ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

সরকারি চাকরি কি ‘আলাদিনের চেরাগ’? ১৪তম গ্রেডের কর্মচারী সাইফুল সার্ভেয়ারের জমি ও ভবনে বিনিয়োগ ৪ কোটি ৬৫ লাখ ৮২ হাজার টাকার বেশি, অর্থের উৎস কোথায়?


সরকারি চাকরি কি ‘আলাদিনের চেরাগ’? ১৪তম গ্রেডের কর্মচারী সাইফুল সার্ভেয়ারের জমি ও ভবনে বিনিয়োগ ৪ কোটি ৬৫ লাখ ৮২ হাজার টাকার বেশি, অর্থের উৎস কোথায়?

১৪তম গ্রেডের সরকারি কর্মচারী সাইফুল সার্ভেয়ারের জমি কেনা ও পাঁচতলা ভবন নির্মাণে সম্ভাব্য বিনিয়োগ ৪ কোটি ৬৫ লাখ ৮২ হাজার টাকার বেশি। এর বাইরে নকশা অনুমোদন, ড্রিলিং বা পাইলিং, বিদ্যুৎ সংযোগসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচ রয়েছে। ফলে তাঁর বিনিয়োগের অর্থের উৎস এবং সরকারি চাকরির আয়-সঞ্চয়ের সঙ্গে এর সামঞ্জস্য নিয়ে জনস্বার্থে প্রশ্ন উঠেছে।

মাসিক বেতন-ভাতা সর্বোচ্চ ৩০ হাজার টাকা ধরে ২০ বছরে একজন কর্মচারীর মোট আয় হয় ৭২ লাখ টাকা। এই আয় থেকে নিজের ভরণপোষণ, স্ত্রী-সন্তানের খরচ, মা-বাবার দেখাশোনা, সন্তানদের লেখাপড়া, চিকিৎসা ও অন্যান্য পারিবারিক ব্যয় মেটানোর পর কত টাকা সঞ্চয় করা সম্ভব—সেই প্রশ্নও সামনে এসেছে। তবে সাইফুল সার্ভেয়ারের প্রকৃত চাকরির মেয়াদ, বেতন বৃদ্ধি, ভাতা ও অন্যান্য বৈধ আয় যাচাই না করে এই হিসাবকে তাঁর প্রকৃত মোট আয় বলা যাবে না।

একটি সূত্রের দাবি, সাইফুল সার্ভেয়ার বর্তমানে পিরোজপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ভূমি শাখায় কর্মরত রয়েছেন। তবে তাঁর বর্তমান কর্মস্থলের তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

সরকারি চাকরিতে থেকে বৈধ উপার্জনে সম্পদ অর্জন দোষের নয়। তবে এত বড় বিনিয়োগের অর্থ কোথা থেকে এসেছে, তা জানা জরুরি। প্রশ্ন তাই—সরকারি চাকরি কি ‘আলাদিনের চেরাগ’, নাকি এই সম্পদ গড়ার পেছনে রয়েছে অন্য কোনো বৈধ আয়ের উৎস?

গতকাল বরিশাল নগরের ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে জমির দখল নিয়ে সাইফুল সার্ভেয়ার ও এক প্রতিবেশীর মধ্যে বিরোধের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার একটি ভিডিও তালাশ বিডিতে প্রকাশ করা হয়। ভিডিও প্রকাশের পর সাইফুল সার্ভেয়ারের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করে তাঁর বক্তব্য নেওয়া হয়।

সাইফুল তালাশ বিডিকে জানান, গত বছর তিনি নিজের নামে ৬ শতাংশ জমি কিনেছেন। প্রতি শতাংশের দাম দিয়েছেন ১৭ লাখ টাকা। সে হিসাবে জমির ক্রয়মূল্য ১ কোটি ২ লাখ টাকা। নিবন্ধন খরচ বাবদ ব্যয় হয়েছে ১৩ লাখ ৮২ হাজার টাকা। অর্থাৎ জমি কেনা ও নিবন্ধন মিলিয়ে মোট ব্যয় ১ কোটি ১৫ লাখ ৮২ হাজার টাকা।


জমিটিতে পাঁচতলা ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছেন সাইফুল সার্ভেয়ার। ভবন নির্মাণের জন্য সিটি করপোরেশন থেকে অনুমোদিত নকশা নিয়েছেন বলেও জানা গেছে। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নির্মাণকাজে সম্ভাব্য ব্যয় সাড়ে ৩ কোটি টাকার বেশি হতে পারে।

২০২৬ সালে প্রকাশিত নির্মাণব্যয়ের বিভিন্ন হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশে বাড়ি নির্মাণে প্রতি বর্গফুটে আনুমানিক ২ হাজার ৮৫০ থেকে ৩ হাজার ৭৫০ টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে। বহুতল ভবনের ক্ষেত্রে পাইলিং, ফাউন্ডেশন, নির্মাণসামগ্রীর মান, শ্রমিকের মজুরি, বৈদ্যুতিক ও অন্যান্য স্থাপনা যুক্ত হলে ব্যয় আরও বাড়তে পারে। তবে এগুলো সাধারণ বাজারভিত্তিক অনুমান; বরিশালের এই নির্দিষ্ট ভবনের প্রকৃত ব্যয় নির্ধারণে অনুমোদিত নকশা, মোট নির্মিত আয়তন, নির্মাণসামগ্রীর বিবরণ ও ঠিকাদারের হিসাব যাচাই করা প্রয়োজন।

জমি কেনা ও নিবন্ধনের ১ কোটি ১৫ লাখ ৮২ হাজার টাকার সঙ্গে ভবন নির্মাণের সম্ভাব্য ব্যয় সাড়ে ৩ কোটি টাকার বেশি যোগ করলে মোট পরিমাণ দাঁড়ায় ৪ কোটি ৬৫ লাখ ৮২ হাজার টাকার বেশি। এর বাইরে নকশা অনুমোদন, ড্রিলিং বা পাইলিং, বিদ্যুৎ সংযোগ এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচ যুক্ত হতে পারে। তবে এসব খাতে প্রকৃত ব্যয়ের নির্ভরযোগ্য হিসাব ও নথি পাওয়া যায়নি। তাই মোট বিনিয়োগ সাড়ে ৫ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো পূর্ণাঙ্গ হিসাব এখনো নেই।


সাইফুল সার্ভেয়ার তালাশ বিডিকে বলেছেন, নিজের পরিশ্রমের উপার্জিত অর্থ দিয়ে জমি কিনেছেন এবং ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছেন। তিনি পারিবারিক বা উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সম্পদের কথা উল্লেখ করেননি।

তাঁর বক্তব্যের সত্যতা ও বিনিয়োগের সঙ্গে আয়ের সামঞ্জস্য নির্ধারণে প্রকৃত বেতন-ভাতা, অন্যান্য বৈধ আয়ের উৎস, সঞ্চয় এবং পারিবারিক ব্যয়ের হিসাব বিবেচনা করা প্রয়োজন। জমির দলিল, নিবন্ধন রসিদ, আয়কর রিটার্ন, সম্পদ বিবরণী, ব্যাংক হিসাব ও ভবন নির্মাণের ব্যয়ের নথি যাচাই করলে বিনিয়োগের অর্থের উৎস সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া সম্ভব।

আরও পড়ুন: মদনে শিশু ধর্ষণ ও গর্ভধারণ মামলা, রায় ১১ নভেম্বর

বাংলাদেশে ভূমি অফিসকে ঘিরে ঘুষ, দুর্নীতি, অনিয়ম ও হয়রানির অভিযোগ দীর্ঘদিনের। জমির নামজারি, রেকর্ড সংশোধন, মাপজোক ও সীমানা নির্ধারণসহ বিভিন্ন ভূমিসেবা নিয়ে সাধারণ মানুষের অভিযোগ বিভিন্ন সময়ে সামনে এসেছে। এসব কাজে সার্ভেয়ারদের দায়িত্ব গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় তাঁদের ভূমিকা ও আর্থিক লেনদেনের স্বচ্ছতাও আলোচনায় আসে।

তবে ভূমি অফিসকে ঘিরে সাধারণ অভিযোগ থাকা মানেই কোনো নির্দিষ্ট কর্মচারী দুর্নীতিতে জড়িত—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। সাইফুল সার্ভেয়ারের বিরুদ্ধে ঘুষ বা অবৈধ আয়ের অভিযোগ প্রমাণ করতে হলে নির্দিষ্ট নথি, সাক্ষ্য ও নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রয়োজন। তাঁর সম্পদের উৎস নিয়ে ওঠা প্রশ্নের উত্তরও নিরপেক্ষ যাচাইয়ের মাধ্যমেই পাওয়া সম্ভব।

তালাশ বিডির পক্ষ থেকে সাইফুল সার্ভেয়ারের বক্তব্য নেওয়া হয়েছে এবং তাঁর বক্তব্যের রেকর্ড সংরক্ষিত রয়েছে। অতিরিক্ত ব্যাখ্যা ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র চেয়ে তাঁর সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপেও যোগাযোগ করা হয়েছে। প্রতিবেদন তৈরির সময় পর্যন্ত তাঁর লিখিত জবাব পাওয়া যায়নি। প্রাসঙ্গিক নথি ও ব্যাখ্যা পাওয়া গেলে তা যথাযথভাবে প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।


এ বিষয়ে বরিশাল জেলা দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) এক কর্মকর্তা তালাশ বিডিকে জানান, “অবৈধ সম্পদের বিরুদ্ধে আপনারা সংবাদ প্রকাশ করুন। একজন নাগরিক হিসেবে জনস্বার্থে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দিন। আমরা অভিযোগটি যথাযথভাবে যাচাই করে তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেব। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে তাঁকে আইনের আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করব।”

সাইফুল সার্ভেয়ারের বিনিয়োগের অর্থের উৎস নিয়ে ওঠা প্রশ্নের নিষ্পত্তি নির্ভর করবে নির্ভরযোগ্য নথি যাচাই ও যথাযথ তদন্তের ওপর। তালাশ বিডি প্রাপ্ত তথ্য ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্যের ভিত্তিতে জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়টি পাঠকদের সামনে তুলে ধরেছে।
সাইফুল সার্ভেয়ারের অনুসন্ধানীর প্রতিবেদনের দ্বিতীয় পর্ব দেখতে তালাশ বিডির সাথেই থাকুন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভৈরবে বালুমহলে হামলা ও টাকা লুটের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন, ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শাহিন আলম, ভৈরব প্রতিনিধি

শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৩৫ পি.এম


ভৈরবে বালুমহলে হামলা ও টাকা লুটের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন, ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে মেঘনা নদীর বালুমহল লিজ নিয়ে ইজারাদারের লোকজন ড্রেজারে বালু উত্তোলনের সময় কর্মচারীদের মারধর ও নগদ ১৬ লাখ টাকা লুটসহ চাঁদা দাবির অভিযোগ তুলেছেন ইমতিয়াজ আহমেদ কাজল ও মাসুদ রানা বাবুসহ তাঁদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে। তাছাড়া হামলায় গুরুতর আহত কর্মচারী দেলোয়ার হোসেন কাকন বর্তমানে ঢাকায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।


এ ঘটনায় গণঅধিকার পরিষদের নেতা ইমতিয়াজ আহমেদ কাজল ও মাসুদ রানা বাবুসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করে ভৈরব থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। সাংসদ সম্মেলন করে এসব অভিযোগ করেন বালুমহল ইজারাদার পক্ষের পরিচালক মাইনুল ইসলাম বেকুল।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে ভৈরব প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন মইনুল ইসলাম বেকুল। তিনি বৈধ ইজারাদার শফিক ট্রেডার্সের পক্ষে বালুমহলটির পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

লিখিত বক্তব্যে মইনুল ইসলাম বেকুল বলেন, ভৈরব পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র হাজি মো. শাহিনের ছোট ভাই শফিকুল ইসলাম উন্মুক্ত দরপত্রে অংশ নিয়ে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে মেঘনা নদীর বালুমহলটি ইজারা নেন। ইজারামূল্য, ভ্যাট ও ট্যাক্সসহ মোট ১৬ কোটি ৯৬ লাখ ২৫ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে। সরকারি নিয়ম মেনে ১ বৈশাখ থেকে ভৈরব উপজেলার তিনটি মৌজায় বালু উত্তোলনের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

বেকুলের অভিযোগ, বালুমহলের কার্যক্রম শুরুর পর থেকে ইমতিয়াজ আহমেদ কাজল বিনা বিনিয়োগে বালু ব্যবসায় অংশীদার হওয়ার জন্য বিভিন্নভাবে চাপ দিয়ে আসছিলেন। এতে রাজি না হওয়ায় কাজল ও তাঁর সহযোগীরা বিভিন্ন সময় চাঁদা দাবি করেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বালুমহল নিয়ে অপপ্রচার চালান বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, গত ২০ অক্টোবর মঙ্গলবার সকাল আনুমানিক ৯টা ৫০ মিনিটে কাজল, ও বাবুসহ তাঁদের সহযোগীরা নৌকাযোগে লুন্দিয়া মৌজায় অবস্থিত বালুমহলে গিয়ে হামলা চালান এবং বালুমহলের ক্যাশে থাকা ১৬ লাখ টাকা নিয়ে যান। এ সময় বালুমহলের কর্মচারী কাকনের মাথায় আঘাত করে গুরুতর আহতসহ আরও দুই কর্মচারী মারধরের শিকার হন। আহত কাকন মিয়াকে প্রথমে ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেন। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এ ঘটনায় আহত কাকনের ভাই পূণ্য মিয়া বাদী হয়ে ইমতিয়াজ আহমেদ কাজল ও মাসুদ রানা বাবুসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করে মামলা করেন।

পরিচালক বেকুল বলেন, বালুমহলটি সরকারি দরপত্রের মাধ্যমে ইজারা নেওয়া হয়েছে। এর সঙ্গে বিএনপির কোনো সাংগঠনিক সম্পর্ক নেই। এ ছাড়া বালুমহল নিয়ে জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে দেওয়া অভিযোগ তদন্ত করা হয়েছে এবং তাঁর দাবি অনুযায়ী, তদন্তে অভিযোগগুলোর সত্যতা পাওয়া যায়নি।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ভৈরব উপজেলা যুবদলের আহবায়ক দেলোয়ার হোসেন সুজন, সদস্য সচিব আল মামুন, পৌর যুবদলের আহ্বায়ক হানিফ মাহমুদ, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব আরিফুল হক সুজনসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

অভিযুক্ত গণঅধিকার পরিষদের নেতা ইমতিয়াজ আহমেদ কাজল বলেন, আমার বিরুদ্ধে যারা মিথ্যা ও বানোয়াট বক্তব্য দিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে। আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। তিনি অভিযোগ করেন, ইজারা বৈধ হলেও, ইজারা চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করে অতিরিক্ত ড্রেজার ব্যবহার করে অবৈধউপায়ে বালু উত্তোলন করছে তারা। ওই দিন আমরা সাংবাদিক নিয়ে অতিরিক্ত ড্রেজারের ছবি ও ভিডিও করে পাড়ে চলে আসার মুহুর্তে বালু সন্ত্রাসীরা পিস্তল, রামদা ও চাপাতি নিয়ে দুটি স্পীডবোড নিয়ে আমাদের নৌকায় উঠে হামলা চালিয়ে মোবাইল ফোন ও টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নেয়। এলাকাবাসী লোকজন এগিয়ে এসে আমাদের তখন উদ্ধার করে। তাছাড়া ইজারাদার একজন হলেও প্রায় দুই শতাধিক বিএনপি নেতাকর্মীকে বালু ব্যবসায় অংশীদার করেছেন। তা ইজারা চুক্তির শর্তের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, প্রশাসনের উচিত তদন্ত করা। এসব অংশীদারের মাধ্যমে নদীতে প্রভাব বিস্তার ও ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টির করায় সাধারণ মানুষও তাদের প্রয়োজনে নদীতে যেতে ভয় পায়। আমি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে দাবি করছি, হামলা, ছিনতাই ও ইজারা শর্তভঙ্গ করে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ করা হোক এবং নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জাবিতে প্রথমবারের মতো দেখা মিলল মেরুন বেনেবউয়ের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৪৮ পি.এম


জাবিতে প্রথমবারের মতো দেখা মিলল মেরুন বেনেবউয়ের

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) প্রথমবারের মতো তামারং বেনেবউ পাখির উপস্থিতি নথিভুক্ত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণকর্মী অরিত্র সাত্তার পাহাড়ি বনাঞ্চলে বসবাসকারী এই তুলনামূলক বিরল পাখিটি দেখতে পান। পাখিবিশেষজ্ঞদের মতে, পাহাড়ি এলাকার বাইরে এ প্রজাতির পাখির দেখা পাওয়া বেশ বিরল।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুরের দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন এলাকায় একটি গাছে পাখিটি দেখা যায়। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের গাছপালা ও প্রাকৃতিক পরিবেশ পাখিদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ আবাসস্থল হিসেবে পরিচিত। সেখানে তামারং বা মেরুন বেনেবউয়ের উপস্থিতি ক্যাম্পাসের জীববৈচিত্র্যের সম্ভাবনাকে নতুনভাবে উন্মোচন করেছে।

‎ মেরুন-কালো রঙের অনন্য পাখি

তামারং বা মেরুন বেনেবউয়ের ইংরেজি নাম Maroon Oriole এবং বৈজ্ঞানিক নাম Oriolus traillii। পাখিটির দেহের গাঢ় তামাটে বা মেরুন রং এবং কালো মাথার কারণে এটি সহজেই অন্য বেনেবউ প্রজাতি থেকে আলাদা করা যায়। আকারে এটি ময়নার চেয়ে সামান্য বড়। সাধারণত গাছের উঁচু ডালে ও পাতার আড়ালে অবস্থান করে, তাই পাখিটিকে সহজে চোখে পড়ে না।

প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ পাখির দেহের অধিকাংশ পালক চকচকে গাঢ় তামাটে-মেরুন রঙের। মাথা, ঘাড় ও ডানা কালো। ঠোঁটের রং নীলাভ কালো এবং লেজের দিকে তামাটে-বাদামি আভা থাকে। অন্যদিকে, স্ত্রী ও অপ্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ পাখির দেহের নিচের অংশ ধূসর-সাদা, যার ওপর কালো দাগ দেখা যায়। পাখিটি সাধারণত একা বা জোড়ায় বিচরণ করে। কখনো কখনো ফিঙে কিংবা মিনিভেটের মতো পাখির দলের সঙ্গেও দেখা যায়। উঁচু গাছের পাতা ও ডালপালার আড়ালে লুকিয়ে থাকলেও ফুলের মধু সংগ্রহের সময় তুলনামূলকভাবে সহজে চোখে পড়ে। এর ডাক কিছুটা কর্কশ ‘কিহ-আ’ শব্দের পর শিসের মতো ‘পি-লো-লো’ ধ্বনির সমন্বয়ে তৈরি।

‎পাহাড়ি বনই প্রধান আবাসস্থল

তামারং বেনেবউ মূলত হিমালয়ের পাদদেশের আর্দ্র পর্ণমোচী ও চিরসবুজ বন এবং সংলগ্ন সমতল এলাকার পাখি। ভারতীয় উপমহাদেশে হিমাচল প্রদেশ থেকে অরুণাচল প্রদেশ পর্যন্ত হিমালয়সংলগ্ন অঞ্চলে এবং দক্ষিণে মণিপুরসহ আশপাশের এলাকায় এর বিস্তৃতি রয়েছে। বাংলাদেশে সিলেট ও চট্টগ্রামের পাহাড়ি বনাঞ্চলে পাখিটি দেখা যায়।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও পাখিবিশেষজ্ঞ ড. এম মনিরুল এইচ খান বলেন, তাম্ররঙা বেনেবউ মূলত সিলেট ও চট্টগ্রামের পাহাড়ি এলাকায় দেখা যায়। তবে সেখানেও পাখিটি খুব একটা সচরাচর দেখা যায় না।

তিনি বলেন, ‘শহর বা শহরতলির বনাঞ্চলে এ প্রজাতির পাখি দেখা যাওয়া একেবারেই স্বাভাবিক ঘটনা নয়।’

মনিরুল এইচ খান আরো বলেন, পাহাড়ি এলাকার বাইরে বাংলাদেশে এর আগে মাত্র দুবার পাখিটির উপস্থিতি নথিভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে একবার ঢাকার মিরপুরের জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যানে এবং অন্যবার দিনাজপুরের উত্তর নবাবগঞ্জে পাখিটির দেখা মিলেছিল।

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের প্রাকৃতিক পরিবেশ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘ক্যাম্পাসের আশপাশের অনেক এলাকায় একসময় প্রচুর গাছপালা ছিল। তবে সেসব গাছপালার বড় একটি অংশ এখন আর নেই। তুলনামূলকভাবে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস এখনো পাখির জন্য ভালো আবাসস্থল।

‎কী খায়, কোথায় বাসা বাঁধে

তামারং বেনেবউয়ের খাদ্যতালিকায় রয়েছে বিভিন্ন ধরনের কীটপতঙ্গ, শুঁয়োপোকা, অন্যান্য ক্ষুদ্র অমেরুদণ্ডী প্রাণী, জামজাতীয় ফল, বুনো ডুমুর, বেরি ও ফুলের মধু। গাছের পাতা ও ডালে ডালে খাবারের সন্ধান করে, তাই এর খাদ্য সংগ্রহের বড় অংশই বৃক্ষনির্ভর।

প্রজনন মৌসুমে সাধারণত এপ্রিল থেকে মে মাসের মধ্যে এ পাখিকে বাসা তৈরি করতে দেখা যায়। গাছের ডালের দুই প্রান্তের সংযোগস্থলে তন্তু ও মাকড়সার জাল দিয়ে কাপের মতো বাসা তৈরি করে। এতে সাধারণত দুই থেকে তিনটি গোলাপি-সাদা ডিম পাড়ে, যেগুলোর গায়ে কালো বা লালচে-বাদামি দাগ থাকে। বাংলাদেশে এ প্রজাতির পাখির উপস্থিতি দেশের বনাঞ্চল ও বৃক্ষনির্ভর জীববৈচিত্র্যের সঙ্গে সম্পর্কিত। প্রাকৃতিক বন, বড় গাছ এবং ঘন বৃক্ষরাজি টিকে থাকলে এ ধরনের পাখির আবাসস্থল সংরক্ষণে সহায়ক পরিবেশ বজায় রাখা সম্ভব।

‎প্রকৃতি সংরক্ষণে নতুন সম্ভাবনা

ক্যাম্পাসে তামারং বেনেবউয়ের উপস্থিতি সম্পর্কে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণকর্মী ও তরুণ গবেষক অরিত্র সত্তার বলেন, পাখিটির দেখা পাওয়া প্রমাণ করে, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে মানুষ ও প্রকৃতির সহাবস্থানের পরিবেশ গড়ে তোলার সম্ভাবনা রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘মানুষের আগের কর্মকাণ্ডের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত প্রাকৃতিক আবাসস্থল আরো পুনরুদ্ধার করা সম্ভব। এ জন্য সাময়িক বিধিনিষেধ আরোপের মাধ্যমে প্রাকৃতিক পরিবেশকে মানুষের বিরক্তি ও হস্তক্ষেপ থেকে সুরক্ষিত রাখা প্রয়োজন।’

বিশেষজ্ঞদের মতে, পাখির আবাসস্থল রক্ষায় গাছপালা সংরক্ষণ, নির্বিচার বৃক্ষনিধন রোধ এবং পাখির বিচরণস্থলে অপ্রয়োজনীয় মানুষের হস্তক্ষেপ কমানো গুরুত্বপূর্ণ। ক্যাম্পাসের প্রাকৃতিক পরিবেশ অক্ষুণ্ন রাখা গেলে বিরল ও অনিয়মিতভাবে দেখা দেওয়া পাখির জন্যও অনুকূল পরিবেশ বজায় থাকতে পারে।

এদিকে, পাখিবিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, চলতি বছর পরিযায়ী পাখিরা নির্ধারিত সময় অনুযায়ী আসতে শুরু করেছে। আগের বছরগুলোতে কিছু প্রজাতির পাখির আগমনে বিলম্ব দেখা গেলেও এবার তাদের আগমন সময়মতো হচ্ছে বলে তাঁরা জানিয়েছেন।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে তামারং বেনেবউয়ের উপস্থিতি তাই শুধুমাত্র একটি বিরল পাখি দেখার ঘটনা নয়; বরং ক্যাম্পাসের প্রাকৃতিক পরিবেশ, বৃক্ষরাজি ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরার একটি উপলক্ষ।

‎

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কালিয়াকৈরে অটোরিকশা শ্রমিকদের অবরোধ, ওসির হস্তক্ষেপে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক স্বাভাবিক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৪৯ পি.এম


কালিয়াকৈরে অটোরিকশা শ্রমিকদের অবরোধ, ওসির হস্তক্ষেপে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক স্বাভাবিক

ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালক শ্রমিকদের বিক্ষোভের কারণে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে উভয় পাশে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়। দীর্ঘ ১০ কিলোমিটার জুড়ে আটকা পড়েছে শত শত যাত্রীবাহী বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান এবং প্রাইভেটকার। অন্য পাশের লেন খালি থাকা সত্ত্বেও অবরোধের কারণে কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারেনি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শত শত অটোরিকশা চালক তাদের অটোরিকশা রাস্তার মাঝখানে আড়াআড়ি করে রেখে স্লোগান দিচ্ছিলেন। এর ফলে উত্তরবঙ্গ থেকে ঢাকাগামী এবং ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গগামী হাজার হাজার যাত্রী, নারী, শিশু, রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স চরম ভোগান্তিতে পড়ে। অনেক যাত্রীকে বাস থেকে নেমে পায়ে হেঁটে গন্তব্যে যেতে দেখা গেছে।

ঘটনার খবর পেয়ে কালিয়াকৈর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তিনি উত্তেজিত শ্রমিকদের মাঝে গিয়ে মানবিক ও কঠোর ভাষায় বক্তব্য দেন।

ওসি বলেন, "এভাবে রাস্তা বন্ধ করা ঠিক না। এটা প্রতিবাদ করার সঠিক নিয়ম না। আপনারা গরিব মানুষ, আপনাদের কষ্ট আমি বুঝি। এই বিষয়টা আমি সরকারের কাছে, আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে কাগজে-কলমে লিখে জানিয়ে দেব। সরকার একটা ব্যবস্থা নেবে। আপনাদের দায়িত্ব আমি নিলাম। এই এলাকার চেয়ারম্যান সাহেব আপনাদের খোঁজ খবর নেবে। দয়া করে বাবারা, আপনারা রাস্তাটা ছেড়ে দিন। হাজার হাজার মানুষ কষ্ট পাচ্ছে।" তাঁর মানবিক ও দায়িত্বশীল বক্তব্যের পর পরিস্থিতি শান্ত হতে শুরু করে।

এসময় উপস্থিত স্থানীয় জনপ্রতিনিধি চেয়ারম্যান বলেন, "আমাদের ওসি সাহেব অত্যন্ত ভালো মানুষ। তিনি মানবিক কারণে আপনাদের গরিব মানুষের দায়িত্ব নিয়েছেন। এরকম ওসির প্রয়োজন, এরকম পুলিশের প্রয়োজন। আপনারা আল্লাহকে সাক্ষী রেখে ওসি সাহেবের কথার উপর ভরসা করে রাস্তা ক্লিয়ার করে দেন।"

আন্দোলনকারী শ্রমিকরা জানান, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে হাইওয়ে পুলিশের হয়রানি, অটোরিকশা আটক এবং অযথা টাকা আদায়ের প্রতিবাদে তারা রাস্তায় নেমেছেন। তাদের দাবি, মহাসড়কে চলাচলের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা করতে হবে।

একজন চালক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "আমরা গরিব, দিন আনি দিন খাই। আমাদেরকে যদি প্রতিদিন আটক করা হয়, তাহলে আমাদের সংসার চলবে কীভাবে?"

পরে ওসি মোঃ শহিদুল ইসলামের আশ্বাস এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মধ্যস্থতায় প্রায় এক ঘণ্টা পর চালকরা অবরোধ তুলে নেন। এরপর ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ধীরে ধীরে যান চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করে।

হাইওয়ে পুলিশ জানিয়েছে, মহাসড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে কাজ করা হচ্ছে এবং যাত্রীদের নিরাপত্তায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ছয় বছরেও নির্মিত হয়নি সেতু, বাঁশের সাঁকোই ভরসা পাঁচ গ্রামের মানুষের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৪৯ পি.এম


ছয় বছরেও নির্মিত হয়নি সেতু, বাঁশের সাঁকোই ভরসা পাঁচ গ্রামের মানুষের

ছয় বছর আগে একটি সেতু খালের ওপর ভেঙে পড়েছিল। এরপর থেকে পাঁচ গ্রামের মানুষের জন্য বাঁশের নড়বড়ে সাঁকোই একমাত্র ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শিক্ষার্থীরা ঝুঁকি নিয়ে এ সাঁকো পার হচ্ছে, কৃষক, শ্রমজীবী মানুষ এবং বয়স্করা চলাচল করছেন। জরুরি প্রয়োজনে রোগীকে হাসপাতালে নিতে গিয়ে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

খুলনার কয়রা উপজেলার সদর ইউনিয়নের ২নং কয়রা-ওড়াতলা খালের ওপর নতুন সেতু নির্মাণ না হওয়ায় হাজারো মানুষ দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের দুর্ভোগের শিকার।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সেতু না থাকার কারণে তাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। কোথাও যেতে হলে বাঁশের সাঁকোর ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। সামান্য অসাবধান হলেই খালে পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। বছরের পর বছর এভাবে চলাচল করলেও সেতু নির্মাণের জন্য কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়ায় তাদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে।

জানা গেছে, ১৯৯৬ সালে খুলনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের ১৩-১৪/১ নম্বর পোল্ডারের আওতায় ২ নম্বর কয়রা-ওড়াতলা খালের ওপর সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছিল। ২০২০ সালে সেতুটি ধসে পড়ার পর থেকে স্থায়ী যোগাযোগব্যবস্থা ভেঙে যায়। এরপর স্থানীয় লোকজনের উদ্যোগে খালের ওপর বাঁশের সাঁকো তৈরি করা হয়। সেটিই এখন ২নং কয়রা, ওড়াতলা, গোবরা, হরিণখোলা ও পূর্বচকসহ আশপাশের গ্রামের মানুষের পারাপারের একমাত্র ভরসা।

ওড়াতলা গ্রামের খালপাড়ের বাসিন্দা রিপন আহম্মেদ বলেন, ‘সেতু খালে পড়ে আছে, পাশে বাঁশের সাঁকো দিয়ে ছেলে-মেয়েরা স্কুলে যায়, মানুষ বাজারে যায়। একটু এদিক-ওদিক হলেই খালে পড়ে যাওয়ার ভয়। ছয় বছর ধরে এমন কষ্ট করছি, কিন্তু সেতু আর হলো না।’

এলাকার আরো অনেক বাসিন্দা একই ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন। তাদের অভিযোগ, সেতুর অভাবে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে স্কুল-কলেজ ও মাদরাসার শিক্ষার্থী, বয়স্ক মানুষ এবং অসুস্থ ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়ছেন। কৃষক, শ্রমজীবী মানুষ এবং ব্যবসায়ীদের যাতায়াতেও ভোগান্তি হচ্ছে। জরুরি প্রয়োজনে রোগী কিংবা প্রসূতিকে হাসপাতালে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

গত শনিবার (১৭ অক্টোবর) সরেজমিনে দেখা যায়, খালের দুই পাড়ের মধ্যে সংযোগ রক্ষা করে একটি বাঁশের সাঁকো। সেটি দিয়েই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। স্কুলগামী শিশুরা ভয়ে ভয়ে সাঁকো পার হচ্ছে। বয়স্কদের কেউ কেউ অন্যের সহায়তা নিয়ে পার হচ্ছেন। পাশেই পড়ে আছে ভাঙা সেতুর অবশিষ্টাংশ। সেতুটির প্রায় ৯০ শতাংশ ভেঙে খালে পড়ে আছে। সেতু না থাকায় ভ্যান, ইজিবাইক এবং পণ্যবাহী যানবাহন নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেক দূর ঘুরে যাতায়াত করতে হচ্ছে।

২ নম্বর কয়রা গ্রামের বাসিন্দা গফুর সানা বলেন, সাঁকো পার হতে গিয়ে শিক্ষার্থীরা প্রায়ই পিছলে পড়ে যায়। তাদের বই-খাতা পানিতে পড়ে নষ্ট হয়। বর্ষাকালে দুর্ঘটনার আশঙ্কা আরো বেড়ে যায়। রাতে কোনো রোগী বা প্রসূতিকে হাসপাতালে নেওয়ার প্রয়োজন হলে স্বজনদের বিপাকে পড়তে হয়। দীর্ঘদিন ধরে সেতু না থাকায় এলাকার মানুষের দুর্ভোগের শেষ নেই।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, পাঁচ গ্রামের মানুষের যাতায়াতের দুর্ভোগ কমাতে দ্রুত সেতু নির্মাণের প্রকল্প নিতে হবে। বছরের পর বছর বাঁশের সাঁকোর ওপর নির্ভর করে একটি জনপদের যোগাযোগব্যবস্থা চলতে পারে না। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, অসুস্থ ব্যক্তি এবং বয়স্কদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

কয়রা সদর ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মাসুম বিল্লাহ বলেন, ‘সেতুর অভাবে শিক্ষার্থীদের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। সভায় বারবার বিষয়টি তুলে ধরেও সমাধান মেলেনি। দ্রুত সেতু নির্মাণ করে মানুষের দুর্ভোগ লাঘব করা জরুরি।’

কয়রা সদর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান লুৎফর রহমান বলেন, ভাঙা সেতুর কারণে কয়েকটি গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। এখন জরুরি ভিত্তিতে প্রকল্প গ্রহণ করে সেতুটি নির্মাণ করা প্রয়োজন।

কয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল বাকী বলেন, ছয় বছর ধরে সেতু না থাকায় পাঁচ গ্রামের মানুষ ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন, যা উদ্বেগজনক। বিষয়টি খতিয়ে দেখে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। শুধু আশ্বাস নয়, সমস্যাটির বাস্তবসম্মত সমাধানে কী করা যায়, তা গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%