প্রভাষক মামুন বিল্লাহ কালিগঞ্জ (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি
০৮:০৯ পি.এম
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলায় মাদক ব্যবসা প্রতিরোধ, অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং দীর্ঘদিনের চলাচলের পথ উন্মুক্ত করার দাবিতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার (৭ জুন) বেলা ১১টায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে উপজেলার নলতা ইউনিয়নের মাঘুরালী (চান্দের পুকুর) গ্রামের সর্বস্তরের জনগণের উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে নারী-পুরুষসহ দুই শতাধিক মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদকের বিস্তার উদ্বেগজনক হারে বেড়ে চলেছে। এর ফলে যুবসমাজ বিপথগামী হচ্ছে এবং সামাজিক অবক্ষয় বৃদ্ধি পাচ্ছে। তারা কয়েকজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ তুলে বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
বক্তারা বলেন, মাদক শুধু ব্যক্তি বা পরিবার নয়, পুরো সমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়। তাই মাদক নির্মূলে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি এবং সাধারণ জনগণকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণেরও আহ্বান জানান তারা।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন আব্দুর রাজ্জাক, কবির হোসেন, খাদিজা খাতুন, রহিমা খাতুন ও আলেয়া খাতুনসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা আরও অভিযোগ করেন, গত পাঁচ বছর ধরে তারা বিভিন্ন সমস্যার মধ্যে বসবাস করছেন। তাদের দাবি, সম্প্রতি দুর্বৃত্তরা কয়েকটি বসতঘরে অগ্নিসংযোগের চেষ্টা করেছে এবং এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের চলাচলের পথ বন্ধ করে দেওয়ায় সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
ভুক্তভোগীরা জানান, বিষয়গুলো নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করলেও কার্যকর প্রতিকার না পাওয়ায় তারা মানববন্ধনের মাধ্যমে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেছেন।
মানববন্ধন শেষে অংশগ্রহণকারীরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বরাবর একটি স্মারকলিপি জমা দেন। স্মারকলিপিতে অভিযোগসমূহের নিরপেক্ষ তদন্ত, মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং এলাকাবাসীর চলাচলের পথ দ্রুত উন্মুক্ত করার দাবি জানানো হয়।
স্থানীয়দের আশা, প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে এবং এলাকায় স্বাভাবিক পরিবেশ ও জনসাধারণের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার পাইকুরাটি ইউনিয়নের সুনই গ্রামে পূর্ব শত্রুতার জেরে প্রাইমারী স্কুলের শিক্ষক দু'ভাইয়ের নেতৃত্বে মাহলায় চা স্টলের মালিক নাসিম মিয়া (৩৮) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। রোববার (৭ জুন) সকালে সুনই গ্রামের কারীর বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত নাসিম মিয়া উপজেলার সুনই গ্রামের মঞ্জুরুল হকের ছেলে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ধর্মপাশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে অতিরিক্ত রক্ত করণ ও মারাত্মক জখমের ফলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত্যু ঘোষণা করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে চা স্টলে চা খাওয়া অবস্থায় নাসিম মিয়ার সাথে একই গ্রামের লাল মিয়ার ছেলে সনূই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক অলি আহমেদ ও বালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মেহদী হাসান ঢালীর কথার কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে অলি, ডালি ও আনুর নেতৃত্বে ১০-১২ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র দিয়ে চা বিক্রেতার উপর হামলা চালায়। তখন নাসিম মিয়ার চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন মারাত্মক জকমী অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে উপজেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান।
ধর্মপাশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মো. আবু রায়হান সজিব জানান, হাসপাতালে আনার পর নাসিম মিয়ার মৃত্যু হয়েছে।
নিহতের বড় ভাই আল আমিন মিয়া বলেন,আমি এম পি কামরুজ্জামান কামরুলের গ্রুপ করি। অলি ও ঢালি আনিস গ্রুপ করে। গত সংসদ নির্বাচনে প্রোগ্রাম চলাকালীন সময় অলি ও ডালি তারা দুই ভাই আমার উপর হামলা চালায়। গতকালকে অলি আমার ছোট ভাইয়ের মোটরসাইকেল থামিয়ে রাস্তায় আটকিয়ে হাড্ডি-গুড্ডি ভেঙ্গে ফেলা ও মারার হুমকি দিয়ে বলে কালকেই তোর শেষ দিন। তোর একটা কবর খুড়ড়াইলাইস।"
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সনুই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক অলি আহম্মেদ বলেন, "সকালে আমি ও আমার ছোট ভাই ঘুমে ছিলাম। স্কুলে যাওয়ার পর নাসিমের হাসপাতালে মৃত্যু হয়েছে আমারা শুনতে পেরেছি। এ ঘটনায় আমি ও আমার ভাই জড়িত নই।"
ধর্মপাশা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ সহিদ উল্ল্যা জানান, লাশ ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাস্থলে শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষার্থে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পাওয়া সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রথম ইনিংসে ইংল্যান্ড মাত্র ১৪০ রানে গুটিয়ে গিয়েছিল। কিন্তু সেই ইংল্যান্ডই শেষ পর্যন্ত নিউজিল্যান্ডকে ১১৫ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়ে সিরিজের প্রথম ম্যাচে দারুণ সূচনা করেছে লর্ডসে।
স্বাগতিকদের প্রথম ইনিংস ১৪০ রানে শেষ হলেও নিউজিল্যান্ডও ব্যাটিং ব্যর্থতায় ১১৩ রানের বেশি সংগ্রহ করতে পারেনি। ফলে ২৭ রানের লিড নিয়ে ইংল্যান্ড দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করে। এরপর তারা কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়ে ২২৬ রান সংগ্রহ করে। এইভাবে নিউজিল্যান্ডের জন্য জয়ের লক্ষ্য দাঁড়ায় ২৫৪ রান।
লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে সফরকারী নিউজিল্যান্ড শুরু থেকেই চাপে পড়ে যায়। তৃতীয় দিনের খেলা শেষ হওয়ার আগেই, তাদের ৫ উইকেট পড়ে যায়। চতুর্থ দিনে ডেভন কনওয়ে ও গ্লেন ফিলিপস চেষ্টা করেন প্রতিরোধ গড়ে তুলতে, কিন্তু তা জয়ের জন্য যথেষ্ট ছিল না। কনওয়ে ৪১ রান করে আউট হন। অন্যদিকে ফিলিপস ৪৪ রানে অপরাজিত থাকলেও সঙ্গীদের ব্যর্থতায় পরাজয় এড়াতে পারেননি।
নিউজিল্যান্ডের দ্বিতীয় ইনিংস গুটিয়ে যায় ১৩৮ রানে। এর ফলে ১১৫ রানের জয় তুলে নেয় ইংল্যান্ড।
বল হাতে স্বাগতিকদের হয়ে সবচেয়ে সফল ছিলেন গাস অ্যাটকিনসন। তিনি ৩০ রান খরচায় ৫ উইকেট শিকার করেন। এছাড়াও অলি রবিনসন ও জশ টং দুটি করে উইকেট নেন। ম্যাচে অসাধারণ বোলিংয়ের জন্য সেরা খেলোয়াড় হিসেবে নির্বাচিত হন অলি রবিনসন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গ্রীষ্মকাল ও সেচ মৌসুমের মধ্যে দেশে বিদ্যুতের চাহিদা দৈনিক সর্বোচ্চ প্রায় ১৮ হাজার মেগাওয়াট হয়েছে, যা জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।
মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ উল্লেখ করেছেন, ক্রমবর্ধমান বিদ্যুতের চাহিদা পূরণে সরকারের উদ্যোগগুলি রয়েছে। এসব উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে জ্বালানির উৎস বহুমুখীকরণ, নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্প্রসারণ এবং বিদ্যুৎ অবকাঠামো উন্নয়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা।
আজ জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকারি দলের সদস্য মো. আবুল কালামের (কুমিল্লা-৯) তারকাচিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব বিষয়গুলো তুলে ধরেন।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে বিদ্যুতের চাহিদার তুলনায় সার্বিকভাবে কোনো ঘাটতি নেই। তবে প্রাথমিক জ্বালানির স্বল্পতা, সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা, রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে সর্বোচ্চ চাহিদার সময়ে কখনও কখনও বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটে।
মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ আরও উল্লেখ করেন, বিদ্যুৎ খাতে নির্বাচনী ইশতেহারের অঙ্গীকার বাস্তবায়নের জন্য সরকার ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে। তিনি এ ব্যাপারে জানান, বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
মন্ত্রী জানান, সরকার নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে এবং ভবিষ্যতের চাহিদা পূরণে সঞ্চালন ও বিতরণ নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন করছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার, জ্বালানির উৎস বহুমুখীকরণ এবং জ্বালানি সাশ্রয়মূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
‘ননী ওয়ালা’ নামে পরিচিত পাকিস্তানের জনপ্রিয় টিকটকার ও সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার নাদীম মোবারককে গ্রেপ্তারের পর আদালতে হাজির করা হয়েছে। পুলিশের তথ্যমতে, আটককৃত এই ইনফ্লুয়েন্সারকে থানায় হেফাজতে রাখার পর স্থানীয় একজন ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে পেশ করা হয়।
রোববার (৭ জুন) প্রকাশিত সংবাদমাধ্যম দ্য ডেইলি পাকিস্তানের প্রতিবেদন অনুযায়ী পুলিশ জানিয়েছে, ট্রাফিক ওয়ার্ডেন ইন্সপেক্টর মুহাম্মদ ফাহিম-উর-রহমানের অভিযোগের ভিত্তিতে ডিফেন্স-সি থানায় নাদীম মোবারকের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগ, বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালানো, সরকারি কাজে বাধা দেয়া এবং সরকারি কর্মচারীকে হুমকি দিয়েছেন তিনি।
এফআইআর অনুযায়ী, ট্রাফিক কর্মকর্তারা একটি বিলাসবহুল গাড়ি থামার জন্য সংকেত দেয়। কিন্তু গাড়িচালক নাদীম মোবারক নির্দেশনা না মেনে উল্টো ওয়ান-ওয়ে (একমুখী) রাস্তা দিয়ে গাড়ি চালিয়ে পালিয়ে যান। এই প্রেক্ষিতে মামলা দায়ের করে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাকে।
পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, নাদীম মোবারকের বিলাসবহুল গাড়িটি তার বাসস্থান থেকে জব্দ করে ডিফেন্স-সি থানায় নেয়া হয়েছে। পুলিশ হেফাজতে থাকার সময় তার সঙ্গে কেউ দেখা করার সুযোগ পায়নি।
পুলিশ কর্মকর্তারা উল্লেখ করেছেন, এ টিকটকার সারারাত কারাগারেই ছিলেন। এ সময় অন্যসব কারাবন্দীদের মতোই সাধারণ খাবার খেয়েছেন তিনি এবং রাতে ঘুমাতে পারেননি।
এ মামলার শুনানির জন্য লাহোরের ক্যান্ট কাচারিতে হাজির করা হয় নাদীম মোবারককে। শুনানি চলাকালে তদন্তকারী পুলিশ বিশেষ প্রটোকল দিয়েছে তাকে। সরকারি গাড়ির বদলে তার ব্যক্তিগত গাড়িতে করে আদালতে আনা হয়। তদন্দ কর্মকর্তাদেরও তার গাড়িতে আসতে দেখা গেছে। আর শুনানি শেষে আদালত তার জামিন মঞ্জুর করে মামলার নিষ্পত্তি ঘোষণা করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ