০৯:০৩ এম
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের কারণে একজন বাংলাদেশির মৃত্যু ঘটেছে। এ ঘটনায় মৃতের সংখ্যা এখন ২২ জনে পৌঁছেছে। বাংলাদেশ হাইকমিশন ইতোমধ্যে ওই বাংলাদেশি নাগরিকের পরিচয় নিশ্চিত করেছে।
হাইকমিশন জানায়, নিহত বাংলাদেশির নাম মোহাম্মদ নুরুল আমিন (৪৪)। গত বৃহস্পতিবার (৪ জুন) গভীর রাতে ফেসবুকে নুরুল আমিনের মৃত্যুর তথ্য জানায় হাইকমিশন।
হাইকমিশন জানিয়েছে, নুরুল আমিন ও তার পরিবারের সদস্যরা চিকিৎসার জন্য দক্ষিণ দিল্লির মালভিয়া নগর এলাকার ওই হোটেলে অবস্থান করেছিলেন। তারা কাছের ম্যাক্স হসপিটালে চিকিৎসা নিতে এসেছিলেন। বাংলাদেশ হাইকমিশন দ্রুত নুরুল আমিনের মরদেহ দেশে পাঠানোর জন্য কাজ করছে।
আরও পড়ুন: গৃহবধূকে ধর্ষণের দায়ে আতিকুল ইসলামের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
আগামী বুধবার (৩ জুন) সকালে দক্ষিণ দিল্লির মালভিয়া নগর এলাকার বহুতল ভবনে অবস্থিত ওই হোটেলে ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে নিহত ২২ জনের মধ্যে ১২ জন বিদেশি নাগরিক বলে জানিয়েছেন রয়টার্স।
হাইকমিশন জানায়, এবারের আগুনের ঘটনায় অন্তত আটজন বাংলাদেশি আহত হয়েছেন। চিকিৎসকদের মতে, তাদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আহতদের দিল্লির বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশের কূটনীতিকরা আহত ও বেঁচে যাওয়া বাংলাদেশিদের সঙ্গে এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। মিশনের প্রধান ম্যাক্স হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বাংলাদেশিদের শারীরীক অবস্থা খোঁজখবর নিচ্ছেন এবং প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তার আশ্বাসও দিচ্ছেন।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় সকাল ৯টার কিছু আগে হোটেলটিতে আগুন লাগে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আটটি ফায়ার সার্ভিস ইউনিট ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছিল। একজন প্রত্যক্ষদর্শীর বরাত দিয়ে জানা যায়, দুপুরের দিকে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে।
আরও পড়ুন: জাতীয়তাবাদী শক্তিকে নস্যাৎ করার জন্য দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র অব্যাহত রয়েছে: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী
পুলিশের জানিয়েছে, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস এবং অন্যান্য জরুরি সেবাকর্মীদের সমন্বিত অভিযানে ৪০ জনেরও বেশি মানুষকে উদ্ধার করে আশপাশের হাসপাতালে পাঠানো হয়। এদিকে, এ ঘটনায় বুধবার রাতেই ফ্লারিশ স্টে নামে ওই হোটেলের মালিক লভকেশ বাজাজকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারের পর হোটেলের মালিক লভকেশ বাজাজকে বৃহস্পতিবার চার দিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। হোটেলটি পরিচালনাকারী হিসাবরক্ষক জয় মিশ্র এবং ম্যানেজার রাকেশকে খুঁজছে পুলিশ। বাজাজের মালিকানাধীন কাছাকাছি আরও দুটি একই ধরনের প্রতিষ্ঠানও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, দুই ডজনেরও বেশি কক্ষ থাকা সত্ত্বেও হোটেলটির লাইসেন্স ছিল মাত্র ছয়টি কক্ষ পরিচালনার জন্য। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটি অগ্নিনিরাপত্তার বেশ কয়েকটি নিয়ম লঙ্ঘন করেছিল।
প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা যাচ্ছে যে, ভবনের বেজমেন্টে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। এরপর দ্রুত আগুন পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়ে। তদন্তকারীরা অগ্নিনিরাপত্তা বিধিমালা লঙ্ঘনের একাধিক অভিযোগ খতিয়ে দেখছেন। এর মধ্যে রয়েছে ফায়ার সার্ভিসের অনাপত্তিপত্র (ফায়ার এনওসি) না থাকা, ভবনে প্রবেশ ও বের হওয়ার জন্য মাত্র একটি পথ থাকা, জানালাগুলো সিল করে রাখা এবং অনুমোদিত ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি লোককে সেখানে অবস্থান করানো।
আরও পড়ুন: মাদরাসা বোর্ড পরীক্ষার প্রশ্নপত্র একীভূত করার পরিকল্পনা সরকারের
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন