ঢাকা সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

গুলেরকে নিয়েই বিশ্বকাপ স্কোয়াড ঘোষণা তুরস্কের


গুলেরকে নিয়েই বিশ্বকাপ স্কোয়াড ঘোষণা তুরস্কের

আগামী ১১ জুন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ২৩তম ফুটবল বিশ্বকাপ। এবারের আসরে অভিজ্ঞ ফুটবলারদের ওপর ভরসা রেখেই বিশ্বকাপের দল ঘোষণা করেছেন তুরস্ক কোচ ভিনচেঞ্জো মন্তেলা।

মঙ্গলবার (২ জুন) ২৬ সদস্যের স্কোয়াড ঘোষণা করেছেন তিনি। স্কোয়াডে রয়েছেন হাকান চালহানোগলু, আরদা গুলের, কেরেম আকতুরকোগলু, বারিশ আলপার ইলমাজ ও ইউসুফ ইয়াজিচির মতো পরিচিত মুখরা।

মিডফিল্ডে বড় কোনো ঝুঁকি নেননি মন্তেলা। স্পোর্টিং ব্রাগার ডেমির এগে তিকনাজ দলে জায়গা পাননি। তার বদলে গালাতাসারাইয়ের কান আইহান ও বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের সালিহ ওজচানকে নিয়েছেন তুরস্ক কোচ।

আরও পড়ুন: নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য স্বজনদের দীর্ঘ অপেক্ষা

ইন্টার মিলানের অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার চালহানোগলুর সঙ্গে এই বিভাগে আছেন ইসমাইল ইউকসেক ও অরকুন ককচুও। আক্রমণভাগেও কিছু উল্লেখযোগ্য সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মন্তেলা।

ড্যানিশ লিগের মৌসুমসেরা ফুটবলার আরাল সিমসির জায়গা হয়নি চূড়ান্ত দলে। তবে ইরফান জান কাহভেজিকে রাখা হয়েছে। রিয়াল মাদ্রিদের আরদা গুলের, জুভেন্টাসের কেনান ইলদিজ, গালাতাসারাইয়ের বারিশ আলপার ইলমাজ ও ফেনারবাচের কেরেম আকতুরকোগলুর উপস্থিতিতে আক্রমণভাগে অভিজ্ঞতা এবং তারুণ্যের মিশ্রণ থাকছে।

তুরস্কের বিশ্বকাপ স্কোয়াড:

গোলরক্ষক: আলতাই বাইন্দির, মের্ত গুনোক, উগুরজান চাকির।

আরও পড়ুন: ধর্মীয় উৎসব শিশুদের নৈতিকতা ও আদর্শের শিক্ষা দেয়: ডেপুটি স্পিকার

ডিফেন্ডার: আবদুলকেরিম বারদাকচি, চাগলার সোয়ুনচু, এরেন এলমালি, ফেরদি কাদিওগলু, মেরিহ দেমিরাল, মের্ত মুলদুর, ওজান কাবাক, সামেত আকায়দিন, জেকি চেলিক।

মিডফিল্ডার: হাকান চালহানোগলু, ইসমাইল ইউকসেক, কান আইহান, অরকুন ককচু, সালিহ ওজচান।

ফরোয়ার্ড: আরদা গুলের, বারিশ আলপার ইলমাজ, জান উজুন, দেনিজ গুল, ইরফান জান কাহভেজি, কেনান ইলদিজ, কেরেম আকতুরকোগলু, ওগুজ আইদিন, ইউনুস আকগুন।

উল্লেখ্য, বিশ্বকাপে তুরস্ক খেলবে গ্রুপ ডি-তে। নিজেদের প্রথম ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া। এরপর প্যারাগুয়ের বিপক্ষে খেলবে মন্তেলার দল। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে তুরস্কের প্রতিপক্ষ সহআয়োজক যুক্তরাষ্ট্র।

আরও পড়ুন: তালা ভেঙে বাসায় ঢুকে ৮ লাখ টাকা, ২ ভরি সোনা ও মূল্যবান সামগ্রী চুরি: ডেমরায় চাঞ্চল্য

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শাজাহানপুরে স্কুলছাত্রী অপহরণ মামলায় ১ জন আটক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২ই জুন, ২০২৬ ইং

০৭:৩৮ পি.এম


শাজাহানপুরে স্কুলছাত্রী অপহরণ মামলায় ১ জন আটক

বগুড়ার শাজাহানপুরে দশম শ্রেণির এক স্কুল ছাত্রী অপহরণের শিকার হয়েছে। অপহৃত ওই স্কুল ছাত্রীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে, সে উপজেলার খোট্টাপাড়া ইউনিয়নের জোঁকা নয়াপাড়া গ্রামের আবু রায়হানের মেয়ে। সে বর্তমানে শাহনগর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণির ছাত্রী। অপহরণের ঘটনার পর আবু রায়হান বাদী হয়ে থানায় ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। এই মামলার প্রেক্ষিতে পুলিশ রত্না বেগম (৩৮) নামের একজন আসামীকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে।

মামলার তথ্য অনুসারে, শাহনগর পশ্চিমপাড়া গ্রামের এরশাদুল ইসলামের ছেলে সাকিব হাসান (২০) একটি দীর্ঘ সময় ধরে ওই স্কুল ছাত্রীকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। কিন্তু স্কুল ছাত্রীর প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় সাকিব হাসান তাকে বিভিন্নভাবে উত্যক্ত করতে থাকে।

গত শুক্রবার (২৯ মে) রাত প্রায় ১১টার সময়, অপহৃত স্কুল ছাত্রী বাড়ির পাশে তার ফুফুর বাড়িতে যাওয়ার সময় সাকিব হাসান তার সহযোগীদের সহায়তায় স্কুল ছাত্রীকে জোরপূর্বক একটি অটোরিকশায় উঠিয়ে অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়।

এ ঘটনার পর শিক্ষার্থীর বাবা আবু রায়হান শাজাহানপুর থানায় সাকিব হাসানসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। থানার ওসি আশিক ইকবাল জানিয়েছেন, অপহরণ মামলায় রত্না বেগম নামে এক আসামীকে গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে এবং অপহৃত শিক্ষার্থীকে উদ্ধার এবং অন্যান্য আসামীদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসে নোটিশ জালিয়াতি রোধে নতুন নির্দেশনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২ই জুন, ২০২৬ ইং

০৭:৩৯ পি.এম


অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসে নোটিশ জালিয়াতি রোধে নতুন নির্দেশনা

অ্যাটর্নি-জেনারেল অফিসে নোটিশ জালিয়াতি রোধে নতুন নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। এই নতুন নির্দেশনা ১৪ জুন থেকে কার্যকর হবে।

মঙ্গলবার (২ জুন) অ্যাটর্নি-জেনারেল অফিসের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. নাসির উদ্দিনের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, অ্যাটর্নি-জেনারেল অফিসে নোটিশ প্রদানের ক্ষেত্রে বিদ্যমান পদ্ধতির কিছু ত্রুটি চিহ্নিত করা হয়েছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে কতিপয় ক্লার্ক কর্তৃক অত্র অফিসের কিছু কর্মচারীর সঙ্গে যোগসাজস করে নোটিশ জালিয়াতির অভিযোগ কর্তৃপক্ষের নজরে এসেছে। উদাহরণ হিসেবে ২ জুন অবকাশকালীন এনেক্স ভবনের ১৪ নম্বর কোর্টে বেশ কয়েকটি মামলার এফিডেভিট করা মূল আবেদনের টেন্ডার নম্বরের সঙ্গে নোটিশে দেওয়া টেন্ডার নম্বরের মধ্যে গড়মিল ধরা পড়েছে।

বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট আদালতে জানানো হলে, উক্ত কোর্টে তালিকাভুক্ত অন্যান্য বিভিন্ন মামলায়ও একই পরিস্থিতি দেখা যায়। যা থেকে স্পষ্ট বোঝা যায় যে, অসৎ উদ্দেশ্যে বা কোন অনৈতিক সুবিধা লাভের লক্ষ্যে এই প্রক্রিয়া মেনে চলা হয়েছে। আদালত ২৯, ৩০, ৩২, ৩৯, ৪৩, ৪৪, ৪৯, ৫৩, ৫৮, ৬০, ৬১, ৮৩, ১১১, ১১২, ১৮০ ও ১৮৪ আইটেমগুলো ডিলিট করে।

এছাড়া, দায়ের করা বিভিন্ন মামলায় সনাক্তকারী আইনজীবী এবং নোটিশে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যেও বৈপরীত্য লক্ষ্য করা যায়। এর ফলে, কোন মামলায় নিয়োজিত সংশ্লিষ্ট আইনজীবীকে চিহ্নিত করা অ্যাটর্নি-জেনারেল অফিসের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষ কিছু ব্যক্তিদের এই ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য আইনজীবী সমাজ এবং দেশের সর্বোচ্চ আদালতের বিচার প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত সকলকে অহেতুক বিব্রতকর অবস্থার মধ্যে পড়তে হচ্ছে।

বিচারিক স্বচ্ছতার স্বার্থে অ্যাটর্নি-জেনারেল অফিসে নোটিশ প্রদানের ক্ষেত্রে নিম্নলিখিত সিদ্ধান্তগুলো গৃহীত হয়েছে:

১) মূল পিটিশনে সনাক্তকারী আইনজীবী এবং নোটিশে স্বাক্ষরিত আইনজীবী একই বিজ্ঞ আইনজীবী হতে হবে;

২) কোন মামলার এফিডেভিট সম্পন্ন হওয়ার পরবর্তী ৭ (সাত) দিনের মধ্যে অ্যাটর্নি-জেনারেল অফিসে নোটিশ জারি করতে হবে;

৩) অত্র অফিসের জমাকৃত নোটিশে টেন্ডার নম্বর টাইপকৃত হতে হবে;

৪) এফিডেভিট সম্পন্ন হওয়ার পর মূল আবেদনপত্রের (ব্লু কপি) ফটোকপি এবং ওকালতনামার উভয় পৃষ্ঠাসহ অ্যাটর্নি-জেনারেল অফিসে নোটিশ জমা করতে হবে।

৫) কোন আদালতে পূর্বে দাখিলকৃত একই মামলা অন্য আদালতে তালিকাভুক্ত করার ক্ষেত্রে, অ্যাটর্নি-জেনারেল অফিসে নতুন নোটিশ প্রদানের সময় পূর্ববর্তী আদালতে দাখিল করা মামলার নোটিশের একটি অনুলিপি সংযুক্ত করতে হবে।

৬) আগামী ১৪ জুন থেকে এ নির্দেশনা কার্যকর হবে;

নির্দেশনার বিষয়ে আইনজীবীদের অবহিত করার জন্য বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক বরাবরও পাঠানো হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এলডিসি উত্তরণ সময় ২০২৯ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ সিডিপির

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২ই জুন, ২০২৬ ইং

০৭:৪১ পি.এম


এলডিসি উত্তরণ সময় ২০২৯ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ সিডিপির

জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি (সিডিপি) বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের প্রস্তুতিকাল ২০২৯ সালের ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত বৃদ্ধি করার জন্য ইতিবাচকভাবে সুপারিশ করেছে। সিডিপির চেয়ারম্যন অধ্যাপক হোসে আন্তোনিও ওকাম্পো এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারকে অবহিত করে জানিয়েছেন যে, কমিটির মূল্যায়নের ভিত্তিতে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ কর্তৃক বাংলাদেশে এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বৃদ্ধির বিষয়টি যথাযথ হবে।

কিন্তু সিডিপি এটাও বলেছে যে, বর্ধিত প্রস্তুতিমূলক সময়কে কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অভ্যন্তরীণ সংস্কার কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করা প্রয়োজন। কমিটি স্পষ্ট করেছে যে, প্রস্তুতিকাল বৃদ্ধি কোনোভাবেই সংস্কার বিলম্বিত করার সুযোগ সৃষ্টি করবে না; বরং এটি সংস্কার কার্যক্রমকে আরো দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য একটি অনুঘটক হিসেবে কাজ করা উচিত।

এটি উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, বাংলাদেশ সরকার গত ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে জাতিসংঘের সিডিপির কাছে এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল তিন বছর বৃদ্ধি করে ২৪ নভেম্বর ২০২৯ পর্যন্ত সম্প্রসারণের আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানায়। পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী ৬ এপ্রিল জাতিসংঘ মহাসচিবের কাছে পাঠানো এক পত্রে এ বিষয়ে তার ব্যক্তিগত সহযোগিতা কামনা করেন।

সিডিপির মূল্যায়নে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বাংলাদেশ এলডিসি উত্তরণের জন্য নির্ধারিত তিনটি সূচকের প্রতিটিতেই প্রয়োজনীয় সীমা উল্লেখযোগ্যভাবে অতিক্রম করেছে। একই সঙ্গে নিকট ও মধ্যমেয়াদে এ অবস্থান থেকে পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকিও খুব কম। যদিও মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট, বৈশ্বিক জ্বালানি ও সরবরাহ ব্যবস্থার অনিশ্চয়তা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পরিবেশের পরিবর্তন এবং অন্যান্য বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ দেশের উত্তরণ প্রস্তুতি বাস্তবায়নে প্রভাব ফেলতে পারে, তবে কমিটি এই বিষয়গুলোকে উল্লেখ করেছে।

কমিটি বাংলাদেশ সরকারের প্রণীত ‘স্মুথ ট্রানজিশন স্ট্র্যাটেজি (এসটিএস)’ বাস্তবায়নে সরকারের অঙ্গীকারকে স্বাগত জানায়। সিডিপির মতে, প্রস্তুতির সময় বৃদ্ধি পেলে বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রভাব আরো গভীরভাবে মূল্যায়ন, প্রয়োজনীয় অগ্রাধিকার নির্ধারণ এবং উত্তরণ-পরবর্তী বাজার সুবিধা ও আন্তর্জাতিক সহায়তা ব্যবস্থার জন্য যথাযথ প্রস্তুতির সুযোগ সৃষ্টি হবে।

সিডিপি প্রস্তুতিকাল এবং উত্তরণ-পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অব্যাহত সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে। যাতে সহজ শর্তে অর্থায়ন, এলডিসি-সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক সহায়তা ব্যবস্থার যথাযথ সম্প্রসারণ, কারিগরি সহায়তা, এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আলোচনার সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়গুলোকেও বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

একইসঙ্গে কমিটি আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা, কর আহরণ বৃদ্ধি, অভ্যন্তরীণ সম্পদ সংগ্রহকে জোরদার করা, উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি, অর্থনীতির বহুমুখীকরণ, এবং বেসরকারি খাতকে উত্তরণের জন্য প্রস্তুত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেছে।

বাংলাদেশ সরকার সিডিপির ইতিবাচক মূল্যায়ন ও সুপারিশকে স্বাগত জানায়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

থামছেই না মেঘনার ভাঙন, নিঃস্বদের ঠাঁই বেড়িবাঁধে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২ই জুন, ২০২৬ ইং

০৭:৪১ পি.এম


থামছেই না মেঘনার ভাঙন, নিঃস্বদের ঠাঁই বেড়িবাঁধে

বছরের পর বছর ধরে মেঘনার ভাঙনে বিলীন হয়ে যাচ্ছে নোয়াখালীর হাতিয়ার চানন্দী, নলচিরা, সুখচর এবং চরঈশ্বর ইউনিয়নের হাজার হাজার ঘরবাড়ি।

এই পরিস্থিতিতে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে এখানকার কয়েক হাজার পরিবার। একসময় শুধু বর্ষাকালে এই ভাঙন দেখা যেত, তবে বর্তমানে পুরো বছর জুড়েই চলছে এই উদ্বেগজনক পরিস্থিতি। ভাঙনে ধ্বংস হচ্ছে ঘরবাড়ি, হাট-বাজার, এবং বিভিন্ন ফসলি জমি ও অন্যান্য স্থাপনা। কিছু পরিবার একাধিকবার ভাঙনের শিকার হয়েছে।

গৃহহীন এসব পরিবার বিভিন্ন বেড়িবাঁধে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে। কর্তৃপক্ষ কেবল আশ্বাস দিলেও গত এক যুগেরও বেশি সময়ে স্থায়ী কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি।

সুজতী বালা মজুমদার (৬৫) বলেন, তিনি নাতি-নাতনি এবং ছেলে-বউয়ের সাথে নদীর তীরে এসেছেন। তার মুখে হাসির চিহ্ন নেই, বরং তীব্র হতাশার ছাপ ফুটে উঠেছে। রাস্তার পাশে মাটিতে বসে তিনি এক দৃষ্টে নদীর দিকে তাকিয়ে আছেন। দুপুর গড়িয়ে বিকাল হয়ে গেলেও বাড়ি যাওয়ার চিন্তা করছেন না তিনি। পারিবারিকভাবে তার স্বামী এবং সন্তানেরা নরসুন্দর পেশার সাথে জড়িয়ে আছেন। চানন্দী ইউনিয়নের ভূমিহীন বাজারের পশ্চিম পাশে নদীর তীরে তিনি রয়েছেন।

সুজতী জানান, তিনি হাতিয়ার মূল ভূখণ্ড থেকে নদীভাঙনের শিকার হয়ে এখন এই চরে আসতে বাধ্য হয়েছেন। তার কাছে নগদ টাকা ছিল না। তাই ছেলে-বউদের গয়না বিক্রি করে তিনি চানন্দী ইউনিয়নের নলেরচরে ভূমিহীন বাজারের দক্ষিণ পাশে একটি জমি কিনে বসবাস শুরু করেন। কিন্তু আগ্রাসী মেঘনা তার শেষ সম্বল বাড়িটি গিলে খেয়ে ফেলেছে। নতুন ঠিকানা এখনও তৈরি করতে পারেননি। নদীভাঙনে সমস্ত সহায়ক সম্বল হারিয়ে, তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা দুচোখে অন্ধকার দেখতে পাচ্ছেন। গত এক মাস ধরে ৮ সদস্যের পরিবারের সাথে তিনি অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। মন ভালো নেই, তাই নদীর তীরে এসেছেন নিজের শেষ স্মৃতিটুকু একবার দেখতে।

চানন্দী ইউনিয়নের সবচেয়ে বড় ব্যবসায়িক কেন্দ্র ছিল ভূমিহীন বাজার। সেখানে প্রায় ৫ শতাধিক দোকান ছিল। ২৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং পাকা রাস্তার সংযোগ থাকায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মানুষজন এই বাজারে আসতেন। বাজারের প্রবীণ ব্যবসায়ী মমিন ভাণ্ডারি (৭০) জানান, গত এক সপ্তাহ আগে বাজারটি নদীভাঙনের কবলে পড়েছে এবং ৭ দিনের মধ্যে বাজারের অর্ধেকের বেশি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। অনেকেই নিজেদের শেষ সম্বলটুকু ভেঙে নিয়ে যেতে পারেননি। কেউ কেউ দোকানঘরের অংশবিশেষ খুলে গাড়িতে করে নিয়ে যাচ্ছেন।

মমিন ভাণ্ডারি আরও জানান, তিনি ২০ বছর আগে এই চরে বসবাস শুরু করেছেন। এখন তিনি দেখছেন যে ভূমিহীন বাজার ভাঙছে। নদী এখান থেকে ২০ কিলোমিটার দক্ষিণে ছিল। তবে এখন উত্তরের দিকে এই চরের আর মাত্র দুই কিলোমিটার বাকি আছে, এরপরই সুবর্ণচর উপজেলা। বিভিন্ন সময় সরকার অথবা রাজনৈতিক নেতারা কেবল আশ্বাস দিয়েছেন এবং অনেকেই এই ভাঙন নিয়ে রাজনীতি করলেও ভাঙন রোধে স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এই চরের বাসিন্দারা এখন বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে বেড়িবাঁধের ঢালে আশ্রয় নিয়েছেন।

বাজারের পূর্ব পাশে এলাকাবাসীর জন্য গড়ে তোলা হয়েছিল সবচেয়ে বড় মসজিদ, যেখানে দুই হাজার লোক একসাথে নামাজ পড়া সম্ভব হত। এর পাশেই ছিল গণকবরস্থান, যেখানে ৭০০–৮০০ লোককে দাফন করা হয়েছে। কবরস্থানের পাশে কিছু নারীর সাথে দেখা হয়। তাদের একজন নাজমা আক্তার (৪৫) জানান, ১০ বছর আগে তার বড় বোনকে এখানে দাফন করা হয়েছিল কিন্তু কবরস্থানটি এখন নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। ভাঙনের গতি দেখে, তিনি মনে করছেন আগামী দু-এক দিনের মধ্যে মসজিদসহ সম্পূর্ণ কবরস্থান নদীতে বিলীন হয়ে যাবে। এজন্য তিনি বোনের কবরটি শেষবারের মতো দেখতে এসেছেন।

নাজমা আরও জানান, অনেকে এখানে কবর দেওয়া স্বজনদের মৃতদেহ তুলে নিয়ে অন্যত্র দাফন করছেন। তবে একটি কবর স্থানান্তরে বিশাল পরিমাণ টাকা ব্যয় হয়, যা তাদের পক্ষে বহন করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই নিরূপায় হয়ে তিনি শুধু চোখে দেখতে এসেছেন।

এমন অসংখ্য অসহায়ত্ব আর হারানোর গল্প রয়েছে এই চরে বসবাসকারী হাজারো পরিবারের। গত ১৭ বছরে হাতিয়ার চানন্দী ও হরনী ইউনিয়নের অন্তত ৪০ হাজার একর জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। বসতি হারিয়েছে অন্তত ২০ হাজার পরিবার। সময়ের সাথে সাথে মেঘনার ভাঙনের মাত্রা বাড়ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ এবং বাজারসহ অসংখ্য স্থাপনা ইতোমধ্যে বিলীন হয়ে গেছে। হাতিয়ার এই দুটি ইউনিয়নে ধানের পাশাপাশি বিভিন্ন মৌসুমি সবজি ও মাছের চাষ হতো। এসব সবজি নোয়াখালীর পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন জেলাতে সরবরাহ করা হত। কিন্তু প্রতিনিয়ত নদীভাঙনের কবলে পড়ে এখানকার মানুষ সর্বস্বান্ত হয়ে যাচ্ছে। এখন তাদের ঠাঁই হচ্ছে বিভিন্ন বেড়িবাঁধের পাশে।

নতুন জেগে ওঠা এই চরে মানুষের বসবাস শুরু হয় ১৯৯৮ সালের দিকে। ২০০৩ সালে একে ইউনিয়ন পরিষদ ঘোষণা করা হয়। শুরুতে চানন্দী ইউনিয়ন পরিষদটি দুটি প্রশাসনিক এরিয়াতে ভাগ করে কার্যক্রম চালানো হয়— একটি কেরিংচর প্রশাসনিক এরিয়া এবং অপরটি নলেরচর প্রশাসনিক এরিয়া। পার্শ্ববর্তী সুবর্ণচর উপজেলার সাথে সীমানা নিয়ে বিরোধ থাকায় তা মীমাংসা করে ২০২২ সালের ১৫ জুন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এরপর থেকে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা প্রশাসনিক কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন।

সম্প্রতি পানিসম্পদ মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রী মো. শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী নদীভাঙনের এলাকা পরিদর্শন করেছেন। তিনি নদীভাঙনে নিঃস্ব পরিবারগুলোর দুঃখ-কষ্টের কথা চিন্তা করে এই অঞ্চলে জরুরি কাজের পাশাপাশি স্থায়ী নদীভাঙন রোধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলেছেন। তিনি আরও জানান, এই অঞ্চলের নদীভাঙন রোধে একটি প্রকল্প যাচাই-বাছাই চলছে, যা খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে বাস্তবায়ন হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%