০৭:৪১ পি.এম
জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি (সিডিপি) বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের প্রস্তুতিকাল ২০২৯ সালের ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত বৃদ্ধি করার জন্য ইতিবাচকভাবে সুপারিশ করেছে। সিডিপির চেয়ারম্যন অধ্যাপক হোসে আন্তোনিও ওকাম্পো এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারকে অবহিত করে জানিয়েছেন যে, কমিটির মূল্যায়নের ভিত্তিতে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ কর্তৃক বাংলাদেশে এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বৃদ্ধির বিষয়টি যথাযথ হবে।
কিন্তু সিডিপি এটাও বলেছে যে, বর্ধিত প্রস্তুতিমূলক সময়কে কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অভ্যন্তরীণ সংস্কার কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করা প্রয়োজন। কমিটি স্পষ্ট করেছে যে, প্রস্তুতিকাল বৃদ্ধি কোনোভাবেই সংস্কার বিলম্বিত করার সুযোগ সৃষ্টি করবে না; বরং এটি সংস্কার কার্যক্রমকে আরো দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য একটি অনুঘটক হিসেবে কাজ করা উচিত।
এটি উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, বাংলাদেশ সরকার গত ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে জাতিসংঘের সিডিপির কাছে এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল তিন বছর বৃদ্ধি করে ২৪ নভেম্বর ২০২৯ পর্যন্ত সম্প্রসারণের আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানায়। পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী ৬ এপ্রিল জাতিসংঘ মহাসচিবের কাছে পাঠানো এক পত্রে এ বিষয়ে তার ব্যক্তিগত সহযোগিতা কামনা করেন।
আরও পড়ুন: সর্বজনীন পেনশনে সুখবর, গ্রাহকেরা লাভবান হবেন ১১.৬৮% থেকে ১১.৭২% মুনাফায়
সিডিপির মূল্যায়নে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বাংলাদেশ এলডিসি উত্তরণের জন্য নির্ধারিত তিনটি সূচকের প্রতিটিতেই প্রয়োজনীয় সীমা উল্লেখযোগ্যভাবে অতিক্রম করেছে। একই সঙ্গে নিকট ও মধ্যমেয়াদে এ অবস্থান থেকে পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকিও খুব কম। যদিও মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট, বৈশ্বিক জ্বালানি ও সরবরাহ ব্যবস্থার অনিশ্চয়তা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পরিবেশের পরিবর্তন এবং অন্যান্য বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ দেশের উত্তরণ প্রস্তুতি বাস্তবায়নে প্রভাব ফেলতে পারে, তবে কমিটি এই বিষয়গুলোকে উল্লেখ করেছে।
কমিটি বাংলাদেশ সরকারের প্রণীত ‘স্মুথ ট্রানজিশন স্ট্র্যাটেজি (এসটিএস)’ বাস্তবায়নে সরকারের অঙ্গীকারকে স্বাগত জানায়। সিডিপির মতে, প্রস্তুতির সময় বৃদ্ধি পেলে বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রভাব আরো গভীরভাবে মূল্যায়ন, প্রয়োজনীয় অগ্রাধিকার নির্ধারণ এবং উত্তরণ-পরবর্তী বাজার সুবিধা ও আন্তর্জাতিক সহায়তা ব্যবস্থার জন্য যথাযথ প্রস্তুতির সুযোগ সৃষ্টি হবে।
সিডিপি প্রস্তুতিকাল এবং উত্তরণ-পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অব্যাহত সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে। যাতে সহজ শর্তে অর্থায়ন, এলডিসি-সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক সহায়তা ব্যবস্থার যথাযথ সম্প্রসারণ, কারিগরি সহায়তা, এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আলোচনার সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়গুলোকেও বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
একইসঙ্গে কমিটি আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা, কর আহরণ বৃদ্ধি, অভ্যন্তরীণ সম্পদ সংগ্রহকে জোরদার করা, উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি, অর্থনীতির বহুমুখীকরণ, এবং বেসরকারি খাতকে উত্তরণের জন্য প্রস্তুত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেছে।
আরও পড়ুন: চান্দিনায় নির্যাতনে গৃহবধূর মৃত্যু, স্বামী পলাতক; তদন্ত শুরু
বাংলাদেশ সরকার সিডিপির ইতিবাচক মূল্যায়ন ও সুপারিশকে স্বাগত জানায়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন