০৫:৪০ পি.এম
মেডিকেল ভর্তির জন্য যেসব নিট পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস নিয়ে ভারত এখন উত্তাল অবস্থায় রয়েছে। ককরোচ জনতা পার্টি-সিজেপির আন্দোলনের মুখে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেছেন।
কিন্তু ভারতে প্রশ্নফাঁস একেবারে নতুন কোনো ঘটনা নয়। নিট পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস হয়, এমনটা নয়। ভারতব্যাপী বিভিন্ন রাজ্যে বহু ভর্তি বা চাকরির পরীক্ষায় নিয়মিত প্রশ্নফাঁসের ঘটনা ঘটে।
ভারতজুড়ে প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িত একটি সিন্ডিকেট অবস্থিত।
আরও পড়ুন: চাঁদপুরে নিষেধাজ্ঞা ভেঙে ইলিশ ধরায় দুই জেলের কারাদণ্ড, ৩ হাজার মিটার কারেন্টজাল জব্দ
এই সিন্ডিকেটের অন্যতম মাস্টারমাইন্ডকে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে মহারাষ্ট্র পুলিশ। তারা দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা চালাচ্ছে এবং শনিবার সকালে বিহার থেকে প্রশ্নফাঁস মামলার মোস্ট ওয়ান্টেড আসামি বিজেন্দ্র গুপ্তকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশ বেশ কয়েকদিন ধরে বিজেন্দ্রকে খুঁজছিলো। তবে সে বারবার পুলিশের চোখ ফাঁকি দিতে সক্ষম হয়েছিল।
গত ২৮ জুন মহারাষ্ট্রে শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার আয়োজন ছিল। কিন্তু পরীক্ষার একদিন আগে প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ ওঠায় সেই পরীক্ষা বাতিল করা হয়। প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে আন্দোলনের মাঝে নতুন করে তদন্ত শুরু করে মহারাষ্ট্র পুলিশ।
বিজেন্দ্র সেই ঘটনার পর থেকেই পালিয়ে ছিল। পুলিশ ইতোমধ্যে তার স্ত্রীসহ কয়েকজন সহযোগীকে গ্রেফতার করেছে।
কিন্তু বিজেন্দ্রর সন্ধান মিলছিল না। বারবার জায়গা বদলে থাকার কারণে পুলিশ তার অনুসন্ধানে একটি বিশেষ দল গঠন করে আন্তঃরাজ্য তল্লাশি চালাতে থাকে।
আরও পড়ুন: ঝালকাঠিতে ১১ বছরের শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে বৃদ্ধ গ্রেফতার
অবশেষে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে শনিবার সকালে মহারাষ্ট্রের থানে জেলার ভিওয়ান্ডি থানার পুলিশ ও বিশেষ তদন্ত দল বিহারে একটি যৌথ অভিযান পরিচালনা করে তাকে আটক করে। অভিযান চলাকালীন পুলিশ বিজেন্দ্র গুপ্তের নিকটবর্তী সহযোগী ইন্দ্রজিৎ সিং ওরফে পিকু নামের অপর এক অভিযুক্তকেও গ্রেপ্তার করে।
সূত্র জানাচ্ছে, শুধু মহারাষ্ট্রের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের ফাঁস নয়, বরং সারাদেশে সরকারি মাপের অনেক পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে বিজেন্দ্র জড়িত বলে তদন্তকারীরা সন্দেহ প্রকাশ করছেন। ওই সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বিজেন্দ্র প্রশ্নফাঁসের সিন্ডিকেট পরিচালনা করতেন।
গত ৫ জুলাই মহারাষ্ট্র পুলিশের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের মামলায় আগ্রার একটি প্রিন্টিং প্রেসের তিন কর্মীকে গ্রেপ্তার করে। তারা হলেন নরেশকুমার মহোরে, সঞ্জয়কুমার সুরেশচন্দ্র চন্দ্র এবং বাবুলাল নারায়ণসিংহ কুশওয়াহা।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মহোরে ছাপাখানা থেকে প্রশ্নফাঁস করে। এরপর সেটি সঞ্জয়কুমার শর্মা নামে ওই ছাপাখানার প্রাক্তন কর্মী এবং অন্য এক অভিযুক্ত সোনু কুমারের কাছে যায়। এই দুজন বিজেন্দ্রকে প্রশ্নপত্র সরবরাহ করত। এবং বিজেন্দ্র তার সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সেই প্রশ্নপত্র ছড়িয়ে দিত।
আরও পড়ুন: কক্সবাজারের টেকনাফে নাফ নদীতে ভাসমান নৌকায় গুলিবিদ্ধ অজ্ঞাত মরদেহ উদ্ধার
গ্রেপ্তারের পরপরই বিজেন্দ্রকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বিমানে করে পুনে হয়ে ভিওয়ান্ডিতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। পুলিশের মতামত হলো, তাকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে প্রশ্নফাঁস চক্রের বৃহত্তর নেটওয়ার্ক সম্বন্ধে অনেক নতুন তথ্য জানা যাবে। পাশাপাশি দেশের অন্যান্য প্রশ্নফাঁস নেটওয়ার্কগুলোর সঙ্গে বিজেন্দ্রর সম্পর্কও তদন্ত করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন