বৃহস্পতিবার, ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১১:০৪ পি.এম
কুমিল্লার ১৮টি থানায় একযোগে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ ৬২৪ জনকে আটক করেছে। এই অভিযান বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা থেকে শুরু হয়ে রাত দেড়টা পর্যন্ত চলে। আটকদের মধ্যে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তাদের পূর্বের অপরাধে জড়িত থাকার বিষয়টি যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কুমিল্লা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও মিডিয়া কর্মকর্তা লুৎফর রহমান জানান, সাম্প্রতিক সময়ে কিশোরদের বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। এ কারণে পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামানের নির্দেশে জেলার ১৮টি থানায় একযোগে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
নগরীর বিভিন্ন স্থানে এবং যেসব এলাকায় বখাটেদের উৎপাত ও কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা রয়েছে, সেসব এলাকায় অভিযান চালানো হয়েছে। আটকদের বিষয়ে যাচাই-বাছাই শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান। কিশোরদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়াতে না পারে, সেজন্য এ ধরনের অভিযান নিয়মিত চালানোর পরিকল্পনা করেছে জেলা পুলিশ।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় ৭৫ জন, সদর দক্ষিণ মডেল থানায় ৪৬, বুড়িচং থানায় ৫০, মনোহরগঞ্জ থানায় ৪১, দাউদকান্দি থানায় ৫৯ এবং লাকসাম থানায় ৩৫ জনকে আটক করা হয়েছে। অন্য থানাগুলোতে আটক ব্যক্তিদের তথ্যও যাচাই করা হচ্ছে।
কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার জানান, আটকদের মধ্যে শিক্ষার্থীদের সনাক্তকরণও করা হচ্ছে। যদি তাদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে তাদের আদালতে পাঠানো হবে। অন্যদের সতর্ক করে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হতে পারে।
থানার সামনে অভিভাবকদের ভিড়
অভিযান শুরুর পর রাত আটটা থেকে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানা, সদর দক্ষিণ মডেল থানাসহ বিভিন্ন থানার সামনে আটকদের স্বজনদের ভিড় দেখা যায়। কিশোরদের আটকের খবর পেয়ে অনেক অভিভাবক থানায় ছুটে আসেন। তাদের মধ্যে অনেকে গভীর রাত পর্যন্ত থানার বাইরে অপেক্ষা করেন।
কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় আটক কয়েকজনকে নগরের ঈদগাহ মাঠ থেকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে একটি পরিচিত বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীও ছিল। ওই শিক্ষার্থীর বাবা প্রবাসে থাকেন। ছেলেকে আটকের খবর পেয়ে তার মা থানায় ছুটে আসেন।
ওই নারী জানান, সন্ধ্যার পর তার ছেলে প্রাইভেট পড়তে গিয়েছিল। রাত সাড়ে নয়টার দিকে তিনি জানতে পারেন, তাকে থানায় আটক করা হয়েছে। পরে ছেলের স্কুলের পরিচয়পত্র নিয়ে থানায় যান। পুলিশ তাকে জানিয়েছে, কোনো অপরাধে জড়িত না থাকলে যাচাই করে ছেড়ে দেওয়া হবে। কয়েকজন সেখানে আড্ডা দিচ্ছিল বলেও তিনি জানতে পারেন।
সদর দক্ষিণ মডেল থানা এলাকায় আটক কিশোরদের বেশির ভাগকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশ ও কোটবাড়ির বিভিন্ন স্থান থেকে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরও রয়েছে। তার বাবা কোটবাড়ির একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। ছেলেকে আটকের খবর পেয়ে তিনি মধ্যরাত পর্যন্ত থানার সামনে অপেক্ষা করেন।
ওই অভিভাবকের ভাষ্য, সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের সামনে কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে কথা বলার সময় তার ছেলেকে আটক করা হয়। এ বছর সে এসএসসি পাস করেছে। কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে তার ছেলের কোনো সম্পৃক্ততা নেই দাবি করে তিনি বলেন, কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে অভিযান ইতিবাচক। তবে অভিযানের নামে শিক্ষার্থীসহ ভালো ছেলেদেরও একসঙ্গে আটক করলে সমস্যার সমাধান হবে না।
দাউদকান্দিতে থানার দরজা ভেঙে ২২ কিশোরের বেরিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানের মধ্যে দাউদকান্দি মডেল থানায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। সেখানে সন্দেহভাজন হিসেবে ২৮ কিশোরকে আটক করা হয়েছিল। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে তাদের মধ্যে ২২ জন থানার একটি কক্ষে চেয়ার-টেবিল ও দরজা ভেঙে বেরিয়ে যায়।
পরে থানার সামনে জড়ো হয়ে ওই কিশোরদের একটি অংশ ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিতে থাকে। এ সময় আটক কিশোরদের স্বজন ও স্থানীয় লোকজনও থানার সামনে জড়ো হন। বিকেল থেকেই সেখানে অভিভাবকদের ভিড় বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে হট্টগোল ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, থানার একটি কক্ষে আটক রাখা কিশোরদের কয়েকজন চেয়ার-টেবিল ও দরজা ভেঙে বেরিয়ে আসে। পরে তাদের একটি অংশ থানার সামনে অবস্থান নেয়।
পুলিশি অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া সদস্যদের ভাষ্য, আটক সবাই কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য। তবে দাউদকান্দি মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম বলেন, অপ্রয়োজনে ঘোরাফেরার কারণে সন্দেহভাজন হিসেবে ২৮ জনকে আটক করা হয়েছিল। তাদের স্বজনরা একসঙ্গে থানায় আসায় ভিড় তৈরি হয়।
রাত সাড়ে ১০টার দিকে ২২ জনকে অভিভাবকের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে জানিয়ে ওসি বলেন, যাচাই-বাছাই শেষে বাকি ছয়জনের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি হ্যান্ডমাইকে বক্তব্য দিয়ে থানার সামনে জড়ো হওয়া লোকজনকে শান্ত করার চেষ্টা করেন।
অপ্রতিম হত্যার পর নতুন করে আলোচনায় কিশোর গ্যাং
কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা নতুন নয়। তবে ১৩ বছর বয়সী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যার পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে।
১৮ সেপ্টেম্বর দুপুরে কোটবাড়ির গন্ধমতী এলাকার ভাড়া বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় অপ্রতিম। পরদিন শনিবার দুপুরে সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর ইউনিয়নের সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের নির্জন জঙ্গল থেকে তার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
অপ্রতিম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান এবং কুমিল্লা বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের মধ্যে দুজন কিশোর। পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা ১৯ বছর বয়সী সাইফুল ইসলাম তুহিনসহ তিনজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। অপর ১৯ বছর বয়সী তরুণকে হত্যাকাণ্ডের সহযোগী হিসেবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
অপ্রতিম হত্যার পর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন কর্মসূচিতে কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি ওঠে। এর পর কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার, বিভিন্ন দলের তৎপরতা ও অপরাধে জড়িয়ে পড়ার তথ্য নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
নগরে সক্রিয় একাধিক দল
স্থানীয় সূত্র ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন নথির তথ্য অনুযায়ী, কুমিল্লা নগরে কিং স্কোয়াড, স্কোয়াড বা রতন গ্রুপ, ইগল, সিবিকে ও ক্রাইম সেটআপসহ কয়েকটি কিশোর গ্যাং বা দল সক্রিয় রয়েছে। অপু ও সাব্বিরের নামে আরও দুটি দলের কথাও বিভিন্ন নথি ও স্থানীয় সূত্রে এসেছে।
তবে কুমিল্লা জেলায় কিশোর গ্যাংয়ের কোনো হালনাগাদ তালিকা পুলিশের কাছে নেই।
কুমিল্লা নগরে ২০১৫ সালের দিকে কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসে। তখন তিন থেকে চারটি দল সক্রিয় ছিল। ২০২২ সালের দিকে আলোচিত দলের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ২০টিতে দাঁড়ায়। ২০১৭ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত অন্তত ১২টি হত্যাকাণ্ডে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের নাম এসেছে।
কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান জানিয়েছেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ২৫০ জনের বেশি কিশোর গ্যাং সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে কিশোর হওয়ায় অনেকে গ্রেপ্তারের পর দ্রুত মুক্তি পেয়ে আবার একই ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। অনেকের মা-বাবাকে ডেকে মুচলেকাও নেওয়া হয়েছে।
নতুন করে ১৮ থানায় একযোগে অভিযান চালানোর বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান বলেন, কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা যাতে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়াতে না পারে, সে জন্য জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে এ ধরনের অভিযান নিয়মিত পরিচালনা করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার ১নং পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে এক সুধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পটুয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্য, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বাণিজ্যমন্ত্রী এবং সাবেক বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলহাজ্ব আলতাফ হোসেন চৌধুরী।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট অহিদ সরোয়ার কালাম, সাবেক জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এবং মোহাম্মদ মজিবুর রহমান, সহ-সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কমিটি।
সুধী সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় সংসদ নির্বাচন পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের প্রধান সমন্বয়ক জনাব মোহাম্মদ ফেরদৌস আলম।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন পাংগাশিয়ার কৃতী সন্তান, জেলা বিএনপির সদস্য, কালিকাপুর প্রি-ক্যাডেট স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা এবং কবি-সাহিত্যিক জনাব আনোয়ার হোসেন বাদল।
বক্তব্যে আনোয়ার হোসেন বাদল বলেন, পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়ন দীর্ঘদিন ধরে একটি অবহেলিত ইউনিয়ন হিসেবে পরিচিত। গত ১৫ বছরে ইউ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রামের হাটহাজারী অঞ্চলে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসব শুভ মধু পূর্ণিমা আগামী শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) উদযাপিত হবে। বৌদ্ধ ধর্মের প্রতিষ্ঠাতা মহাকারুনিক গৌতম বুদ্ধ জীবিত অবস্থায় একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভিক্ষুগণের মধ্যে বিভক্তি সৃষ্টি হয়। এই বিভক্তির কারণে তিনি (গৌতম বুদ্ধ) দুঃখিত হয়ে পারিলেয়্ নামে একটি বনে চলে যান। সেখানে তিনি সাধনার মধ্যে নিমগ্ন হন। বুদ্ধের এই অবস্থার প্রতি লক্ষ্য করে তির্যক প্রাণী বানর তাঁকে মধু প্রদান করে আপ্যায়ন করেন। সেই বনে হস্তিরাজও বুদ্ধকে সেবা করেন। তির্যক প্রাণী বানরের মাধ্যমে বুদ্ধকে মধু দানের স্মৃতির পর থেকেই এই মধু পূর্ণিমার উদযাপন শুরু হয়।
এই ধর্মীয় উৎসবটি মহাসমারোহে এবং ভাবগম্ভীর পরিবেশে উদযাপন করার জন্য চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার আওতাধীন আটটি বৌদ্ধ জনগোষ্ঠী অধ্যুষিত ১৩টি বৌদ্ধ বিহার তথা মন্দিরে দিনব্যাপী বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে ভোরে পবিত্র ত্রিপিটকের মঙ্গলবানী পাঠ, সমবেত বুদ্ধ বন্দনা, জাতীয়, ধর্মীয় ও স্ব স্ব সংগঠনের পতাকা উত্তোলন, বুদ্ধ পূজা, পঞ্চশীল ও উপসথ শীল গ্রহণ, ভিক্ষু সংঘের পিন্ডদান, উপসথ শীলধারীদের মধ্যাহ্নভোজ গ্রহণ, মধু পূর্ণিমার তাৎপর্য শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান, আলোক সজ্জা, বুদ্ধ কীর্তন, সন্ধ্যা কালীন প্রদীপ পূজা, দেশের শান্তি ও সমৃদ্ধি এবং জীব জগতের মঙ্গল কামনায় সমবেত প্রার্থনা।
উপজেলার আওতাধীন পশ্চিম ধলই উদালিয়া শান্তি নিকেতন বৌদ্ধ বিহার, মির্জাপুর শান্তিধাম বিহার, মির্জাপুর গৌতমাশ্রম বিহার, বালুখালী জগৎ জোতি বৌদ্ধ বিহার, গুমানমর্দ্দন ধর্মচক্র বিহার, আরিয়া ওয়াংচা আন্তর্জাতিক বিদর্শন ভাবনা কেন্দ্র, গুমানমর্দ্দন সার্বজনীন নালন্দা বিহার, গুমানমর্দ্দন শান্তি বিহার, রুদ্রপুর ধর্মরত্ন বিহার, মীরেরখীল চন্দ্রপুর বেনুবন বিহার, জোবরা সুগত বিহার, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন বিশ্ব শান্তি প্যাগোডা, মধ্যম মার্দাশা সার্বজনীন শান্তি নিকেতন বৌদ্ধ বিহারে শুভ মধু পূর্ণিমা উপলক্ষে দিনব্যাপী পৃথক পৃথক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে বলে হাটহাজারী বৌদ্ধ কল্যাণ পরিষদের সাধারণ সম্পাদক লায়ন অনুপম বড়ুয়া গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন।
মধু পূর্ণিমার পরদিন রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) মির্জাপুর গৌতমাশ্রম বিহারের আজীবন অধ্যক্ষ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পালি বিভাগের অবৈতনিক শিক্ষক, বৌদ্ধদের পবিত্র ধর্মীয় গ্রন্থ ত্রিপিটক বাংলা অনুবাদ করার প্রথম উদ্যোক্তা, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, পন্ডিত শান্তপদ মহাথের এর ৩৬তম প্রয়াণ বার্ষিকী উপলক্ষে সংঘদান, অস্টপরিস্কার দানানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এই অনুষ্ঠানে মহান ভিক্ষু সংঘসহ উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। কেশব কুমার বড়ুয়া
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চাঁদপুরের স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আল-আমিন একাডেমি স্কুল অ্যান্ড কলেজের গভর্নিং বডি বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদ আল-আমিন সোসাইটি। সংগঠনটি এই সিদ্ধান্তকে ‘বিধিবহির্ভূত’ আখ্যা দিয়ে পুনর্বিবেচনার দাবি করেছে। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে চাঁদপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে সোসাইটির নেতারা এই দাবি জানান। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন আল-আমিন সোসাইটির সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মো. শাহজাহান মিয়া।
লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়, শিক্ষা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করার পর সোসাইটির লিখিত মতামত নেওয়া ছাড়াই পূর্ববর্তী একটি অভিযোগের ভিত্তিতে বর্তমান গভর্নিং বডি বাতিল করা হয়েছে। তবে বিজ্ঞ আদালতের স্থগিতাদেশ এবং পূর্ববর্তী আইনি প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের ৩১ অক্টোবর কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড আল-আমিন সোসাইটি গঠিত গভর্নিং বডিকে অনুমোদন দিয়েছিল। সোসাইটির মতে, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে গৃহীত গভর্নিং বডি বাতিলের এই সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠানের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও শিক্ষার সার্বিক পরিবেশকে ব্যাহত করার একটি প্রচেষ্টা।
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘ যাত্রার ইতিহাস তুলে ধরে বলা হয়, ১৯৭৭ সালে শিক্ষাবিদ অধ্যক্ষ মুহাম্মদ আবদুর রবের পরিকল্পনায় আল-আমিন সোসাইটি গঠিত হয় এবং ১৯৭৮ সালে ১৪ জন শিক্ষার্থী নিয়ে আল-আমিন একাডেমির যাত্রা শুরু হয়। পরবর্তীতে ১৯৮৩ সালে জুনিয়র হাইস্কুল, ১৯৮৬ সালে উচ্চ বিদ্যালয় এবং ২০০২ সালে এটি কলেজে উন্নীত হয়। বর্তমানে মূল শাখার পাশাপাশি ছাত্রী শাখা, গুণরাজদী ও বাবুরহাটে একাধিক শাখা বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষা প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
প্রতিষ্ঠানটির সাম্প্রতিক অর্জনের চিত্র তুলে ধরে সোসাইটি জানায়, ২০২৫ সালের জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষায় এই প্রতিষ্ঠানের ৯৮ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি পেয়ে কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডে চতুর্থ স্থান এবং ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় ২২৭ জন জিপিএ-৫ পেয়ে বোর্ডে পঞ্চম ও চাঁদপুর জেলায় প্রথম স্থান অর্জন করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় অযাচিত সরকারি হস্তক্ষেপ বন্ধ এবং গভর্নিং বডি বাতিলের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে আল-আমিন সোসাইটির সদস্য অ্যাডভোকেট মাসুদুল ইসলাম বুলবুল, শিক্ষানুরাগী জাহাঙ্গীর আলম প্রধান, অ্যাডভোকেট মো. শাহজাহান খান, আব্দুস শুক্কুর মস্তানসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদী, সাধারণ সম্পাদক এমএ লতিফ এবং স্থানীয় ও জাতীয় গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
অপরাধে জড়িতদের প্রমাণের ভিত্তিতে আইনের আওতায় আনার দাবি; পুরোনো রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন
নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নামে কেউ মিছিল-মিটিং, ককটেল বিস্ফোরণ, সহিংসতা কিংবা অন্য কোনো আইনবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সাধারণ নাগরিকরা। একই সঙ্গে শুধু অতীতে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন—এমন ব্যক্তিদের বর্তমান কর্মকাণ্ড যাচাই ছাড়া হয়রানি বা মামলায় জড়ানো না করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
২০২৫ সালের ১২ মে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারকার্য সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গ, সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের মিছিল, সভা-সমাবেশ, প্রচারণাসহ বিভিন্ন কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়। একই দিন নির্বাচন কমিশন দলটির নিবন্ধন স্থগিত করে।
তালাশ বিডির অনুসন্ধানে কথা হয় বাংলাবাজারের চা বিক্রেতা মিলন, চাঁদমারির কাঠ ব্যবসায়ী আলম এবং বটতলা মার্কেটের ব্যবসায়ী জাকিরের সঙ্গে। তাদের বক্তব্যে উঠে আসে, আওয়ামী লীগের সঙ্গে অতীতে রাজনৈতিকভাবে যুক্ত ছিলেন—এমন ব্যক্তিদের বর্তমান অবস্থান ও কর্মকাণ্ডও পৃথকভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
স্থানীয় নাগরিকদের মতে, বর্তমানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ডে যারা সক্রিয়ভাবে জড়িত, তাদের ভিডিও ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য, ঘটনাস্থলের তথ্য ও অন্যান্য নির্ভরযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে শনাক্ত করা যেতে পারে। অপরাধে সম্পৃক্ততার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
তাদের প্রশ্ন—একজন ব্যক্তি অতীতে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, এটিই কি তার বর্তমান কোনো অপরাধে সম্পৃক্ততার প্রমাণ?
নাগরিকদের মতে, রাজনৈতিক পরিচয় এবং অপরাধে সম্পৃক্ততা এক বিষয় নয়। ফলে আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে ব্যক্তির বর্তমান কর্মকাণ্ড, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও প্রমাণকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
দীর্ঘ সময় বিরোধী রাজনীতিতে থাকা বিএনপি অতীতে মামলা, গ্রেপ্তার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হয়রানির অভিযোগ করে এসেছে। বর্তমানে বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকায় আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে কী শিক্ষা নেওয়া হবে, তা নিয়েও স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা রয়েছে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার পরিচালনা করছে।
স্থানীয় নাগরিকদের বক্তব্য, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ডে যারা বর্তমানে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে যারা কোনো অপরাধে জড়িত নন, তাদের শুধু অতীতের রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে হয়রানি বা মামলায় জড়ানো হলে সেটিও যথাযথভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
একজন সাধারণ নাগরিকের ভাষ্য, অতীতে বিএনপির নেতাকর্মীরা রাজনৈতিক বিরোধের কারণে মামলা ও গ্রেপ্তারের মুখোমুখি হয়েছেন বলে দলটির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। এখন রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকা বিএনপির সময় আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে সবার জন্য একই নীতি অনুসরণ করা হবে—এটাই সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা।
বর্তমান পরিস্থিতিতে মূল প্রশ্ন হলো—*আইন প্রয়োগ কি ব্যক্তির অতীত রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে হবে, নাকি তার বর্তমান কর্মকাণ্ড ও সুনির্দিষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে?*
নাগরিকদের প্রত্যাশা, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নামে যারা বর্তমানে আইনবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত, তাদের যথাযথ তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে। একই সঙ্গে যারা বহু আগেই দলীয় রাজনীতি থেকে সরে গেছেন এবং কোনো অপরাধে জড়িত নন, তাদের যেন শুধু রাজনৈতিক অতীতের কারণে হয়রানির শিকার হতে না হয়।
এ বিষয়ে বিএনপির সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের বক্তব্য জানার চেষ্টা করছে তালাশ বিডি। বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ