ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসে নোটিশ জালিয়াতি রোধে নতুন নির্দেশনা


অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসে নোটিশ জালিয়াতি রোধে নতুন নির্দেশনা

অ্যাটর্নি-জেনারেল অফিসে নোটিশ জালিয়াতি রোধে নতুন নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। এই নতুন নির্দেশনা ১৪ জুন থেকে কার্যকর হবে।

মঙ্গলবার (২ জুন) অ্যাটর্নি-জেনারেল অফিসের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. নাসির উদ্দিনের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, অ্যাটর্নি-জেনারেল অফিসে নোটিশ প্রদানের ক্ষেত্রে বিদ্যমান পদ্ধতির কিছু ত্রুটি চিহ্নিত করা হয়েছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে কতিপয় ক্লার্ক কর্তৃক অত্র অফিসের কিছু কর্মচারীর সঙ্গে যোগসাজস করে নোটিশ জালিয়াতির অভিযোগ কর্তৃপক্ষের নজরে এসেছে। উদাহরণ হিসেবে ২ জুন অবকাশকালীন এনেক্স ভবনের ১৪ নম্বর কোর্টে বেশ কয়েকটি মামলার এফিডেভিট করা মূল আবেদনের টেন্ডার নম্বরের সঙ্গে নোটিশে দেওয়া টেন্ডার নম্বরের মধ্যে গড়মিল ধরা পড়েছে।

আরও পড়ুন: আজ যেসব দামে স্বর্ণ ও রুপা বিক্রি হচ্ছে

বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট আদালতে জানানো হলে, উক্ত কোর্টে তালিকাভুক্ত অন্যান্য বিভিন্ন মামলায়ও একই পরিস্থিতি দেখা যায়। যা থেকে স্পষ্ট বোঝা যায় যে, অসৎ উদ্দেশ্যে বা কোন অনৈতিক সুবিধা লাভের লক্ষ্যে এই প্রক্রিয়া মেনে চলা হয়েছে। আদালত ২৯, ৩০, ৩২, ৩৯, ৪৩, ৪৪, ৪৯, ৫৩, ৫৮, ৬০, ৬১, ৮৩, ১১১, ১১২, ১৮০ ও ১৮৪ আইটেমগুলো ডিলিট করে।

এছাড়া, দায়ের করা বিভিন্ন মামলায় সনাক্তকারী আইনজীবী এবং নোটিশে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যেও বৈপরীত্য লক্ষ্য করা যায়। এর ফলে, কোন মামলায় নিয়োজিত সংশ্লিষ্ট আইনজীবীকে চিহ্নিত করা অ্যাটর্নি-জেনারেল অফিসের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষ কিছু ব্যক্তিদের এই ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য আইনজীবী সমাজ এবং দেশের সর্বোচ্চ আদালতের বিচার প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত সকলকে অহেতুক বিব্রতকর অবস্থার মধ্যে পড়তে হচ্ছে।

বিচারিক স্বচ্ছতার স্বার্থে অ্যাটর্নি-জেনারেল অফিসে নোটিশ প্রদানের ক্ষেত্রে নিম্নলিখিত সিদ্ধান্তগুলো গৃহীত হয়েছে:

১) মূল পিটিশনে সনাক্তকারী আইনজীবী এবং নোটিশে স্বাক্ষরিত আইনজীবী একই বিজ্ঞ আইনজীবী হতে হবে;

আরও পড়ুন: ইশরাকের পদত্যাগ কোনো অধ্যায়ের সমাপ্তি নয়: মাহদী আমিন

২) কোন মামলার এফিডেভিট সম্পন্ন হওয়ার পরবর্তী ৭ (সাত) দিনের মধ্যে অ্যাটর্নি-জেনারেল অফিসে নোটিশ জারি করতে হবে;

৩) অত্র অফিসের জমাকৃত নোটিশে টেন্ডার নম্বর টাইপকৃত হতে হবে;

৪) এফিডেভিট সম্পন্ন হওয়ার পর মূল আবেদনপত্রের (ব্লু কপি) ফটোকপি এবং ওকালতনামার উভয় পৃষ্ঠাসহ অ্যাটর্নি-জেনারেল অফিসে নোটিশ জমা করতে হবে।

৫) কোন আদালতে পূর্বে দাখিলকৃত একই মামলা অন্য আদালতে তালিকাভুক্ত করার ক্ষেত্রে, অ্যাটর্নি-জেনারেল অফিসে নতুন নোটিশ প্রদানের সময় পূর্ববর্তী আদালতে দাখিল করা মামলার নোটিশের একটি অনুলিপি সংযুক্ত করতে হবে।

আরও পড়ুন: মামলা হলে আত্মসমর্পণের ঘোষণা ইশরাকের, নাহিদকে সতর্কতা

৬) আগামী ১৪ জুন থেকে এ নির্দেশনা কার্যকর হবে;

নির্দেশনার বিষয়ে আইনজীবীদের অবহিত করার জন্য বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক বরাবরও পাঠানো হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এলডিসি উত্তরণ সময় ২০২৯ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ সিডিপির

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২ই জুন, ২০২৬ ইং

০৭:৪১ পি.এম


এলডিসি উত্তরণ সময় ২০২৯ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ সিডিপির

জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি (সিডিপি) বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের প্রস্তুতিকাল ২০২৯ সালের ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত বৃদ্ধি করার জন্য ইতিবাচকভাবে সুপারিশ করেছে। সিডিপির চেয়ারম্যন অধ্যাপক হোসে আন্তোনিও ওকাম্পো এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারকে অবহিত করে জানিয়েছেন যে, কমিটির মূল্যায়নের ভিত্তিতে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ কর্তৃক বাংলাদেশে এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বৃদ্ধির বিষয়টি যথাযথ হবে।

কিন্তু সিডিপি এটাও বলেছে যে, বর্ধিত প্রস্তুতিমূলক সময়কে কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অভ্যন্তরীণ সংস্কার কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করা প্রয়োজন। কমিটি স্পষ্ট করেছে যে, প্রস্তুতিকাল বৃদ্ধি কোনোভাবেই সংস্কার বিলম্বিত করার সুযোগ সৃষ্টি করবে না; বরং এটি সংস্কার কার্যক্রমকে আরো দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য একটি অনুঘটক হিসেবে কাজ করা উচিত।

এটি উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, বাংলাদেশ সরকার গত ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে জাতিসংঘের সিডিপির কাছে এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল তিন বছর বৃদ্ধি করে ২৪ নভেম্বর ২০২৯ পর্যন্ত সম্প্রসারণের আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানায়। পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী ৬ এপ্রিল জাতিসংঘ মহাসচিবের কাছে পাঠানো এক পত্রে এ বিষয়ে তার ব্যক্তিগত সহযোগিতা কামনা করেন।

সিডিপির মূল্যায়নে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বাংলাদেশ এলডিসি উত্তরণের জন্য নির্ধারিত তিনটি সূচকের প্রতিটিতেই প্রয়োজনীয় সীমা উল্লেখযোগ্যভাবে অতিক্রম করেছে। একই সঙ্গে নিকট ও মধ্যমেয়াদে এ অবস্থান থেকে পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকিও খুব কম। যদিও মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট, বৈশ্বিক জ্বালানি ও সরবরাহ ব্যবস্থার অনিশ্চয়তা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পরিবেশের পরিবর্তন এবং অন্যান্য বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ দেশের উত্তরণ প্রস্তুতি বাস্তবায়নে প্রভাব ফেলতে পারে, তবে কমিটি এই বিষয়গুলোকে উল্লেখ করেছে।

কমিটি বাংলাদেশ সরকারের প্রণীত ‘স্মুথ ট্রানজিশন স্ট্র্যাটেজি (এসটিএস)’ বাস্তবায়নে সরকারের অঙ্গীকারকে স্বাগত জানায়। সিডিপির মতে, প্রস্তুতির সময় বৃদ্ধি পেলে বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রভাব আরো গভীরভাবে মূল্যায়ন, প্রয়োজনীয় অগ্রাধিকার নির্ধারণ এবং উত্তরণ-পরবর্তী বাজার সুবিধা ও আন্তর্জাতিক সহায়তা ব্যবস্থার জন্য যথাযথ প্রস্তুতির সুযোগ সৃষ্টি হবে।

সিডিপি প্রস্তুতিকাল এবং উত্তরণ-পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অব্যাহত সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে। যাতে সহজ শর্তে অর্থায়ন, এলডিসি-সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক সহায়তা ব্যবস্থার যথাযথ সম্প্রসারণ, কারিগরি সহায়তা, এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আলোচনার সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়গুলোকেও বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

একইসঙ্গে কমিটি আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা, কর আহরণ বৃদ্ধি, অভ্যন্তরীণ সম্পদ সংগ্রহকে জোরদার করা, উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি, অর্থনীতির বহুমুখীকরণ, এবং বেসরকারি খাতকে উত্তরণের জন্য প্রস্তুত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেছে।

বাংলাদেশ সরকার সিডিপির ইতিবাচক মূল্যায়ন ও সুপারিশকে স্বাগত জানায়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

থামছেই না মেঘনার ভাঙন, নিঃস্বদের ঠাঁই বেড়িবাঁধে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২ই জুন, ২০২৬ ইং

০৭:৪১ পি.এম


থামছেই না মেঘনার ভাঙন, নিঃস্বদের ঠাঁই বেড়িবাঁধে

বছরের পর বছর ধরে মেঘনার ভাঙনে বিলীন হয়ে যাচ্ছে নোয়াখালীর হাতিয়ার চানন্দী, নলচিরা, সুখচর এবং চরঈশ্বর ইউনিয়নের হাজার হাজার ঘরবাড়ি।

এই পরিস্থিতিতে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে এখানকার কয়েক হাজার পরিবার। একসময় শুধু বর্ষাকালে এই ভাঙন দেখা যেত, তবে বর্তমানে পুরো বছর জুড়েই চলছে এই উদ্বেগজনক পরিস্থিতি। ভাঙনে ধ্বংস হচ্ছে ঘরবাড়ি, হাট-বাজার, এবং বিভিন্ন ফসলি জমি ও অন্যান্য স্থাপনা। কিছু পরিবার একাধিকবার ভাঙনের শিকার হয়েছে।

গৃহহীন এসব পরিবার বিভিন্ন বেড়িবাঁধে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে। কর্তৃপক্ষ কেবল আশ্বাস দিলেও গত এক যুগেরও বেশি সময়ে স্থায়ী কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি।

সুজতী বালা মজুমদার (৬৫) বলেন, তিনি নাতি-নাতনি এবং ছেলে-বউয়ের সাথে নদীর তীরে এসেছেন। তার মুখে হাসির চিহ্ন নেই, বরং তীব্র হতাশার ছাপ ফুটে উঠেছে। রাস্তার পাশে মাটিতে বসে তিনি এক দৃষ্টে নদীর দিকে তাকিয়ে আছেন। দুপুর গড়িয়ে বিকাল হয়ে গেলেও বাড়ি যাওয়ার চিন্তা করছেন না তিনি। পারিবারিকভাবে তার স্বামী এবং সন্তানেরা নরসুন্দর পেশার সাথে জড়িয়ে আছেন। চানন্দী ইউনিয়নের ভূমিহীন বাজারের পশ্চিম পাশে নদীর তীরে তিনি রয়েছেন।

সুজতী জানান, তিনি হাতিয়ার মূল ভূখণ্ড থেকে নদীভাঙনের শিকার হয়ে এখন এই চরে আসতে বাধ্য হয়েছেন। তার কাছে নগদ টাকা ছিল না। তাই ছেলে-বউদের গয়না বিক্রি করে তিনি চানন্দী ইউনিয়নের নলেরচরে ভূমিহীন বাজারের দক্ষিণ পাশে একটি জমি কিনে বসবাস শুরু করেন। কিন্তু আগ্রাসী মেঘনা তার শেষ সম্বল বাড়িটি গিলে খেয়ে ফেলেছে। নতুন ঠিকানা এখনও তৈরি করতে পারেননি। নদীভাঙনে সমস্ত সহায়ক সম্বল হারিয়ে, তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা দুচোখে অন্ধকার দেখতে পাচ্ছেন। গত এক মাস ধরে ৮ সদস্যের পরিবারের সাথে তিনি অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। মন ভালো নেই, তাই নদীর তীরে এসেছেন নিজের শেষ স্মৃতিটুকু একবার দেখতে।

চানন্দী ইউনিয়নের সবচেয়ে বড় ব্যবসায়িক কেন্দ্র ছিল ভূমিহীন বাজার। সেখানে প্রায় ৫ শতাধিক দোকান ছিল। ২৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং পাকা রাস্তার সংযোগ থাকায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মানুষজন এই বাজারে আসতেন। বাজারের প্রবীণ ব্যবসায়ী মমিন ভাণ্ডারি (৭০) জানান, গত এক সপ্তাহ আগে বাজারটি নদীভাঙনের কবলে পড়েছে এবং ৭ দিনের মধ্যে বাজারের অর্ধেকের বেশি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। অনেকেই নিজেদের শেষ সম্বলটুকু ভেঙে নিয়ে যেতে পারেননি। কেউ কেউ দোকানঘরের অংশবিশেষ খুলে গাড়িতে করে নিয়ে যাচ্ছেন।

মমিন ভাণ্ডারি আরও জানান, তিনি ২০ বছর আগে এই চরে বসবাস শুরু করেছেন। এখন তিনি দেখছেন যে ভূমিহীন বাজার ভাঙছে। নদী এখান থেকে ২০ কিলোমিটার দক্ষিণে ছিল। তবে এখন উত্তরের দিকে এই চরের আর মাত্র দুই কিলোমিটার বাকি আছে, এরপরই সুবর্ণচর উপজেলা। বিভিন্ন সময় সরকার অথবা রাজনৈতিক নেতারা কেবল আশ্বাস দিয়েছেন এবং অনেকেই এই ভাঙন নিয়ে রাজনীতি করলেও ভাঙন রোধে স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এই চরের বাসিন্দারা এখন বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে বেড়িবাঁধের ঢালে আশ্রয় নিয়েছেন।

বাজারের পূর্ব পাশে এলাকাবাসীর জন্য গড়ে তোলা হয়েছিল সবচেয়ে বড় মসজিদ, যেখানে দুই হাজার লোক একসাথে নামাজ পড়া সম্ভব হত। এর পাশেই ছিল গণকবরস্থান, যেখানে ৭০০–৮০০ লোককে দাফন করা হয়েছে। কবরস্থানের পাশে কিছু নারীর সাথে দেখা হয়। তাদের একজন নাজমা আক্তার (৪৫) জানান, ১০ বছর আগে তার বড় বোনকে এখানে দাফন করা হয়েছিল কিন্তু কবরস্থানটি এখন নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। ভাঙনের গতি দেখে, তিনি মনে করছেন আগামী দু-এক দিনের মধ্যে মসজিদসহ সম্পূর্ণ কবরস্থান নদীতে বিলীন হয়ে যাবে। এজন্য তিনি বোনের কবরটি শেষবারের মতো দেখতে এসেছেন।

নাজমা আরও জানান, অনেকে এখানে কবর দেওয়া স্বজনদের মৃতদেহ তুলে নিয়ে অন্যত্র দাফন করছেন। তবে একটি কবর স্থানান্তরে বিশাল পরিমাণ টাকা ব্যয় হয়, যা তাদের পক্ষে বহন করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই নিরূপায় হয়ে তিনি শুধু চোখে দেখতে এসেছেন।

এমন অসংখ্য অসহায়ত্ব আর হারানোর গল্প রয়েছে এই চরে বসবাসকারী হাজারো পরিবারের। গত ১৭ বছরে হাতিয়ার চানন্দী ও হরনী ইউনিয়নের অন্তত ৪০ হাজার একর জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। বসতি হারিয়েছে অন্তত ২০ হাজার পরিবার। সময়ের সাথে সাথে মেঘনার ভাঙনের মাত্রা বাড়ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ এবং বাজারসহ অসংখ্য স্থাপনা ইতোমধ্যে বিলীন হয়ে গেছে। হাতিয়ার এই দুটি ইউনিয়নে ধানের পাশাপাশি বিভিন্ন মৌসুমি সবজি ও মাছের চাষ হতো। এসব সবজি নোয়াখালীর পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন জেলাতে সরবরাহ করা হত। কিন্তু প্রতিনিয়ত নদীভাঙনের কবলে পড়ে এখানকার মানুষ সর্বস্বান্ত হয়ে যাচ্ছে। এখন তাদের ঠাঁই হচ্ছে বিভিন্ন বেড়িবাঁধের পাশে।

নতুন জেগে ওঠা এই চরে মানুষের বসবাস শুরু হয় ১৯৯৮ সালের দিকে। ২০০৩ সালে একে ইউনিয়ন পরিষদ ঘোষণা করা হয়। শুরুতে চানন্দী ইউনিয়ন পরিষদটি দুটি প্রশাসনিক এরিয়াতে ভাগ করে কার্যক্রম চালানো হয়— একটি কেরিংচর প্রশাসনিক এরিয়া এবং অপরটি নলেরচর প্রশাসনিক এরিয়া। পার্শ্ববর্তী সুবর্ণচর উপজেলার সাথে সীমানা নিয়ে বিরোধ থাকায় তা মীমাংসা করে ২০২২ সালের ১৫ জুন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এরপর থেকে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা প্রশাসনিক কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন।

সম্প্রতি পানিসম্পদ মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রী মো. শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী নদীভাঙনের এলাকা পরিদর্শন করেছেন। তিনি নদীভাঙনে নিঃস্ব পরিবারগুলোর দুঃখ-কষ্টের কথা চিন্তা করে এই অঞ্চলে জরুরি কাজের পাশাপাশি স্থায়ী নদীভাঙন রোধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলেছেন। তিনি আরও জানান, এই অঞ্চলের নদীভাঙন রোধে একটি প্রকল্প যাচাই-বাছাই চলছে, যা খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে বাস্তবায়ন হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘৬০০-৭০০ জনের ধর্ষণ’, ব্রিটিশ সংসদে ভুক্তভোগী নারীর জবানবন্দি পাঠ করলেন এমপি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২ই জুন, ২০২৬ ইং

০৭:৪৩ পি.এম


‘৬০০-৭০০ জনের ধর্ষণ’, ব্রিটিশ সংসদে ভুক্তভোগী নারীর জবানবন্দি পাঠ করলেন এমপি

যুক্তরাজ্যজুড়ে সংগঠিত ‘গ্রুমিং গ্যাং’ বা পরিকল্পিত শিশু যৌন শোষণ চক্রের ভয়াবহ ও শিউরে ওঠার মতো চিত্র আবার একবার প্রকাশ্যে এসেছে। সম্প্রতি ব্রিটিশ পার্লামেন্টে স্বতন্ত্র এমপি রুপার্ট লো এক আবেগঘন ও চাঞ্চল্যকর বক্তব্য দেওয়ার সময় বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগী নারীর রোমহর্ষক জবানবন্দি পাঠ করে শোনান। তার এই বক্তব্য দেশটির মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পুঞ্জীভূত ক্ষোভ এবং পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতার বিতর্ককে নতুন করে উসকে দিয়েছে।

যুক্তরাজ্য সরকারের পূর্ববর্তী বিভিন্ন তদন্তে উঠে এসেছে যে, এই সংগঠিত শিশু যৌন নিপীড়ন চক্রের সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের একটি বড় অংশই পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত ট্যাক্সিচালক ও ব্যবসায়ী। এমপি রুপার্ট লো তাঁর নিজস্ব উদ্যোগে পরিচালিত একটি স্বাধীন অনুসন্ধানের ভিত্তিতে এই ভুক্তভোগীদের সাক্ষ্য সংগ্রহ করেন এবং দেশটির সংসদকে এই চরম নৃশংসতার বিরুদ্ধে অবশেষে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।

সংসদে পাঠ করা ভুক্তভোগী নারীদের জবানবন্দিতে চরম সহিংসতা, জোরপূর্বক গর্ভধারণ, এমনকি পৈশাচিক ও অমানবিক নির্যাতনের রোমকূপ খাড়া করা বিবরণ উঠে এসেছে। এক নারী জানিয়েছেন, মাত্র ১৩ বছর বয়স থেকে শুরু হওয়া নির্যাতনের তিন বছরে তিনি আনুমানিক ৬০০ থেকে ৭০০ জন ভিন্ন ভিন্ন পুরুষের দ্বারা গণধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন। আরেক ভুক্তভোগী যিনি ১৫ বছর বয়সী, তিনি জানিয়েছেন, আশঙ্কাজনক রক্তপাত ও তীব্র শারীরিক ক্ষত নিয়ে হাসপাতালে গেলেও লোকলজ্জা ও প্রাণনাশের ভয়ে তিনি সত্য বলতে পারেননি, আর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও কোনো প্রশ্ন না করেই তাকে ওষুধ দিয়ে ছেড়ে দেয়। জবানবন্দিতে এমনকি কুকুরের খাঁচায় মেয়েদের বন্দি করে রাখা এবং পাশবিক নির্যাতনের ভিডিও ধারণ করে বাজি ধরার মতো বিকৃত মানসিকতার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

এমপি রুপার্ট লো-র নেতৃত্বে গত বছর পরিচালিত বেসরকারি তদন্তে যুক্তরাজ্যের অন্তত ৮৫টি এলাকায় এই ধরনের সংঘবদ্ধ শিশু যৌন শোষণের প্রমাণ পাওয়া গেছে। তার প্রতিবেদনে স্পষ্ট বলা হয়েছে, পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত পুরুষদের একটি বড় অংশ এই ‘ধর্ষণ গ্যাং’ পরিচালনা করছে, যা অনুমানের চেয়েও অনেক বেশি বিস্তৃত। একইসাথে, বর্ণবাদী তকমা পাওয়ার ভয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ বছরের পর বছর ধরে এসব জেনেও নীরব ভূমিকা পালন করেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

যুক্তরাজ্যে এই গ্রুমিং গ্যাং কেলেঙ্কারি প্রথম এক দশকেরও বেশি সময় আগে ইয়র্কশায়ারের রদারহ্যাম শহরে আলোড়ন সৃষ্টি করে। সেখানে পরবর্তীতে জানা যায় যে, ১৯৯৭ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে প্রায় ১,৪০০ শিশু এই ভয়াবহ চক্রের শিকার হয়েছিল। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাকের আমলে ২০২৩ সালে গঠিত চাইল্ড সেক্সুয়াল এক্সপ্লয়টেশন টাস্কফোর্সের তথ্য অনুযায়ী, কেবল ২০২৩ সালেই যুক্তরাজ্যে শিশুদের বিরুদ্ধে ১ লাখ ১৫ হাজারের বেশি যৌন অপরাধের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে, যার মধ্যে একটি বড় অংশই সংঘবদ্ধ অপরাধ। গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়রের অধীন ২০২৪ সালের একটি স্বাধীন পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ২০০৪ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত রচডেল কাউন্সিলে ব্যাপক আকারে এই শোষণ চললেও তৎকালীন কর্মকর্তারা তা স্বীকার করতে ব্যর্থ হন। যদিও পরবর্তীতে বিভিন্ন অভিযানে বহু অপরাধীকে সাজা দেওয়া হয়েছে, যাদের বেশির ভাগই ব্রিটিশ-পাকিস্তানি।

তবে ভুক্তভোগীদের এই নতুন জবানবন্দি প্রমাণ করে যে, ব্রিটিশ সমাজের গভীরে গেঁড়ে বসা এই অন্ধকার ক্ষত দূর করতে এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে বর্তমান প্রশাসনকে আরও দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আউশনারা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হতে চাচ্ছেন এম. রতন হায়দার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আঃ হামিদ মধুপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি

মঙ্গলবার, ২ই জুন, ২০২৬ ইং

০৭:৪৬ পি.এম


ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আউশনারা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হতে চাচ্ছেন এম. রতন হায়দার

আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার আউশনারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী হতে চাচ্ছেন মধুপুরের পরিচিত মুখ উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি এম. রতন হায়দার। তিনি একজন সুস্থধারার তরুণ রাজনীতিবিদ হিসেবে ইতোমধ্যেই সাধারণ মানুষের আস্থা ও ভালোবাসা অর্জন করেছেন। এম রতন হায়দার বর্তমানে মধুপুর উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন এবং দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতি ও সমাজসেবার মাধ্যমে জনগণের কল্যাণে কাজ করে আসছেন।
সমাজের নানা সমস্যা, অন্যায়-অনাচার ও মাদকমুক্ত পরিবেশ গড়ে তোলার বিষয়ে তিনি সবসময় সচেতন ও সোচ্চার। বিশেষ করে যুবসমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে বিভিন্ন সময়ে সামাজিক সচেতনতামূলক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করেছেন। তিনি বিশ্বাস করেন, একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধ সমাজ গঠনের জন্য তরুণ প্রজন্মকে সঠিক পথে পরিচালিত করা অত্যন্ত জরুরি।
দরিদ্র, অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো এম. রতন হায়দারের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক অবস্থান থেকে তিনি বিভিন্ন সময়ে অসহায় মানুষের সহায়তায় এগিয়ে এসেছেন। মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে থাকা এবং তাদের সমস্যার সমাধানে কাজ করাই তার রাজনৈতিক দর্শনের মূল ভিত্তি।
আউশনারা ইউনিয়নের একজন স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে এলাকার মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা ও সমস্যাগুলো তিনি খুব কাছ থেকে দেখেছেন এবং উপলব্ধি করেছেন। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। তার লক্ষ্য হলো একটি আধুনিক, সুশাসনভিত্তিক, মাদকমুক্ত ও উন্নয়নমুখী আউশনারা ইউনিয়ন গড়ে তোলা।
রাজনৈতিক অঙ্গনেও এম. রতন হায়দারের গ্রহণযোগ্যতা উল্লেখযোগ্য। দলীয় নেতাকর্মী থেকে শুরু করে উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে তার রয়েছে সৌহার্দ্যপূর্ণ ও আন্তরিক সম্পর্ক। রাজনৈতিক ভিন্নমতকে সম্মান করা এবং সকলকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করার মানসিকতা তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে।
স্থানীয় জনগণের অনেকেই মনে করেন, তরুণ নেতৃত্ব, সততা, জনসম্পৃক্ততা এবং উন্নয়নের সুস্পষ্ট ভাবনা এম. রতন হায়দারকে একজন সম্ভাবনাময় জনপ্রতিনিধি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তিনি চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে অংশগ্রহণ করলে আউশনারা ইউনিয়নের উন্নয়ন ও জনসেবার ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে পারে বলে এলাকাবাসীর প্রত্যাশা।
জনকল্যাণে নিবেদিত এই তরুণ নেতার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পথচলা এবং আউশনারা ইউনিয়নের উন্নয়নে তার পরিকল্পনা নিয়ে ইতোমধ্যেই স্থানীয় জনমনে ব্যাপক আলোচনা ও আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে তিনি কতটা সফল হবেন, তার উত্তর মিলবে আগামী নির্বাচনের মাধ্যমে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫১
মাগরিব ০৫:২৮
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%