেমে এসেছে। ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত মাত্র দুটি গুরুতর ট্রেন দুর্ঘটনার খবর পাওয়া গেছে।

আরও পড়ুন: বিদেশি ঋণ শোধে চাপ বাড়ছে, সহায়তার অর্থছাড় কমেছে

রেল মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আলট্রাসনিক পরীক্ষার মাধ্যমে রেললাইন পরীক্ষা, নিয়মিত ট্র্যাক পর্যবেক্ষণ, ট্রেনের প্রতিরোধমূলক রক্ষণাবেক্ষণ, পুরোনো আইসিএফ কোচের পরিবর্তে এলএইচবি কোচ চালু এবং সব অনিরাপদ ব্রডগেজ লেভেল ক্রসিং তুলে দেওয়ার মতো পদক্ষেপ দুর্ঘটনা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এলএইচবি কোচের উৎপাদনও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০০৪-০৫ থেকে ২০১৩-১৪ সময়ে ২ হাজার ৩৩৭টি কোচ তৈরি হলেও, ২০১৪-১৫ থেকে ২০২৫-২৬ সময়ে এই সংখ্যা বেড়ে ৪৯ হাজার ৩৬৬টিতে পৌঁছেছে।

রেল মন্ত্রণালয়ের মতে, দিল্লি-মুম্বাই ও দিল্লি-হাওড়া করিডোরে ‘কবচ’সহ আধুনিক নিরাপত্তা প্রযুক্তির ব্যবহার দুর্ঘটনা কমাতে ইতিবাচক ফল দিচ্ছে। তবে পরিকল্পনা অনুযায়ী দেশের পুরো রেল নেটওয়ার্কে এই প্রযুক্তি চালু করার জন্য এখনো অনেক কাজ বাকি রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শেখ হাসিনাকে কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে দেওয়া হচ্ছে না: ভারত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৩১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০২:৫৩ পি.এম


শেখ হাসিনাকে কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে দেওয়া হচ্ছে না: ভারত

বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারতের মাটিতে বসে কোনো ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে দেয়া হচ্ছে না।

ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে পররাষ্ট্রবিষয়ক সংসদীয় কমিটিকে এ কথা জানানো হয়েছে।

ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনা ভার্চুয়ালি দলীয় নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করছেন এবং নানা বিবৃতিও দিচ্ছেন। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমকে তিনি সাক্ষাৎকারও দিচ্ছেন। তবে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, শেখ হাসিনাকে কোনও রাজনৈতিক কার্যক্রম চালানোর সুযোগ তারা দিচ্ছে না।

লোকসভার পররাষ্ট্রবিষয়ক সংসদীয় কমিটি বলেছে, চরম সংকট বা অস্তিত্বের হুমকির মুখে থাকা ব্যক্তিদের আশ্রয় দেওয়ার ভারতের মানবিক ঐতিহ্য ও সভ্যতাগত মূল্যবোধের অংশ হিসেবে শেখ হাসিনাকে সেখানে থাকার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার সংসদীয় কমিটি তাঁদের প্রতিবেদন লোকসভায় উপস্থাপন করে। প্রতিবেদনে পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির নবম প্রতিবেদনের সুপারিশ ও পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ তুলে ধরা হয়। এ কমিটির চেয়ারপারসন কংগ্রেসের সংসদ সদস্য শশী থারুর।

‘ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, বিদ্যমান আইন ও প্রচলিত প্রক্রিয়া অনুসারে শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের বিষয়ে বাংলাদেশের অনুরোধ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ খতিয়ে দেখছে।

ওই কমিটি আরও জানিয়েছে, বাংলাদেশে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের বিষয়ে ঢাকার অনুরোধ নয়াদিল্লির ‘সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ খতিয়ে দেখছে’।

২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে দেশ থেকে ভারতে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। তারপর থেকেই তিনি সেখানে বসবাস করছেন। যদিও তাকে ঠিক কোথায় রাখা হয়েছে, এখন পর্যন্ত ভারত সে সম্পর্কিত কোনো পরিষ্কার তথ্য জানায়নি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাঙ্গাবালী উপজেলায় হাসপাতাল না থাকায় স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত ২ লাখ মানুষ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

(পটুয়াখালী) রাঙ্গাবালী প্রতিনিধি,,, মোঃআসাদ মিয়া

শুক্রবার, ৩১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০২:৫৮ পি.এম


রাঙ্গাবালী উপজেলায় হাসপাতাল না থাকায় স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত ২ লাখ মানুষ

পটুয়াখালী জেলার সর্বদক্ষিণের দ্বীপ উপজেলা রাঙ্গাবালীতে অবস্থিত।

দুই লক্ষ মানুষের বসবাস ও এই উপজেলাতে আজও পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যসেবা নেই। ২০১২ সালে উপজেলা প্রতিষ্ঠিত হলেও, চিকিৎসা সেবার অভাবে বছর পরে বছর সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে রয়েছেন।

স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ২০২৩ সালের ১০ এপ্রিল ৫০ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভবনের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। এই প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দায়িত্বে আছেন স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। এটি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে সরকারি উন্নয়ন কর্মসূচির অধীনে পরিচালিত হয়।

কিন্তু令人দুঃখজনক কথা, গত জুন ২০২৪ সালের পর থেকে নির্মাণ কাজ সম্পূর্ণরূপে বন্ধ রয়েছে। অর্ধনির্মিত ভবনটি বর্তমানে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে আছে।

স্থানীয় ব্যক্তিদের অভিযোগ, জরুরি মুহূর্তে—বিশেষ করে যদি নারী ও শিশু অসুস্থ হন—তাদের বাধ্য হয়ে যেতে হয় পাশের গলাচিপা অথবা জেলা শহর পটুয়াখালীতে। এতে সময় নষ্ট হয়, খরচ বৃদ্ধি পায় এবং অনেক সময় ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার মুখোমুখি হতে হয়।

এ বিষয়টি নিশ্চিত করতে আমরা পটুয়াখালীর সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ খালেদুর রহমান মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। তিনি জানান, প্রকল্পটি পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার আওতায় বাস্তবায়নাধীন ছিল এবং ২০২৪ সালের জুন মাসে এর মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। ঠিকাদারি সংক্রান্ত কিছু জটিলতার কারণে কাজ বন্ধ ছিল।

তবে তিনি আশ্বস্ত করেছেন যে, জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন পাওয়ার পর বর্তমানে নতুন করে টেন্ডার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। টেন্ডার সম্পন্ন হলে, দ্রুত নির্মাণকাজ পুনরায় শুরু হবে।

এখন প্রশ্ন একটাই—কবে শেষ হবে রাঙ্গাবালীর মানুষের এই দীর্ঘ স্বাস্থ্য ভোগান্তি?

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় ক্রিমিয়ার পর্যটন শিল্পে ধস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ৩১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:০৩ পি.এম


ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় ক্রিমিয়ার পর্যটন শিল্পে ধস

 রাশিয়ার দখলে থাকা ক্রিমিয়া উপদ্বীপের দক্ষিণ উপকূলের অবকাশযাপন কেন্দ্র সিমেইজ। সেখানকার আইসক্রিম বিক্রেতা আনাতোলির দিন এখন কঠিন হয়ে উঠেছে। এক সময় তার দোকানে প্রতিদিন ৪০০টি পর্যন্ত আইসক্রিম বিক্রি হতো। কিন্তু এ গ্রীষ্মে ক্রিমিয়ায় ইউক্রেনের ধারাবাহিক হামলার কারণে পর্যটকের সংখ্যা হঠাৎ করে কমে গেছে।

সিমেইজ থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।

প্রায় আড়াই হাজার মানুষের ছোট উপকূলীয় জনপদ সিমেইজের বাসিন্দা আনাতোলি এএফপিকে বলেন, এ মৌসুমে লোকসানে পড়তে হচ্ছে। বলা যায়, ব্যবসার কোনো মৌসুমই নেই।

এক সময় প্রতিবছর লাখো রুশ পর্যটকের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ক্রিমিয়া। কিন্তু সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় উপদ্বীপের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট দেখা দেওয়ায় পর্যটন শিল্প কার্যত ভেঙে পড়েছে।

গত বছরের জুলাইয়ের তুলনায় হোটেল বুকিং ৭০ শতাংশের বেশি কমেছে। রেস্তোরাঁ ও সুইমিং পুলগুলোও প্রায় ফাঁকা পড়ে আছে।

খাতটিকে সহায়তা দিতে রুশ সরকার পর্যটন খাতের কর্মীদের তিন মাসের বেতনের সমপরিমাণ এককালীন অর্থ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। তবে এ অর্থ ন্যূনতম মজুরির ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হয়েছে। এটিকে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হিসেবে দেখা হচ্ছে না।

আনাতোলি বলেন, আগের ব্যবসার সামান্য অংশ দিয়ে এখন তিনি কোনোমতে সংসার চালানোর চেষ্টা করছেন। আমরা এখনও টিকে আছি। কারণ সবকিছু আগেই প্রস্তুত করা ছিল।

যন্ত্রপাতি, মেরামত, লাইসেন্স ও কর—সবই আগেই পরিশোধ করা হয়েছে।

ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক, সারা বছরের রোদ এবং সবুজ জলপাই বাগানের কারণে ক্রিমিয়ার দক্ষিণ উপকূল অনেকটাই ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের মতো। ২০১৪ সালে ইউক্রেনের কাছ থেকে কৃষ্ণসাগর তীরের এ উপদ্বীপ দখল করে রাশিয়া।

সোভিয়েত আমল থেকে প্রজন্মের পর প্রজন্ম রুশ নাগরিক ছুটি কাটাতে ক্রিমিয়ায় আসতেন। তাদের অনেকেই ক্রিমিয়াকে তাদের দেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে মনে করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সিমেইজের একটি বিলাসবহুল হোটেলের কর্তৃপক্ষ জানায়, পর্যটক ফেরাতে তারা ৩০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দিচ্ছেন।

হোটেলের এক ব্যবস্থাপক বলেন, ‘সপ্তাহের শেষে একটু ভিড় হয়।’

এএফপির প্রতিবেদক দেখেছেন, হোটেলের হাঁটার পথ, রোদ পোহানোর চেয়ার এবং রেস্তোরাঁর খোলা বসার জায়গা ফাঁকা পড়ে রয়েছে।

কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, জুনের শুরু থেকে ক্রিমিয়ায় ইউক্রেনের হামলায় এক শিশুসহ এক ডজনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।

এদিকে ক্রিমিয়ার বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রগুলোতে ড্রোন হামলায় সেভাস্তোপোলসহ বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। তেল ডিপোতে হামলার পর গত মাসে রুশ-নিয়োগকৃত কর্তৃপক্ষ জ্বালানি বিক্রিও স্থগিত করেছিল। তবে ঝুঁকি সত্ত্বেও কিছু পর্যটক নিরুৎসাহিত হননি।

কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, আগের রাতে সিমেইজ থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে একটি আবাসিক ভবনে ইউক্রেনীয় ড্রোন আঘাত হানে। এতে ১৭ জন আহত হন।

ইউলিয়া নামে এক পর্যটক পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কের্চ সেতু হয়ে ট্রেনে ক্রিমিয়ায় এসেছেন। রাশিয়া থেকে ক্রিমিয়ায় যাওয়ার এটিই এখন কার্যত একমাত্র পথ। কারণ রাশিয়ার দখলে থাকা ইউক্রেনীয় ভূখণ্ড দিয়ে সড়কপথে যাতায়াত ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার কারণে খুবই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

তিনি বলেন, ‘আমি দুবার ড্রোনের শব্দ শুনেছি। এরপর আর কিছু নয়।’

রাশিয়ার ক্রাসনোদার অঞ্চল থেকে সড়কপথে আসা আরেক পর্যটক ভ্লাদিস্লাভ বলেন, পথে জ্বালানি নাও পাওয়া যেতে পারে—এ আশঙ্কায় তিনি পেট্রলভর্তি জেরিক্যান সঙ্গে এনেছেন।

ইউলিয়ার মতো তিনিও জানান, নিয়মিত ড্রোনের শব্দে তিনি এখন অভ্যস্ত। তাই এ নিয়ে উদ্বিগ্ন নন।

রাশিয়া ইউক্রেনের শহরগুলোতে নিয়মিত কয়েক শত ড্রোন হামলা চালানোর জবাবে ইউক্রেনও প্রায় প্রতি রাতেই রাশিয়ার বিভিন্ন এলাকায় কয়েক শ ড্রোন পাঠায়।

ভ্লাদিস্লাভ বলেন, ‘দেখুন, আমাদের ওপর দিয়েও ওগুলো উড়ে যায়। সকাল সাতটায় ঘুম থেকে ওঠার সময় হোক কিংবা রাতে ঘুমাতে যাওয়ার সময়—সব সময়ই ওগুলো মাথার ওপর দিয়ে উড়ে যায়। তাই কেউই নিরাপদ নয়।

ইউক্রেন বলছে, শান্তি আলোচনায় মস্কোকে চাপ দিতেই এসব হামলা চালানো হচ্ছে।

রুশ সরকার পর্যটন খাতের কর্মী, ট্রাভেল এজেন্ট, ট্যুর অপারেটর এবং রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ীদের জন্য এককালীন সহায়তা হিসেবে ৪৩০ কোটির বেশি রুবল (৫ কোটি ৪০ লাখ ডলার) বরাদ্দের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে এ সহায়তা শুধু পর্যটন খাতের জন্য প্রযোজ্য।

সেভাস্তোপোলের উত্তরের একটি এলাকা থেকে বেড়াতে আসা লিলিয়া বলেন, বেসরকারি খাত এখন সংগ্রাম করছে।

সিমেইজের সৈকতে বসে তিনি এএফপিকে বলেন, ‘আমি এমন লোকজনকে চিনি, যারা ড্রাইভিং স্কুল চালান। পেট্রলের উচ্চমূল্যের কারণে তাদের ব্যবসা পুরোপুরি স্থবির হয়ে গেছে। ব্যবসা যে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, এতে কোনো সন্দেহ নেই।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ট্রান্সফার বাজারে রিয়াল মাদ্রিদের আরও বড় পরিকল্পনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শুক্রবার, ৩১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:০৮ পি.এম


ট্রান্সফার বাজারে রিয়াল মাদ্রিদের আরও বড় পরিকল্পনা

নতুন মৌসুমকে সামনে রেখে আক্রমণভাগ শক্তিশালী করতে তরুণ ফরোয়ার্ড কার্লোস এসপিকে দলে যুক্ত করেছে রিয়াল মাদ্রিদ।

স্প্যানিশ ক্লাব ইউডি লেভান্তে থেকে তাকে পাঁচ বছরের চুক্তিতে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে নিয়ে এসেছে লস ব্লাঙ্কোস।

বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) সন্ধ্যায় এক আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় রিয়াল মাদ্রিদ এই ট্রান্সফারের বিষয়টি নিশ্চিত করে।

২১ বছর বয়সি এই সেন্টার ফরোয়ার্ডের সঙ্গে ২০৩১ সাল পর্যন্ত চুক্তি করেছে স্প্যানিশ জায়ান্টরা। তাকে দলে টানতে প্রায় আড়াই কোটি ইউরো ট্রান্সফার ফি গুনতে হয়েছে মাদ্রিদ ক্লাবকে।

কার্লোস এসপির ফুটবল যাত্রা শুরু হয় একটি ছোট ক্লাবে। পরে তিনি লেভান্তের যুব একাডেমিতে যোগদান করেন এবং ধাপে ধাপে মূল দলে জায়গা করে নেন। গত মৌসুমে লা লিগায় ১৬তম স্থানে থাকা লেভান্তের হয়ে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

২০২৪-২৫ মৌসুমে লেভান্তের শীর্ষ লিগে উত্তরণে ‘সুপার সাব’ হিসেবে ছয় গোল করেন এসপি। পরের মৌসুমে দলকে লা লিগায় টিকিয়ে রাখার লড়াইয়েও তার অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য। বিশেষ করে ফেব্রুয়ারির শেষ থেকে মে মাসের শেষ পর্যন্ত দুর্দান্ত ফর্মে ছিলেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। শেষ ১৩ ম্যাচে ১০ গোল করে নিজেকে লিগের অন্যতম উদীয়মান তারকা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন।

তার অসাধারণ পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে লা লিগার সেরা অনূর্ধ্ব-২৩ খেলোয়াড়ের পুরস্কারও জিতেছেন তিনি। গত মৌসুমে ২৫টি লিগ ম্যাচে মাঠে নেমে ১১ গোল করেন এসপি।

ধারণা করা হচ্ছে, গঞ্জালো গার্সিয়ার ফুলহ্যামে-এ যোগ দেওয়া প্রায় নিশ্চিত হওয়ায় তার সম্ভাব্য শূন্যস্থান পূরণ করতেই রিয়াল এই পদক্ষেপ নিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, এনড্রিক ও কিলিয়ান এমবাপ্পে-এর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় কার্লোস এসপি কতটা নিয়মিত খেলার সুযোগ পান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২৩
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৩
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%