শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৭:১৬ পি.এম
কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের রঙ্গিখালী ও বাহারছড়া ইউনিয়নের বড় ডেইল এলাকায় সেনাবাহিনীর ক্যাম্প স্থাপনের সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শন করেছেন কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকালে, তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে এসব এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় সেনাবাহিনীর ক্যাম্প স্থাপনের জন্য সম্ভাব্য জায়গা, যোগাযোগ ব্যবস্থা, নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং অবকাঠামোগত বিভিন্ন বিষয় সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করা হয়।
পরিদর্শনের সময় স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সেনাবাহিনী, বন বিভাগ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে ক্যাম্প স্থাপনের জন্য উপযুক্ত স্থান নির্বাচন ও প্রয়োজনীয় কার্যক্রম নিয়ে মতবিনিময় করা হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এসএম অনীক চৌধুরী, সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারা, টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম, বন বিভাগের কর্মকর্তারা, টেকনাফ উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট হাসান সিদ্দিকী, সাধারণ সম্পাদক শাহাদাত হোসাইন, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) কর্মকর্তা আলাউদ্দিন, হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. আলী, বাহারছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন খোকনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা।
পরিদর্শনকালে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা প্রস্তাবিত ক্যাম্প স্থাপনের জায়গার ভৌগোলিক অবস্থান, যাতায়াত ব্যবস্থা ও পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীকে অবহিত করেন।
স্থানীয়রা জানান, টেকনাফের সীমান্তবর্তী ও দুর্গম এলাকাগুলোতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, নিরাপত্তা জোরদার এবং যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার ক্ষেত্রে সেনাবাহিনীর ক্যাম্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী এলাকার নিরাপত্তা ও সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এমন উদ্যোগ ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে তারা মনে করছেন।
পরিদর্শন শেষে সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে ক্যাম্প স্থাপনের বিষয়ে বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম এগিয়ে নেয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সীমান্তবর্তী টেকনাফে সেনাবাহিনীর ক্যাম্প স্থাপনের সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শনকে ঘিরে স্থানীয় পর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঝালকাঠির রাজাপুরে ১১ বছর বয়সি এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে পুলিশ মো. আনিচ হাওলাদার (৬৫) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দুপুরে গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাতে শিশুটির বাবা রাজাপুর থানায় মামলা দায়ের করেন।
গ্রেফতার হওয়া আনিচ হাওলাদার উপজেলার সদর ইউনিয়নের পূর্ব আঙ্গারিয়া এলাকার মৃত মোক্তার আলী হাওলাদারের পুত্র।
মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, শিশুটির মা প্রবাসে থাকায় সে তার নানা বাড়িতে বসবাস করে। অভিযুক্ত ব্যক্তি শিশুটির পরিবারের পরিচিত হওয়ায়, পরিবারের সঙ্গে সুসম্পর্ক থাকার কারণে তার কাছে যাওয়ার সুযোগ পেতেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারের অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৬ সেপ্টেম্বর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পূর্ব আঙ্গারিয়া এলাকায় একটি কলাবাগানের পাশে শিশুটিকে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনা ঘটে। এছাড়া, গত ১১ অক্টোবর বেলা ৩টার দিকে অভিযুক্ত ব্যক্তির দোকানে নিয়ে শিশুটির সঙ্গে একই ধরনের অপচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।
এজাহারে আরও বলা হয়েছে, দ্বিতীয় ঘটনার সময় শিশুটির চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্ত ব্যক্তি সেখান থেকে পালিয়ে যান। পরে শিশুটির পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি জানতে পারে।
রাজাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুজন বিশ্বাস জানিয়েছেন, অভিযুক্ত আনিচ হাওলাদারকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং শুক্রবার দুপুরে তাকে ঝালকাঠি আদালতে পাঠানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুমিল্লা মহানগরী শাখা কার্যালয়ে ঘটে যাওয়া অপ্রীতিকর ঘটনা ও উদ্ভূত পরিস্থিতির পর্যালোচনা শেষে কুমিল্লা মহানগরী জামায়াতে ইসলামীর সংগঠন ও ইমারাত বিলুপ্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে, ঘটনার তদন্তের জন্য একটি দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে দলটি।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এবং সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবারের সই করা এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, গত ১৪ অক্টোবর কুমিল্লা মহানগরী শাখা কার্যালয়ে সংঘটিত ঘটনার পর্যালোচনা করতে ১৫ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) সন্ধ্যায় রাজধানীর মগবাজারে দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের একটি জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এমপি।
বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা ও পর্যালোচনা শেষে দলের গঠনতন্ত্রের ১৬ নম্বর ধারার ৩ নম্বর উপধারার ‘চ’ অনুচ্ছেদ অনুসরণ করে এবং ৬৩ নম্বর ধারার ক্ষমতাবলে কুমিল্লা মহানগরী জামায়াতের সংগঠন ও ইমারাত ভেঙে দেয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
এছাড়া, এখন থেকে কেন্দ্রের সরাসরি তত্ত্বাবধানে কুমিল্লা মহানগরী সংগঠন পরিচালিত হবে এবং কেন্দ্রের পক্ষ থেকে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম এই সংগঠনের তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব পালন করবেন।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, গত ১৪ অক্টোবরের ঘটনার তদন্তের জন্য একটি দুই সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সদস্যরা হলেন: সংগঠনের নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলাম এমপি এবং সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা মুহাম্মদ শাহজাহান। তদন্ত কমিটিকে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে আমিরে জামায়াতের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এই তদন্ত প্রতিবেদন জমা হওয়ার পর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ চূড়ান্ত ও পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চাঁদপুর, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬ : জেলার অভয়াশ্রম এলাকায় ইলিশ শিকার করার জন্য দুই জেলেকে ১৪ দিনের কারাদণ্ড এবং ২৫০ টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ ঘটনা ঘটে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করার কারণে।
এ অভিযানে জেলেদের হেফাজতে থাকা ৩ হাজার মিটার কারেন্ট জাল এবং ৩ কেজি ইলিশ জব্দ করা হয়। দণ্ডপ্রাপ্ত জেলেদের নাম মো. মিজান (২৭) এবং মো. মাছুদ মাঝি (৩৫) হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
আজ শুক্রবার দুপুরে কোস্ট গার্ড চাঁদপুর স্টেশনে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তানভীর রাব্বী এবং মো. রহমত উল্লাহ।
অভিযানের বিস্তারিত তথ্য জানান সদর উপজেলা সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম, সদর উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা মির্জা ওমর ফারুক এবং কোস্ট গার্ডের সহযোগিতায় আজ ভোর ৪টা থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত মেঘনা নদীর মোহনা, আনন্দবাজার, দাসাদী, লালপুর, আমিরাবাদ এবং হরিনা সংলগ্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানের সময় হরিনা এলাকা থেকে মো. মিজান এবং মো. মাছুদ মাঝি নামে দুই অসাধু জেলেকে আটক করা হয়। আটক জেলেদের পৃথক দুটি ভ্রাম্যমাণ আদালতে দণ্ড এবং জরিমানা করা হয়।
তিনি আরও জানান, জব্দকৃত ৩ হাজার মিটার কারেন্ট জাল নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে আগুনে পুড়িয়ে বিনষ্ট করা হয়। অন্যদিকে, তিন কেজি ইলিশ দুস্থদের মাঝে বিতরণ করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাঙ্গামাটি, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬ : সাজেক, যা মেঘের রাজ্য হিসেবে পরিচিত, বর্তমানে পর্যটকদের পদভরে মুখরিত। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি রাঙ্গামাটি জেলার সাজেকে পর্যটকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করার পর আজ শুক্রবার সকালে প্রায় ৮শতাধিক পর্যটক সাজেকে প্রবেশ করেছেন।
চার দিনের স্থবিরতা কাটিয়ে পর্যটকদের এই আগমন স্থানীয় অর্থনীতি, রিসোর্ট, রেস্তোরাঁ ও পরিবহন খাতে নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছে। সাজেক কটেজ-রিসোর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও জেলা পরিষদ সদস্য সুপর্ণ দেব বর্মন বাসস’কে জানান, শুক্রবার প্রথম দিনেই প্রায় ৮শতাধিক পর্যটক সাজেকে পৌঁছেছেন।
পাহাড়ের বুক ঘেঁষে ভেসে যাওয়া মেঘের চাদর ও রূপসী সাজেকের রূপ উপভোগ করতে অসংখ্য পর্যটক ইতোমধ্যে তাদের অগ্রিম বুকিং নিশ্চিত করেছেন। পর্যটকদের বরণে স্থানীয় কটেজ, রেস্তোরাঁ ও পরিবহন মালিকরা সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন।
পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তার বিষয়ে সাজেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোফাজ্জল হোসেন বাসস’কে জানান, জেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সাজেক ভ্রমণ এখন পর্যটকসহ সবার জন্য উন্মুক্ত করার পর থেকে পর্যটকদের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর বিশেষ নজরদারি রাখা হচ্ছে।
পর্যটকরা যাতে কোনো ধরনের ভোগান্তি বা হয়রানি ছাড়া স্বাচ্ছন্দ্যে ঘুরে বেড়াতে পারেন, সে জন্য পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাঠে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। নিরাপত্তা ও অনিবার্য কারণে গত কয়েক দিন ধরে সাজেক ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা বলবৎ ছিল। আকস্মিক এই সিদ্ধান্তের ফলে অনেক পর্যটকের ভ্রমণ পরিকল্পনা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল। তবে সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় এবং পর্যটকদের নিরবচ্ছিন্ন ভ্রমণ নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন শুক্রবার থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার ঘোষণা দেয়। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পর শুক্রবার সকাল থেকেই খাগড়াছড়ি হয়ে পাহাড়ি আঁকাবাঁকা পথ ধরে সাজেকের দিকে পর্যটকবাহী যানবাহনের চলাচল শুরু হয়।
এদিকে সাজেকে পর্যটকদের এই নিরাপদ ও আনন্দঘন প্রত্যাবর্তনে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। সাজেক পর্যটন সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, আবহাওয়া ও সার্বিক পরিবেশ অনুকূলে থাকলে আগামী দিনগুলোতে সাজেকে পর্যটকদের সমাগম আরও বাড়বে।
সব মিলিয়ে সাজেকে পর্যটকদের এই নিরাপদ প্রত্যাবর্তন স্থানীয় অর্থনীতি ও পর্যটন ব্যবসায় নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ