ঢাকা শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

হেপাটাইটিস ‘সি’ সংক্রমণে বিশ্বের শীর্ষ দশের মধ্যে বাংলাদেশ


হেপাটাইটিস ‘সি’ সংক্রমণে বিশ্বের শীর্ষ দশের মধ্যে বাংলাদেশ

হেপাটাইটিস বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম প্রাণঘাতী সংক্রামক রোগে পরিণত হয়েছে। প্রতিবছর এই রোগে প্রায় ১৩ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়, যা প্রধানত লিভার সিরোসিস ও লিভার ক্যানসারের কারণে ঘটে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে যে, ভাইরাল হেপাটাইটিসজনিত মোট মৃত্যুর প্রায় ৯৫ শতাংশের জন্য দায়ী হেপাটাইটিস ‘বি’ ও ‘সি’ ভাইরাস।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস উপলক্ষে সংস্থাটি একটি বার্তায় জানায়, বিশ্বজুড়ে প্রতিদিন প্রায় ৬ হাজার মানুষ নতুন করে হেপাটাইটিস ‘ বি’ ও ‘সি’ ভাইরাসে আক্রান্ত হয় এবং প্রতিদিন প্রায় সাড়ে ৩ হাজার মানুষ এই দুই সংক্রমণের কারণে প্রাণ হারায়।

আরও পড়ুন: নেতানিয়াহুর জন্মদিনে জেরুজালেমে বিক্ষোভ, গাড়িবহরে বোতল নিক্ষেপ

এই পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য সরকার, উন্নয়ন সহযোগী, স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন ডব্লিউএইচও।

ডব্লিউএইচওর তথ্য অনুসারে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলে বর্তমানে প্রায় ৪ কোটি ৩০ লাখ মানুষ ভাইরাল হেপাটাইটিস নিয়ে জীবনযাপন করছেন।

২০২৪ সালেই এ অঞ্চলে প্রায় ২ লাখ ৬৬ হাজার নতুন হেপাটাইটিস ‘বি’ ও ‘সি’ সংক্রমণ রিপোর্ট হয়েছে এবং প্রায় ২ লাখ হেপাটাইটিসজনিত মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।

বাংলাদেশের পরিস্থিতিও উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেছে সংস্থাটি। বিশ্বব্যাপী হেপাটাইটিস ‘সি’ আক্রান্ত মানুষের সংখ্যার বিচারে, বাংলাদেশ শীর্ষ ১০ দেশের মধ্যে অন্যতম। সাধারণ জনগণের মধ্যে সক্রিয় হেপাটাইটিস ‘সি’ সংক্রমণের হার প্রায় শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ হলেও ইনজেকশনের মাধ্যমে মাদক গ্রহণকারী ব্যক্তি, নিয়মিত রক্ত গ্রহণে নির্ভরশীল রোগী এবং রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মধ্যে সংক্রমণের হার অনেক বেশি।

আরও পড়ুন: কাতালোনিয়ায় ইসলামফোবিয়ার উত্থানে রাজনীতির সমীকরণ বদলে যাচ্ছে

একই সাথে, হেপাটাইটিস ‘বি’ সংক্রমণও দেশের জন্য একটি বড় উদ্বেগের বিষয়। ডব্লিউএইচও জানায়, ২০২৪ সালে বিশ্বে হেপাটাইটিস ‘বি’-জনিত মোট মৃত্যুর ৬৯ শতাংশ যে ১০টি দেশে ঘটেছে, বাংলাদেশ সেখানেও রয়েছে।

বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশে হেপাটাইটিস প্রতিরোধ, পরীক্ষা ও চিকিৎসাসেবা আরো সম্প্রসারণের আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি। ডব্লিউএইচওর মতে, কার্যকর টিকা, নির্ভরযোগ্য পরীক্ষা ও উন্নত চিকিৎসাব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও, জনসচেতনতার অভাব, দেরিতে রোগ শনাক্ত এবং সাশ্রয়ী মূল্যে পরীক্ষা ও চিকিৎসার সীমিত সুযোগ, সামাজিক অপবাদ এবং স্বাস্থ্যসেবার বৈষম্যের কারণে বিপুলসংখ্যক মানুষ প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ফলে ২০৩০ সালের মধ্যে ভাইরাল হেপাটাইটিস নির্মূলের বৈশ্বিক লক্ষ্য অর্জন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হেপাটাইটিস ‘বি’ প্রতিরোধে বহু বছর ধরে নিরাপদ ও কার্যকর টিকা আছে। অন্যদিকে হেপাটাইটিস ‘সি’ আধুনিক ওষুধের মাধ্যমে সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য। কিন্তু রোগটির প্রাথমিক পর্যায়ে সাধারণত কোনো লক্ষণ না থাকায় অনেক রোগী সংক্রমণের বিষয়টি জানতে পারেন না। ফলে লিভার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর রোগ শনাক্ত করা হয়, তখন চিকিৎসা হয়ে ওঠে আরও জটিল ও ব্যয়বহুল।

বাংলাদেশে ডব্লিউএইচওর প্রতিনিধি ড. আহমেদ জামশেদ মোহাম্মদ বলেছেন, ভাইরাল হেপাটাইটিস প্রতিরোধযোগ্য, চিকিৎসাযোগ্য এবং হেপাটাইটিস ‘সি’-এর ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য। তবে সময়মতো পরীক্ষা ও চিকিৎসার সুযোগ না পাওয়ায় অনেক মানুষ জীবনরক্ষাকারী সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তিনি বলেন, হেপাটাইটিস প্রতিরোধ, পরীক্ষা ও চিকিৎসার পথে বিদ্যমান সব ধরনের প্রতিবন্ধকতা দ্রুত দূর করতে হবে।

আরও পড়ুন: আরটিভিতে সংবাদ প্রকাশের পর সোলায়মানের জন্য ৬০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা

ডব্লিউএইচও জানাচ্ছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশ ভাইরাল হেপাটাইটিস নিয়ন্ত্রণে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। ২০২০-২০৩০ সালের জাতীয় কৌশলগত পরিকল্পনা, নবজাতকের জন্মের পরপরই হেপাটাইটিস ‘বি’ টিকাদান কর্মসূচি জোরদার, পরীক্ষা ও চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণ এবং প্রমাণভিত্তিক নীতিনির্ধারণের উদ্যোগ এ ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। সংস্থাটির কারিগরি সহায়তায় এসব কার্যক্রম ২০৩০ সালের মধ্যে ভাইরাল হেপাটাইটিস নির্মূলে বাংলাদেশের লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক হবে বলেও আশা প্রকাশ করা হয়েছে।

তবে এখনও নানা কাঠামোগত ও সামাজিক বাধা রয়ে গেছে। অনেক মানুষ হেপাটাইটিস সম্পর্কে সচেতন নন, ফলে পরীক্ষা করান না। অনেক এলাকায় সহজলভ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসাসেবা নেই। সামাজিক অপবাদের কারণে অনেক রোগী চিকিৎসা নিতে দেরি করেন। অনুপাত অনুযায়ী দরিদ্র, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী ও রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য স্বাস্থ্যসেবার প্রাপ্যতা এখনও সীমিত।

এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় চারটি অগ্রাধিকারমূলক পদক্ষেপের সুপারিশ করেছে ডব্লিউএইচও। এগুলো হলো—জন্মের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হেপাটাইটিস ‘বি’ টিকা নিশ্চিত করা, নিরাপদ রক্ত সঞ্চালন ও ইনজেকশন ব্যবস্থা জোরদার করা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি; প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, মাতৃস্বাস্থ্য, এইচআইভি, যক্ষ্মা ও রক্ত সঞ্চালন কর্মসূচির সঙ্গে হেপাটাইটিস পরীক্ষা ও চিকিৎসা একীভূত করা; জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে হেপাটাইটিস ‘সি’ চিকিৎসা সম্প্রসারণ, সাশ্রয়ী মূল্যে পরীক্ষা ও ওষুধ নিশ্চিত করা; এবং সংক্রমণ, চিকিৎসার ফলাফল, লিভার সিরোসিস ও লিভার ক্যানসার সংক্রান্ত নির্ভরযোগ্য তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে জাতীয় নজরদারি ব্যবস্থা আরো শক্তিশালী করা।

সংস্থাটির মতে, রোগের প্রকৃত বোঝা নিরূপণ, ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী শনাক্ত করা, নীতিনির্ধারণ ও বিনিয়োগের অগ্রাধিকার ঠিক করা এবং ২০৩০ সালের লক্ষ্য অর্জনের অগ্রগতি মূল্যায়নের জন্য শক্তিশালী তথ্যব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আরও পড়ুন: পশ্চিম তীরে বন্দুকযুদ্ধে দুই ফিলিস্তিনি নিহত, আহত ছয় ইসরায়েলি সেনা

ড. আহমেদ জামশেদ মোহাম্মদ বলেন, ভাইরাল হেপাটাইটিস মোকাবিলায় বাংলাদেশ দৃঢ় অঙ্গীকার দেখিয়েছে এবং নির্মূলের পথে আরও দ্রুত অগ্রসর হওয়ার সক্ষমতা অর্জন করেছে। সরকারের এই প্রচেষ্টায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ভবিষ্যতেও কারিগরি সহায়তা দিয়ে যাবে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ভাইরাল হেপাটাইটিস নির্মূলে শুধু সরকারি উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। জনসচেতনতা বৃদ্ধি, সময়মতো পরীক্ষা, নিরাপদ রক্ত সঞ্চালন, নবজাতকের জন্মের পরপরই টিকাদান এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে হেপাটাইটিস সেবা যুক্ত করার মতো পদক্ষেপ সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এসব উদ্যোগ কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে ২০৩০ সালের মধ্যে ভাইরাল হেপাটাইটিসকে জনস্বাস্থ্যের হুমকি হিসেবে নির্মূলের বৈশ্বিক লক্ষ্যে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করতে পারবে।

শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের লিভার বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. শাহেদ আশরাফ সেতু বলেছেন, হেপাটাইটিস শুধু একটি স্বাস্থ্যঝুঁকি নয়, এটি একটি পরিবারের ওপর বড় অর্থনৈতিক চাপও সৃষ্টি করে। দেশে চিকিৎসা ব্যয়ের বড় অংশ রোগীদেরই বহন করতে হয়। বিশেষ করে হেপাটাইটিস ‘বি’ রোগীর দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা ও জটিলতার ব্যয় কয়েক লাখ থেকে কোটি টাকা পর্যন্ত হতে পারে। তবে সময়মতো টিকাদান ও নিয়মিত পরীক্ষার মাধ্যমে এই বিপুল অর্থনৈতিক ক্ষতি এবং অকালমৃত্যুর ঝুঁকি অনেকটাই প্রতিরোধ করা সম্ভব।

আরও পড়ুন: ১ নভেম্বর থেকে ফোনে কলারের নাম-পরিচয় দেখা যাবে

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

৫৬ কোটি টাকার বিনিময়ে মালিতে মুক্তি পেলেন ভারতীয় ব্যবসায়ী অপহৃত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৮শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:০৪ এম


৫৬ কোটি টাকার বিনিময়ে মালিতে মুক্তি পেলেন ভারতীয় ব্যবসায়ী অপহৃত

পশ্চিম আফ্রিকার দেশ মালিতে অপহরণের শিকার হওয়া ৭৫ বছর বয়সী ভারতীয় বংশোদ্ভূত হীরা ব্যবসায়ী ধীরু রামানি অবশেষে বিপুল পরিমাণ মুক্তিপণের বিনিময়ে ছাড়া পেয়েছেন। তার পরিবারকে অপহরণকারীদের থেকে মুক্ত করতে প্রায় ৪০ লাখ ইউরো (প্রায় ৫৬ কোটি টাকা) গুনতে হয়েছে।

ভারতীয় বার্তা সংস্থা পিটিআই সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে ধীরু রামানি মালি থেকে অপহৃত হন। এটি ঘটে যখন তিনি সম্প্রতি মালিতে একটি সোনার খনি কিনেছিলেন এবং কিছু দিন ধরে সেখানেই বসবাস করছিলেন। অপহরণের পর দুষ্কৃতকারীরা তার পরিবারের কাছ থেকে প্রায় ১০০ কোটি টাকার মুক্তিপণ দাবি করে। তবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী রামানির পরিবার দর কষাকষির মাধ্যমে সেই অঙ্কের পরিমাণ ৪০ লাখ ইউরোতে নামিয়ে আনে।

গত সপ্তাহে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ পরিশোধের পরেই মুক্তি পান এই প্রবীণ ব্যবসায়ী। সূত্র জানিয়েছে, পুরো আলোচনা ও অর্থ লেনদেনের প্রক্রিয়াটি রামানির পরিবার নিজেদেরই সম্পন্ন করেছে। এতে ভারত সরকারের কিংবা কোনো কূটনৈতিক সংস্থার সরাসরি ভূমিকা ছিল না। বর্তমানে মুক্তি পেলেও ধীরু রামানি মালিতেই অবস্থান করছেন।

স্থানীয় পুলিশের পক্ষ থেকে পুরো ঘটনা ও অপহরণের পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, মূল ভারতের গুজরাটের বাসিন্দা ধীরু রামানি ১৯৮০ এর দশক থেকে সুরাটে হীরার ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে ব্যবসা বিস্তার করেন। গত এপ্রিলে তার অপহরণের ঘটনার পর পরই মালিতে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস স্থানীয় ভারতীয় নাগরিকদের জন্য সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছিল।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মালয়েশিয়ায় রোহিঙ্গা স্কুল বন্ধ, ঘৃণামূলক প্রচারণার ঢেউয়ে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৮শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:০৭ এম


মালয়েশিয়ায় রোহিঙ্গা স্কুল বন্ধ, ঘৃণামূলক প্রচারণার ঢেউয়ে

মালয়েশিয়ায় বসবাসকারী ১২ বছর বয়সী রোহিঙ্গা শরণার্থী নুর গত জুন মাস থেকে আর স্কুলে যাতায়াত করতে পারছে না। স্কুলে যেতে যেতে দুই ব্যক্তি তার ওপর মারধরের হুমকি দেয়। এই ঘটনার পর তার পরিবার তাকে স্কুলে পাঠানো বন্ধ করে দেয়।

নুর জানায়, ওই দুই ব্যক্তি তাকে বলেছিল, "তুমি স্কুলে যেতে চাও কেন? আমাদের দেশ দখল করতে চাও?" নিরাপত্তার কারণে নুরের পরিবারের সদস্যরা তার পুরো নাম প্রকাশ করতে চাননি। অধিকার কর্মী ও শিক্ষকদের ভাষ্য, নুরের মতো আরো অনেক রোহিঙ্গা শিশুকে একই ধরনের হুমকি ও ভয়ের মুখে পড়তে হচ্ছে। এর ফলস্বরূপ মালয়েশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে শরণার্থীদের জন্য পরিচালিত একাধিক শিক্ষা কেন্দ্র বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই দেশে বেড়ে ওঠা রোহিঙ্গা অধিকারকর্মী শারিফা শাকিরাহ বলেন, অনেক শিশু ভয়ে এতটাই আতঙ্কিত হয়ে গেছে যে তারা ঘরের বাইরেও বের হতে চাচ্ছে না। তার ভাষ্য অনুযায়ী, একটি শিশুকে কয়েক দিনের জন্য ভয় দেখানো মানে শুধু ওই সময়টুকুর ক্ষতি নয়। এতে তাদের মনে দীর্ঘমেয়াদি মানসিক আঘাত তৈরি হয়।

রয়টার্সের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রোহিঙ্গাবিরোধী ঘৃণামূলক প্রচারণা ছড়িয়ে পড়ার পর দেশের বিভিন্ন স্থানে অন্তত নয়টি শরণার্থী স্কুল বন্ধ হয়ে গেছে। অনলাইনে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে ভুয়া তথ্য, উসকানিমূলক পোস্ট এবং বিদ্বেষমূলক প্রচারণা ছড়ানোর ফলে তাদের ওপর নজরদারি ও প্রশাসনিক তৎপরতাও বেড়েছে। স্কুল বন্ধ হওয়া ও এসব ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলেও মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কোনো মন্তব্য করেনি। মালয়েশিয়া সরকার রোহিঙ্গাদের আনুষ্ঠানিকভাবে শরণার্থী হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না। এদেশটি তাদের অবৈধ অভিবাসী হিসেবে বিবেচনা করে। তবে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) হিসাবে, বর্তমানে মালয়েশিয়ায় প্রায় এক লাখ ২০ হাজার নিবন্ধিত রোহিঙ্গা রয়েছেন।

মালয়েশিয়া দীর্ঘ সময় ধরে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ হিসেবে মিয়ানমারের নির্যাতনের শিকার রোহিঙ্গাদের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করেছিল। কিন্তু করোনা মহামারির সময় পরিস্থিতি বদলে যায়। তখন রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে করোনা ছড়ানোর, স্থানীয় সংস্কৃতিকে অসম্মান করার এবং চাকরির প্রতিযোগিতা বাড়ানোর মতো অভিযোগ ছড়িয়ে পড়ে। গত সপ্তাহে মালয়েশিয়ার উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী লুকানিসমান আওয়াং সাউনি সংসদে বলেন, রোহিঙ্গা সম্প্রদায়কে ঘিরে সমস্যা তৈরি হওয়ায় দেশের মানুষ নিজেদের ওপর অতিরিক্ত চাপ অনুভব করছেন।

গোটা জুন মাসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রোহিঙ্গাবিরোধী প্রচারণা পুনরায় বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে। মেটার ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও থ্রেডস এবং বাইটড্যান্সের টিকটকে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক পোস্ট ছড়িয়ে পড়েছে। এসব পোস্টে একটি রোহিঙ্গা গোষ্ঠীর কোরবানির সময় গরু জবাই করার ধর্মীয় রীতিকে পরিচ্ছন্নতা-সংক্রান্ত অভিযোগের সঙ্গে যুক্ত করা হয়। জুন মাসে মালয়েশিয়া সরকারকে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের দেশ থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্যে একটি অনলাইন আবেদন চালু হয়েছিল। পরবর্তীতে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর উদ্বেগের কারণে সেটি সরিয়ে ফেলা হয়। কিন্তু এর আগেই সেখানে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ স্বাক্ষর করে ফেলেছিল। শারিফা শাকিরাহ বলেন, এখন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা করোনা মহামারির কাল থেকে অনেক বেশি উদ্বেগজনক।

রয়টার্সের পর্যালোচনায় দেখা গেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কিছু পোস্টে রোহিঙ্গাদের, এমনকি শিশুদের বিরুদ্ধেও সহিংসতার আহ্বান জানানো হয়েছে। মেটার মালিকানাধীন থ্রেডসে একটি আলোচনার শিরোনাম ছিল 'লেমপাং রোহিঙ্গা', যার অর্থ মালয় ভাষায়, 'রোহিঙ্গাকে চড় মারো'। কিছু জনপ্রিয় অনলাইন ব্যক্তিত্ব মানুষকে রোহিঙ্গা বসতি ভিডিও ধারণ করতে এবং তাদের অবস্থান কর্তৃপক্ষকে জানানোর জন্য উৎসাহিত করেছেন। তবে জুন মাসে মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাইফুদ্দিন নাসুতিওন ইসমাইল বলেছেন, সরকার চাইলে ইচ্ছেমতো শরণার্থীদের দেশ থেকে বের করে দিতে পারে না। তিনি বলেন, জাতীয় নিরাপত্তা ও মানবিক দায়িত্বের মধ্যে ভারসাম্য রেখেই সরকার ব্যবস্থা নিতে চায়।

মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করা আন্তর্জাতিক সংগঠন 'আর্টিকেল ১৯' বলেছে, অনলাইনে ছড়ানো বিদ্বেষমূলক প্রচারণার কারণে রোহিঙ্গাদের ওপর নজরদারি বেড়েছে। এর ফলে তদন্ত, অভিযান এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের ঘটনা ঘটছে। তবে মানবাধিকারভিত্তিক কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না বলে সংগঠনটির অভিযোগ। তাদের একজন মুখপাত্র বলেন, সরকারের শাস্তিমূলক পদক্ষেপ পরিস্থিতি শান্ত করার বদলে আরো উত্তেজনা সৃষ্টির কারণ হচ্ছে। অন্যদিকে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা জানিয়েছে, রোহিঙ্গা ও অন্যান্য শরণার্থীদের বিরুদ্ধে বাড়তে থাকা ঘৃণামূলক বক্তব্য, ভুয়া তথ্য ও মানবিক মর্যাদা অস্বীকারের প্রচারণা নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন। সংস্থাটি বলছে, তারা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছে এবং শরণার্থী ও আশ্রয়দাতা জনগণের ঝুঁকি কমাতে বিভিন্ন উদ্যোগে সহায়তা করছে। তবে বিবৃতিতে স্কুল বন্ধের ব্যাপারটি উল্লেখ করা হয়নি।

মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ বলছে, অনুমতি ছাড়া পরিচালনার কারণে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষা কেন্দ্র বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। দেশটিতে শরণার্থীদের আইনগতভাবে কাজ করার অনুমতি নেই। তাদের সন্তানরাও সরকারি স্কুলে ভর্তি হতে পারে না। ফলে তারা মূলত বেসরকারি সংস্থা পরিচালিত শিক্ষা কেন্দ্র ও অনানুষ্ঠানিক স্কুলের ওপর নির্ভরশীল। নুরের ঘটনার পর তার স্কুলের শিক্ষক নিরাপত্তার কারণে অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস বন্ধ করে দেন। একই এলাকার আরো দুটি শরণার্থী স্কুলও বন্ধ হয়ে যায়।

স্কুলের শিক্ষক জানান, অনেক সময় রোহিঙ্গা শিশুদের সরকারি খেলার মাঠ থেকেও তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি ২০২২ সালে এই শিক্ষা কেন্দ্র চালু করেছিলেন, যা ছিল শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষা দেওয়ার উদ্দেশ্যে, যাতে ভবিষ্যতে তারা অন্য কোনো দেশে পুনর্বাসিত হতে পারে অথবা নিরাপদে নিজ দেশে ফিরে যেতে পারে। তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেন, তার স্কুল রোহিঙ্গাদের স্থায়ীভাবে মালয়েশিয়ায় বসবাসে উৎসাহিত করে না বা স্থানীয়দের চাকরি নিতে সহায়তা করে না। নিরাপত্তার কারণে নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, এই স্কুলের মাধ্যমে তিনি শিশুদের আইন মেনে চলতে শেখানোর চেষ্টা করছেন।

উত্তরাঞ্চলের কেদাহ রাজ্যের একটি শরণার্থী স্কুলও চলতি মাসে কর্তৃপক্ষ বন্ধ করে দেয়। এভাবে প্রয়োজনীয় অনুমতির অভাবের কারণে বন্ধ হয়েছে। এর আগে স্কুলটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল। রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের নেতা ও শিক্ষকদের তথ্য অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযোগ ওঠার পর নিরাপত্তাজনিত কারণ বা প্রশাসনের সিদ্ধান্তে অন্তত নয়টি শরণার্থী স্কুল বন্ধ হয়ে গেছে। এখনো চালু থাকা কয়েকটি স্কুল নিরাপত্তার জন্য নতুন ব্যবস্থা নিয়েছে। শিক্ষার্থীদের ইউনিফর্ম পরতে নিষেধ করা হয়েছে এবং সব ধরনের বাইরের কার্যক্রমও বন্ধ রাখা হয়েছে।

অধিকারকর্মী শারিফা শাকিরাহ সতর্ক করে বলেন, দীর্ঘদিন স্কুল বন্ধ থাকলে ভবিষ্যতে সামাজিক সমস্যা আরো বাড়বে। তার মতে, এতে রোহিঙ্গা কিশোরীদের অল্প বয়সে বিয়ের ঝুঁকি বাড়বে। একই সঙ্গে অনেক শিশু রাস্তায় ঘুরে বেড়াবে অথবা ভিক্ষাবৃত্তিতে জড়িয়ে পড়তে পারে। তিনি বলেন, অনেকেই অভিযোগ করেন যে রোহিঙ্গা শিশুরা রাস্তায় ভিক্ষা করে। কিন্তু স্কুল বন্ধ থাকলে এমন শিশুর সংখ্যা বাড়বে। অধিকারকর্মীদের মতে, এই ঘটনা আবারও প্রশ্ন তুলে দিয়েছে যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলো ঘৃণামূলক বক্তব্য ও সহিংসতামূলক কনটেন্ট কতটা কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে। 'আর্টিকেল ১৯' জানিয়েছে, তাদের অভিযোগের পর মেটা ও টিকটক কিছু পোস্ট সরিয়ে ফেলেছে, কিন্তু অনেক পোস্ট এখনো অনলাইনে রয়েছে।

রয়টার্সের পাঠানো ১০টি পোস্টের মধ্যে মেটা ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও থ্রেডস থেকে সাতটি সরিয়েছে। টিকটক ১১টি পোস্টের মধ্যে আটটি সরিয়ে দিয়েছে। 'আর্টিকেল ১৯' এর ভাষ্য, নীতিমালা থাকলেও এসব প্ল্যাটফর্মে তার প্রয়োগ সব সময় একরকম নয়। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ব্যবস্থা অনেক সময় সাংকেতিক ভাষা, ছবি বা স্থানীয় ভাষার সূক্ষ্ম অর্থ বুঝতে পারে না। মেটা ও টিকটক জানিয়েছে, তারা ঘৃণামূলক বক্তব্য ঠেকাতে স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি ও মানব পর্যালোচনা—দুই পদ্ধতিই ব্যবহার করছে। টিকটক আরো জানায়, ক্ষতিকর মন্তব্য করার আগে ব্যবহারকারীদের সতর্ক করার ব্যবস্থা তাদের প্ল্যাটফর্মে রয়েছে।

এখন নুরের মতো অনেক শিশুর সামনে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। কান্নাজড়িত কণ্ঠে নুর রয়টার্সকে বলেন, 'আমি যদি স্কুলে যেতে না পারি, তাহলে কিছুই শিখতে পারব না। আর জীবনে কিছুই হতে পারব না।'

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নাইজেরিয়ায় বন্দুকধারীদের হামলা, শিশুসহ নিহত ৩০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৮শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:১২ এম


নাইজেরিয়ায় বন্দুকধারীদের হামলা, শিশুসহ নিহত ৩০

নাইজেরিয়ার একটি গ্রামে বন্দুকধারীদের হামলার ঘটনায় ৮ শিশুসহ মোট ৩০ জন নিহত হয়েছেন।

সোমবার (২৭ জুলাই) দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় কাডুনা রাজ্যের একটি গ্রামে এই হামলার ঘটনা ঘটে। এই তথ্যটি বাসিন্দাদের বরাতে বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) নিশ্চিত করেছে।

গ্রাম প্রধানের সচিব ডোগন রানা জানিয়েছেন, বন্দুকধারীরা হঠাৎ করেই নিরীহ মানুষের ওপর হামলা চালায়। তারা এলোপাথারিভাবে গুলি করে এবং বিভিন্ন বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেয়। এই হামলায় আটজন শিশু পুড়ে মারা যায়। তার পাশাপাশি আরও চারজন আহত হয়েছেন।

নাগরিক সমাজ গোষ্ঠী সাউদার্ন কাডুনা পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি নেটওয়ার্কের চেয়ারম্যান ডেরেক ক্রিস্টোফার জানিয়েছেন, এই নৃশংস হামলাটি রোববার গভীর রাতে কাডুনা রাজ্যের কাউরা এলাকার নারিডন গ্রামে সংঘটিত হয়।

ক্রিস্টোফার বলেন, গত বছর ঠিক এই সময়েই একই গ্রামে সশস্ত্র দুর্বৃত্তদের দ্বারা হামলা হয়। ঘটনার দিকে তাকিয়ে মনে হচ্ছে, সরকার সাধারণ মানুষকে রক্ষা করার চেষ্টা পুরোপুরি ত্যাগ করেছে। তিনি জানান যে, এই অসহায় মানুষের পক্ষে লড়াই করার মতো আর কেউ বাকি আছে কিনা সেটা জানেন না।

কাডুনা রাজ্যের স্বরাষ্ট্র ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিষয়ক কমিশনার সুলে শু'আইবু জানিয়েছেন, এই হামলা সম্পর্কে তাকে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য জানানো হয়নি।

এক স্থানীয় বাসিন্দা ও যুবনেতা ইশায়া দাওয়া বলেন, হামলাকারীরা মধ্যরাতে কাউরু এলাকার নারিডন গ্রামে হামলা চালিয়ে বাসিন্দাদের লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। তিনি আরও বলেন, কিছু বাসিন্দাকে নির্মমভাবে জবাই করা হয়েছে, এবং ইতোমধ্যে কয়েকজনের মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়েছে।

নিহতদের বিষয়ে বর্ণনা করতে গিয়ে দাওয়া বলেন, ভুক্তভোগীদের মধ্যে নারী, শিশু এবং বৃদ্ধরা রয়েছেন। হামলাকারীরা পালিয়ে যাওয়ার আগে গ্রামের একাধিক বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।

স্থানীয় এই বাসিন্দার কথায়, হামলার কয়েক ঘণ্টা পর সকালের দিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সেখানে উপস্থিত হন। কাডুনা রাজ্য পুলিশের মুখপাত্র মনসুর হাসান জানিয়েছেন, এই হামলার বিষয়ে শিগগিরই বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে। সূত্র: রয়টার্স।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মেক্সিকোর প্রেসিডেন্টের বাসভবনের কাছে বন্দুক হামলা, নিহত ১

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৮শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:১৭ এম


মেক্সিকোর প্রেসিডেন্টের বাসভবনের কাছে বন্দুক হামলা, নিহত ১

মেক্সিকোর রাজধানীতে মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক জোকালো পাবলিক স্কোয়ার ও প্রেসিডেন্সিয়াল প্যালেসের নিকটে বন্দুকধারীদের গুলিতে একজন নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় দুজন গুরুতর আহত হয়েছেন। আক্রমণের সময় ব্যাপারটি স্থানীয় সময় সোমবার (২৮ জুলাই) ঘটেছে।

মেক্সিকো সিটির নিরাপত্তা সচিবালয় ঘটনাটিকে বিশেষভাবে একটি সরাসরি হামলা হিসেবে চিহ্নিত করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, বন্দুকধারীদের হামলায় ৪২ বছর বয়সী এক ব্যক্তি ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। এছাড়াও, ৩৯ বছর বয়সী দুজন পুরুষ গুরুতর আহত হয়।

গোলাগুলির পর হামলাকারীরা দ্রুত মোটরসাইকেলে করে এলাকা থেকে পালিয়ে যায়। পুলিশ ইতিমধ্যে তাদের ধরার জন্য তদন্ত শুরু করেছে।

এই হামলাটি ঐতিহাসিক সান্তো ডোমিঙ্গো স্কোয়ারে ঘটেছে, যা তার চমৎকার ঔপনিবেশিক আমলের ভবনগুলো দিয়ে পরিচিত, কিন্তু সেখানে ভুয়া কাগজপত্র এবং জাল নথি তৈরির ও বিক্রির কার্যকলাপ চলছে। সাধারণত, মেক্সিকোর মাদক পাচারকারী গ্যাংগুলোর নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকাগুলোতে সহিংসতা অথবা গোলাগুলির ঘটনা ঘটতেই থাকে।

কিন্তু, রাজধানীতে ‘ইউনিয়ন টেপিটো’ এবং ‘ফুয়েরজা অ্যান্টি-ইউনিয়ন’ এর মতো বেশ কিছু অপরাধী গ্যাং সক্রিয় হিসেবে থাকাকালীন, মেক্সিকো সিটির কেন্দ্রে এ ধরনের সরাসরি হামলার ঘটনা খুবই বিরল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৯
মাগরিব ০৫:২৬
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%