ঢাকা রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৯ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৪ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৯ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ইরানে আজ রাতে ‘খুব কঠোর আঘাত’ হানবে যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্প


ইরানে আজ রাতে ‘খুব কঠোর আঘাত’ হানবে যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্প

চলমান সংঘাতের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প নতুন করে ইরানকে হুমকি দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকাল বেলা, তিনি বলেন, আজ রাতে ইরানকে খুব কঠোরভাবে আঘাত করা হবে।

ডনাল্ড ট্রাম্প নিজের মালিকানাধীন সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেয়া এক পোস্টে এই হুমকি দেন। তিনি উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্র আসন্ন রাতের মধ্যে ইরানকে খুব কঠোরভাবে আঘাত করবে (যার নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, রাডার, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং অন্যান্য সমস্ত ধরনের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা, এমনকি তাদের অধিকাংশ আক্রমণাত্মক সামর্থ্য ইতোমধ্যে ধ্বংস হয়ে গেছে)!’’

এছাড়া তিনি আরো বলেন, যুক্তরাষ্ট্র খারগ দ্বীপ এবং ইরানের অন্যান্য তেল অবকাঠামোর নিয়ন্ত্রণ নিতে যাচ্ছে।

আরও পড়ুন: নেতানিয়াহুকে ঠেকাতে বিদেশ থেকে দেশে ফিরছেন হাজার হাজার ইসরাইলি

পারস্য উপসাগরের এই ছোট দ্বীপটি ইরানের অর্থনীতির জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ দেশটির মোট অপরিশোধিত তেল রফতানির প্রায় ৯০ শতাংশ এই দ্বীপের মাধ্যমে ঘটে।

ট্রাম্প আরও বলেন, খুব বেশি দূরে নয়, কোনো এক সময়ে আমরা খারগ দ্বীপ এবং অন্যান্য তেলের অবকাঠামোগত কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণ নেব এবং তাদের তেল ও গ্যাস বাজারের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করব। ঠিক যেমনটি আমরা ভেনেজুয়েলার ক্ষেত্রে করেছি। ভেনেজুয়েলা ও যুক্তরাষ্ট্র—উভয়ই দুর্দান্তভাবে কাজ করছে।

বৃহস্পতিবার (১০ জুন) রাতে টানা দ্বিতীয় দিনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একে অপরের উপর হামলা চালিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প হুমকি দিয়ে বলেছেন, যদি তেহরান দ্রুত কোনো শান্তিচুক্তিতে রাজি না হয়, তাহলে আরও হামলা চালানো হবে।

এদিকে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) অ্যারোস্পেস ফোর্সের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাজিদ মুসাভি যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, ওয়াশিংটন যদি হরমুজ প্রণালি এবং এর আশপাশে সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখে, তাহলে পুরো অঞ্চলকে ‘নরকে’ পরিণত করা হবে।

আরও পড়ুন: জ্ঞানেশকে সরাতে রাজপথে নামছে ইন্ডিয়া জোট, ৩০ অক্টোবর ‘জনতার অভিশংসন’

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিমের প্রতিবেদনে মুসাভির এ তথ্য জানানো হয়েছে। তিনি বলেন, ‘তোমরা কি পবিত্র হরমুজ প্রণালিকে অনিরাপদ করতে চাও? তাহলে আমরা ইরানের সর্বত্র থেকে পুরো অঞ্চলকে তোমাদের জন্য নরকে পরিণত করব। ইনশাআল্লাহ, এটাই হবে অঞ্চলে আমেরিকার দুঃসাহসিক কর্মকাণ্ডের জবাব।’

তথ্যসূত্র: সিএনএন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মুন্সিগঞ্জে চারটি দাবি নিয়ে মানববন্ধন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১১ই জুন, ২০২৬ ইং

০৭:১১ পি.এম


মুন্সিগঞ্জে চারটি দাবি নিয়ে মানববন্ধন

মুন্সিগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী উপজেলার দিঘিরপাড় ঘাট এলাকায় চারটি দাবি নিয়ে বৃহৎ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন চরাঞ্চলের বাসিন্দারা। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় ‘চরাঞ্চলের অবহেলিত জনগণ’-এর ব্যানারে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে কয়েক হাজার নারী-পুরুষ, শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।

মানববন্ধনে টঙ্গীবাড়ী উপজেলার দিঘিরপাড় ইউনিয়নের পাশাপাশি মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার শিলই ও বাংলাবাজার এবং শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া, জাজিরা ও সখীপুর উপজেলার মানুষ অংশ নেন। দীর্ঘদিনের অবহেলা ও উন্নয়ন বৈষম্যের প্রতিবাদ জানিয়ে তাঁরা চরাঞ্চলের মানুষের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবি তোলেন।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, দিঘিরপাড়, কাচিকাটা, নওপাড়া, চরআত্রা, কুন্ডেরচর, চর শিলই ও চর বাংলাবাজারসহ বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলের মানুষ বছরের পর বছর অবকাঠামোগত সংকট ও নাগরিক দুর্ভোগের মধ্যে বসবাস করছেন। শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং কৃষিপণ্য পরিবহনে প্রতিনিয়ত চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন তারা।

মানববন্ধন থেকে চারটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলো হলো—চরাঞ্চলের সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ নিশ্চিত করতে একটি টেকসই সেতু নির্মাণ, নদীভাঙন ও জলাবদ্ধতা প্রতিরোধে স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ, গুরুত্বপূর্ণ কাঁচা সড়কগুলো পিচঢালা সড়কে উন্নীতকরণ এবং ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের স্থায়ী সমাধান।

বক্তারা বলেন, দুর্বল যোগাযোগব্যবস্থার কারণে রোগীদের সময়মতো হাসপাতালে নেওয়া যায় না, শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যাহত হয় এবং কৃষকরা ন্যায্যমূল্যে তাঁদের উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত করতে পারেন না। বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগ আরও চরম আকার ধারণ করে। ফলে জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে।

দিঘিরপাড় ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. শামীম মোল্যা বলেন, "চরাঞ্চলের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে নানামুখী সমস্যার মধ্যে বসবাস করছে। যোগাযোগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের অভাবে জনপ্রতিনিধিদের ব্যর্থতা। জনগণের স্বার্থে চার দফা দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন করা হোক।"

তিনি আরও বলেন, উন্নয়ন থেকে পিছিয়ে থাকা এই জনপদের মানুষের মৌলিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, দীর্ঘদিনের এই যৌক্তিক দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়নে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া না হলে ভবিষ্যতে আরও বৃহত্তর ও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

মানববন্ধন শেষে চরাঞ্চলের উন্নয়ন ও ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর, স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়। এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, দীর্ঘদিনের অবহেলার অবসান ঘটিয়ে চরাঞ্চলের মানুষও দেশের উন্নয়নের মূলধারায় যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নিষেধাজ্ঞা শেষে সাগরে ফিরতে চলেছেন জেলেরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১১ই জুন, ২০২৬ ইং

০৭:১২ পি.এম


নিষেধাজ্ঞা শেষে সাগরে ফিরতে চলেছেন জেলেরা

গভীর সমুদ্রে ৫৮ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পর নতুন স্বপ্ন এবং বুকভরা আশা নিয়ে আবারও সাগরের পথে পাড়ি জমাতে চলেছেন ভোলার চরফ্যাশনের হাজারো জেলে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) মধ্যরাত থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হওয়ার পর তারা দুই মাসের আর্থিক সংকট, ঋণের চাপ এবং ব্যবসায়িক লোকসান কাটিয়ে আবার দাঁড়ানোর প্রত্যাশা নিয়ে আজ মধ্যরাতেই সাগরের যাত্রা শুরু করবেন।

উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, ১৫ এপ্রিল থেকে ১১ জুন পর্যন্ত সমুদ্রে মাছ ধরার কার্যক্রম নিষিদ্ধ ছিল। সরকারি এই নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ায় চরফ্যাশনের প্রায় দেড় হাজার সমুদ্রগামী মাছ ধরার ট্রলার আবারও সাগরে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হচ্ছে। এসব ট্রলারের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন প্রায় ১৮ হাজার জেলে।

নিষেধাজ্ঞার পুরো সময় মাছ ধরা বন্ধ থাকায় অনেক জেলেকে চরম আর্থিক সংকটের মধ্যে দিন কাটাতে হয়েছে। তাদের মধ্যে কেউ ঋণ নিয়েছেন, আবার কেউ জীবিকার তাগিদে বিকল্প পেশায় কাজ করার চেষ্টা করেছেন। ফলে নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ভালো মাছের আশায় নতুন উদ্যমে সাগরে ফিরছেন তারা।

সামরাজ মৎস্যঘাটের কয়েকজন জেলে জানান, গত দুই মাস মাছ ধরতে না পারায় সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছিল। এখন সমুদ্রে ইলিশসহ অন্যান্য সামুদ্রিক মাছের ভালো উৎপাদনের আশা করছে তারা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে কয়েক দিনের মধ্যেই মাছভর্তি ট্রলার নিয়ে ঘাটে ফিরতে পারবেন বলেও তাদের প্রত্যাশা রয়েছে।

সমুদ্রগামী জেলে আ. রহিম বলেন, ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞার মধ্যে মহাজন ও এনজিও থেকে ঋণ নিতে হয়েছে। আজ নিষেধাজ্ঞা শেষ হয়েছে, তাই তিনি সমুদ্রে যাবেন। আশা করছেন, ভালো মাছ পাবেন এবং সেই মাছ বিক্রি করে ঋণ পরিশোধ করতে পারবেন।

দীর্ঘ বিরতির পর ব্যবসা সচল করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন ট্রলার মালিকেরাও। অনেকেই তাদের ট্রলারের প্রয়োজনীয় মেরামত, ইঞ্জিন পরীক্ষা এবং নতুন জাল সংগ্রহ করেছেন। নিষেধাজ্ঞা শেষের খবরে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সামরাজ মৎস্যঘাট, বরফকল এবং মাছ পরিবহন ব্যবসায়ীদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

ট্রলার মালিক সালাউদ্দিন বলেন, তিনি ২৫ বছর ধরে এই ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তবে গত পাঁচ বছর ধরে লোকসানের মধ্যে আছেন। ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে মাঝি-মাল্লারা ট্রলার প্রস্তুত রেখেছেন। আবহাওয়া ভালো থাকলে এবং কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ ইলিশ ধরা পড়লে তারা যেমন লাভবান হবে, তেমনি জেলেরা তাদের ঋণ পরিশোধ করতে পারবে।

সামরাজ মৎস্যঘাটের সভাপতি আজিজ পাটওয়ারী বলেন, ৫৮ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা শেষে জেলে, ট্রলার মালিক ও মৎশ্য ব্যবসায়ীদের মাঝে আবারও কর্মচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। ভালো মাছের প্রত্যাশায় সবাই সমুদ্রে যাওয়ার সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন।

উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার অপু বলেন, সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদের টেকসই সংরক্ষণ এবং মাছের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে প্রতিবছর নির্ধারিত সময়ের জন্য এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়। এ সময় মাছ নির্বিঘ্নে ডিম ছাড়তে ও বংশবিস্তার করতে পারে, যা ভবিষ্যতে উৎপাদন বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিমান, রেল, সড়ক ও সেতু খাতে বড় অঙ্কের বরাদ্দ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১১ই জুন, ২০২৬ ইং

০৭:১৮ পি.এম


বিমান, রেল, সড়ক ও সেতু খাতে বড় অঙ্কের বরাদ্দ

দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও সরবরাহ ব্যবস্থা উন্নয়নের লক্ষ্যে যোগাযোগ অবকাঠামো শক্তিশালী করতে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৬০ হাজার ৭৩০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করেছেন। বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে এই যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়ন খাতে বরাদ্দ ছিল ৪৮ হাজার ২৯২ কোটি টাকা।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী এই বিশাল অঙ্কের টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব উত্থাপন করেন।

সড়ক ও সেতু অবকাঠামো বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা, যোগাযোগ ব্যবস্থা আধুনিকীকরণ এবং নগর পরিবহন ব্যবস্থার দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সমন্বিত অবকাঠামো উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে সরকার।

একইসঙ্গে নিরাপদ, পরিবেশবান্ধব ও প্রযুক্তিনির্ভর পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে, এর মধ্যে মহাসড়ক উন্নয়ন এবং গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক করিডোর চার লেনে উন্নীতকরণ এবং সমন্বিত যোগাযোগ কাঠামোর মাধ্যমে একটি মাল্টিমোডাল হাব গড়ে তোলা।

সড়ক নিরাপত্তা জোরদারের লক্ষ্যে ৯৪টি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং দুর্ঘটনা প্রতিরোধে ‘সেফটি সিস্টেম অ্যাপ্রোচ’ ভিত্তিক বাংলাদেশ সড়ক নিরাপত্তা প্রকল্পের কার্যক্রম পুনরায় চালু করা হয়েছে।

তিনি বলেন, পাশাপাশি অটোমেটেড ফিটনেস সার্টিফিকেট ব্যবস্থা ও পেশাজীবী চালকদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমও জোরদার করা হচ্ছে। প্রায় ৩ হাজার কিলোমিটার জাতীয় এক্সপ্রেসওয়ে গ্রিড গড়ে তুলতে সম্ভাব্য করিডোর চিহ্নিত করা হয়েছে।

ঢাকার যানজট নিরসনে রিং রোড ও রেডিয়াল রোড নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ছয়টি মেট্রোরেল লাইনের সমন্বয়ে আধুনিক গণপরিবহন নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার উদ্যোগও রয়েছে।

পুরোনো বাস পর্যায়ক্রমে ইলেকট্রিক বাস দ্বারা প্রতিস্থাপন, দ্বিতীয় যমুনা সেতু, তৃতীয় মেঘনা সেতু এবং ঢাকা–চট্টগ্রাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

ইলেকট্রনিক টোল ও স্মার্ট ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

রেলপথের বিষয়ে আরেক বার আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, নিরাপদ, আধুনিক ও দক্ষ রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার রেলওয়ের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আন্তঃদেশীয় সংযোগ সম্প্রসারণে বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে।

একইসঙ্গে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে রেলপথকে অধিক কার্যকর ও প্রযুক্তিনির্ভর করে তোলার লক্ষ্যে সকল জেলাকে রেল নেটওয়ার্কের আওতায় আনে।

বন্দরসমূহের সঙ্গে রেল সংযোগ সম্প্রসারণ, আধুনিক লোকোমোটিভ, ক্যারেজ ও ওয়াগন সংগ্রহ, সৈয়দপুর ও পাহাড়তলী রেলওয়ে ওয়ার্কশপের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং স্থানীয়ভাবে কোচ ও লোকোমোটিভ সংযোজন, ডুয়াল গেজ ডাবল লাইন নির্মাণ ও আধুনিক সিগন্যালিং ব্যবস্থা চালু করার মতো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

এছাড়া, ইলেকট্রিক ট্র্যাকশন ও উচ্চগতির রেল সংযোগ চালুর পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, ঢাকা–চট্টগ্রাম রেলপথের ঢাকা–কুমিল্লা অংশে কর্ডলাইন নির্মাণ করা হবে, যার ফলে এ পথের দূরত্ব প্রায় ৮০ কিলোমিটার কমে আসবে।

একইসঙ্গে ঢাকা–চট্টগ্রাম রেলওয়ে করিডোর প্রতিষ্ঠা এবং চট্টগ্রামকে লজিস্টিক হাব হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

নৌপথ বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ব্যয়-সাশ্রয়ী, নিরাপদ ও দক্ষ পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার নৌপরিবহন খাতের অবকাঠামো উন্নয়ন, বন্দর আধুনিকায়ন এবং অভ্যন্তরীণ নৌপথের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে।

নৌপরিবহন খাতের অবকাঠামো উন্নয়ন ও অভ্যন্তরীণ নৌপথের উন্নয়ন কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে।

ড্রেজিং কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং কন্টেইনার ও কার্গো হ্যান্ডলিং দক্ষতা উন্নয়ন, নদীবন্দর ও লঞ্চঘাট আধুনিকায়ন, মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর বাস্তবায়নের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও ট্রান্সশিপমেন্ট সক্ষমতা বৃদ্ধি।

মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে নতুন যন্ত্রপাতি সংযোজন, জেটি ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন এবং কার্গো হ্যান্ডলিং কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম বে-টার্মিনাল, পতেঙ্গা কন্টেইনার টার্মিনাল ও লালদিয়া কন্টেইনার টার্মিনাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

গুরুত্বপূর্ণ নৌপথগুলোতে ড্রেজিং ও খনন কার্যক্রম জোরদার করে নৌপথ সচল রাখার উদ্যোগও গ্রহণ করা হয়েছে।

এরপর বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন খাতের বিষয়ে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশকে আঞ্চলিক এভিয়েশন হাবে রূপান্তর এবং আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বেসামরিক বিমান চলাচল খাতে সমন্বিত উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

এর মধ্যে ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম প্রধান এভিয়েশন হাবে উন্নীত করার উদ্যোগ এবং জাতীয় এয়ার কানেকটিভিটি গ্রিড গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ লজিস্টিকস ও যাত্রী হাবে উন্নীতকরণ এবং কক্সবাজার, যশোর, রাজশাহী ও সৈয়দপুরকে আন্তর্জাতিক গেটওয়ে হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনাও আছে।

এছাড়া, বোয়িংয়ের সঙ্গে ১৪টি আধুনিক উড়োজাহাজ ক্রয়ের লক্ষ্যে চুক্তি স্বাক্ষরের পাশাপাশি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল শিগগিরই চালুর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বিমানবন্দরের প্রায় ৯৪ হাজার বর্গমিটার এলাকায় ওয়াইফাই নেটওয়ার্ক বিস্তৃত করা হয়েছে।

তিনি বলেন, পর্যটন খাতকে জিডিপিতে ৬-৭ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য ঘোষণা করা হয়েছে এবং বৃহৎ পর্যটন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই খাতে পর্যটক আকৃষ্ট করা ও বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টি করার লক্ষ্য নিয়ে বিনিয়োগ রোডম্যাপ প্রণয়ন করা হচ্ছে।

এছাড়া, বাংলাদেশ বিমানের আন্তর্জাতিক সংযোগ সম্প্রসারণের পাশাপাশি যাত্রীসেবা ও কার্গো ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য, সরবরাহ ব্যবস্থা ইত্যাদির গুরুত্ব বিবেচনায় যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়ন বাবদ আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৬০ হাজার ৭৩০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব পেশ করছি।

২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেট বরাদ্দ ছিল ৪৮ হাজার ২৯২ কোটি টাকা। এর আগে, বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেল ৩টার দিকে জাতীয় সংসদে স্পিকার ড. হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বাজেট উত্থাপন শুরু করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরু হয়। তার আগে সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠকে ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট অনুমোদন দেওয়া হয়।

প্রসঙ্গত, ১৯৭২ সালে ৭৮৬ কোটি টাকার বাজেট দিয়ে যাত্রা শুরু করে বাংলাদেশ। পাঁচ দশকের বেশি সময়ের এই যাত্রায় দেশের অর্থনীতির পরিধি যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে উন্নয়ন কর্মসূচি ও রাষ্ট্রীয় ব্যয়ের আকারও।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ের পর বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম বাজেট এটি। বিশাল নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রতিগুলো পূরণে দেশের ইতিহাসে এবার সবচেয়ে বড় বাজেট তৈরি করেছে সরকার।

টাকার অঙ্কে প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। বিরাট এই বাজেটে মোট রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা।

বাকি অর্থ সংগ্রহ করা হবে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণ এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সহায়তা থেকে। বাজেট ঘাটতি দাঁড়াতে পারে ২ লাখ ৫১ হাজার কোটি টাকা, যা মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ৩ দশমিক ৬ শতাংশ। ব্যয় সাশ্রয়ী, নিরাপদ ও দক্ষ পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার নৌপথের অবকাঠামো উন্নয়ন ও সম্পূরক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে, যা দেশের যোগাযোগ পেশার উন্নয়নে সহায়তা করবে।

নতুন এ বাজেটের মাধ্যমে সরকারের লক্ষ্য অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি আনা, ব্যবসা-বাণিজ্যে নিয়ন্ত্রণ শিথিলকরণ, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং বাংলাদেশকে ‘ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির’ পথে এগিয়ে নেওয়া।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বলৎকারে রাজি না হওয়ায় এক ছাত্রকে হত্যার চেষ্টা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১১ই জুন, ২০২৬ ইং

০৭:২১ পি.এম


বলৎকারে রাজি না হওয়ায় এক ছাত্রকে হত্যার চেষ্টা

মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী উপজেলায় বলৎকারে রাজি না হওয়ায় এক মাদ্রাসাছাত্রকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলায় আঘাত করে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। গুরুতর আহত অবস্থায় ওই ছাত্রকে প্রথমে টঙ্গীবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয় এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বেলা আনুমানিক ১১টার দিকে উপজেলার সোনারং ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটে। অভিযুক্ত শিক্ষক হাফেজ লোকমান হোসেন (৩০), যিনি ভোলা জেলার চরফ্যাশন উপজেলার চর শশীভূষণ এলাকার ইসলাম আলীর ছেলে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাস্থলের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় শিক্ষক লোকমান হোসেন ভুক্তভোগী ছাত্রকে নিজের কক্ষে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় ছাত্রটি যেতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলায় আঘাত করা হয়। তার চিৎকারে স্থানীয় লোকজন ছুটে এলে অভিযুক্ত শিক্ষক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। স্থানীয়রা আহত ছাত্রকে উদ্ধার করে প্রথমে টঙ্গীবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে ছাত্রটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, অভিযুক্ত শিক্ষক এর আগেও একাধিকবার তাকে যৌন নির্যাতন করেছিলেন। টঙ্গীবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ শামীম আহমেদ জানান, অভিযুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষক পলাতক রয়েছেন। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে এবং এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৪ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৪
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৮
মাগরিব ০৫:২৪
ইশা ০৬:৩৬
সূর্যোদয় : ০৬:০০ সূর্যাস্ত : ০৫:২৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%