ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বন্ধ থাকা রেল স্টেশন এখন গোয়ালঘর-মুরগির ফার্ম!


বন্ধ থাকা রেল স্টেশন এখন গোয়ালঘর-মুরগির ফার্ম!

দেশের পূর্বাঞ্চলের ঢাকা-চট্টগ্রাম এবং চট্টগ্রাম-সিলেট রেলপথের অধীনে চলাচলকারী আখাউড়া থেকে সিলেট পর্যন্ত ১৭০ কিলোমিটার রেলপথে মোট ৬ জোড়া আন্তনগর ট্রেন চলাচল করলেও এই পথে সব ধরনের লোকাল ট্রেন বন্ধ রয়েছে।

ফলে, আন্তঃনগর ট্রেনগুলোর প্রতি স্থানীয় যাত্রীদের নির্ভরশীলতা বেড়ে গেছে। দীর্ঘদিন ধরে লোকাল ট্রেনের চলাচল বন্ধ থাকায় মোট ৬টি রেলওয়ে স্টেশন বর্তমানে বন্ধ হয়ে পড়েছে।

স্থানীয়দের মতে, যদি লোকাল ট্রেন ও স্টেশনগুলো আবারও চালু করা যায়, তাহলে গ্রামীণ অর্থনীতি উন্নত হবে। বিনা টিকেটে আন্তঃনগর ট্রেন ভ্রমণের সংখ্যা কমবে, যা সরকারের রাজস্ব বাড়াতে সহায়ক হবে। এতে সঙ্গে এসে যাবে আন্তঃনগর ট্রেনগুলোর চলাচলের জন্য বিরতি কমানোর বিষয়টিও।

আরও পড়ুন: চট্টগ্রামে এক দিনে এক লাখ গাছের চারা রোপণ, সবুজ ফিরিয়ে আনার ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

সরেজমিনে অনুসন্ধান জানায়, ঢাকা-সিলেট রেলপথে আখাউড়া হয়ে চলাচলকারী চার জোড়া আন্তঃনগর ট্রেন রয়েছে, যা আজমপুর, জয়ন্তিকা, কালনি, উপবন ও পারাবত ট্রেন। অন্যদিকে, চট্টগ্রাম থেকে সিলেটের পথে উদয়ন ও পাহাড়িকা নামের দুই জোড়া ট্রেনও চালাচ্ছে। সব মিলিয়ে, মোট ৬ জোড়া আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল করছে। কিন্তু ১৭০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রেলপথে কোনো লোকাল ট্রেন চলাচল করতে দেখা যাচ্ছে না।

এ অবস্থায়, এই পথে যাত্রীদের জন্য আন্তঃনগর ট্রেনগুলো একমাত্র নির্ভরতার জায়গা হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্যে, আখাউড়া থেকে শায়েস্তাগঞ্জ পর্যন্ত ৬০ কিলোমিটার এলাকায়, বাল্লা, কুশিয়ারা ও সুরমা মেইলসহ বেশ কয়েকটি লোকাল ট্রেন চলাচল করত। তবে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ সম্পূর্ণরূপে লোকসানের অজুহাত দেখিয়ে ট্রেনগুলোর চলাচল বন্ধ করে দেয়। ফলে মেরাশানী, সিঙ্গারবিল, কাশিমনগর, ইটাখোলা, লস্করপুর ও ভাতশালা রেলওয়ে স্টেশনের কার্যক্রম সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে যায়।

বর্তমানে, এই বন্ধ স্টেশনগুলো মুরগির ফার্ম অথবা গোয়াল ঘরে পরিণত হয়েছে। এ কারণে, বিনাটিকিটে আন্তঃনগর ট্রেন ভ্রমণের সংখ্যা যেমন বেড়েছে, তেমনিভাবে বিপুল পরিমাণে সরকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

স্থানীয়রা আবারও দাবি করেছেন, লোকাল ট্রেনগুলোর পুনরায় চালু হলে গ্রামাঞ্চলে উৎপাদিত কৃষিপণ্যগুলো সহজে বাজারজাত করা সম্ভব হবে। অন্যদিকে, সরকারের রাজস্বও বৃদ্ধি পাবে।

আরও পড়ুন: বুড়িচংয়ে নিখোঁজ আদিল ও জিসানের সন্ধান চায় পরিবার

এদিকে, আখাউড়া উপজেলার উত্তর ইউনিয়নের আজমপুর এলাকার বাসিন্দা আবুল কাশেম ভূঁইয়া জানান, একসময় এই রেলপথে বাল্লা, কুশিয়ারা ও সুরমা মেইলসহ বেশ কয়েকটি লোকাল ট্রেন চলাচল করত। ফলে, স্থানীয় কৃষকরা উৎপাদিত কৃষি পণ্য নিয়ে সহজে চলাচল করতে পারতেন। তবে লোকাল ট্রেনগুলো বন্ধ হওয়ায়, স্থানীয় যাত্রীদের জন্য আন্তঃনগর ট্রেন একমাত্র ভরসার জায়গা।

তিনি বলেন, ‘লোকাল ট্রেন বন্ধ, এবং লোকাল স্টেশনগুলোও বন্ধ রয়েছে। ফলে যাত্রীরা টিকিট কাটতে পারছেন না। তারা বাধ্য হচ্ছে বিনা পয়সায় ট্রেন ভ্রমণ করতে। আমরা এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি চাই।’

বন্ধ হওয়া ভারত সীমান্তবর্তী সিঙ্গারবিল রেলওয়ে স্টেশনের কাছে অবস্থিত স্থানীয় অধ্যাপক মো. ইয়াহিয়া বলেন, ‘এক সময় আমরা সিঙ্গারবিল স্টেশন থেকে ৫ টাকা ভাড়া দিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজে যাতায়াত করতাম। এখন এগুলো শুধু স্মৃতি।’

তিনি জানান, লোকাল ট্রেনগুলো বন্ধ থাকায় বিজয়নগর উপজেলার সাধারণ মানুষের উৎপাদিত ফল, সবজি ও কৃষি পণ্য বাড়তি ভাড়ায় পরিবহন করতে হচ্ছে। যদি লোকাল ট্রেনগুলো চালু হতো, তবে স্থানীয় কৃষকেরা অনেক বেশি উপকৃত হতেন। এ ছাড়া বন্ধ স্টেশনগুলো চালু থাকলে সাধারণ মানুষও টিকিট কেটে রেল ভ্রমণ করতে পারতেন। এভাবে সরকারের রাজস্বের পরিমাণ বাড়তো।

আরও পড়ুন: ঢাকার ধামরাইয়ে আজ সাড়ে ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন থাকবে যারা

মেরেশানি রেল স্টেশন এলাকার বাসিন্দা কাহার ভূঁইয়া জানান, ট্রেন এবং স্টেশনগুলো বন্ধ থাকার কারণে গ্রাম অঞ্চলের যাত্রীদের এখন আন্তঃনগর ট্রেনের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। সাধারণ যাত্রীরা আন্তঃনগর ট্রেনে বিনা পয়সায় ভ্রমণ করেই চলছেন। দক্ষিণবঙ্গের শিল্প ও কৃষির জন্য যা ক্ষতিকর বলেও দাবি করেন তিনি।

কাহার ভূঁইয়া আরও জানান, এক সময় তিনি মেরাসানী থেকে বিভিন্ন ফল বিক্রি করতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ভৈরব, আশুগঞ্জ যেতেন। কিন্তু এখন তিনি পিকআপ এবং সিএনজি ব্যবহার করে ফল ও সবজির ব্যবসা করছেন। ট্রেনগুলো যাতে চালু হয়, তার জন্য তিনি সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন।

এদিকে, ঢাকা থেকে সিলেটগামী পারাবত এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রী ফারজানা ইসলাম জানান, ঢাকা থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পর্যন্ত ট্রেনটি স্বাভাবিক গতিতে চলাচল করে। কিন্তু কিছুক্ষণ পর আজমপুর স্টেশনে যাত্রা বিরতি দিয়ে থাকে যা আশপাশের অন্তত পাঁচটি স্টেশনে ঘন ঘন যাত্রা বিরতি দেয়। এতে যাত্রা করার সময় যেমন বৃদ্ধি পাচ্ছে, তেমনই যাত্রা অভিজ্ঞতা আঘাতহীন হয়ে পড়ছে।

ফারজানা বলেন, ‘এই পথে যদি লোকাল ট্রেনগুলো চালু থাকে, তাহলে ঘন ঘন এত যাত্রা বিরতি দিতে হতো না। স্থানীয় বাসিন্দারা লোকাল ট্রেন না থাকার কারণে আন্তঃনগর ট্রেনগুলোর যাত্রাবিরতি দাবি করছে। আমি মনে করি, সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে এজন্য সরেজমিন অনুসন্ধান করা উচিত।’

আরও পড়ুন: বীরাঙ্গনা ও যুদ্ধশিশুর বিরুদ্ধে মামলা, মব আতঙ্কে বাড়িছাড়া মা-মেয়ে

ঢাকা থেকে সিলেটগামী পারাবত ট্রেনের যাত্রী লাবিব হাসান চৌধুরী জানান, আজমপুর থেকে হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ পর্যন্ত মাত্র ৬০ কিলোমিটার অংশে অন্তত পাঁচটি স্টেশনে যাত্রা বিরতি দিচ্ছে ট্রেনগুলো। এতে আন্তঃনগর ট্রেনগুলোর গতি যেমন কমছে, তেমনিভাবে তারা লোকাল ট্রেনের মতো হয়ে যাচ্ছে। এ নিয়ে রেল কর্তৃপক্ষকে ভাবতে হবে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে যাত্রী কল্যাণ সংগঠনের সভাপতি মো. ইব্রাহিম খান সাদাত বলেন, ‘সারা পৃথিবীর মধ্যে ট্রেন হচ্ছে নিরাপদ পরিবহন। কিন্তু স্বাধীনতার পর থেকে আমরা দেখছি, নিয়মিত ট্রেন পরিষেবা অবনতির দিকে যাচ্ছে। আখাউড়া সিলেট রেলপথে লোকাল ট্রেনগুলোর বন্ধ হওয়ার ফলে স্থানীয় কৃষকেরা তাদের উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত করতে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। কৃষক তার উৎপাদিত পণ্যের সঠিক মূল্য পাচ্ছেন না। পাশাপাশি, ঢাকা কিংবা চট্টগ্রাম থেকে আসা আন্তঃনগর ট্রেনযাত্রীদের ঘন ঘন যাত্রা বিরতির ফলে ভোগান্তি আরও বাড়ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শেরপুর পৌরসভার উদ্যোগে পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৮ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৪:২৯ পি.এম


শেরপুর পৌরসভার উদ্যোগে পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি

শনিবার শেরপুর পৌরসভা দ্বারা পরিচালিত অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়।

শনিবার দুপুরে শেরপুর পৌর শহরের চকপাঠক মহল্লায় অনুষ্ঠিত ওই কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন।

এ সময় জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, পরিচ্ছন্নতা ও সবুজায়নের সমন্বিত উদ্যোগ একটি স্বাস্থ্যকর, নান্দনিক ও টেকসই শেরপুর বিনির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার এ কে এম জহিরুল ইসলাম, পৌর প্রশাসক আরিফা সিদ্দিকা, পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা আবু লায়েজ মো. বজলুল করিম, শেরপুর পৌরসভার সমাজ উন্নয়ন কর্মকর্তা মুহাম্মদ শরিফ উদ্দিন, শেরপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাসুদ হাসান বাদল এবং পৌরসভার কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
ডলারের অস্থিরতা ও ভূ-রাজনৈতিক সংকট

৫ বছরেই দ্বিগুণ হতে পারে সোনার দাম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ১৮ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৪:২৯ পি.এম


৫ বছরেই দ্বিগুণ হতে পারে সোনার দাম

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম বেড়েছে রেকর্ড গতিতে। বিশ্ববাজারের সাময়িক ওঠানামা বাদ দিলে, বছরের পর বছর ধরে এই মূল্যবান ধাতুর ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা চলছে।

২০২০ সালের সময়ে, যেখানে প্রতি আউন্স সোনার দাম ছিল ১ হাজার ৫৮৫ ডলার, বর্তমানে তা ৪ হাজার ৫০০ ডলারের ওপরে চলে গেছে। খবর ডয়েচে ভেলে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, মুদ্রাস্ফীতির কারণে বিশ্বজুড়ে কাগজের মুদ্রার মান কমছে। অন্যদিকে, বিশ্বের প্রধান কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সুদের হার তুলনামূলকভাবে কম হওয়ায়, প্রথাগত বিনিয়োগ এখন আর আগের মতো লাভজনক মনে হচ্ছে না। সেজন্য, নিজেদের সম্পদ সুরক্ষিত রাখতে বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ বিনিয়োগের খোঁজে সোনা ও অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দিকে ঝুঁকছেন।

এবং অতিরিক্ত চাহিদার কারণেই বিশ্ববাজারে সোনার দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে।

জার্মানিভিত্তিক ডয়চে ব্যাংকের অর্থনীতিবিদদের এক সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, বিশ্বজুড়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো আগের চেয়ে অনেক বেশি সোনা কিনছে। বিশেষ করে চীন, রাশিয়া, ভারত ও তুরস্কের মতো উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাদের সোনার মজুদ ব্যাপক হারে বাড়াচ্ছে। ব্যাংকটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, এই ধারা বজায় থাকলে ২০৩১ সালের মধ্যে সোনার দাম বর্তমানের চেয়ে দ্বিগুণ হয়ে প্রতি আউন্স ৮ হাজার ডলারে পৌঁছাতে পারে।

জার্মানির ল্যান্ডেসব্যাংক বাডেন-ভুর্টেমবার্গের বিশ্লেষক ফ্রাঙ্ক শ্যালেনবার্গার মনে করেন, মার্কিন ডলারের দুর্বল অবস্থান, সুদের হার কমার পূর্বাভাস এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর বড় অঙ্কের কেনাকাটার কারণে সোনার বাজারে এই তেজি ভাব।

তবে, এর পাশাপাশি বাজারে ক্রিপ্টোকারেন্সির মতো নতুন খাতের অংশগ্রহণকারীদেরও দেখছেন তিনি। শ্যালেনবার্গার জানান, ডিজিটাল মুদ্রার বিনিয়োগকারীরাও তাদের ঝুঁকি এড়াতে সম্পদের একটি অংশ দিয়ে সোনা কিনছেন, যা সোনার দাম বাড়াতে নতুন জ্বালানি জোগাচ্ছে।

ডয়চে ব্যাংক রিসার্চের মূল্যবান ধাতু বিষয়ক বিশ্লেষক মাইকেল হুয়েহ জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর মতো বড় ও স্থায়ী ক্রেতারা এখন বাজার থেকে সাধারণ গহনা ক্রেতাদের একরকম দূরে ঠেলে দিয়েছে। ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে সোনার দামের রেকর্ড গড়াতে এই প্রাতিষ্ঠানিক চাহিদাই মূল ভূমিকা রেখেছে।

অন্যদিকে, ডিজেড ব্যাংকের বিশ্লেষক থমাস কুল্পের মতে, বিশ্বজুড়ে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা ও যুদ্ধাবস্থাই সোনা কেনার প্রধান কারণ। যেকোনো সংকটে সোনা সবসময়ই স্বাধীনতার গ্যারান্টি এবং সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে কাজ করে।

সোনা নিজে থেকে কোনো লভ্যাংশ বা সুদ তৈরি করতে পারে না এবং এর দামেও ফটকা বাজারের প্রভাব থাকে। তবুও, গদির নিচে নগদ টাকা লুকিয়ে রাখার চেয়ে সম্পদ সুরক্ষায় সোনা রাখা অনেক বেশি নিরাপদ।

যাহোক, শ্যালেনবার্গার কিছুটা সতর্ক করে বোঝান যে, নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে সোনার সুনাম মাঝে মাঝে একটু বাড়িয়ে বলা হয়। সম্পদ পুরো সোনায় রূপান্তর না করে, যেকোনোর পোর্টফোলিও বা তহবিলের ৫ থেকে ১০ শতাংশ সোনায় রাখা উচিত, যা বাজারের ঝুঁকি বা ওঠানামা কমাতে সাহায্য করে।

অবশ্য, ডয়চে ব্যাংকের মাইকেল হুয়েহ ভিন্ন মত পোষণ করছেন এবং বড় পরিসরে সোনা জমা রাখার পক্ষে। তিনি মনে করছেন, ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি ও মুদ্রাস্ফীতি থেকে বাঁচতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সোনা জমানোর সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ যৌক্তিক।

অর্থনৈতিক পূর্বাভাসে সবসময়ই কিছুটা অশ্চিত্তা থাকে। ডয়চে ব্যাংকের ২০৩১ সালের মধ্যে আউন্স প্রতি ৮ হাজার ডলারের পূর্বাভাস নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে।

ফ্রাঙ্ক শ্যালেনবার্গার এই পূর্বাভাসের সাথে একমত নন। তাঁর মতে, গোল্ড ইটিএফ এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সোনা কেনার যে জোয়ার ছিল, তা কিছুটা ঝিমিয়ে পড়েছে। ফলে আগামী পাঁচ বছরে দাম দ্বিগুণ হওয়ার মতো বড় কোনো কারণ তিনি দেখছেন না।

তবে, ডয়চে ব্যাংকের গবেষক মাইকেল হুয়েহ তার পূর্বাভাসে অনড় রয়েছেন। তিনি মনে করেন, বিশ্ব রাজনীতিতে এখন স্নায়ুযুদ্ধের মতো চরম উত্তেজনা চলছে। ফলে উদীয়মান দেশগুলো মার্কিন ডলারের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে তাদের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের প্রায় ৪০ শতাংশই সোনায় রূপান্তর করতে পারে। আর এমনটি হলে সোনার দাম ৮ হাজার ডলারে পৌঁছানো অসম্ভব কিছু নয়।

ডিজেড ব্যাংকের থমাস কুল্প মধ্যপন্থা অবলম্বন করছেন। তিনি ৮ হাজার ডলারের পূর্বাভাসকে উড়িয়ে না দিলেও কিছুটা সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। তবে তিনি আশাবাদী হয়ে বলেছেন, ‘আগামী ১২ মাসের মধ্যে সোনার দাম আউন্সপ্রতি ৫ হাজার ডলারে উঠে যাবে। বাজারে সোনার মৌলিক চাহিদা এখনো অক্ষুণ্ণ রয়েছে, তাই দীর্ঘমেয়াদে সোনার বাজার ইতিবাচক থাকবে বলেই আমাদের প্রত্যাশা।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভিয়েতনামে বন্যায় নিহত ৪, নিখোঁজ ৪

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ১৮ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৪:৩০ পি.এম


ভিয়েতনামে বন্যায় নিহত ৪, নিখোঁজ ৪

ভিয়েতনামের উত্তরাঞ্চলীয় লাই চাউ প্রদেশের একটি পাহাড়ি গ্রামে আকস্মিক বন্যায় ৪ জনের মৃত্যু ঘটে। শনিবার এই তথ্যটি দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের মাধ্যমে জানায় রয়টার্স।

প্রকাশিত একটি রিপোর্টে রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ভিয়েতনাম নিউজ এজেন্সি জানাচ্ছে, কয়েকদিনের টানা ভারি বৃষ্টির পর শুক্রবার ভোরের দিকে মুয়ং থান গ্রামে আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়। এই ঘটনার ফলে ৪ জন নিহত হয়েছে এবং নিখোঁজ হয়েছে আরো ৪ জন। তাছাড়া আহত অবস্থায় ৭ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে।

প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে যে, বন্যার পানির সাথে নেমে আসা লাল কাদায় পুরো গ্রামটি ঢাকা পড়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের পাশে বড় বড় পাথর ও গাছের গুঁড়ির জমা বন্ধক রয়েছে।

সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বুধবার শুরু হওয়া ভারি বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যায় উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় সড়ক, বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা এবং শত শত বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর পাশাপাশি, ২৩৮ হেক্টর কৃষিজমি পানিতে তলিয়ে গেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নরওয়েতে আগুনে শতাধিক বাড়ি পুড়ে ছাই, সরিয়ে নেওয়া হয়েছে শত শত মানুষ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ১৮ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৪:৩১ পি.এম


নরওয়েতে আগুনে শতাধিক বাড়ি পুড়ে ছাই, সরিয়ে নেওয়া হয়েছে শত শত মানুষ

দক্ষিণ নরওয়েতে ঘটেছে একটি ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, যার ফলে ১০০টিরও বেশি বাড়ি ধ্বংস হয়ে গিয়েছে এবং শত শত মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আগুন লাগার কারণ এখনও জানা যায়নি।

পুলিশ ও দেশটির সরকারি সম্প্রচারমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ড্রামেন শহরের একটি টাউন হাউসে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। পরে আগুন দ্রুত আশপাশের এলাকায় এবং কাছের বনাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে।

অগ্নিকাণ্ডের কারণে পুরো এলাকা ঘন কালো ধোঁয়ায় আচ্ছাদিত হয়ে পড়েছে। অসলো থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত সারিবদ্ধ আবাসিক বাড়ির একটি এলাকায় আগুন দ্রুত বিস্তার লাভ করে।

তবে পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের বা নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে দমকলকর্মীরা রাতভর কাজ করেন এবং শনিবার সকালেও তাদের অভিযান অব্যাহত ছিল।

নরওয়ের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম এনআরকে জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার শত শত বাসিন্দা অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় গ্রহণ করেছেন। পুলিশের মতে, এখন পর্যন্ত কোনো ব্যক্তি নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।

ড্রামেন শহরটি নরওয়ের রাজধানী অসলো থেকে প্রায় ৩৪ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%