প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
অপরাধে জড়িতদের প্রমাণের ভিত্তিতে আইনের আওতায় আনার দাবি; পুরোনো রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন
নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নামে কেউ মিছিল-মিটিং, ককটেল বিস্ফোরণ, সহিংসতা কিংবা অন্য কোনো আইনবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সাধারণ নাগরিকরা। একই সঙ্গে শুধু অতীতে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন—এমন ব্যক্তিদের বর্তমান কর্মকাণ্ড যাচাই ছাড়া হয়রানি বা মামলায় জড়ানো না করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
২০২৫ সালের ১২ মে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারকার্য সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গ, সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের মিছিল, সভা-সমাবেশ, প্রচারণাসহ বিভিন্ন কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়। একই দিন নির্বাচন কমিশন দলটির নিবন্ধন স্থগিত করে।
তালাশ বিডির অনুসন্ধানে কথা হয় বাংলাবাজারের চা বিক্রেতা মিলন, চাঁদমারির কাঠ ব্যবসায়ী আলম এবং বটতলা মার্কেটের ব্যবসায়ী জাকিরের সঙ্গে। তাদের বক্তব্যে উঠে আসে, আওয়ামী লীগের সঙ্গে অতীতে রাজনৈতিকভাবে যুক্ত ছিলেন—এমন ব্যক্তিদের বর্তমান অবস্থান ও কর্মকাণ্ডও পৃথকভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
স্থানীয় নাগরিকদের মতে, বর্তমানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ডে যারা সক্রিয়ভাবে জড়িত, তাদের ভিডিও ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য, ঘটনাস্থলের তথ্য ও অন্যান্য নির্ভরযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে শনাক্ত করা যেতে পারে। অপরাধে সম্পৃক্ততার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
তাদের প্রশ্ন—একজন ব্যক্তি অতীতে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, এটিই কি তার বর্তমান কোনো অপরাধে সম্পৃক্ততার প্রমাণ?
নাগরিকদের মতে, রাজনৈতিক পরিচয় এবং অপরাধে সম্পৃক্ততা এক বিষয় নয়। ফলে আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে ব্যক্তির বর্তমান কর্মকাণ্ড, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও প্রমাণকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
দীর্ঘ সময় বিরোধী রাজনীতিতে থাকা বিএনপি অতীতে মামলা, গ্রেপ্তার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হয়রানির অভিযোগ করে এসেছে। বর্তমানে বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকায় আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে কী শিক্ষা নেওয়া হবে, তা নিয়েও স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা রয়েছে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার পরিচালনা করছে।
স্থানীয় নাগরিকদের বক্তব্য, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ডে যারা বর্তমানে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে যারা কোনো অপরাধে জড়িত নন, তাদের শুধু অতীতের রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে হয়রানি বা মামলায় জড়ানো হলে সেটিও যথাযথভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
একজন সাধারণ নাগরিকের ভাষ্য, অতীতে বিএনপির নেতাকর্মীরা রাজনৈতিক বিরোধের কারণে মামলা ও গ্রেপ্তারের মুখোমুখি হয়েছেন বলে দলটির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। এখন রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকা বিএনপির সময় আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে সবার জন্য একই নীতি অনুসরণ করা হবে—এটাই সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা।
বর্তমান পরিস্থিতিতে মূল প্রশ্ন হলো—*আইন প্রয়োগ কি ব্যক্তির অতীত রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে হবে, নাকি তার বর্তমান কর্মকাণ্ড ও সুনির্দিষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে?*
নাগরিকদের প্রত্যাশা, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নামে যারা বর্তমানে আইনবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত, তাদের যথাযথ তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে। একই সঙ্গে যারা বহু আগেই দলীয় রাজনীতি থেকে সরে গেছেন এবং কোনো অপরাধে জড়িত নন, তাদের যেন শুধু রাজনৈতিক অতীতের কারণে হয়রানির শিকার হতে না হয়।
এ বিষয়ে বিএনপির সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের বক্তব্য জানার চেষ্টা করছে তালাশ বিডি। বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন