০৫:৫১ পি.এম
পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্র সাইপ্রাসে বাংলাদেশি শিক্ষার্থী শাহরুয়ার আহমেদ ইমনের (২২) মরদেহ ৯ দিন নিখোঁজ থাকার পর উদ্ধার করেছে পুলিশ।
এই ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে ২২ বছর বয়সী এক বিদেশি যুবককে সাইপ্রাস পুলিশ গ্রেফতার করেছে। পুলিশের ধারণা অনুযায়ী, ইমনকে ১২ জুন রাতে নিখোঁজ হওয়ার সময়েই হত্যা করা হয়েছিল।
নিহত শাহরুয়ার আহমেদ ইমন নরসিংদীর রায়পুরা থানার বাখর নগর এলাকার নাসির মিয়ার ছেলে। তিনি সাইপ্রাসের লারনাকা জেলার ওরোক্লিনি এলাকায় বসবাস করতেন।
আরও পড়ুন: ক্যালিফোর্নিয়ায় দাবানল, ৬ হাজার বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরানো হচ্ছে
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সন্দেহভাজন গ্রেফতারকৃত যুবক জিজ্ঞাসাবাদের সময় একটি স্থানীয় কসাইখানার কাছে ইমনের মরদেহের অবস্থান জানান। এরপর তদন্তের জন্য মরদেহ উদ্ধারের অভিযানে পুলিশ নেমেছে।
তদন্ত সূত্রে এমনটিও জানা গেছে যে, ১২ জুন সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে ইমন তার বাসা থেকে বের হন। তিনি তার বন্ধুদের জানান, কোফিনোর একটি কারখানায় কর্মদিবসে যোগ দিতে যাচ্ছেন।
ওই রাতে, মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে তিনি এক বন্ধুকে নিজের অবস্থান পাঠান এবং গ্রিসে তার বাবার কাছ থেকে সাহায্য চেয়ে একটি বার্তা প্রেরণ করেন। এরপর থেকেই ইমনের ফোন বন্ধ হয়ে যায় এবং তার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
গ্রেফতারের দুদিন আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মুক্তিপণের একটি বার্তা ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে ১০ হাজার ইউরো এবং পরে আরও ২৫ হাজার ইউরো দাবি করা হয়। একই সাথে হুমকি ছিল যে, পুলিশকে জানালে পরিবারের সদস্যরা আর কখনও ইমনের মুখ দেখতে পাবেন না।
আরও পড়ুন: কলকাতায় পূজামণ্ডপ ভেঙে প্রাণহানি, শোক জানালেন মোদি ও মমতা
ইমন নিখোঁজ হওয়ার পর তার বাবা সাইপ্রাস ও গ্রিস কর্তৃপক্ষের কাছে সাহায্য চান। নিখোঁজ হওয়ার পরদিন থেকেই অজ্ঞাত ব্যক্তিরা ইমানের ফোন ব্যবহার করে তার বাবার সঙ্গে যোগাযোগ করে মুক্তিপণ দাবি করে।
তদন্তকারী কর্মকর্তাদের মতে, হত্যাকারী আসলে অপহরণের নাটক সাজিয়ে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করছিলেন। ইমনের মোবাইল ফোনের সর্বশেষ সিগন্যাল কোফিনু এলাকায় শনাক্ত করার পরে স্থানীয় পুলিশ, সিআইডি ও গোয়েন্দা দল সিসিটিভি ফুটেজ এবং বাস রুট অনুসারে তদন্ত শুরু করে।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত ২২ বছর বয়সী যুবক হত্যার কথা স্বীকার করেছে। তার দেয়া তথ্যানুসারে, হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র এবং ইমনের ব্যক্তিগত সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে।
তদন্তে জানা গেছে, কিছুদিন আগে একটি বাসের যাত্রার সময় ইমনের সঙ্গে অভিযুক্ত যুবকের পরিচয় হয়। অভিযুক্তের দাবি, “ওই সময়ে ইমন তাকে অপমান করেছিলেন এবং সে প্রতিশোধ নিতেই এই হত্যাকাণ্ড।”
আরও পড়ুন: শ্রীলঙ্কায় দেশব্যাপী বিদ্যুৎ বিপর্যয়, জাতীয় গ্রিডে ত্রুটি
তবে পুলিশ ধারণা করছে, হত্যার মূল উদ্দেশ্য ছিল পূর্বপরিকল্পিতভাবে অর্থ আদায় করা। ঘটনার দিন চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ইমনকে কোফিনু এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই তাকে হত্যা করা হয় এবং একটি অগভীর গর্ত খুঁড়ে মরদেহ মাটি চাপা দেওয়া হয়।
বর্তমানে মরদেহ উদ্ধারের স্থানটি ঘিরে রেখেছে সাইপ্রাস পুলিশের ফরেনসিক বিভাগ, এবং তদন্তের জন্য আলামত সংগ্রহ করা হচ্ছে। ঘটনার পেছনে অন্য কোনো চক্র বা উদ্দেশ্য রয়েছে কি না, তা উদঘাটনে স্থানীয় প্রশাসন ও গোয়েন্দা পুলিশের তদন্ত চলছিল।
তথ্যসূত্র: ফিলি নিউজ
আরও পড়ুন: দেশের অর্থনীতি তিন কাঠামোগত ফাঁদে আটকে, দারিদ্র্য ও বিনিয়োগে স্থবিরতা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন