০৩:৫৫ পি.এম
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অস্থায়ী ১০ শতাংশ বৈশ্বিক আমদানি শুল্কের মেয়াদ শেষ হচ্ছে এই সপ্তাহেই। এর আগে, শিগগিরই কয়েক ডজন দেশের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের সম্ভাবনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার মঙ্গলবার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
গ্রিয়ার বলেন, জোরপূর্বক শ্রম রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগ ওঠায় ৬০টি বাণিজ্য অংশীদারকে লক্ষ্য করে ট্রাম্প প্রশাসন নতুন শুল্ক আরোপের প্রস্তুতি নিচ্ছে। আদালতে আইনি সমস্যা আসার পর, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের বাণিজ্যনীতি নতুনভাবে গড়ে তোলার জন্য এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
নতুন শুল্ক আসবে কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে সিএনবিসিকে গ্রিয়ার বলেন, 'আমরা খুব শিগগিরই কিছু পদক্ষেপ দেখতে পাব।' তবে তিনি কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচি দেয়নি।
আরও পড়ুন: দেশবাসী তাকিয়ে আছে কবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পদত্যাগ করবেন: নাহিদ ইসলাম
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে, ট্রাম্পের আরোপ করা একগুচ্ছ শুল্ক বাতিল করে দেয়ার পর, তিনি ১০ শতাংশের বৈশ্বিক শুল্ক আরোপ করেছেন। কিন্তু, শুক্রবার এ শুল্কের মেয়াদ শেষ হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন, জোরপূর্বক শ্রমের অভিযোগে নতুন শুল্ক যেটি ১০ থেকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ হারে আরোপিত হবে, সেটিই অস্থায়ী এ শুল্কের স্থান নেবে।
এ অবস্থায়, ট্রাম্প আবারো যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য অংশীদারদের ওপর চাপ সৃষ্টির হাতিয়ার হিসেবে শুল্ক ব্যবহারের চেষ্টা করছেন। এতে পাল্টা পদক্ষেপ ও কূটনৈতিক উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
গত সপ্তাহে, যুক্তরাষ্ট্র ব্রাজিলের কিছু পণ্যের ওপর নতুন করে ২৫ শতাংশ শুল্ক ঘোষণা করেছে। সোমবার কানাডার বহু পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, যা ৩০ দিনের মধ্যে কার্যকর হবে।
আরও পড়ুন: ইয়েমেনে হুথি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ৫৩ সেনা নিহত
কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি মঙ্গলবার বলেছেন, তারা সব ধরনের বিকল্প বিবেচনা করছেন। তিনি জানান, সম্ভাব্য একটি চুক্তি সম্পর্কে গ্রিয়ারসহ ট্রাম্প আগামী কয়েক সপ্তাহে আলোচনা আরও জোরদার করতে সম্মত হয়েছেন।
ট্রাম্প মঙ্গলবার আমদানিকৃত জেনেরিক ওষুধের ওপর নতুন খাতভিত্তিক ১০০ শতাংশ শুল্ককারী ঘোষণা দিয়েছেন। এটি ২০২৮ সালের আগস্ট থেকে কার্যকর হবে এবং ২০২৯ সালে এ হারের পরিমাণ ২০০ শতাংশে উন্নীত হবে।
তবে, আপাতত যুক্তরাষ্ট্রে জেনেরিক ওষুধ উৎপাদন স্থানান্তর করার সুযোগ তৈরি করতে ট্রাম্প জানাচ্ছেন যে ২০২৬ সালের আগস্ট থেকে এ শুল্ক শূন্যে নামিয়ে আনা হবে।
-জোরপূর্বক শ্রম নিয়ে উদ্বেগ-
আরও পড়ুন: মঙ্গলবার অস্টিওপোরোসিস প্রতিরোধবিষয়ক সেমিনারে যোগ দেবেন ডা. জুবাইদা রহমান
গ্রিয়ার উল্লেখ করেছেন, জোরপূর্বক শ্রম বিষয়ক নতুন পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের অধিকাংশ বাণিজ্যকে প্রভাবিত করবে। ফলে, বাণিজ্য উত্তেজনা আবারও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
জোরপূর্বক শ্রম রোধে পদক্ষেপ গ্রহণের জবাবে কানাডা, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, মেক্সিকো, তাইওয়ান ও যুক্তরাজ্যসহ অংশীদার দেশগুলোর পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। অন্যদিকে, চীন, ভারত ও জাপানসহ ৪০টির অধিক বড় অর্থনীতির পণ্যের ওপর ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইতোমধ্যে জানিয়েছে, এ ধরনের ভিত্তিতে আরোপিত শুল্ককে তারা 'অযৌক্তিক' মনে করে।
-কানাডার ওপর চাপ-
আরও পড়ুন: বাংলাদেশে রাজনৈতিক স্বাধীনতা বেড়েছে, সহিংসতা কমেছে : ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
কানাডার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পিত ৫০ শতাংশ শুল্ক, এমন সময়ে আসছে যখন উত্তর আমেরিকার মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোর আলোচনা ত্বরান্বিত হয়েছে। সম্প্রতি, ওয়াশিংটন বর্তমান আকারের চুক্তিটির মেয়াদ বাড়াতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডা চুক্তি (ইউএসএমসিএ) যৌথভাবে পর্যালোচনার অংশ হিসেবে গ্রিয়ার বুধবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত মেক্সিকো সফর করবেন। কিন্তু, কানাডার সঙ্গে আলোচনা তুলনামূলক ধীরগতিতে এগিয়েছে। মঙ্গলবার, কার্নি ওয়াশিংটনে আলোচনার জন্য যাওয়ার কোনো ইঙ্গিত দেননি।
কিছু আইনজীবীর মতে, ১৯৩০ সালের ট্যারিফ আইনের ৩৩৮ ধারা প্রয়োগ করে ট্রাম্প ইউএসএমসিএ আলোচনায় কানাডার ওপর চাপ সৃষ্টি করতে চাইছেন। ডরসি অ্যান্ড হুইটনির বাণিজ্য আইনজীবী ডেভ টাউনসেন্ড বলেছেন, উচ্চ শুল্ক 'কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি সমঝোতা উৎসাহিত করবে, অথবা সমঝোতা না হলে তার প্রতিক্রিয়া হিসেবে, কিংবা উভয় উদ্দেশ্যের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে।' তিনি উল্লেখ করেছেন, এখন প্রশ্ন হলো দুই পক্ষ কি উত্তেজনা এবং পাল্টা পদক্ষেপের এক নতুন চক্র শুরু করবে?
গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ইউএসএমসিএর আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করা কানাডার যেসব পণ্য এ শুল্কের আওতায় পড়বে, সেগুলো কোন ছাড় পাবে না।
আরও পড়ুন: বঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো সবার দায়িত্ব: ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল
মঙ্গলবার ট্রাম্প সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রে ছড়িয়ে পড়া দাবানলের ধোঁয়া নিয়ে কানাডার বিরুদ্ধে তার আগের হুমকির সঙ্গে নতুন শুল্কের কোনো সম্পর্ক নেই।
-ব্রাজিলের সঙ্গে উত্তেজনা-
অন্যায্য বাণিজ্য চর্চার অভিযোগে ব্রাজিলের পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনারও খুব তীব্র সমালোচনা করেছে ল্যাটিন আমেরিকার দেশটি। এ শুল্ক বুধবার থেকে কার্যকর হবে। ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সামনে থাকায় এটি নির্বাচনী প্রচারের বড় ইস্যু হয়ে উঠছে।
গরুর মাংস, কফি এবং কিছু উড়োজাহাজের যন্ত্রাংশসহ কয়েকটি পণ্য এ শুল্কের বাইরে থাকবে। যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদিত হয় না এমন কিছু পণ্যেরও ছাড় দেওয়া হবে।
আরও পড়ুন: দুর্গাপূজার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে: আইজিপি
যাহোক, ব্রাজিলে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স সম্প্রতি সতর্ক করেছে যে, ওয়াশিংটনের এ পদক্ষেপের পর ব্রাজিল এমন দেশগুলোর কাতারে চলে যাবে, যারা যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রে ‘সবচেয়ে কঠোর শর্তের’ মুখোমুখি হচ্ছে। এতে ১১ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি রপ্তানি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন