০৪:১৪ পি.এম
হোয়াইট হাউস আরো নিরাপদ ও আরো সাদা হতে চলেছে।
ওয়াশিংটনের ১৬০০ পেনসিলভানিয়া এভিনিউতে অবস্থিত হোয়াইট হাউসটি শুধুমাত্র একটি ভবন বা স্থাপনা নয়। এটি মার্কিন প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবন এবং এই জায়গাটি বর্তমানে বিশ্বক্ষমতার কেন্দ্র।
হোয়াইট হাউসের নির্মাণকাজ শুরু হয় ১৭৯২ সালে এবং এটি ১৮০০ সালের ১ নভেম্বর শেষ হয়। জন অ্যাডামসের পর থেকে সকল মার্কিন প্রেসিডেন্টরাই এই স্থাপত্য ও আভিজাত্যে অনন্য ভবনে থাকছেন। প্রেসিডেন্টের দাপ্তরিক কার্যালয় ওভাল অফিসও এই ভবনের অংশ।
আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রী শিশু হাসপাতালে চিকিৎসকের ধূমপান দেখে বরখাস্তের নির্দেশ দেন
নির্মাণের পর অন্তত দুইবার হোয়াইট হাউস অগ্নিকাণ্ডের কবলে পড়েছে এবং বিভিন্ন সময়ে এখানে সংস্কারের কাজ হয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর হোয়াইট হাউসে গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারের কাজ শুরু করেছেন। ট্রাম্পের পরামর্শে হোয়াইট হাউসের ইস্ট উইংটি ভেঙে পুরোপুরি আধুনিকায়ন করা হচ্ছে। বিভিন্ন সমালোচনা ও আইনি বাধা সত্ত্বেও সংস্কারের কাজ চলতে থাকছে।
হোয়াইট হাউসে প্রায় ৯০ হাজার বর্গফুটের নতুন গ্লাস-দেয়ালের বলরুম তৈরির কাজ চলছে, যেখানে একসঙ্গে ১ হাজার অতিথি ধারণ করা সম্ভব। ২০২৫ সালে এই বিশাল সংস্কারকাজ শুরু হয়েছিল এবং এটি ২০২৮ সালের মাঝামাঝি সময়ে শেষ হতে পারে। এছাড়াও, ট্রাম্পের পরামর্শে সোনালি সাইনেজ লাগানো এবং রোজ গার্ডেন পাকা করার কাজও করা হয়েছে।
তবে চলমান সংস্কারকাজটি মূলত নিরাপত্তাকেন্দ্রিক। মার্কিন সিক্রেট সার্ভিসের পরামর্শে, মার্কিন প্রেসিডেন্টের বাসভবনকে আরো নিরাপদ করে তুলতে গত সপ্তাহে সংস্কারকাজ শুরু হয়েছে। আশা প্রকাশ করা হচ্ছে, আগামী সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে এ কাজ শেষ হবে। সঙ্গে সাধারণ কিছু সংস্কার ও রঙের কাজও হচ্ছে, যা ১০ দিনের মধ্যে শেষ হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, মার্কিন সিক্রেট সার্ভিস দীর্ঘদিন ধরে এই পরিবর্তনের পক্ষে সুপারিশ করে আসছিল। এবারের সংস্কারের মূল লক্ষ্য হলো হোয়াইট হাউসের উত্তর পোর্টিকোতে অবস্থিত প্রবেশপথটিকে আরো সুরক্ষিত ও শক্তিশালী করা। মেরামত কাজের সুবিধার জন্য প্রবেশপথটির বাইরের দিকের স্তম্ভগুলোকে মাচা ও ত্রিপল দিয়ে ঢেকে ফেলা হয়েছে।
আরও পড়ুন: ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলায় নিহত ৮, বিদ্যুৎহীন ১০ লাখ মানুষ
প্রবেশপথ সুরক্ষিত করার পাশাপাশি, স্তম্ভগুলোর পাথর সংস্কার ও রঙের কাজও চলমান। মার্কিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ডাগ বারগাম সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একজন বিশ্বনেতাকে অভ্যর্থনা জানাতে বেরিয়ে এসে স্তম্ভগুলোতে দরজার দাগ দেখে বলেন, দেখুন, এই সবকিছু মেরামত করা দরকার।’
সম্প্রতি ‘দ্য কেটি মিলার পডকাস্ট’-এ উপস্থিত হয়ে বারগাম দাবি করেছেন, ‘এটি খুব দ্রুত সম্পন্ন হবে। আমি মনে করি এগুলো মাত্র ১০ দিনের মতো সেখানে আছে, তবে এই কর্মীরা খুব দ্রুত কাজ করেন।’
মেরামত কাজ সম্পর্কিত একটি বিবৃতিতে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, নির্মাণ শ্রমিকরা স্তম্ভগুলো থেকে প্রায় ১৫০ বছরের পুরনো রং তুলে ফেলে সেগুলোকে নতুন করে রং করেছে। তিনি আরো বলেন, স্তম্ভগুলো খুবই খারাপ অবস্থায় ছিল এবং অনেক রাষ্ট্রপতির দ্বারা সেগুলোর সঙ্গে খুব খারাপ আচরণ করা হয়েছিল।
এছাড়া গত সপ্তাহে উইট হোয়াইট হাউসের সাউথ লনে আগে থেকে ঘোষণা না করা একটি হেলিপ্যাড নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। ওয়াশিংটন পোস্টে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হোয়াইট হাউস একটি আসন্ন রাষ্ট্রীয় সফরের প্রত্যাশায় ১৩ মিলিয়ন ডলারের এই প্রকল্প দ্রুতগতির নির্মাণের কাজ শেষ করেছে এবং বিলের সাথে আরো ৮ লাখ ৭৫ হাজার ডলারও যোগ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে সম্ভাব্য বিশ্বনেতার নাম উল্লেখ করা হয়নি।
আরও পড়ুন: মাভাবিপ্রবির জনসংযোগ উপপরিচালক বাপাজস'র সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত
তবে ধারণা করা হচ্ছে, ওই বিশ্বনেতা চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং, যিনি সেপ্টেম্বরে ওয়াশিংটন সফর করার কথা। নিরাপত্তা আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে হোয়াইট হাউসের উত্তর দিকের আশপাশে অবস্থিত লাফায়েক পার্ক এলাকা ঘিরে নতুন বেষ্টনী বা প্রাচীর নির্মাণের পরিকল্পনা কর্তৃপক্ষ জমা দিয়েছে।
প্রেসিডেন্টের যাতায়াতের সময় জনসাধারণের জন্য এই পার্কটি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। তবে শুক্রবার জমা দেওয়া এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো বর্তমান জোড়াতালির অস্থায়ী ব্যারিকেডগুলোর জন্য একটি স্থায়ী সমাধান দেওয়া, যাকে কর্মকর্তারা বিভিন্ন নিরাপত্তা ঝুঁকির জন্য ব্যাপক অথচ নমনীয় বেষ্টনী কৌশল হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এই স্থায়ী বেষ্টনীর উদ্দেশ্য হলো প্রয়োজনে রাস্তাটি বন্ধ করাকে আরও সহজ করা।
এখন যখন এই নিরাপত্তা বাড়ানোর কাজ চলছে, তখন প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তা নিয়ে নানা আলোচনা হচ্ছে। ট্রাম্পের উপর একাধিকবার হামলা চালানো হয়েছে। এছাড়া, ইরান ট্রাম্পকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে গ্রহীত তথ্য নিয়েও আলোচনা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: কক্সবাজারে রিসোর্টে আগুনে নিহতের ঘটনায় জামায়াতের শোক
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন