০৫:২০ পি.এম
রংপুর-৬ (পীরগঞ্জ) আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্য মো. নুরুল আমিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে স্বজনপ্রীতির। বিভিন্ন প্রকল্পে বরাদ্দের ক্ষেত্রে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন যে, এমপির অনুকূলে টিআর, কাবিখা ও কাবিটার একাধিক প্রকল্পে তার ভাগ্নে ও ভগ্নিপতিকে সভাপতি করা হয়েছে। চলতি অর্থবছরে সংসদ সদস্য মো. নুরুল আমিন টেস্ট রিলিফ (টিআর) হিসেবে ৩০ লাখ, কাবিটার জন্য ২৫ লাখ এবং কাবিখার জন্য ৪০ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য সরকারের বিশেষ বরাদ্দ পেয়েছেন। সংসদীয় আসনে বিভিন্ন স্থানে টিআরের (নগদ অর্থ) ১৪টি, কাবিটার ১১টি ও কাবিখার ৫টি প্রকল্পসহ মোট ৩০টি প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ বিভাজন করে প্রকল্প দাখিল করেছেন। সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার ৯ নম্বর সদর ইউনিয়নের তুলারামপুর গ্রামে এমপির বিশেষ বরাদ্দের দুটি প্রকল্পের কাজ এখনও চলছে। কাবিখা প্রকল্পে বরাদ্দকৃত ১০ মেট্রিক টন খাদ্যশস্যের জন্য ইয়াকুব আলীর বাড়ির সামনে ওয়াক্তিয়া নামাজঘর উন্নয়ন এবং মাঠে মাটি ভরাট করণ প্রকল্প রয়েছে। এই প্রকল্পের সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ইয়াকুব আলীর চাচাতো বোনের স্বামী ভগ্নিপতি ইয়াকুব আলীকে। অপর একটি প্রকল্পে একই গ্রামের ইয়াকুবের বাড়ি থেকে মুশফিকের বাড়িগামী রাস্তা সলিংকরণ, ইয়াকুবের পুকুরপাড়ে গাইড ওয়াল নির্মাণ ও মাটি ভরাটকরণ করা হয়েছে। এ প্রকল্পের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন আগের প্রকল্পের সভাপতি ইয়াকুব আলীর ছেলে সালমান শরিফ শাওন। এই দুই প্রকল্পের সভাপতিরা হলেন পিতা-পুত্র, যারা এমপির ভাগ্নে ও ভগ্নিপতি। এছাড়া অন্যান্য প্রকল্পেও অনেক নিকটাত্মীয় ও দলের নেতাকর্মীদের সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে সামাজিকভাবে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। তুলারামপুর গ্রামের বাসিন্দা মুকুল মিয়া জানান, একই ওয়াক্তিয়া ঘরের জন্য একাধিক প্রকল্পে এমপির বোনজামাই ও ভাগ্নে প্রকল্প সভাপতি হওয়ায় প্রকল্পগুলোর সঠিক বাস্তবায়ন কতটুকু হবে। একই গ্রামের মঞ্জু মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তুলারামপুর গ্রামে পুরাতন জামে মসজিদ রয়েছে যেখানে নিয়মিত শতাধিক মুসল্লি নামাজ আদায় করে। মসজিদটির উন্নয়নের জন্য বরাদ্দের আবেদন করলেও সেখানে কোনো বরাদ্দ না দিয়ে এমপি তার আত্মীয়-স্বজনদের প্রকল্প দিয়েছেন। ইয়াকুব আলী জানিয়েছেন, 'প্রকল্পে কত টাকা বা কী বরাদ্দ আছে, সেটা আমি জানি না। অফিস থেকে কাজ করতে বলা হয়েছে, তাই কাজ করছি।' অভিযোগের বিষয়ে জানতে সংসদ সদস্য নুরুল আমিনের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, পরে কথা হবে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আব্দুল আজিজ বলেছেন, অভিযোগ পেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে এবং তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদুল হাসান জানিয়েছেন, কাজ না করে টাকা তুলে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই এবং বিষয়টি তদন্ত করে যদি প্রমাণিত হয়, তাহলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন