ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

শিবগঞ্জে কৃষি বিভাগের অভিযানে ১৬৯ বস্তা রাসায়নিক সার জব্দ


শিবগঞ্জে কৃষি বিভাগের অভিযানে ১৬৯ বস্তা রাসায়নিক সার জব্দ

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে কৃষি বিভাগের একটি অভিযান পরিচালনা করে ১৬৯ বস্তা রাসায়নিক সার জব্দ করা হয়েছে। শনিবার দুপুরের সময় উপজেলার গোপালনগর ও উমরপুর এলাকা থেকে এসব সার উদ্ধার করা হয়।

বিকেলে শিবগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নয়ন মিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, নওগাঁর নিয়ামতপুর থেকে আসা রাসায়নিক সারভর্তি দুটি ভটভটি শ্যামপুরের গোপালনগর ও উমরপুর এলাকায় পৌঁছালে কৃষি অফিস সেখানে অভিযান চালায়।

অভিযান চলাকালীন দুটি ভটভটি থেকে ১৬৯ বস্তা সার জব্দ করা হয়। এর মধ্যে ১৫৫ বস্তা ডিএপি, ৯ বস্তা এমওপি এবং ৫ বস্তা টিএসপি সার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে এ সময় সারের মালিককে আটক করা সম্ভব হয়নি। পরে জব্দকৃত সার স্থানীয় শ্যামপুর ইউনিয়ন পরিষদে সংরক্ষণ করা হয়।

আরও পড়ুন: মেহেরপুরে শীতকালীন সবজি চাষে কৃষকদের ব্যস্ততা

এদিকে, কৃষি বিভাগের এই কর্মকর্তা জানান, জব্দকৃত সার শিঘ্রই প্রশাসনের উপস্থিতিতে কৃষকদের মাঝে ন্যায্যমূল্যে বিতরণ করা হবে।

এমই

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চাহিদার চেয়ে বেশি ফল আমদানি, তবু দাম নাগালের বাইরে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:১২ এম


চাহিদার চেয়ে বেশি ফল আমদানি, তবু দাম নাগালের বাইরে

দেশের বাজারে ফলের দাম চড়া থাকলেও চাহিদার চেয়ে বেশি আমদানি হচ্ছে। গত বছরের তুলনায় সব ধরনের ফলের কেজি প্রতি অন্তত ১০০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা উচ্চ শুল্কহার এবং খরচ বৃদ্ধিকে ফলের দাম বৃদ্ধির জন্য দায়ী করছেন।

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) মতে, সরকারের বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কারণে আমদানি করা ফলের দাম নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না। বিদেশি ফলের বাজারের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেশি ফলের বাজারেও প্রভাব ফেলছে।

বাংলাদেশে বিদেশি ফলের বাৎসরিক চাহিদা ৫২০,০০০ থেকে ৫৪০,০০০ টনের মধ্যে রয়েছে। গত বছরের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত বিদেশি ফলের আমদানির পরিমাণ ছিল ৫৩৮,০০০ টন, যা গড়ে প্রতি মাসে ৪৫,০০০ টনের কাছাকাছি।

চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে আমদানির পরিমাণ ৪১২,০০০ টন হয়েছে। ৯ মাসে স্বাভাবিক চাহিদা ছিল সর্বোচ্চ ৪০৫,০০০ টন।

চট্টগ্রামের ফলমণ্ডী, যা দেশের সবচেয়ে বড় পাইকারি ফলবাজার, সেখান থেকে ফলের চালান দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হয়। গত বৃহস্পতিবার বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, প্রতিটি দোকান ও গুদামে বিদেশি ফলের ভাণ্ডার পূর্ণ। সেখানে ধুমধাম বেচাকেনা চলছে। এদিন সাড়ে ছয় কেজির এক ক্যারেট আঙ্গুরের দাম ছিল ১৯০০-২১০০ টাকা। ২৪ কেজির এক ক্যারেট আপেল বিক্রি হয়েছে ৫৩০০-৫৫০০ টাকায়। ২২০ পিচের এক ক্যারেট কমলা বিক্রি হয়েছে চার হাজার টাকায়। ১৫ কেজির এক ক্যারেট মাল্টার দাম ছিল ৪৬০০ টাকা। পাইকারিতে ওইদিন বড় দানার প্রতিকেজি আনার দাম ছিল ৪০০ টাকা।

ফলমণ্ডী পাইকারি বাজার থেকে কয়েকশ মিটার দূরে রেয়াজউদ্দিন বাজার, যেখানে সবচেয়ে সস্তা খুচরা বাজার। এখানে প্রতিটি ফলের দাম প্রতিকেজি অন্তত ৫০ টাকা বেশি। দুই কিলোমিটার দূরে কাজির দেউড়ি কাঁচাবাজার, যেখানে ফলের দোকানের সংখ্যা বেশি। ফলমণ্ডীর পাইকারি বাজারে আঙ্গুরের দাম ছিল ৩২৪ টাকা কেজি, কিন্তু কাজির দেউড়িতে তার দাম ৫০০ টাকা। ফলমণ্ডীতে ২৩০ টাকা কেজির আপেল কাজির দেউড়িতে ৩৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ৩০০ টাকার মাল্টা ৩৭০ টাকা এবং ২৮০ টাকার কমলা ৩৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

দুই নম্বর গেট কর্ণফুলী কাঁচাবাজারের ফলের দোকানগুলোতে একই চিত্র দেখা যায়। এখানকার বিক্রেতা আবুল হাশেম জানান, তারা পাইকারি বাজার থেকে ফল কিনে খরচ যুক্ত করে ১৫-২০ শতাংশ লাভ ধরে দাম নির্ধারণ করেন। তবে বর্তমানে ১০ শতাংশ লাভ হিসাব করেও দাম নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। কারণ, পাইকারি বাজারে ফলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। এতে বিক্রির ওপর প্রভাব পড়ছে। অনেক ক্রেতা দাম শুনে ফল না কিনে চলে যাচ্ছেন। দুই মাস আগে ফলের দাম নিয়ন্ত্রণে ছিল, কিন্তু এখন পরিস্থিতি ভিন্ন। দাম কমার কোনো সম্ভাবনাও নেই বলে তিনি জানান।

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজের তথ্য অনুযায়ী, আমদানি করা ফলের বড় অংশ চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে রেফার কনটেইনারে আসে। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে ১,২০০ কোটি টাকার ১,৩৭,০০০ টন আপেল, ৯৫৬ কোটি টাকার ১,০৭,০০০ টন কমলা, ৭২৭ কোটি টাকার ৬৯,০০০ টন আঙ্গুর, ৫৭২ কোটি টাকার ৬৫,৫৮৫ টন মেন্ডারিন এবং ৩৩৮ কোটি টাকার ৩৩,৭৪০ টন অন্যান্য ফল আমদানি হয়েছে।

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজের মুখপাত্র ও সহকারী কমিশনার শরীফ মোহাম্মদ আল আমিন জানান, আমদানি করা প্রতি কেজি ফলের ভিত্তিমূল্য ৮০ সেন্ট ধরে ১২২ শতাংশ ট্যাক্স নির্ধারণ করা হয়। এর মধ্যে ২৫ শতাংশ কাস্টম ডিউটি, ২০ শতাংশ রেগুলেটরি ডিউটি, ৩০ শতাংশ সাপ্লিমেন্টারি ডিউটি, ১৫ শতাংশ ভ্যাট এবং ৫ শতাংশ এআইটি রয়েছে। অর্থাৎ, আমদানিকারক দেশ থেকে ১০০ টাকার ফল কিনে বাংলাদেশে আনতে ১২২ টাকা শুল্ক পরিশোধ করতে হচ্ছে। জাহাজ ও রেফার কনটেইনার ভাড়া যুক্ত হলে ১০০ টাকার ফল বাংলাদেশে পৌঁছাতে ২৪০ টাকার কাছাকাছি খরচ হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, এটি বাজারে মূল্যবৃদ্ধির একটি কারণ।

চট্টগ্রাম ফল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক তৌহিদুল আলম জানিয়েছেন, ফলের দাম ২০২৩ সাল থেকেই বাড়তে শুরু করেছে। কারণ, ওই সময় যে ফলে ট্যাক্স ছিল ৩০ টাকা, এখন তা ১১০ টাকা। যে ফলে ট্যাক্স ছিল ৪৫ টাকা, এখন তা ১৪৫ টাকা। জাহাজ ভাড়া ও কনটেইনার ভাড়া সবই গত বছরের তুলনায় কয়েকশগুণ বেড়ে গেছে। খরচ বেশি হলে দাম বাড়বে, এটি স্বাভাবিক।

তিনি আরও জানান, চীন থেকে আসা ফলের দাম এখনো কম রয়েছে। কিন্তু আফ্রিকা থেকে আসা ফলের দাম কিছুটা বেড়েছে। যুদ্ধের কারণে ওই জাহাজগুলো রুট পরিবর্তন করে আসছে। যে জাহাজের ট্রানজিট পয়েন্ট ছিল সিঙ্গাপুর, সেই জাহাজ এখন মালয়েশিয়া হয়ে আসছে। ফলে সাপ্লাই চেইনে হঠাৎ ছন্দপতন ঘটেছে। আশা করা হচ্ছে, এ মাসের শেষে বেশ কয়েকটি জাহাজ একসঙ্গে আসবে। তখন ফলের দাম অস্বাভাবিকভাবে কমে যাবে। অনেক আমদানিকারক লোকসানেও পড়তে পারেন, কারণ এগুলো পচনশীল পণ্য। স্টক করে বিক্রি করার সুযোগ সীমিত।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ৫৩৮,০০০ টন বিভিন্ন ধরনের ফল বাংলাদেশে এসেছে, যার মূল্য ৪,৯৬৫ কোটি টাকা। এসব ফল থেকে রাজস্ব এসেছিল ৫,৪৫৮ কোটি টাকা। বিপরীতে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৯ মাসে ৩,৭৯৯ কোটি টাকার ৪১২,০০০ টন আমদানি করা ফল এসেছে দেশে, যার থেকে রাজস্ব আদায় হয়েছে ৪,৩০০ কোটি টাকা। মূলত দক্ষিণ আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া, চীন, ভারত, থাইল্যান্ড ও মিসরসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে এসব ফল আমদানি করা হয়।

এমই

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সাতক্ষীরায় যুবককে পিটিয়ে হত্যা, প্রধান আসামী ফজলুল হক আমিনী গ্রেফতার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:১৬ এম


সাতক্ষীরায় যুবককে পিটিয়ে হত্যা, প্রধান আসামী ফজলুল হক আমিনী গ্রেফতার

সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে ওয়াহিদুজ্জামান শামীমকে পিটিয়ে হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফজলুল হক আমিনীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাত ১১টার দিকে কালিগঞ্জ উপজেলার কৃষ্ণনগর এলাকা থেকে পুলিশ ও এসআরবির যৌথ অভিযানে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার আবু সালেহ মো. আশরাফুল আলম জানান, প্রধান আসামি ফজলুল হক আমিনীকে শনিবার রাত ১১টার সময় কালিগঞ্জ থানার কৃষ্ণনগর এলাকা থেকে পুলিশ ও এসআরবির যৌথ অভিযান পরিচালনা করে গ্রেফতার করা হয়েছে।

দেবহাটা থানার ওসি এইচএম শাহীন বলেন, এ বিষয়ে পরে বিস্তারিত জানানো হবে। এর আগে এই মামলার দুই আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। বর্তমানে ফজলুল হক আমিনীসহ তিনজন গ্রেফতার হয়েছেন।

এর আগে সোমবার শামীম (৩৮) ও তার স্ত্রীর কথোপকথনের একটি অডিও সামাজিক মাধ্যম ফেইসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর ধর্ম অবমাননার অভিযোগ ওঠার পর এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং শামীমের বাড়িতে হামলার চেষ্টা করা হয়। ওই দিন স্থানীয় একটি বাজারে শামীমকে প্রথম মারধর করা হয়।

মঙ্গলবার বিকালে তিনি স্থানীয় এক পল্লী চিকিৎসকের চেম্বারে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। তখন একদল লোক চেম্বার থেকে শামীমকে বের করে আবার মারধর করে। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

পরে ফজলুল হক আমিনীর নেতৃত্বে রাতে মিছিল নিয়ে হাসপাতালে হামলা চালানো হয়। সেখান থেকে শামীমকে ছিনিয়ে নিয়ে আবারও পেটানো হয়। পরে সাতক্ষীরা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে শামীম মারা যান।

শামীম হত্যার ঘটনায় তার বড় ভাই আবদুল জলিল বাদী হয়ে দেবহাটা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় ১০ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলায় ফজলুল হক আমিনীকে প্রধান আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দেশের অর্থনীতি তিন কাঠামোগত ফাঁদে আটকে, দারিদ্র্য ও বিনিয়োগে স্থবিরতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:১৭ এম


দেশের অর্থনীতি তিন কাঠামোগত ফাঁদে আটকে, দারিদ্র্য ও বিনিয়োগে স্থবিরতা

দেশের অর্থনীতি তিনটি কাঠামোগত ফাঁদে আটকে পড়েছে, যা হলো দারিদ্র্য বৃদ্ধি, বিনিয়োগের স্থবিরতা এবং রাজনৈতিক ও শাসনব্যবস্থার দুর্বলতা। একদিকে আয় বৃদ্ধি পাচ্ছে না, অপরদিকে পরিবারের ব্যয় ও ঋণের চাপ বাড়ছে। বিনিয়োগের গতি কমছে এবং প্রবৃদ্ধি নিম্নমুখী হচ্ছে। এই চিত্রগুলো উঠে এসেছে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) ‘স্টেট অব দ্য রিয়াল ইকোনমি’ শীর্ষক প্রকাশনায়।

শনিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আয়োজিত প্রকাশনা অনুষ্ঠানে পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান গবেষণার সারসংক্ষেপ তুলে ধরেন। তিনি জানান, দেশে মাঝারি দারিদ্র্যের হার ২০২২ সালের ১৮.৭ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২৫ সালে ২৭.৯ শতাংশে পৌঁছেছে। একই সময়ে চরম দারিদ্র্যের হার ৫.৬ শতাংশ থেকে বেড়ে ৯.৩৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। ব্যয়ভিত্তিক জিনি সহগ (জিনি কো-এফিশিয়েন্ট) বেড়ে হয়েছে ০.৪৩৬।

প্রকাশনার তথ্য অনুযায়ী, দেশের প্রায় ১৮ শতাংশ পরিবার বা ৩ কোটি ১০ লাখ মানুষ ভঙ্গুর মধ্যবিত্ত শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত। এই শ্রেণির মানুষদের স্থবির আয়, বাড়তি ব্যয় ও অর্থনৈতিক ধাক্কার কারণে দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এছাড়া, দেশের প্রায় অর্ধেক পরিবারের অন্তত একজন সদস্য দীর্ঘস্থায়ী রোগে আক্রান্ত। ফলে চিকিৎসা ও ওষুধের ব্যয় পরিবারগুলোর ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে।

পিপিআরসির বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ শুধু বহিরাগত অর্থনৈতিক ধাক্কার মুখে নয়, বরং ‘উচ্চ দারিদ্র্য-নিম্ন বিনিয়োগ-নিম্ন প্রবৃদ্ধি’র কাঠামোগত ফাঁদে আটকে পড়েছে।

হোসেন জিল্লুর বলেন, দেশে দারিদ্র্য কমার পরিবর্তে বাড়ছে এবং মধ্যবিত্ত শ্রেণি ক্রমাগত ঝুঁকির মুখে পড়ছে। অর্থনৈতিক চাপের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে পরিবারগুলোর সক্ষমতা কাঠামোগত সীমায় পৌঁছেছে। দারিদ্র্য ও বৈষম্য বৃদ্ধি এবং মধ্যবিত্তের ভঙ্গুরতা নিয়ে পিপিআরসি ও বিশ্বব্যাংকের তথ্যেও মিল পাওয়া গেছে।

তিনি বলেন, এই অর্থনৈতিক ফাঁদের প্রথম বৈশিষ্ট্য হলো পরিবার পর্যায়ে আর্থিক সংকটের বিস্তার। দারিদ্র্য, অনিশ্চিত কর্মসংস্থান, ছদ্ম বেকারত্ব ও চিকিৎসা ব্যয় মানুষের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে। অর্ধেকের বেশি পরিবারের অন্তত একজন সদস্য দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত। এছাড়া, সঞ্চয়ের তুলনায় পারিবারিক ঋণের বোঝা ৪৪ শতাংশের বেশি বেড়েছে।

দ্বিতীয় বৈশিষ্ট্য হলো বিনিয়োগে স্থবিরতা ও প্রবৃদ্ধির নিম্নমুখী গতি। বিশ্বব্যাংক, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের মূল্যায়নেও বিনিয়োগের স্থবিরতার বিষয়টি উঠে এসেছে। তৃতীয় বৈশিষ্ট্য রাজনৈতিক ও শাসনতান্ত্রিক দুর্বলতা।

জিল্লুর রহমান বলেন, এ সংকট থেকে বের হতে হলে পরিবারগুলোর আর্থিক চাপ কমাতে হবে, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি আনতে হবে এবং কার্যকর শাসনব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। এটি সাময়িক দুরবস্থা নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোগত সংকট। তাই শুধু কমিশন গঠন বা নীতিপ্রতিবেদন প্রকাশ করলেই হবে না। সমাজ, সরকার ও অর্থনীতির সমন্বয়ে কার্যকর সংস্কার পরিকল্পনা নিতে হবে।

তিনি আরো বলেন, বিনিয়োগের স্থবিরতা ও সংস্কারহীন প্রতিষ্ঠানের কাঠামোগত সংকট স্বীকার করে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। এ জন্য অর্থনৈতিক গণতন্ত্র, প্রবৃদ্ধির নতুন চালিকাশক্তি, মানসম্মত শিক্ষা, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি ও শাসনব্যবস্থার সংস্কার—এই পাঁচটি স্তম্ভের ভিত্তিতে সমন্বিত ‘ট্রানজিশন কমপ্যাক্ট’ বা উত্তরণকালীন সমঝোতা গড়ে তুলতে হবে।

তার মতে, রাষ্ট্র ও প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন স্তরে হয়রানি মানুষের উদ্যোগ, সক্ষমতা ও স্বপ্নকে বাধাগ্রস্ত করছে। তাই কাঠামোগত সংস্কারের মূল লক্ষ্য হতে হবে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক শাসনব্যবস্থাকে হয়রানিমুক্ত করা।

সংস্কারের তাগিদ অর্থনীতিবিদদের

বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর জঁ পেম বলেন, অর্থনীতির সংকট মোকাবিলায় বাণিজ্য, সরকারি অর্থব্যবস্থা ও জ্বালানি দক্ষতায় কাঠামোগত সংস্কার জরুরি। কর্মসংস্থান বাড়াতে শ্রমবাজার ও শিক্ষাব্যবস্থাকে বেসরকারি খাতের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে হবে।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, দেশে আয়বৈষম্য বাড়ছে। অথচ প্রবৃদ্ধির সুফল আগের মতো দারিদ্র্য কমাতে পারছে না। ২০২২ সালের তুলনায় ২০২৫ সালের মে পর্যন্ত ভোক্তা মূল্যসূচক প্রায় ২২ শতাংশ বাড়লেও দারিদ্র্যসীমা সমন্বয় করা হয়েছে মাত্র ১৩ শতাংশ।

তার হিসাব অনুযায়ী, শীর্ষ ১০ শতাংশ ও সর্বনিম্ন ৪০ শতাংশ মানুষের আয়ের অনুপাত ২০২২ সালের ৩ দশমিক ২ থেকে বেড়ে ৭ দশমিক ২ হয়েছে। রাজস্ব আদায় কম থাকায় সরকারি ব্যয় ও বিনিয়োগও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, কৃষিতে দেশের প্রায় ৪০ শতাংশ শ্রমশক্তি নিয়োজিত থাকলেও মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) এ খাতের অবদান মাত্র ১২ শতাংশ। কৃষিকে শিল্প ও বৈশ্বিক বাজারের সঙ্গে যুক্ত করা, মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা এবং দক্ষতাভিত্তিক প্রতিযোগিতায় সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি।

ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) প্রশাসক মো. ফজলুল হক বলেন, দেশের রপ্তানি আয়ে তৈরি পোশাক খাতের ওপর নির্ভরতা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। দুই দশক আগে মোট রপ্তানিতে এ খাতের অংশ ছিল ৭৩ থেকে ৭৫ শতাংশ। বর্তমানে তা বেড়ে ৮৪ থেকে ৮৫ শতাংশে পৌঁছেছে।

তিনি বলেন, চামড়া, ওষুধ ও তথ্যপ্রযুক্তির মতো সম্ভাবনাময় খাত বিকল্প প্রবৃদ্ধির চালিকাশক্তি হয়ে উঠতে পারেনি। নীতি সহায়তা পাওয়ার পরও এসব খাত কেন এগোতে পারছে না, তা নিয়ে গবেষণা প্রয়োজন। দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষার অভাব ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতাও তরুণদের কর্মসংস্থান এবং বিনিয়োগের পথে বাধা তৈরি করছে। প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের কতজন কর্মসংস্থানে যুক্ত হচ্ছেন, তার কার্যকর মূল্যায়নও জরুরি।

অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবির খাদ্যমূল্যের চাপ ও অনানুষ্ঠানিক শ্রমিকদের অনিশ্চিত আয়ের বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি নারী কর্মসংস্থান, শিশুযত্ন কেন্দ্র এবং লিঙ্গসংবেদনশীল বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন।

পিপিআরসির ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য ড. সৈয়দ এম হাশমির স্বাগত বক্তব্যের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। এতে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও গবেষকেরা বক্তব্য দেন।

এমই

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শ্রীলঙ্কায় দেশব্যাপী বিদ্যুৎ বিপর্যয়, জাতীয় গ্রিডে ত্রুটি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:১৭ এম


শ্রীলঙ্কায় দেশব্যাপী বিদ্যুৎ বিপর্যয়, জাতীয় গ্রিডে ত্রুটি

জাতীয় গ্রিডে ত্রুটি দেখা দেওয়ার কারণে শনিবার শ্রীলঙ্কার বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায়। কর্মকর্তাদের মতে, সৌরবিদ্যুতের উৎপাদন বিদ্যুৎ উৎপাদনের তুলনায় বেশি হয়ে যাওয়ার ফলস্বরূপ এই বিপর্যয় ঘটতে পারে।

দুই ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে দেশটির গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল। বিদ্যুৎ সরবরাহ কখন পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে, সে সম্পর্কে স্পষ্ট কোনো সময়সীমা জানানো হয়নি।

রাষ্ট্রায়ত্ত বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থা ইলেকট্রিসিটি ডিস্ট্রিবিউশন লঙ্কা (ইডিএল) জানায়, পুরো গ্রিডে সৃষ্ট ত্রুটির মেরামতের জন্য প্রকৌশলীরা কাজ করছেন। তাদের ধারণা, অতিরিক্ত সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের কারণে এই বিপর্যয় ঘটেছে।

জ্বালানিমন্ত্রী অনুরা করুণাথিলাকা জানিয়েছেন, কর্তৃপক্ষ ধাপে ধাপে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরায় চালু করার আশা করছে।

তিনি সংক্ষিপ্ত এক বিবৃতিতে বলেন, বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরুদ্ধারের কাজে সহায়তা করার জন্য পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ছাদে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনকারীদের সেগুলো বিচ্ছিন্ন রাখার অনুরোধ করা হচ্ছে।

এর আগে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে পুরো জাতীয় গ্রিড বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। উজ্জ্বল রৌদ্রোজ্জ্বল এক রোববার সৌরবিদ্যুতের উৎপাদন চাহিদা ছাড়িয়ে যাওয়ার কারণে ওই বিপর্যয় ঘটে। তখন বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরুদ্ধার করতে ছয় ঘণ্টারও বেশি সময় লেগেছিল।

শ্রীলঙ্কায় স্থাপিত সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনক্ষমতা ৩ হাজার মেগাওয়াটের কিছু বেশি। তবে দিনের বেলায় দেশটিতে বিদ্যুতের চাহিদা থাকে ২ হাজার থেকে আড়াই হাজার মেগাওয়াট।

কর-সুবিধার কারণে অনেক গ্রাহক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে উৎসাহিত হয়েছেন এবং তারা নিজেদের প্রয়োজনের অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে বিক্রি করছেন। এতে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় ভারসাম্যহীনতা তৈরি হচ্ছে, যা সামাল দিতে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সংস্থা হিমশিম খাচ্ছে।

সরকার আগামী তিন বছরের মধ্যে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনক্ষমতা প্রায় ৪ হাজার ৪০০ মেগাওয়াটে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়েছে। ২০২৪ সালের তুলনায় এই বৃদ্ধি হবে ৩৮৮ শতাংশ।

সূত্র: চ্যানেল নিউজ এশিয়া

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫১
মাগরিব ০৫:২৮
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%