০৪:১২ পি.এম
মালচিং পদ্ধতিতে সবজি চাষ আজকাল বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলায় জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। পরিবেশবান্ধব এই পদ্ধতির কারণে কৃষকরা এখন কম খরচে এবং কম সময়ে বেশি ফলন লাভ করছেন, যা তাদেরকে প্রযুক্তিনির্ভর কৃষির দিকে ঝুঁকতে উত্সাহিত করছে।
কৃষকেরা বলছেন, এই পদ্ধতির মাধ্যমে উৎপাদন ব্যয় কমে যাচ্ছে এবং নিরাপদ ও বিষমুক্ত সবজি উৎপাদনের সম্ভাবনা বেড়ে যাচ্ছে।
মালচিং পদ্ধতি কি? মালচিং হলো আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর একটি কৃষি পদ্ধতি, যেখানে জমির উপরে বিশেষ ধরনের প্লাস্টিক শিট বা জৈব উপাদান দিয়ে ঢাকা হয় এবং নির্দিষ্ট দূরত্বে ছিদ্র করে চারা বা বীজ রোপণ করা হয়। এই পদ্ধতি দীর্ঘ সময় ধরে মাটির আর্দ্রতা বজায় রাখে, আগাছার জন্ম কমায়, সেচ ও সার ব্যবহার কমায় এবং রোগবালাই ও পোকামাকড়ের আক্রমণও কমিয়ে আনে। ফলে উৎপাদন খরচ কমে এবং কৃষকরা বেশি ফলন পান।
আরও পড়ুন: শ্বশুরের মৃত্যুর এক দিন পর মারা গেলেন পুত্রবধূ
এছাড়াও, রাকিবুল ইসলাম নামের একজন কৃষক পড়াশোনার পাশাপাশি মালচিং পদ্ধতিতে সমন্বিত কৃষি প্রকল্প গড়ে তুলেছেন। বাবুগঞ্জ উপজেলার চাঁদপাশা ইউনিয়নের লাকুটিয়া এলাকার এই তরুণ কৃষক মালচিং পদ্ধতি অবলম্বন করে স্বল্প সময়ে সফলতা অর্জন করেছেন। ৪০ শতক জমিতে মালচিং প্রযুক্তির মাধ্যমে তিনি চিচিঙ্গা, বরবটি, টমেটো সহ নানা সবজির চাষ করেছেন। অল্প সময়ের মধ্যে টমেটোর চারা উৎপাদন করে তিনি সাফল্য পেয়েছেন।
তিনি জানিয়েছেন, চলতি মৌসুমে চিচিঙ্গা ও বরবটি বিক্রি করে লক্ষাধিক টাকা আয় করেছেন। উৎপাদন খরচ কম থাকায় লাভের পরিমাণ বেড়েছে। আগামী মৌসুমে আরও বড় পরিসরে মালচিং পদ্ধতিতে সবজি চাষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
রাকিবুল বলেছেন, ‘মালচিং পদ্ধতিতে আগাছা খুব কম জন্মায়, ফলে আগাছা পরিষ্কারে শ্রম ও ব্যয় উভয়ই কমে। তাছাড়া সারের ব্যবহার ও সেচের পানি তুলনামূলক কম লাগে। প্লাস্টিক মালচের কারণে গাছের গোড়ার মাটির আর্দ্রতা দীর্ঘ সময় ধরে বজায় থাকে।’
কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে উপজেলায় প্রায় তিন হেক্টর জমিতে আধুনিক মালচিং পদ্ধতিতে সবজি চাষ হচ্ছে। এসব জমিতে অধিকাংশ শসা, পেঁপে, করলা, পটল, চিচিঙ্গা ও বরবটির আবাদ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: নেছারাবাদে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় দুজন
কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এ প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে উৎপাদন ব্যয় কমে যাচ্ছে এবং ফলন বাড়ছে। ফলে কৃষকদের মধ্যে মালচিং পদ্ধতির জনপ্রিয়তা বাড়ছে।
বাবুগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুর রউফ বলেন, মালচিং কৃষিতে একটি আধুনিক, পরিবেশবান্ধব এবং লাভজনক পদ্ধতি। এর মাধ্যমে পানির অপচয় কমে, আগাছা দমন সহজ হয়, রোগবালাই ও পোকামাকড়ের আক্রমণ কমে। একই সঙ্গে সেচ, সার এবং কীটনাশকের ব্যবহার কমে যায়, ফলে উৎপাদন ব্যয়টাও কম হয়। এই কারণে কৃষকরা কম খরচে বেশি ফলন ও লাভের সুযোগ পান।
তিনি আরো বলেন, বাবুগঞ্জে দিন দিন মালচিং প্রযুক্তির প্রতি কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে। কৃষি বিভাগ নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। আধুনিক এ প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়লে উপজেলার সবজি উৎপাদন আরও বৃদ্ধি পাবে এবং কৃষকদের আয়-রোজগানে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আশা করেন।
আরও পড়ুন: বাকেরগঞ্জে নারীকে পিটিয়ে দুই দাঁত ভাঙার অভিযোগ, স্বর্ণালংকার ছিনতাইয়ের দাবি; পুলিশের বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন