ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ভারতীয় নাগরিককে বাংলাদেশে পুশইন চেষ্টা, সীমান্তে ৬১ ঘণ্টা পড়ে রইল ২ শিশু


ভারতীয় নাগরিককে বাংলাদেশে পুশইন চেষ্টা, সীমান্তে ৬১ ঘণ্টা পড়ে রইল ২ শিশু

যে বয়সে মাঠজুড়ে ছুটে বেড়ানোর কথা ছিল, বন্ধুদের সঙ্গে খেলায় মেতে থাকার কথা ছিল, সন্ধ্যা নামলে মায়ের হাত ধরে ঘরে ফেরার কথা ছিল, সেই বয়সেই খোলা আকাশের নিচে অনিশ্চয়তার প্রহর গুনছে এই দুই অবুঝ শিশু। রোববার (৭ জুন) দিন শেষে বিকেল ৬টার সময় দেখা গেল, মায়ের কোলে মাথা রেখে শূন্য চোখে দূরে তাকিয়ে আছে তারা। সন্তান দুটিকে নিজের কোলে আগলে রেখেছেন মা। শিশু দুটির মুখে ক্লান্তি, অনিশ্চয়তা আর এক অজানা বিষাদের ছাপ স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে। যদিও তাদের বুঝতে সময় কম, কিন্তু বাস্তবতার নির্মমতা যেন স্পষ্টভাবেই ছুঁয়ে গেছে ছোট্ট এই দুই শিশুর মনকে।

পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাড়িভাষা ইউনিয়নের বড়বাড়ি প্রধানপাড়া সীমান্তে নারী ও শিশুসহ ১০ জন মানুষ টানা ৬১ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে জিরো লাইনের (শূন্যরেখা) ওপারে ভারতের অভ্যন্তরে অবস্থান করছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আটকে থাকা ১০ জনের মধ্যে তিনটি শিশু রয়েছে। এর মধ্যে দুই শিশু এবং তাদের বাবা-মায়ের পরিচয় মিলেছে। বিভিন্ন সূত্র ও তাদের ভারতীয় আধার কার্ডের তথ্য অনুযায়ী, তারা ভারতের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বাসিন্দা শামসুল, তার স্ত্রী, এক ছেলে এবং এক মেয়ে। তবে শিশু দুটির নাম এখনো জানা যায়নি।

আরও পড়ুন: গাজীপুরে বাসায় ফেরার সময় ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে পোশাক শ্রমিক নিহত

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শামসুল দীর্ঘদিন ধরে ভারতে সবজির ব্যবসা করতেন এবং পরিবারসহ সেখানে বসবাস করতেন। কয়েক দিন আগে ভারতীয় পুলিশ তাদের আটক করে। পরে বিভিন্ন স্থানে স্থানান্তরের পর শুক্রবার ভোরের দিকে বড়বাড়ি প্রধানপাড়া সীমান্ত এলাকা দিয়ে তাদের বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করা হয়। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় বিজিবি তাদের বাধা দেয়। এরপর থেকে শামসুলের পরিবারসহ মোট ১০ জন সীমান্তের জিরো লাইনে কৃষিজমিতে অবস্থান করছেন। কোনো ছাউনি বা নিরাপদ আশ্রয় ছাড়াই রোদ-বৃষ্টির মধ্যে ফসলি জমিতে জমে থাকা পানিতে তাদের মানবেতর দিন কাটছে।

স্থানীয়রা জানান, আটকে থাকা ১০ জনের মধ্যে পাঁচজন পুরুষ, দুজন নারী এবং তিনজন শিশু রয়েছে। খোলা আকাশের নিচে শিশুরা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল কাদের বলেন, ‘তাদের যদি ভারতীয় আধার কার্ড থাকে, তাহলে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা কেন করা হচ্ছে? তারা যদি ভারতের নাগরিক হন, তাহলে ভারতকেই তাদের দায়িত্ব নিতে হবে।’

আরেক বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা জানতে পেরেছি শামসুল, তার স্ত্রী ও দুই সন্তান ভারতের নাগরিক। তাদের এভাবে সীমান্তে ফেলে রাখা মোটেও মানবিক নয়। দ্রুত বিষয়টির সমাধান হওয়া প্রয়োজন।’

আরও পড়ুন: (ছবি আছে) জিয়ানগরে ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচার দাবিতে মানববন্ধন

বিজিবি জানায়, উদ্ভুত পরিস্থিতি নিয়ে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) সঙ্গে কোম্পানি ও ব্যাটালিয়ন পর্যায়ে একাধিক পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও এখনো কোনো সমাধান মেলেনি।

নীলফামারী ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, বড়বাড়ি সীমান্তে বিএসএফ ১০ জন নারী, পুরুষ ও শিশুকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করে। বিষয়টি নিয়ে ব্যাটালিয়ন পর্যায়ে পতাকা বৈঠক করা হলেও বিএসএফ তাঁদের ফেরত নিতে অস্বীকৃতি জানায়। বর্তমানে তারা ভারতের অভ্যন্তরে ভারতীয় ভূখণ্ডেই অবস্থান করছেন। সীমান্তে যেকোনো ধরনের পুশইন ও অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে বিজিবির নজরদারি ও কঠোর টহল জোরদার করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সুন্দরবনে ভারতগামী ৫ ট্রলারে ডাকাতির চেষ্টা, একটি ট্রলারে গুলি ও লুটপাট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৭ই জুন, ২০২৬ ইং

১১:০৫ পি.এম


সুন্দরবনে ভারতগামী ৫ ট্রলারে ডাকাতির চেষ্টা, একটি ট্রলারে গুলি ও লুটপাট

সুন্দরবনের অভ্যন্তরে ‘এমভি আব্দুল হাকিম-১’ নামের একটি কার্গো জাহাজের ওপর গুলি ও লুটপাট করেছে বনদস্যুরা। একই সঙ্গে আরও চারটি জাহাজে ডাকাতির চেষ্টা করা হয়েছে।

শনিবার (৭ জুন) রাতের সময় বাগেরহাটের সুন্দরবনের শিবসা নদী পার হয়ে শিংয়েরনালা নামক স্থানে এই ঘটনা ঘটে। তবে ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পার হলেও থানা পুলিশ জানায় যে তারা বিষয়টি জানে না। কোস্টগার্ডের পক্ষ থেকেও এ নিয়ে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

জানা যায়, ভারত-বাংলাদেশ নৌ প্রোটোকলের অধীনে ঢাকা থেকে মোংলা বন্দর হয়ে সুন্দরবনের শাকবাড়িয়া, বজবজা, আড়ুয়া শিবসা, শিবসা নদী দিয়ে ভারতে যাওয়ার জন্য নৌযানগুলো চলছে। জাহাজগুলো হলো: এমভি খারেহেরা, এমভি বয়রাতলা, এমভি আ. হাকিম, এমভি আরিয়ান ছালাম এবং এমভি আব্দুল হাকিম-১।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ-ভারত নৌ-প্রোটকল কমিটির কার্যকরী সভাপতি মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘এই জাহাজগুলো খালি ছিল। এগুলো ভারতে ফ্লাইঅ্যাশ (সিমেন্ট তৈরির কাঁচামাল) আনতে যাচ্ছিল। শনিবার বেলা ২টার দিকে জাহাজগুলো মোংলা বন্দরের মাধ্যমে ভারতের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। শেখবাড়িয়া থেকে মাত্র আধা ঘণ্টার দূরত্বে থাকার সময় ডাকাতরা হানা দেয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘শিপসা নদীর পাড়ি দিয়ে শিংয়ের নালাখালের ভেতর ঢুকামাত্র ডাকাত দল ধাওয়া করে। সামনে থাকা চারটি জাহাজ এগিয়ে গেলেও সবার পেছনে ছিল এমভি আব্দুল হাকিম-১। ডাকাতরা সেই জাহাজে উঠে এসে স্টাফদের মারধর শুরু করে। পরে মাস্টার ব্রিজে গিয়ে অন্তত ১৫ রাউন্ড গুলি করে।’

এমভি আব্দুল হাকিম-১ জাহাজের ইনচার্জ মাস্টার মো. নুর নবী বরাতে সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘শনিবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে সাড়ে ৭টার মধ্যে ওই ঘটনা ঘটে। ট্রলারে আসা ১০-১৫ জন লাইফ জ্যাকেট পরিহিত ডাকাত জাহাজের বাম পাশ থেকে ওপরে ওঠে। তারা নিচে থাকা স্টাফদের অস্ত্রের মুখে বেঁধে ফেলে ও মারধর করে। টের পেয়ে তাৎক্ষণিক মাস্টার ব্রিজের সব গেট আটকে দেয়। ডাকাতরা মাস্টার কেবিনে ঢুকতে না পেরে গেটের দরজায় ১৫-২০ রাউন্ড শটগানের গুলি করে। তারা প্রায় ১৫ মিনিট ধরে জাহাজে অবস্থান করে এবং স্টাফদের মোবাইল ফোন, নগদ টাকা ও মালামাল নিয়ে যায়।’

এ বিষয়ে নৌযান শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সমাজ কল্যাণ সম্পাদক ও বাংলাদেশ লঞ্চ লেবার অ্যাসোসিয়েশনের মোংলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. আনোয়ার হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘যদি এ ধরনের ঘটনা অব্যাহত থাকে, তাহলে বাংলাদেশ ভারত রুটে জাহাজ চলাচল সম্ভব হবে না। আমরা সরকারের কাছে আমাদের শ্রমিকদের নিরাপত্তার জন্য আবেদন করছি। এমন ঝুঁকি নিয়ে আমরা এই পথে আৰু চলতে চাই না।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের জাহাজ জোয়ার ভাটা হিসাব করে চলতে হয়। এতে সকাল সন্ধ্যা হতে পারে। নদীতে আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় ভারত-বাংলাদেশের এই পথে আমরা জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দিতে বাধ্য হবো।’

এ বিষয়ে মোংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতিকুর রহমান জানান, তিনি বিষয়টি শুনেছেন। তবে তিনি কোনো অভিযোগ পাননি। খুলনার দাকোপ ও কয়রা থানারও এমন কোনো তথ্য জানায়নি বলে দাবি করেছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইতিহাস গড়ে মোনাকো গ্রাঁ প্রি জিতলেন কিমি অ্যান্টোনেল্লি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

রবিবার, ৭ই জুন, ২০২৬ ইং

১১:০৮ পি.এম


ইতিহাস গড়ে মোনাকো গ্রাঁ প্রি জিতলেন কিমি অ্যান্টোনেল্লি

মোনাকো গ্রাঁ প্রি-তে একটি ইতিহাস গড়েছেন মার্সিডিজ দলের তরুণ ড্রাইভার কিমি অ্যান্টোনেল্লি। মাত্র ১৯ বছর ৯ মাস বয়সে, তিনি এই মর্যাদাপূর্ণ রেস জিতে সর্বকনিষ্ঠ বিজয়ীর রেকর্ড গড়েন। এর ফলে, তিনি লুইস হ্যামিল্টনের ১৬ বছরের পুরোনো রেকর্ড ভেঙে দেন।

রেসের শুরু থেকেই অসাধারণ গতি প্রদর্শন করেছেন অ্যান্টোনেল্লি। এক অবস্থায়, তিনি লুইস হ্যামিল্টনের চেয়ে ৩০ সেকেন্ডের বেশি এগিয়ে ছিলেন। তবে, ৬৮তম ল্যাপে ট্র্যাকের একটি সমস্যা থাকার কারণে রেস সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়।

ল্যাপ ৬৬-তে দ্বিতীয় সেফটি কারটি পরে রেড ফ্ল্যাগে রূপান্তরিত হয়, কারণ রেস ট্র্যাকের শেষ কোণে নতুনভাবে বসানো অ্যাসফল্টে কিছু সমস্যা দেখা দেয়। প্রায় ৩৭ মিনিটের বিরতির পরে যখন রেস আবার শুরু হয়, তখন অ্যান্টোনেল্লি চাপ সামলিয়ে নেতৃত্ব ধরে রাখেন।

এদিকে, ম্যাক্স ভার্স্টাপেন শুরুতেই গিয়ার সমস্যার কারণে রেস থেকে পিছিয়ে পড়েন। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ল্যান্ডো নরিসও ইঞ্জিন সমস্যার কারণে মাঝপথে অবসরে যান। আর চার্লস লেক্লার্ক ও ল্যান্স স্ট্রল দুর্ঘটনার কারণে রেসটি শেষ করতে পারেননি।

দ্বিতীয় স্থানে থাকা লুইস হ্যামিল্টন শেষ পর্যন্ত অ্যান্টোনেল্লির কাছে পরাজিত হন। তৃতীয় স্থানে ছিলেন ইসাক হাজর, এবং চতুর্থ স্থানে অস্কার পিয়াস্ত্রি ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

লেবাননে অব্যাহত ইসরাইলি হামলার জেরে সরাসরি সংঘাতের হুঁশিয়ারি ইরানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ৭ই জুন, ২০২৬ ইং

১১:০৯ পি.এম


লেবাননে অব্যাহত ইসরাইলি হামলার জেরে সরাসরি সংঘাতের হুঁশিয়ারি ইরানের

দক্ষিণ লেবানন এবং রাজধানী বৈরুতে ইসরাইলের হামলা অব্যাহত রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবফ একটি গুরুত্বপূর্ণ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরান শুধু আলোচনার পথই থামাবে না, বরং তাদের শত্রুর সঙ্গে সরাসরি সংঘর্ষেও লিপ্ত হবে।

রোববার (৭ জুন) আল জাজিরার প্রতিবেদনে তার এই মন্তব্যের তথ্য জানানো হয়। গালিবফ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, তারা যুদ্ধবিরতিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধও নয়, সংলাপে তাদের বিশ্বাস নেই। তিনি আরও বলেন, লেবানন বিষয়ক নৌ অবরোধ এবং চুক্তি লঙ্ঘনের মাধ্যমে তারা প্রমাণ করে দিচ্ছে যে, তারা কেবল ক্ষমতার ভাষাই বোঝে।

এক্স-এ একটি পোস্টের মাধ্যমে গালিবফ, যিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় ইরানের প্রধান আলোচক, বলেন যে, ইরানি জাতির বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ এবং জায়নবাদী শাসনকে আমেরিকার আজকের সবুজ সংকেত দেয়ায় মার্কিন ও শাসকগোষ্ঠীর ঘাঁটি এবং সম্পদকে বৈধ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছে।

এর আগে, বৈরুতসহ লেবাননের বিভিন্ন স্থানে ইসরাইলি হামলায় বেশ কয়েকজন নিহত হন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিশ্বকাপের যেসব রেকর্ড ভাঙা প্রায় ‘অসম্ভব’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

রবিবার, ৭ই জুন, ২০২৬ ইং

১১:১১ পি.এম


বিশ্বকাপের যেসব রেকর্ড ভাঙা প্রায় ‘অসম্ভব’

১৯৩০ সালে উরুগুয়েতে অনুষ্ঠিত প্রথম আসর থেকে গত ৯৬ বছরের মধ্যে ফুটবল বিশ্বকাপ আমাদের উপহার দিয়েছে অসংখ্য অবিস্মরণীয় মুহূর্ত। তবে কিছু রেকর্ড বিদ্যমান, যেগুলো ভাঙা যেন প্রায় অসম্ভব।

মাত্র ১১ সেকেন্ডে গোল থেকে শুরু করে ১২ গোলের ম্যাচ, কুখ্যাত ব্যাটেল অব ন্যুরেমবার্গে কার্ডের ছড়াছড়ি, এমনকি প্রায় ৭০ বছর ধরে অটুট থাকা এক আসরেই ১৩ গোলের রেকর্ড; এভাবে ফুটকাপ উপহার দিয়েছে এমন অবিশ্বাস্য সব ঘটনা। এজন্যই ফুটবলের এই মহাযজ্ঞকে ডাকা হয় দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ।

বিশ্বকাপের এমন বিস্ময়কর কীর্তি এবং ভাঙা প্রায় অসম্ভব কিছু রেকর্ডের কথা এখানে তুলে ধরা হলো।

দ্রুততম গোল: (১০.৮৯ সেকেন্ড)

গোলদাতা: হাকান সুকুর (তুরস্ক)

প্রতিপক্ষ ও আসর: দক্ষিণ কোরিয়া, ২০০২

এশিয়ায় অনুষ্ঠিত প্রথম এবং চলতি শতাব্দীর এটিই ছিল প্রথম বিশ্বকাপ। এই বিশ্বকাপে বিশেষ ঘটনা ছিল তুরস্ক এবং দক্ষিণ কোরিয়ার সেমিফাইনালে জায়গা করে নেয়া। কিন্তু শেষ চারে তুরস্ক ব্রাজিলের কাছে এবং দক্ষিণ কোরিয়া জার্মানির বিপক্ষে হেরে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে মুখোমুখি হয়।

দক্ষিণ কোরিয়ার শহর দেগুতে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ সবে শুরু হয়েছে। দর্শকরা তখনও ঠিকঠাক আসন খুঁজে নেয়নি। কিক-অফ হতে না হতেই গোল করে বসেন হাকান সুকুর। ম্যাচের মাত্র ১০.৮৯ সেকেন্ডের মাথায় করা তার এই গোলটি বিশ্বকাপ ইতিহাসের দ্রুততম গোল। সুকুর ভেঙে দেন ১৯৭৮ সালে ফ্রান্সের বার্নার্ড লাকোম্বের ৩১ সেকেন্ডে করা গোলের রেকর্ড।

ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত ৩-২ গোলে জিতে তুরস্ক ওই বিশ্বকাপে তৃতীয় হয়। এটিই তাদের বিশ্বকাপে সেরা সাফল্য।

সর্বোচ্চ গোলের ম্যাচ: অস্ট্রিয়া-সুইজারল্যান্ড (১৯৫৪)

গোল সংখ্যা: ১২ (অস্ট্রিয়া ৭-৫ সুইজারল্যান্ড)

বিশ্বকাপে এক ম্যাচে দুই দল মিলিয়ে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডটি টিকে আছে দীর্ঘ ৭২ বছর ধরে।

লুজানে সেই বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে স্বাগতিক সুইজারল্যান্ডের প্রতিপক্ষ ছিল অস্ট্রিয়া। ম্যাচের ২৩ মিনিটের মধ্যে ৩-০ গোলের লিড নিয়ে সুগঠিত জয় লাভের পথে ছুটছিল স্বাগতিকরা। কিন্তু নাটকের শুরু হতে তখনও বাকি ছিল।

৩ গোলে পিছিয়ে থাকা অস্ট্রিয়া প্রথমার্ধের বাকি সময়টায় সুইজারল্যান্ডের ওপর আক্রমণের ঝড় বইয়ে দিয়ে ৩৪ মিনিটের মধ্যে ৫ গোল করে। প্রথমার্ধের শেষে স্কোর দাঁড়ায় ৫-৪। অস্ট্রিয়া একটি পেনাল্টি কিক মিস না করলে ব্যবধান আরও বাড়তে পারত।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই আরও এক গোল করে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন অস্ট্রিয়ার ওয়াগনার। জবাবে ছয় মিনিট পর সুইজারল্যান্ডের হুগি হ্যাটট্রিক পূর্ণ করে ব্যবধান কমান। উত্তেজনার ঠাঁসা ম্যাচের ৭৬ মিনিটে প্রোবস্ট আরও একটি গোল করেন। শেষ পর্যন্ত ৭-৫ গোলের জয়ে অস্ট্রিয়া সেমিফাইনালে পৌঁছে যায়।

এক ম্যাচে সর্বোচ্চ কার্ড: পর্তুগাল বনাম নেদারল্যান্ডস (২০০৬)

মোট কার্ড: ২০ (৪ লাল কার্ড, ১৬ হলুদ কার্ড)

বিশ্বকাপের ইতিহাসে এই ম্যাচটি 'ব্যাটেল অব ন্যুরেমবার্গ' নামে কুখ্যাত হয়ে আছে। শেষ ষোলোর ম্যাচটিতে পর্তুগাল ১-০ গোলে জয় পেলেও স্কোরকার্ডের ঊর্ধ্বে ম্যাচটি স্মরণীয় হয়ে আছে একের পর এক ফাউল, সংঘাত এবং কার্ড প্রদর্শনের কারণে।

ম্যাচের রাশিয়ান রেফারি ভ্যালেন্টিন ইভানভ ম্যাচজুড়ে দুই দলকে মোট ২০ বার কার্ড দেখিয়েছেন। দুই দলের ২ জন করে মোট ৪ জনকে দেখানো হয় লাল কার্ড। আর পর্তুগালের ৯ জন দেখেন হলুদ কার্ড, নেদারল্যান্ডসের বেলায় এই সংখ্যা হয় ৭।

এক আসরে সর্বোচ্চ গোল করা খেলোয়াড়

জাস্ট ফন্তেইন (ফ্রান্স)

গোল সংখ্যা: ১৩ গোল (৬ ম্যাচ)

আসর: ১৯৫৮

সুইডেনে অনুষ্ঠিত সেই বিশ্বকাপেই উত্থান হয় পেলের। ১৭ বছর বয়সী কিশোর পেলের হাত ধরে প্রথমবারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয় ব্রাজিল। কিন্তু সেই আসরটিতেই নিজের অমরত্ব নিশ্চিত করেন ফ্রান্সের ক্ষণজন্মা এই স্ট্রাইকার।

ব্রাজিলের কাছে সেমিফাইনালে হেরে বাদ পড়ার আগে ফ্রান্সের হয়ে ফন্তেইন ১৩ গোল করে ইতিহাস রচনা করেন। গড়ে ম্যাচ প্রতি ২ এর বেশি গোল করেন তিনি। এক আসরে তারটি গড়া সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড টিকে আছে প্রায় ৭০ বছর ধরে।

ফন্তেইনের বিশ্বকাপ যাত্রা শেষ হয় পেলেংয়ের হ্যাটট্রিকে। ব্রাজিল ম্যাচটিতে জয় পায় ৫-২ গোলে। ফ্রান্সের প্রথম গোলটি আসে ফন্তেইনের পা থেকে। ম্যাচের প্রথমার্ধে ১-১ গোলের সমতাসাধন থাকার সময়ে ফ্রান্সের অধিনায়ক রবার্ট জকুয়ে চোট পাওয়ার কারণে বাকি সময়টা আর ১০ জন নিয়ে দুর্দান্ত ব্রাজিলের বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারেনি।

ধারাবাহিক চোটে ফ্রান্সের জার্সিতে ফন্তেইনের ক্যারিয়ার দীর্ঘ হয়নি। তবে ৭ বছরের ক্যারিয়ারে জাতীয় দলের হয়ে মাত্র ২১ ম্যাচে ৩০ গোল করেন এই কিংবদন্তি।

এক ম্যাচে কোনো খেলোয়াড়ের সর্বোচ্চ গোল

ওলেগ সালেঙ্কো (রাশিয়া)

গোলসংখ্যা: ৫

প্রতিপক্ষ ও আসর: ক্যামেরুন (১৯৯৪)

স্কোরলাইন: রাশিয়া ৬-১ ক্যামেরুন

বিশ্বকাপ ইতিহাসে একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে এক ম্যাচে ৫ গোল করার রেকর্ড রাশিয়ার এই স্ট্রাইকারের দখলে। গ্রুপ পর্বের এই ম্যাচে রাশিয়া ক্যামেরুনকে ৬-১ গোলে বিধ্বস্ত করে, যেখানে সালেঙ্কো একাই করেন ৫ গোল। এর মধ্যে প্রথম ৩টি গোল করেন প্রথমার্ধে (১৫, ৪১ ও ৪৪ মিনিট)। দ্বিতীয়ার্ধের ৭৩ ও ৭৫ মিনিটে তিনি আরও দুটো গোল করেন।

সালেঙ্কোর এমন অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্স সত্বেও ওই বিশ্বকাপে রাশিয়া গ্রুপ পর্ব থেকেই বাদ পড়ে। তবে ৬ গোল নিয়ে সালেঙ্কো ঠিকই হৃস্টো স্টইচকভের সঙ্গে যৌথভাবে আসরের সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার গোল্ডেন বুট জেতেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%