ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

মালয়েশিয়ায় রোহিঙ্গা স্কুল বন্ধ, ঘৃণামূলক প্রচারণার ঢেউয়ে


মালয়েশিয়ায় রোহিঙ্গা স্কুল বন্ধ, ঘৃণামূলক প্রচারণার ঢেউয়ে

মালয়েশিয়ায় বসবাসকারী ১২ বছর বয়সী রোহিঙ্গা শরণার্থী নুর গত জুন মাস থেকে আর স্কুলে যাতায়াত করতে পারছে না। স্কুলে যেতে যেতে দুই ব্যক্তি তার ওপর মারধরের হুমকি দেয়। এই ঘটনার পর তার পরিবার তাকে স্কুলে পাঠানো বন্ধ করে দেয়।

নুর জানায়, ওই দুই ব্যক্তি তাকে বলেছিল, "তুমি স্কুলে যেতে চাও কেন? আমাদের দেশ দখল করতে চাও?" নিরাপত্তার কারণে নুরের পরিবারের সদস্যরা তার পুরো নাম প্রকাশ করতে চাননি। অধিকার কর্মী ও শিক্ষকদের ভাষ্য, নুরের মতো আরো অনেক রোহিঙ্গা শিশুকে একই ধরনের হুমকি ও ভয়ের মুখে পড়তে হচ্ছে। এর ফলস্বরূপ মালয়েশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে শরণার্থীদের জন্য পরিচালিত একাধিক শিক্ষা কেন্দ্র বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই দেশে বেড়ে ওঠা রোহিঙ্গা অধিকারকর্মী শারিফা শাকিরাহ বলেন, অনেক শিশু ভয়ে এতটাই আতঙ্কিত হয়ে গেছে যে তারা ঘরের বাইরেও বের হতে চাচ্ছে না। তার ভাষ্য অনুযায়ী, একটি শিশুকে কয়েক দিনের জন্য ভয় দেখানো মানে শুধু ওই সময়টুকুর ক্ষতি নয়। এতে তাদের মনে দীর্ঘমেয়াদি মানসিক আঘাত তৈরি হয়।

আরও পড়ুন: বাকৃবিতে উদ্বোধন হলো সার্জারি গ্যালারি

রয়টার্সের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রোহিঙ্গাবিরোধী ঘৃণামূলক প্রচারণা ছড়িয়ে পড়ার পর দেশের বিভিন্ন স্থানে অন্তত নয়টি শরণার্থী স্কুল বন্ধ হয়ে গেছে। অনলাইনে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে ভুয়া তথ্য, উসকানিমূলক পোস্ট এবং বিদ্বেষমূলক প্রচারণা ছড়ানোর ফলে তাদের ওপর নজরদারি ও প্রশাসনিক তৎপরতাও বেড়েছে। স্কুল বন্ধ হওয়া ও এসব ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলেও মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কোনো মন্তব্য করেনি। মালয়েশিয়া সরকার রোহিঙ্গাদের আনুষ্ঠানিকভাবে শরণার্থী হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না। এদেশটি তাদের অবৈধ অভিবাসী হিসেবে বিবেচনা করে। তবে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) হিসাবে, বর্তমানে মালয়েশিয়ায় প্রায় এক লাখ ২০ হাজার নিবন্ধিত রোহিঙ্গা রয়েছেন।

মালয়েশিয়া দীর্ঘ সময় ধরে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ হিসেবে মিয়ানমারের নির্যাতনের শিকার রোহিঙ্গাদের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করেছিল। কিন্তু করোনা মহামারির সময় পরিস্থিতি বদলে যায়। তখন রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে করোনা ছড়ানোর, স্থানীয় সংস্কৃতিকে অসম্মান করার এবং চাকরির প্রতিযোগিতা বাড়ানোর মতো অভিযোগ ছড়িয়ে পড়ে। গত সপ্তাহে মালয়েশিয়ার উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী লুকানিসমান আওয়াং সাউনি সংসদে বলেন, রোহিঙ্গা সম্প্রদায়কে ঘিরে সমস্যা তৈরি হওয়ায় দেশের মানুষ নিজেদের ওপর অতিরিক্ত চাপ অনুভব করছেন।

গোটা জুন মাসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রোহিঙ্গাবিরোধী প্রচারণা পুনরায় বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে। মেটার ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও থ্রেডস এবং বাইটড্যান্সের টিকটকে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক পোস্ট ছড়িয়ে পড়েছে। এসব পোস্টে একটি রোহিঙ্গা গোষ্ঠীর কোরবানির সময় গরু জবাই করার ধর্মীয় রীতিকে পরিচ্ছন্নতা-সংক্রান্ত অভিযোগের সঙ্গে যুক্ত করা হয়। জুন মাসে মালয়েশিয়া সরকারকে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের দেশ থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্যে একটি অনলাইন আবেদন চালু হয়েছিল। পরবর্তীতে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর উদ্বেগের কারণে সেটি সরিয়ে ফেলা হয়। কিন্তু এর আগেই সেখানে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ স্বাক্ষর করে ফেলেছিল। শারিফা শাকিরাহ বলেন, এখন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা করোনা মহামারির কাল থেকে অনেক বেশি উদ্বেগজনক।

রয়টার্সের পর্যালোচনায় দেখা গেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কিছু পোস্টে রোহিঙ্গাদের, এমনকি শিশুদের বিরুদ্ধেও সহিংসতার আহ্বান জানানো হয়েছে। মেটার মালিকানাধীন থ্রেডসে একটি আলোচনার শিরোনাম ছিল 'লেমপাং রোহিঙ্গা', যার অর্থ মালয় ভাষায়, 'রোহিঙ্গাকে চড় মারো'। কিছু জনপ্রিয় অনলাইন ব্যক্তিত্ব মানুষকে রোহিঙ্গা বসতি ভিডিও ধারণ করতে এবং তাদের অবস্থান কর্তৃপক্ষকে জানানোর জন্য উৎসাহিত করেছেন। তবে জুন মাসে মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাইফুদ্দিন নাসুতিওন ইসমাইল বলেছেন, সরকার চাইলে ইচ্ছেমতো শরণার্থীদের দেশ থেকে বের করে দিতে পারে না। তিনি বলেন, জাতীয় নিরাপত্তা ও মানবিক দায়িত্বের মধ্যে ভারসাম্য রেখেই সরকার ব্যবস্থা নিতে চায়।

আরও পড়ুন: আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচন হবে অবাধ-সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ : স্পিকার

মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করা আন্তর্জাতিক সংগঠন 'আর্টিকেল ১৯' বলেছে, অনলাইনে ছড়ানো বিদ্বেষমূলক প্রচারণার কারণে রোহিঙ্গাদের ওপর নজরদারি বেড়েছে। এর ফলে তদন্ত, অভিযান এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের ঘটনা ঘটছে। তবে মানবাধিকারভিত্তিক কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না বলে সংগঠনটির অভিযোগ। তাদের একজন মুখপাত্র বলেন, সরকারের শাস্তিমূলক পদক্ষেপ পরিস্থিতি শান্ত করার বদলে আরো উত্তেজনা সৃষ্টির কারণ হচ্ছে। অন্যদিকে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা জানিয়েছে, রোহিঙ্গা ও অন্যান্য শরণার্থীদের বিরুদ্ধে বাড়তে থাকা ঘৃণামূলক বক্তব্য, ভুয়া তথ্য ও মানবিক মর্যাদা অস্বীকারের প্রচারণা নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন। সংস্থাটি বলছে, তারা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছে এবং শরণার্থী ও আশ্রয়দাতা জনগণের ঝুঁকি কমাতে বিভিন্ন উদ্যোগে সহায়তা করছে। তবে বিবৃতিতে স্কুল বন্ধের ব্যাপারটি উল্লেখ করা হয়নি।

মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ বলছে, অনুমতি ছাড়া পরিচালনার কারণে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষা কেন্দ্র বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। দেশটিতে শরণার্থীদের আইনগতভাবে কাজ করার অনুমতি নেই। তাদের সন্তানরাও সরকারি স্কুলে ভর্তি হতে পারে না। ফলে তারা মূলত বেসরকারি সংস্থা পরিচালিত শিক্ষা কেন্দ্র ও অনানুষ্ঠানিক স্কুলের ওপর নির্ভরশীল। নুরের ঘটনার পর তার স্কুলের শিক্ষক নিরাপত্তার কারণে অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস বন্ধ করে দেন। একই এলাকার আরো দুটি শরণার্থী স্কুলও বন্ধ হয়ে যায়।

স্কুলের শিক্ষক জানান, অনেক সময় রোহিঙ্গা শিশুদের সরকারি খেলার মাঠ থেকেও তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি ২০২২ সালে এই শিক্ষা কেন্দ্র চালু করেছিলেন, যা ছিল শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষা দেওয়ার উদ্দেশ্যে, যাতে ভবিষ্যতে তারা অন্য কোনো দেশে পুনর্বাসিত হতে পারে অথবা নিরাপদে নিজ দেশে ফিরে যেতে পারে। তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেন, তার স্কুল রোহিঙ্গাদের স্থায়ীভাবে মালয়েশিয়ায় বসবাসে উৎসাহিত করে না বা স্থানীয়দের চাকরি নিতে সহায়তা করে না। নিরাপত্তার কারণে নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, এই স্কুলের মাধ্যমে তিনি শিশুদের আইন মেনে চলতে শেখানোর চেষ্টা করছেন।

উত্তরাঞ্চলের কেদাহ রাজ্যের একটি শরণার্থী স্কুলও চলতি মাসে কর্তৃপক্ষ বন্ধ করে দেয়। এভাবে প্রয়োজনীয় অনুমতির অভাবের কারণে বন্ধ হয়েছে। এর আগে স্কুলটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল। রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের নেতা ও শিক্ষকদের তথ্য অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযোগ ওঠার পর নিরাপত্তাজনিত কারণ বা প্রশাসনের সিদ্ধান্তে অন্তত নয়টি শরণার্থী স্কুল বন্ধ হয়ে গেছে। এখনো চালু থাকা কয়েকটি স্কুল নিরাপত্তার জন্য নতুন ব্যবস্থা নিয়েছে। শিক্ষার্থীদের ইউনিফর্ম পরতে নিষেধ করা হয়েছে এবং সব ধরনের বাইরের কার্যক্রমও বন্ধ রাখা হয়েছে।

আরও পড়ুন: নেতানিয়াহুর ইরানে হামলার পরিকল্পনা আটকে দেন ট্রাম্প

অধিকারকর্মী শারিফা শাকিরাহ সতর্ক করে বলেন, দীর্ঘদিন স্কুল বন্ধ থাকলে ভবিষ্যতে সামাজিক সমস্যা আরো বাড়বে। তার মতে, এতে রোহিঙ্গা কিশোরীদের অল্প বয়সে বিয়ের ঝুঁকি বাড়বে। একই সঙ্গে অনেক শিশু রাস্তায় ঘুরে বেড়াবে অথবা ভিক্ষাবৃত্তিতে জড়িয়ে পড়তে পারে। তিনি বলেন, অনেকেই অভিযোগ করেন যে রোহিঙ্গা শিশুরা রাস্তায় ভিক্ষা করে। কিন্তু স্কুল বন্ধ থাকলে এমন শিশুর সংখ্যা বাড়বে। অধিকারকর্মীদের মতে, এই ঘটনা আবারও প্রশ্ন তুলে দিয়েছে যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলো ঘৃণামূলক বক্তব্য ও সহিংসতামূলক কনটেন্ট কতটা কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে। 'আর্টিকেল ১৯' জানিয়েছে, তাদের অভিযোগের পর মেটা ও টিকটক কিছু পোস্ট সরিয়ে ফেলেছে, কিন্তু অনেক পোস্ট এখনো অনলাইনে রয়েছে।

রয়টার্সের পাঠানো ১০টি পোস্টের মধ্যে মেটা ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও থ্রেডস থেকে সাতটি সরিয়েছে। টিকটক ১১টি পোস্টের মধ্যে আটটি সরিয়ে দিয়েছে। 'আর্টিকেল ১৯' এর ভাষ্য, নীতিমালা থাকলেও এসব প্ল্যাটফর্মে তার প্রয়োগ সব সময় একরকম নয়। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ব্যবস্থা অনেক সময় সাংকেতিক ভাষা, ছবি বা স্থানীয় ভাষার সূক্ষ্ম অর্থ বুঝতে পারে না। মেটা ও টিকটক জানিয়েছে, তারা ঘৃণামূলক বক্তব্য ঠেকাতে স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি ও মানব পর্যালোচনা—দুই পদ্ধতিই ব্যবহার করছে। টিকটক আরো জানায়, ক্ষতিকর মন্তব্য করার আগে ব্যবহারকারীদের সতর্ক করার ব্যবস্থা তাদের প্ল্যাটফর্মে রয়েছে।

এখন নুরের মতো অনেক শিশুর সামনে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। কান্নাজড়িত কণ্ঠে নুর রয়টার্সকে বলেন, 'আমি যদি স্কুলে যেতে না পারি, তাহলে কিছুই শিখতে পারব না। আর জীবনে কিছুই হতে পারব না।'

আরও পড়ুন: ইসরাইলের অস্তিত্বের প্রশ্নে বিভক্ত দুই শিবির, নেতানিয়াহুর জোট ও বিরোধী দলের লড়াই

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নাইজেরিয়ায় বন্দুকধারীদের হামলা, শিশুসহ নিহত ৩০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৮শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:১২ এম


নাইজেরিয়ায় বন্দুকধারীদের হামলা, শিশুসহ নিহত ৩০

নাইজেরিয়ার একটি গ্রামে বন্দুকধারীদের হামলার ঘটনায় ৮ শিশুসহ মোট ৩০ জন নিহত হয়েছেন।

সোমবার (২৭ জুলাই) দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় কাডুনা রাজ্যের একটি গ্রামে এই হামলার ঘটনা ঘটে। এই তথ্যটি বাসিন্দাদের বরাতে বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) নিশ্চিত করেছে।

গ্রাম প্রধানের সচিব ডোগন রানা জানিয়েছেন, বন্দুকধারীরা হঠাৎ করেই নিরীহ মানুষের ওপর হামলা চালায়। তারা এলোপাথারিভাবে গুলি করে এবং বিভিন্ন বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেয়। এই হামলায় আটজন শিশু পুড়ে মারা যায়। তার পাশাপাশি আরও চারজন আহত হয়েছেন।

নাগরিক সমাজ গোষ্ঠী সাউদার্ন কাডুনা পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি নেটওয়ার্কের চেয়ারম্যান ডেরেক ক্রিস্টোফার জানিয়েছেন, এই নৃশংস হামলাটি রোববার গভীর রাতে কাডুনা রাজ্যের কাউরা এলাকার নারিডন গ্রামে সংঘটিত হয়।

ক্রিস্টোফার বলেন, গত বছর ঠিক এই সময়েই একই গ্রামে সশস্ত্র দুর্বৃত্তদের দ্বারা হামলা হয়। ঘটনার দিকে তাকিয়ে মনে হচ্ছে, সরকার সাধারণ মানুষকে রক্ষা করার চেষ্টা পুরোপুরি ত্যাগ করেছে। তিনি জানান যে, এই অসহায় মানুষের পক্ষে লড়াই করার মতো আর কেউ বাকি আছে কিনা সেটা জানেন না।

কাডুনা রাজ্যের স্বরাষ্ট্র ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিষয়ক কমিশনার সুলে শু'আইবু জানিয়েছেন, এই হামলা সম্পর্কে তাকে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য জানানো হয়নি।

এক স্থানীয় বাসিন্দা ও যুবনেতা ইশায়া দাওয়া বলেন, হামলাকারীরা মধ্যরাতে কাউরু এলাকার নারিডন গ্রামে হামলা চালিয়ে বাসিন্দাদের লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। তিনি আরও বলেন, কিছু বাসিন্দাকে নির্মমভাবে জবাই করা হয়েছে, এবং ইতোমধ্যে কয়েকজনের মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়েছে।

নিহতদের বিষয়ে বর্ণনা করতে গিয়ে দাওয়া বলেন, ভুক্তভোগীদের মধ্যে নারী, শিশু এবং বৃদ্ধরা রয়েছেন। হামলাকারীরা পালিয়ে যাওয়ার আগে গ্রামের একাধিক বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।

স্থানীয় এই বাসিন্দার কথায়, হামলার কয়েক ঘণ্টা পর সকালের দিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সেখানে উপস্থিত হন। কাডুনা রাজ্য পুলিশের মুখপাত্র মনসুর হাসান জানিয়েছেন, এই হামলার বিষয়ে শিগগিরই বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে। সূত্র: রয়টার্স।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মেক্সিকোর প্রেসিডেন্টের বাসভবনের কাছে বন্দুক হামলা, নিহত ১

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৮শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:১৭ এম


মেক্সিকোর প্রেসিডেন্টের বাসভবনের কাছে বন্দুক হামলা, নিহত ১

মেক্সিকোর রাজধানীতে মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক জোকালো পাবলিক স্কোয়ার ও প্রেসিডেন্সিয়াল প্যালেসের নিকটে বন্দুকধারীদের গুলিতে একজন নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় দুজন গুরুতর আহত হয়েছেন। আক্রমণের সময় ব্যাপারটি স্থানীয় সময় সোমবার (২৮ জুলাই) ঘটেছে।

মেক্সিকো সিটির নিরাপত্তা সচিবালয় ঘটনাটিকে বিশেষভাবে একটি সরাসরি হামলা হিসেবে চিহ্নিত করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, বন্দুকধারীদের হামলায় ৪২ বছর বয়সী এক ব্যক্তি ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। এছাড়াও, ৩৯ বছর বয়সী দুজন পুরুষ গুরুতর আহত হয়।

গোলাগুলির পর হামলাকারীরা দ্রুত মোটরসাইকেলে করে এলাকা থেকে পালিয়ে যায়। পুলিশ ইতিমধ্যে তাদের ধরার জন্য তদন্ত শুরু করেছে।

এই হামলাটি ঐতিহাসিক সান্তো ডোমিঙ্গো স্কোয়ারে ঘটেছে, যা তার চমৎকার ঔপনিবেশিক আমলের ভবনগুলো দিয়ে পরিচিত, কিন্তু সেখানে ভুয়া কাগজপত্র এবং জাল নথি তৈরির ও বিক্রির কার্যকলাপ চলছে। সাধারণত, মেক্সিকোর মাদক পাচারকারী গ্যাংগুলোর নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকাগুলোতে সহিংসতা অথবা গোলাগুলির ঘটনা ঘটতেই থাকে।

কিন্তু, রাজধানীতে ‘ইউনিয়ন টেপিটো’ এবং ‘ফুয়েরজা অ্যান্টি-ইউনিয়ন’ এর মতো বেশ কিছু অপরাধী গ্যাং সক্রিয় হিসেবে থাকাকালীন, মেক্সিকো সিটির কেন্দ্রে এ ধরনের সরাসরি হামলার ঘটনা খুবই বিরল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

২০ বছর পর ছেলেসহ ৩ জনের যাবজ্জীবন, ‘পানিতে ডুবে মৃত্যু’ প্রচারের আড়ালে হত্যা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৮শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:১৯ এম


২০ বছর পর ছেলেসহ ৩ জনের যাবজ্জীবন, ‘পানিতে ডুবে মৃত্যু’ প্রচারের আড়ালে হত্যা

জয়পুরহাটের কালাইয়ে মাকে শ্বাসরোধে হত্যার পর মরদেহ পুকুরে ফেলে ‘পানিতে ডুবে মৃত্যু’ বলে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চাঞ্চল্যকর মামলায় দুই দশক পরে আদালত রায় দিয়েছেন। দীর্ঘ এই সময়ে ব্যাপক আলোচিত মামলার নির্যাতিত নিহত মরিয়ম বেওয়ার সৎছেলের সঙ্গে তিনজনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

এছাড়াও, প্রত্যেককে ৫ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক মাসের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশও দেওয়া হয়েছে। গতকাল ২৭ জুলাই সোমবার, জয়পুরহাটের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ (দ্বিতীয় আদালত) মো. তসরুজ্জামান, দীর্ঘ শুনানি, সাক্ষ্য-প্রমাণ ও মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা করার পর এই রায় ঘোষণা করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) শাহানুর রহমান শাহীন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন কালাই উপজেলার পুনট পাঁচপাইয়া গ্রামের মৃত নূরুল ইসলামের ছেলে সুজাউল ইসলাম, মৃত কছিমুদ্দিন মোল্লার ছেলে ছালামত মোল্লা এবং আব্দুর রহমান সরকারের ছেলে মোফাজ্জল হোসেন সরকার।

আদালত ও মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, স্বামীর মৃত্যুর পর মরিয়ম বেওয়া তার সন্তানদের নিয়ে স্বামীর বাড়িতেই বসবাস করছিলেন। পারিবারিক বিরোধের কারণে এবং পূর্বপরিকল্পনার অংশ হিসেবে ২০০৫ সালের ৩১ জুলাই রাতে সৎছেলে সুজাউল ইসলাম তার সহযোগীদের নিয়ে অসুস্থতার কথা বলে তাকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। এর পর, পাশের একটি মাঠে তাকে মারধর করা হয় এবং শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। মরদেহ পরে ঘটনাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে একটি পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়।

এরপর এলাকায় প্রচার করা হয়, মরিয়ম বেওয়া পানিতে ডুবে মারা গেছেন। কিন্তু পরিবারের সদস্যদের মনে সন্দেহ জন্মায় এবং ঘটনাপ্রবাহে অসংগতির কারণে বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। পরের দিন পুলিশ পুকুর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে।

ঘটনার এক সপ্তাহ পর ২০০৫ সালের ৭ আগস্ট নিহতের বোন জয়পুরহাটের কালাই থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে।

দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্যে একাধিক সাক্ষীর সাক্ষ্য, আলামত ও অন্যান্য প্রমাণ আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শাহানুর রহমান শাহীন বলেন, আদালত সাক্ষ্য-প্রমাণ ও মামলার সার্বিক উপাদান বিশ্লেষণ করে নিশ্চিত হয়েছেন যে এটি স্বাভাবিক মৃত্যু নয়, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তিন আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, দীর্ঘ সময় পর হলেও এ রায়ের মাধ্যমে নিহতের পরিবার ন্যায়বিচার পেয়েছেন। আদালতের রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন এবং রায় ঘোষণার পর পুলিশ তাদের আদালত চত্বর থেকেই কারাগারে নিয়ে যায়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হাইকোর্টে একদিনে ৭ হাজার ৮৫৩ মামলা নিষ্পত্তির রেকর্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৮শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:২২ এম


হাইকোর্টে একদিনে ৭ হাজার ৮৫৩ মামলা নিষ্পত্তির রেকর্ড

এক দিনে ৭ হাজার ৮৫৩টি পুরনো ‘ক্রিমিনাল মিস’ মামলা নিষ্পত্তি করেছে বাংলাদেশ হাইকোর্টের ১০টি ক্রিমিনাল মোশন বেঞ্চ, যা একটি নতুন রেকর্ড।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের গণসংযোগ কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলামের সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রধান বিচারপতির নির্দেশনায় গত ৭ মে থেকে পুরোনো মামলা নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ কার্যক্রম শুরু করা হয়।

শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, গত ২৩ জুলাই হাইকোর্ট বিভাগের ১০টি ক্রিমিনাল মোশন বেঞ্চে মোট সাত হাজার ৮৫৩টি পুরোনো ক্রিমিনাল মিস মামলা নিষ্পত্তি করা হয়, যা এক কার্যদিবসে পুরোনো ক্রিমিনাল মিস মামলা নিষ্পত্তির নতুন একটি রেকর্ড হিসেবে গণ্য হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে পুরোনো মামলা নিষ্পত্তির কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর এখন পর্যন্ত ৯ কার্যদিবসে (প্রতি সপ্তাহে একদিন করে) মোট ৩৫ হাজার ৭৯২টি পুরোনো ক্রিমিনাল মিস মামলা নিষ্পত্তি হয়ে গেছে। আর পুরোনো ক্রিমিনাল মিস মামলা ও পুরোনো রিট মামলা মিলিয়ে এখন পর্যন্ত নিষ্পত্তি হয়েছে ৪২ হাজার ৬৯৯টি পুরোনো মামলা।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, পুরোনো মামলা নিষ্পত্তির কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। প্রধান বিচারপতির নির্দেশনার আওতায় হাইকোর্ট বিভাগের ক্রিমিনাল মোশন বেঞ্চ এবং রিট মোশন বেঞ্চগুলোতে দীর্ঘদিনের পুরানো মামলা নিষ্পত্তির কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিটি আরও জানায়, হাইকোর্ট বিভাগের ক্রিমিনাল মোশন এবং রিট মোশন বেঞ্চগুলোর বিচারপতি মহোদয়বৃন্দ দীর্ঘদিনের পুরাতন মামলা নিষ্পত্তিকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রতি সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনে পুরাতন ক্রিমিনাল মিস ও পুরাতন রিট মামলার নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ এ কার্যক্রম শুরু করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৮
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%